শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

ধৃতিমান ও মফিজুল যখন ক্রাইমসিনের ইতিহাস ও ভূগোল নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল, শ্রেয়া ততক্ষণ আবাসনের কমিটি মেম্বার, দশমীর দিনে যারা যারা অনুষ্ঠান করেছিলেন তাদের সবাই এবং আবাসনের যারা দেখতে এসেছিলেন তাদের একটা বড় অংশের সঙ্গে কথা বলে ফেলেছে। তাদের আবাসনে ঢোকা এবং বেরোনোর দুটো আলাদা গেটে বসা বেসরকারি সংস্থার সিকিউরিটি গার্ড। অনুষ্ঠানের লাইট সাপ্লায়ার ইলেকট্রিশিয়ান সকলের জবানবন্দি নিচ্ছিল। গোয়েন্দাদপ্তরের কর্তা বিভূতি চক্রবর্তী এভাবেই কাজটা ভাগ করে দেন। কারণ জেরা ব্যাপারটা ধৃতিমানের ঠিক আসে না। মাথা ঠান্ডা করে ক্রাইমসিনে বারবার পাক খেতে খেতে সে অনেক কিছু দেখতে পায় বুঝতে পারে যেটা অন্যদের পক্ষে অতটা সহজাত নয়।
এই কাজ করতে করতে ধৃতিমান মফিজুলদের কাজকর্ম লক্ষ্য করে। হঠাৎ কিছু মনে হলে সেই নিউআলিপুরের রিয়া সেনের কেসের মতো মফিজুলকে কিউ দেয়। আর এতও বছর একসঙ্গে কাজ করতে করতে তাদের দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়া এতটাই সুন্দর যে, ধৃতিমান ঠিক কী ইঙ্গিত করছে সেটা মফিজুল এক লহমায় বুঝে ফেলে। এই যেমন ঠিক এখন ছাদ থেকে ঘুরে এসে ধৃতিমান একটা অদ্ভুত কথা বলল।
—ছাদে সিঁড়ি আছে – মানে ফোল্ডিং সিঁড়ি!
—ছাদে মানে, সাততলার ছাদ?
—হুঁ।
—ক্রাইম সিন মানে এটা তো পাঁচতলা!
—হুঁ আমি সিওর নই, জাস্ট একটা সন্দেহ। ওই সিঁড়িটা হয়ত এই ক্রাইমসিনেরই একটা পার্ট!
—মানে তুমি বলছো ওই সিঁড়িটা ব্যবহার হয়েছে?
—হুঁ।
—পরে ছাদে গিয়ে রেখে আসা হয়েছে?
—হুঁ।
—ওটার সাম্পলিং?
—টেকনিক্যালি আউট অফ ক্রাইম সিন কিন্তু সাস্পেক্টেড পার্ট!
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৪: ডেসডিমোনার রুমাল/৪

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৭: জীবনখাতার প্রতি পাতায়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৪: রামের অমল মহিমা, অরণ্যবাসের সাধুসঙ্গ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৫: সুস্থ থাকলে কেউ কি কবিতা লেখে?

আনন্দ পালের স্ত্রী ঐশী পাল সকাল থেকেই চোখে কালো চশমা পরে হাতে রুমাল নিয়ে কেঁদে যাচ্ছেন। ছিপছিপে তন্নী ঐশী কালকের বিজয়া সম্মিলনীতে নেচেছেন! শুভ দাশগুপ্ত’র সোশ্যালমিডিয়াতে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করা একটি কবিতা,’আমিই সেই মেয়ে’-তে নেচে সবাইকে চমক লাগিয়ে দিয়েছেন।

প্রতিবাদী সব শব্দে গাঁথা কবিতা, রবিঠাকুরের সাধারণ মেয়েও প্রতিবাদী ছিল। তবে সে ছিল আটপৌরে! চেতনা’র বিখ্যাত নাটক লু-শন অনুপ্রাণিত জগন্নাথের মতো সে প্রতিবাদের কথা ভেবেছিল তাই শরৎবাবুকে খুব করে অনুরোধ করেছিল তাকে নিয়ে একটা গল্প লেখার জন্য। আর যুগের পরিবর্তনে এই মেয়ে কড়া কড়া কথা বলতে পারে। মুখের উপর ডায়লগ! নাকের ডগায় টকটক করে।
বাসে ট্রেনে রাস্তায় আপনি যাকে রোজ দেখেন
যার শাড়ি, কপালের টিপ কানের দুল আর পায়ের গোড়ালি
আপনি রোজ দেখেন।
আর
আরও অনেক কিছু দেখতে পাবার স্বপ্ন দেখেন।
স্বপ্নে যাকে ইচ্ছে মতন দেখেন।
আমিই সেই মেয়ে।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২২: সুন্দরবনের পাখি: ডোরা-লেজ জৌরালি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১২ : স্বপ্নের নায়ক, নায়কের স্বপ্ন

