
মহাপুরুষ ছবিতে বিরিঞ্চিবাবা।
পরশপাথর কিংবা শাখাপ্রশাখার প্রসঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠল যখন, তখন আরেকটি দৃশ্য দেখা যাক। দেখা যেতে পারতো জন-অরণ্য, দ্য মিডলম্যান, অথবা ঘরেবাইরে কিংবা নির্বাক ছবি ‘টু’, অথবা ‘সদগতি’ কিংবা অন্য কিছু। কিন্তু আজ আমরা বেছে নিলাম ‘মহাপুরুষ’।
মহাপুরুষের মূল কাহিনিও সেই একমেবাদ্বিতীয়ম্ পরশুরাম রাজশেখর বসুর। এখানে তিনি পরিহাস করতে করতেই কুঠার চালিয়েছেন ধর্ম-অধর্ম, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মূলে। লার্জার দ্যান লাইফ হয়ে বসা, ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান গুলে খাওয়া ‘হোলিম্যান’ বিরিঞ্চিবাবার গল্প শোনাতে শোনাতে আবার উঠে এসেছে বিজ্ঞান ও যুক্তিহীন বিশ্বাসের যুগ্মক। গণশত্রুতে যেখানে বিজ্ঞান আর বিশ্বাস তথা অন্ধবিশ্বাসের মুখোমুখি দ্বৈরথ, সেখানে ‘মহাপুরুষ’ চলচ্চিত্রে বিজ্ঞান, বাস্তববুদ্ধি, অপবিজ্ঞান ও ধর্মের আড়াল নিয়ে চলা অন্ধ আবেগের পণ্যায়ণ ও প্রতারণার জাল পাশাপাশি বাসা বেঁধেছে।
বিশ্বাস ও অযৌক্তিক অন্ধ আবেগ কিংবা ছদ্ম যুক্তির আড়ালে ছড়িয়ে পড়া অন্যায়ের শিকড়কে শুভবোধ ও বিজ্ঞানবুদ্ধি জয় করতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান-ও কি কখনও কখনও ওই পথেই হাঁটে না? গুগাবাবার বরফি, হীরকের বিজ্ঞানী কোন দলে নাম লিখিয়েছিল? তবে সে কথা অন্য কোনওদিন। আজ আমরা প্রফেসর ননীকে দেখব।
মহাপুরুষের মূল কাহিনিও সেই একমেবাদ্বিতীয়ম্ পরশুরাম রাজশেখর বসুর। এখানে তিনি পরিহাস করতে করতেই কুঠার চালিয়েছেন ধর্ম-অধর্ম, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মূলে। লার্জার দ্যান লাইফ হয়ে বসা, ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান গুলে খাওয়া ‘হোলিম্যান’ বিরিঞ্চিবাবার গল্প শোনাতে শোনাতে আবার উঠে এসেছে বিজ্ঞান ও যুক্তিহীন বিশ্বাসের যুগ্মক। গণশত্রুতে যেখানে বিজ্ঞান আর বিশ্বাস তথা অন্ধবিশ্বাসের মুখোমুখি দ্বৈরথ, সেখানে ‘মহাপুরুষ’ চলচ্চিত্রে বিজ্ঞান, বাস্তববুদ্ধি, অপবিজ্ঞান ও ধর্মের আড়াল নিয়ে চলা অন্ধ আবেগের পণ্যায়ণ ও প্রতারণার জাল পাশাপাশি বাসা বেঁধেছে।
বিশ্বাস ও অযৌক্তিক অন্ধ আবেগ কিংবা ছদ্ম যুক্তির আড়ালে ছড়িয়ে পড়া অন্যায়ের শিকড়কে শুভবোধ ও বিজ্ঞানবুদ্ধি জয় করতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান-ও কি কখনও কখনও ওই পথেই হাঁটে না? গুগাবাবার বরফি, হীরকের বিজ্ঞানী কোন দলে নাম লিখিয়েছিল? তবে সে কথা অন্য কোনওদিন। আজ আমরা প্রফেসর ননীকে দেখব।
