
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
শুভ্রাংশু মুখার্জির ক্ষেত্রে শ্রেয়া আইডিয়াল চয়েস। এতদিন শ্রেয়া শুভ্রাংশু মুখার্জির সঙ্গে ভদ্র ব্যবহার করেছে। শ্রেয়ার আচমকা আগ্রেসিভনেসের ব্যাপারে শুভ্রাংশু মুখার্জি কিছুই জানেন না। এছাড়াও মহিলা ধমকাতে থাকলে শুভ্রাংশু মুখার্জির মতো ব্যক্তিত্ব রক্ষা করা পুরুষ মানুষেরও একটু আন-কমফর্টেবল লাগতে পারে।
তাসের ঘরের মতো সমস্ত বাধা সব মিথ্যে চুরমার হয়ে সত্যিটুকু বেরিয়ে এলো। মনে হয়েছিল ঐশী পাল আগেই ব্রেক করে যাবে! কিন্তু হল উল্টো! সকালের খানিকক্ষণ দু’জনেই ক্রমাগত ডিফেন্সিভ হয়ে প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাচ্ছিলেন হঠাৎ শ্রেয়ার সঙ্গে এসিপি রনজয় রায় শুভ্রাংশু মুখার্জিকে গিয়ে বললেন—
—কতক্ষণ মিথ্যে বলবেন মিঃ মুখার্জি! আপনার পার্টনার সব স্বীকার করে নিয়েছেন!
—মিথ্যে কথা বলছেন!
—কতক্ষণ মিথ্যে বলবেন মিঃ মুখার্জি! আপনার পার্টনার সব স্বীকার করে নিয়েছেন!
—মিথ্যে কথা বলছেন!
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১১৮: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৭

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৪ : যেখানে স্বর্ণমুদ্রার ঝনঝনানি, সেখানে সন্তানের চিতার আগুনও ম্লান

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫১: সাইকেল মাহাতো অ্যান্ড কোং

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বাঘরোল
—তাই? আপনি ব্যাকস্টেজ থেকে আবৃত্তি করেননি আপনার গলা টেপে বাজছিল এটা মিথ্যে? যখন টেপে মিউজিকের সঙ্গে আপনার গলা বাজছিল তখন কমিউনিটি হলের পিছন দিকের দরজা দিয়ে আপনি দ্রুত আনন্দ পালের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন এটা মিথ্যে? ওখানে সিসিটিভি নেই, সারা কমপ্লেক্স খালি কেউ জানার কথা নয়, কিন্তু একটি বাচ্চা ছেলে আপনাকে কমিউনিটি হল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেছে। আপনার নির্দেশে ঐশী পাল ফ্রিজের মধ্যে রাখা মদের বোতলে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিল। এটা মিথ্যে? ঐশী পাল আপনাকে ফ্ল্যাটের চাবি দিয়েছিল এটা মিথ্যে? ষষ্ঠীর দিনে ঐশীর রুমাল আপনার বেডরুমে পেয়েছিল আনন্দ। সেই রাতে ওদের মধ্যে চরম অশান্তি হয়েছিল। আনন্দ ঐশীকে গলা টিপে মারতে গিয়েছিল এটা মিথ্যে? আপনি সপ্তমীর দিনে গোটা রাত ঐশীকে নিয়ে কলকাতায় ঠাকুর দেখেছেন এটা মিথ্যে? আপনি অষ্টমী আর নবমীর দিন কলকাতার বাইরে গিয়েছিলেন বাবুন সিং আর বখতিয়ারকে সুপারি দেওয়ার জন্য এটা মিথ্যে? বাবুন সিং আর বক্তিয়ার মদ্যপ অবস্থায় অচৈতন্য আনন্দকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে তারপর আনন্দের গলায় আপনার গাড়ির মোটা নাইলনের কাছির ফাঁস লাগিয়ে সেই কাছি সিঁড়ি দিয়ে উঠে ফ্যানের হুকে লাগায়। টেনে হিঁচড়ে মৃত আনন্দের দেহ হুক থেকে বেঁধে ঝুলিয়ে দেয়! এই তথ্যগুলোর একটুকরো মিথ্যে নয়! এগুলো সমস্ত আপনার পার্টনার ঐশী পাল ওই বাবুন সিং আর বক্তিয়ারের স্টেটমেন্ট থেকে বললাম।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮১ : খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র
কুরুক্ষেত্র ন্যায়যুদ্ধে জিততে ” অশ্বত্থামা হত… ইতি গজ” বলতে হয়েছিল, পুলিশকেও বলতে হয়। কারণ বাবুন বা বক্তিয়ার ধরা পড়েনি । ঐশী পালও কোন স্বীকারোক্তি দেয়নি। হাউ হাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়ল সাবলীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী শুভ্রাংশু মুখার্জি! স্বীকার করে নিল ঐশীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার আকর্ষণেই শুভ্রাংশু আনন্দকে যথেচ্ছ পরিমাণ টাকা ধার দিয়েছে শোধ করতে পারবে না জেনেও দিয়েছে এবং তারপর ঐশীর সঙ্গে বেলাগাম অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। আনন্দকে খুন হতে হতো না যদি না ঐশীর রুমাল শুভ্রাংশুর বিছানায় পেয়ে আনন্দ ঐশীকে গলা টিপে মারতে যেত। শুভ্রাংশু আনন্দকে খুন করতে চায়নি যা করতে হয়েছে সেটা ঐশীকে খুশী করার জন্য! এদিকে ঐশী বাধ্য হয়ে নয় ভেবেচিন্তেই আনন্দ পালের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি চাইছিল কিন্তু সে জবানবন্দীতে অন্য কথা বলেছে যাতে খুনের দায় তার ওপর না বর্তায় ।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৮: পরবাস প্রস্তুতি (চার)