কবিতা পড়ার পর একটা তর্ক হতেই পারে! যে যে হতভাগ্য পুরুষ কবিতা পড়ছেন তিনিই কি জগৎসংসারের মেয়েদের এভাবেই দেখেন বা দেখতে চান ? নাকি কবি এভাবেই ভাবেন! এটা তাঁর নিজস্ব ধারণা ?সুন্দরের পূজারী সকলে! তাই প্রবাদ আছে ‘সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র’! সুন্দর পুরুষ বা নারীকে সহজদৃষ্টিতে আপমর জনসাধারণ সকলেই দেখেন! সিনেমায় বিজ্ঞাপনে বিনোদনের দুনিয়ায় এই সৌন্দর্যই আবার বিক্রি হয়! সাদামাটা চেহারায় সে আকর্ষণ নেই! তাই দাবিও নেই! নিজেকে বেশ দাপটের সঙ্গে প্রকাশ করতে পারা মেয়ে ঐশী কিন্তু এই কবিতায় দারুণ নেচেছিল!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৪: কথা বলা অতীত

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

নানানসূত্রে আর ঐশীর সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথাবার্তার পর ইতিহাসটা মোটামুটি যা দাঁড়াল,তা এরকম। এবারই প্রথম নয়। শুভ্রাংশু মুখার্জির আবৃত্তির সঙ্গে ঐশী এবার নিয়ে ছ’ বার নাচল। বিপত্নীক শুভ্রাংশু মুখার্জির বয়স এখন প্রায় পঁয়তাল্লিশ কিন্তু নিয়মিত শরীরচর্চা খেলাধুলা ভোরবেলার জগিং তাকে চেহারায় ব্যক্তিত্বে এখনও ত্রিশ বত্রিশে আটকে রেখেছে। শুভ্রাংশু ছবি আঁকেন। দিল্লিতে বহুদিন ছিলেন। সেখানেই তাঁর স্ত্রী নয়না মুখার্জি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। তারপর শুভ্রাংশু দিল্লি ছেড়ে পাকাপাকি কলকাতায় চলে আসেন, এই আমন্ত্রণ আবাসনে ফ্ল্যাট কেনেন। এখনও ছবি আঁকেন। বন্ধুবান্ধবেরা সিনেমা ও থিয়েটার জগতের লোকজন। প্রথমবার নববর্ষের বৈঠকে ঐশীর নাচে দেখে খুব প্রশংসা করেছিলেন। তারপরের বিজয়া সম্মিলনীতে একসঙ্গে অনুষ্ঠান করা এবং সেই থেকে এটা তৃতীয় বছর। নববর্ষ আর বিজয়াদশমী করে ছটা অনুষ্ঠান!
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৪: অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ডকে জুড়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ে

ঐশীরা মোটামুটি সাড়ে তিনবছর ভাড়া আছে আবাসনে। সেবার পুজোর মাসছয়েক আগে জামশেদপুরের ছেলে আনন্দ তার স্ত্রী ঐশীকে নিয়ে এসেছিলো। আনন্দর বড় দুই দাদা বাবার সূত্রে টিসকো’তে চাকরি পেয়েছিল। কিন্তু আনন্দের বেলায় আর সে সুবিধে পাওয়া যায়নি। বড়দাদা বাবার জানাশোনা-পরিচিতির সূত্রে ঢুকেছিল। মেজটি বাবার রিটায়ারমেন্টের সময়। অগত্যা আনন্দ কলকাতায় চাকরি নিয়ে নতুন বিয়ের পর এসে বাড়িভাড়া নিয়েছিল এই আমন্ত্রণ আবাসনে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আনন্দ কাজ পেয়েছিল একটি নামী বিল্ডারস-এর কলকাতা অফিসে। জামশেদপুরে বাবার পরিচিত এক কনট্রাক্টটরের কাছে সিভিল কন্সট্রাকশনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তাঁরই সুপারিশে কলকাতার এক বড়সড় বিল্ডার্স-প্রমোটরের কোম্পানীতে সুযোগ পেল। সারা কলকাতা জুড়ে তখন তাদের নানা ধরনের প্রজেক্ট চলছে। একরাশ নতুন ছেলেমেয়ে রিক্রুট করেছে সেই কোম্পানি। তাদের মধ্যে আনন্দও একজন। ঐশী ঘাটশিলার মেয়ে বাবা হিন্দুস্থান কপারের কর্মী, ঘাটশিলা কলেজে পড়াশোনা। বিয়েটা পারিবারিক পরিচিতির সূত্রে সম্বন্ধ করে জয়েন করার পরেই ঐশীর সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেল। কলকাতায় নতুন সংসার হল।—চলবে।

আনন্দ পাল হত্যা রহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ৩o অক্টোবর ২০২৫।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content