চলচ্চিত্রের এই পর্যায়টি মূল কাহিনীর অনুসারী, পরিচালক তাকে চলচ্চিত্রের ভাষায় প্রকাশ করেছেন এবং সংলাপ, অভিনয় থেকে বিজ্ঞানবোধ ও অন্ধ আবেগের পারস্পরিক নৈকট্য, ভিন্নতার প্রেক্ষাপটটি প্রস্তুত হয়। সংলাপে রিলেটিভিটি, এনলাইটমেণ্ট, হোমো সেপিয়েন্স ইত্যাদি শব্দবন্ধ আসে, আসে অদ্ভুতুড়ে গবেষণার প্রসঙ্গ।
প্রফেসর ননী শখের বিজ্ঞানী। তিনি বিরিঞ্চিবাবার আশ্রয়দাতা জনৈক ধনাঢ্য উকিলের জামাই, কী কাজ করেন জানা যায় না, তবে তিনিও বড়লোক, তাঁর শখের গবেষণায় সময় ও অর্থ ব্যয় দেখে তাঁকে চেনা যায়। তবে তিনি বিচক্ষণ, বিজ্ঞান বোঝেন, জ্ঞানের অহংকার নেই, এমন কিছু পৃথিবীর জন্য করার বাসনা রাখেন যা বৈপ্লবিক হবে। লোকটি সদাহাস্যময়, তাঁর আপাতঃ স্বাভাবিক কথার আড়ালে বিদ্রুপ থাকে, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে তিনি নির্বিকার, নিরাসক্ত প্রকৃতির এবং, তোৎলা। আরেকটি তাত্পর্য এই যে, বিজ্ঞানী ননীর পুঁথিগত জ্ঞান থাকলেও বাস্তবজ্ঞান নিয়ে সংশয় থাকে।
বিজ্ঞানী তোতলা, এটি বিজ্ঞানের নির্বাধ না হওয়ার একটা সঙ্কেত বুঝি। বিজ্ঞানী ননী ঘাস থেকে মানুষের উপযোগী খাদ্য বানিয়ে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর খাদ্য সমস্যা মেটাতে চান। গল্পের নায়ক সেই অর্থে নিবারণ, তাঁর নামেই বোঝা যায় তিনি এক সমস্যার সমাধান আনবেন, নিবারণ করবেন বিরিঞ্চিবাবাকে। তাই তিনি খবর নিতে ফোন করলেন বন্ধু ননীর বাড়িতে। ননীর স্ত্রী বিরিঞ্চিবাবার হতভাগ্য অবলা পৃষ্ঠপোষকটির জ্যেষ্ঠা কন্যা।
প্রফেসর ননী শখের বিজ্ঞানী। তিনি বিরিঞ্চিবাবার আশ্রয়দাতা জনৈক ধনাঢ্য উকিলের জামাই, কী কাজ করেন জানা যায় না, তবে তিনিও বড়লোক, তাঁর শখের গবেষণায় সময় ও অর্থ ব্যয় দেখে তাঁকে চেনা যায়। তবে তিনি বিচক্ষণ, বিজ্ঞান বোঝেন, জ্ঞানের অহংকার নেই, এমন কিছু পৃথিবীর জন্য করার বাসনা রাখেন যা বৈপ্লবিক হবে। লোকটি সদাহাস্যময়, তাঁর আপাতঃ স্বাভাবিক কথার আড়ালে বিদ্রুপ থাকে, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে তিনি নির্বিকার, নিরাসক্ত প্রকৃতির এবং, তোৎলা। আরেকটি তাত্পর্য এই যে, বিজ্ঞানী ননীর পুঁথিগত জ্ঞান থাকলেও বাস্তবজ্ঞান নিয়ে সংশয় থাকে।