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা
শেক্সপিয়ারের গল্পে ইয়াগো ক্যাসিওর পদোন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে ক্যাসিওকে বিপদে ফেলতে গোপনে ডেসডিমোনার রুমাল চুরি করে ক্যাসিওর বাড়িতে রেখে আসে এবং পরে ওথেলোকে সেই রুমাল দেখিয়ে মিথ্যে অবিশ্বাস জাগাতে জানায় যে ডেসডিমোনা ক্যাসিওর প্রতি অনুরক্ত! ইয়াগো চেয়েছিল ক্যাসিওর সঙ্গে ওথেলোর যুদ্ধ হোক আর সে ডেসডিমোনাকে ভোগ করুক। কিন্তু অবিশ্বাসের আগুনে জ্বলতে থাকা ওথেলো ডেসডিমনাকে খুন করে বসে। এখানে সত্যি সত্যি ঐশীর রুমাল শুভ্রাংশুর বিছানায় দেখেছিল আনন্দ ঐশীকে খুন করতে গিয়েছিল। এই ঘটনায় ডেসডিমোনা এবং ইয়াগোর সঙ্গে চক্রান্ত করে দু’জনে মিলে ওথেলোকে ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে খুন করল! মহান সাহিত্যস্রষ্টারা যা ভাবেন চারশো পাঁচশো বছর পরেও একটু ওলটপালট করে তার কাছাকাছি আজও ঘটে! যেমন ৪২২ বছর পর জোকাতে ওথেলোর পরিবর্তিত পুনরাবৃত্তি ঘটল!
আরও পড়ুন:

৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবস : জনগণপথপরিচায়ক

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
ভূপতি চক্রবর্তীর সঙ্গে মিটিংয়ে ধৃতিমান বলেছিল এই কেস সলভ করার সিংহভাগ কৃতিত্ব শ্রেয়ার সে শুধু সঙ্গে ছিল। বহুদিন আটকে থাকার পর শ্রেয়া বাসুর একটা প্রমোশন হল।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