বিজ্ঞানী তোতলা, এটি বিজ্ঞানের নির্বাধ না হওয়ার একটা সঙ্কেত বুঝি। বিজ্ঞানী ননী ঘাস থেকে মানুষের উপযোগী খাদ্য বানিয়ে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর খাদ্য সমস্যা মেটাতে চান। গল্পের নায়ক সেই অর্থে নিবারণ, তাঁর নামেই বোঝা যায় তিনি এক সমস্যার সমাধান আনবেন, নিবারণ করবেন বিরিঞ্চিবাবাকে। তাই তিনি খবর নিতে ফোন করলেন বন্ধু ননীর বাড়িতে। ননীর স্ত্রী বিরিঞ্চিবাবার হতভাগ্য অবলা পৃষ্ঠপোষকটির জ্যেষ্ঠা কন্যা।
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৩: পরেশের পরশপাথর

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৩: মা সারদা নিজের কষ্ট গোপন রাখতেন

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৪: ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাগণ সাহিত্য সংস্কৃতির অকৃপণ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন
এই পরিস্থিতিতে গবেষণারত প্রফেসর ননীকে দর্শক দেখতে পাবেন। তিনি একটি ডেকচিতে ঘাসসিদ্ধ করাচ্ছেন। তাঁর মেয়ে হারমোনিয়াম বাজিয়ে পাইপ-পথে হাওয়া পাঠাবে ডেকচিতে। ননী নিবারণকে ঘাস থেকে সম্ভাব্য খাদ্যপ্রস্তুতির বৈজ্ঞানিক ভারী নামসহ উপায় জানাবেন। নিবারণ জানাবেন যে, তাঁর মনে হয়েছিল হারমোনিয়ামের বাতাস ঘাসে মিশে বুঝি সঙ্গীতরসে জারিত হয়ে অমৃতখণ্ড বানাচ্ছে, কিন্তু হায়!
এই হল দ্বন্দ্বের জায়গাটি। মানবিকী বিদ্যা বিজ্ঞানের কাছে যা আশা রাখে, বলা ভালো যে “চমত্কারের” আকাঙ্ক্ষা রাখে, যে ম্যাজিক আর চটপট আশু সমাধান চায় বিজ্ঞান তা যদি দিতে না পারে তাহলে তা নীরস হয়ে ওঠে। বিজ্ঞান যদি তার তত্ত্ব ও সূত্রকে অভাবনীয় কিংবা উচ্চমার্গীয় এলিট করে রাখে, তবে সেট ব্যবধানের পথে অলৌকিক ক্ষমতাবান মহাপুরুষের আগমন ঘটে। আর, বিজ্ঞান হয়তো অলীক অসম্ভবের স্বপ্নকেই যুগে যুগে বাস্তব করেছে, ননীও তাই তেমন স্বপ্নে মশগুল।
নিবারণ জানতে চায় জাবর কাটার অভ্যাস করা হচ্ছে কীনা, ঘাসখেকো মানুষ দুপা না চার পায়ে হাঁটবে ইত্যাদি। বিদ্রুপে স্থিতধী ননীকে টলানো যায় না। তিনি সবকথার সপ্রতিভ জবাব দেন। তোৎলামির জন্য কথা আটকে না গেলে তিনি যা বলতে চাইছেন তা হল, এই গবেষণায় সফল হলে দেশে আর অন্নাভাব থাকবে না। কিন্তু “অন্নাভাব” শব্দে জিভ বেঁধে যায়। পরিচালক হয়তো বলতে চাইছেন, এই থিওরি ও বাস্তব সমাধানে যোজন ব্যবধান।
এই হল দ্বন্দ্বের জায়গাটি। মানবিকী বিদ্যা বিজ্ঞানের কাছে যা আশা রাখে, বলা ভালো যে “চমত্কারের” আকাঙ্ক্ষা রাখে, যে ম্যাজিক আর চটপট আশু সমাধান চায় বিজ্ঞান তা যদি দিতে না পারে তাহলে তা নীরস হয়ে ওঠে। বিজ্ঞান যদি তার তত্ত্ব ও সূত্রকে অভাবনীয় কিংবা উচ্চমার্গীয় এলিট করে রাখে, তবে সেট ব্যবধানের পথে অলৌকিক ক্ষমতাবান মহাপুরুষের আগমন ঘটে। আর, বিজ্ঞান হয়তো অলীক অসম্ভবের স্বপ্নকেই যুগে যুগে বাস্তব করেছে, ননীও তাই তেমন স্বপ্নে মশগুল।
নিবারণ জানতে চায় জাবর কাটার অভ্যাস করা হচ্ছে কীনা, ঘাসখেকো মানুষ দুপা না চার পায়ে হাঁটবে ইত্যাদি। বিদ্রুপে স্থিতধী ননীকে টলানো যায় না। তিনি সবকথার সপ্রতিভ জবাব দেন। তোৎলামির জন্য কথা আটকে না গেলে তিনি যা বলতে চাইছেন তা হল, এই গবেষণায় সফল হলে দেশে আর অন্নাভাব থাকবে না। কিন্তু “অন্নাভাব” শব্দে জিভ বেঁধে যায়। পরিচালক হয়তো বলতে চাইছেন, এই থিওরি ও বাস্তব সমাধানে যোজন ব্যবধান।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৪: ভুবন চিল ও শঙ্খচিল

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৯: খাণ্ডবদহনের প্রেক্ষিতে জরিতা,লপিতা ও ঋষি মন্দপালের উপাখ্যানের আজ প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?
চলচ্চিত্র মুক্তি পায় ছয়ের দশক, ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে। সময়টা ভারতবর্ষের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। সমকালীন খরা, খাদ্য সঙ্কট ও ১৯৬৬ সালের খাদ্য আন্দোলন… অনেককিছু ভিড় জমাবে মনে, ক্রমশঃ ছায়াছবির নেপথ্যে সঞ্চরমান দেশ দুনিয়ার আর মনের গভীরতম লোকে জমে ওঠা অন্ধকার, অন্যায় ও ডামাডোলের রাজনীতি প্রকট হয়ে উঠবে, পরিচালকের রাজনৈতিক বক্তব্যটি স্পষ্ট হতে থাকে।
ননীর সদাহাস্যময়ী গৃহিনী স্বামীর কার্যকলাপে বিরক্ত নন বোঝা যায়, বরং এই পাগলামির তিনিও অংশীদার। পাগলামি, কারণ এই পথে ব্যক্তিস্বার্থ নেই, তাকে চরিতার্থ করার উদগ্র আকাঙ্ক্ষা নেই। এ তো পাগলামিই যেন! সেই ক্ষ্যাপার মতো পরশপাথর খুঁজে খুঁজে বেড়ানোর কষ্ট কিংবা বিলাস।
নেপথ্যে ঘাসসিদ্ধের শোঁ শোঁ আওয়াজ শোনা যায়। ননী ব্যস্ত হয়ে ঘর-বাহির করেন, ননীর গৃহিণী নিতান্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে নেপথ্যবর্তিনী কন্যাকে “ওরে অমুক, ঘাসটা একটু দেখিস” জানান “ভাতটা দেখিস ওরে”র স্টাইলে। ভবিষ্যতে খাদ্যসমস্যার এমনতর সমাধান হলে আগামীর কোনও মা কন্যাকে এমনটাই বলবেন বুঝি।
বিরিঞ্চিবাবার কথা উঠলে প্রফেসর ননীর নিরাসক্ত অথচ তির্যক ভাষ্যে জানা যায় লোকটা সব জানে। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি জানে, তাঁকে দেখেছেন। চেকোশ্লোভাকিয়ায় তপস্যা করতো, আইনস্টাইন তাঁর কাছেই রিলেটিভিটি জেনেছেন।
ননীর সদাহাস্যময়ী গৃহিনী স্বামীর কার্যকলাপে বিরক্ত নন বোঝা যায়, বরং এই পাগলামির তিনিও অংশীদার। পাগলামি, কারণ এই পথে ব্যক্তিস্বার্থ নেই, তাকে চরিতার্থ করার উদগ্র আকাঙ্ক্ষা নেই। এ তো পাগলামিই যেন! সেই ক্ষ্যাপার মতো পরশপাথর খুঁজে খুঁজে বেড়ানোর কষ্ট কিংবা বিলাস।
নেপথ্যে ঘাসসিদ্ধের শোঁ শোঁ আওয়াজ শোনা যায়। ননী ব্যস্ত হয়ে ঘর-বাহির করেন, ননীর গৃহিণী নিতান্ত স্বাভাবিক কণ্ঠে নেপথ্যবর্তিনী কন্যাকে “ওরে অমুক, ঘাসটা একটু দেখিস” জানান “ভাতটা দেখিস ওরে”র স্টাইলে। ভবিষ্যতে খাদ্যসমস্যার এমনতর সমাধান হলে আগামীর কোনও মা কন্যাকে এমনটাই বলবেন বুঝি।
বিরিঞ্চিবাবার কথা উঠলে প্রফেসর ননীর নিরাসক্ত অথচ তির্যক ভাষ্যে জানা যায় লোকটা সব জানে। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি জানে, তাঁকে দেখেছেন। চেকোশ্লোভাকিয়ায় তপস্যা করতো, আইনস্টাইন তাঁর কাছেই রিলেটিভিটি জেনেছেন।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২০: রবীন্দ্রনাথ আশ্রমের একমাত্র তাঁকেই প্রণাম করতেন

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা
মনে রাখতে হবে এই আপেক্ষিকতাবাদ সুকুমার রায়ের কলমে হযবরলতে তীব্র হয়ে জেগে উঠেছে। সেই দুনিয়ায় রুমাল আর বিড়াল এক। অনিয়মের নিয়ম নিয়েই তার জগত্। সত্যজিৎ ও পরশুরামের প্রজ্ঞা এখানে সুকুমারের দর্শনে মিশেছে, উকিল ব্যারিস্টার মাড়ওয়ারী ব্যবসায়ীদের সামনে বাবাজী জানিয়েছেন তিনিই আইনস্টাইনকে ই ইকোয়ালটু এম সি স্কোয়ার শিখিয়েছেন। মান্যিগণ্যি লোকেরা তা শুনে আপত্তি করেনি, বরং ক্ল্যাপ দিয়েছেন। বিজ্ঞানী ননীও চুপ থেকেছেন সব বুঝেও। এই হল সমাজের প্রকৃত চিত্র, আজকেও এর পরিবর্তন ঘটেছে কি?
ভণ্ডামি ও সামাজিক অন্ধকার কী তীব্র হয়ে উঠলে মুক্ত জ্ঞানের পরিসর ক্ষুণ্ন হতে হতে সংকীর্ণ ও নিরর্থক হয় তার উদাহরণ এই দৃশ্যায়ন। নিবারণ হতভম্ব হয়ে জানতে চায় যে সমাগত উচ্চশ্রেণি সকলে একথা বিশ্বাস করলে? ননী জানান, সকলে সমর্থনের হাততালি দিয়েছে। খেয়াল করা দরকার, ননীর স্ত্রীর ভাষ্যে এইসব সমাগতের ভিড়ে কারা থাকছেন? উকিল ব্যারিস্টার মাড়োয়ারী টাড়োয়ারী আরও কতো লোক। বাবাজী বাগ্মী, কথা বলেন বেশ, উচ্চমার্গের কথা অনেকক্ষেত্রে আটপৌরে সাধারণ বৃত্তে থাকা মানুষের কাছে অজ্ঞেয় হতে পারে। উকিল ব্যারিস্টার সামাজিক ন্যায় অন্যায়ের সমাধানের মার্গদর্শক, এগুলি পেশা। মাড়োয়ারী জাতির নামেই একটি বৃত্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি যাঁদের হাতে, তাঁরা বিরিঞ্চিবাবার করায়ত্ত। এ এক অন্তর্লীন ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ওঠাবসার নাগরিক এষণার আখ্যান, যার অযৌক্তিক অন্ধ আবেগের সঙ্গে নিরুদ্বিগ্ন সহাবস্থান। বিজ্ঞান যেখানে পথ হারিয়েছে ‘সিউডো সায়েন্সে’, ছদ্মযুক্তি ও মিথ্যার সূক্ষ্মাগ্র ভেদটি এখানে অন্তর্হিত। “অতি”র কাছে নতিস্বীকারের বোধ গুলিয়ে দিয়েছে ভেদাভেদবুদ্ধি। এই কাহিনী ‘গণশত্রু’র কাহিনির থেকে যেটুকু অন্যতর মনে হয় তা বুঝি ওই আপেক্ষিকতার জন্য।
ভণ্ডামি ও সামাজিক অন্ধকার কী তীব্র হয়ে উঠলে মুক্ত জ্ঞানের পরিসর ক্ষুণ্ন হতে হতে সংকীর্ণ ও নিরর্থক হয় তার উদাহরণ এই দৃশ্যায়ন। নিবারণ হতভম্ব হয়ে জানতে চায় যে সমাগত উচ্চশ্রেণি সকলে একথা বিশ্বাস করলে? ননী জানান, সকলে সমর্থনের হাততালি দিয়েছে। খেয়াল করা দরকার, ননীর স্ত্রীর ভাষ্যে এইসব সমাগতের ভিড়ে কারা থাকছেন? উকিল ব্যারিস্টার মাড়োয়ারী টাড়োয়ারী আরও কতো লোক। বাবাজী বাগ্মী, কথা বলেন বেশ, উচ্চমার্গের কথা অনেকক্ষেত্রে আটপৌরে সাধারণ বৃত্তে থাকা মানুষের কাছে অজ্ঞেয় হতে পারে। উকিল ব্যারিস্টার সামাজিক ন্যায় অন্যায়ের সমাধানের মার্গদর্শক, এগুলি পেশা। মাড়োয়ারী জাতির নামেই একটি বৃত্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি যাঁদের হাতে, তাঁরা বিরিঞ্চিবাবার করায়ত্ত। এ এক অন্তর্লীন ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ওঠাবসার নাগরিক এষণার আখ্যান, যার অযৌক্তিক অন্ধ আবেগের সঙ্গে নিরুদ্বিগ্ন সহাবস্থান। বিজ্ঞান যেখানে পথ হারিয়েছে ‘সিউডো সায়েন্সে’, ছদ্মযুক্তি ও মিথ্যার সূক্ষ্মাগ্র ভেদটি এখানে অন্তর্হিত। “অতি”র কাছে নতিস্বীকারের বোধ গুলিয়ে দিয়েছে ভেদাভেদবুদ্ধি। এই কাহিনী ‘গণশত্রু’র কাহিনির থেকে যেটুকু অন্যতর মনে হয় তা বুঝি ওই আপেক্ষিকতার জন্য।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৯: গোখরো কিংবা কালাচ
বিরিঞ্চিবাবা কাশীর পত্তনের সময়ে থেকে বেঁচে আছেন। মানুষের সর্বাধিক আয়ু কতো হতে পারে? দেড়শো? দুশো? দুশো হলে কচ্ছপ। আর যদি দুহাজার হয়? তাহলে গাছ। বিরিঞ্চিবাবার বয়স কতো তাহলে? ননী বিজ্ঞানী হয়েও, আচরণে ক্ষ্যাপাটে হলেও বাস্তববোধহীন পণ্ডিতমূর্খ নন, তিনি নিবারণকে জানান, নিবারণ সেখানে থাকলে তিনিও হাততালি দিতেন বৈকী! বিরিঞ্চিবাবা আসলে যেন চার্বাক, মধুর ভাষ্যে অলঙ্ঘ্য যুক্তিতে যাবজ্জীবন সুখে বাঁচার জন্য ঋণগ্রস্ত হয়েও বুক চিতিয়ে ধারের ঘি খাওয়ার পরামর্শ দেন যেন।
ননী বিরিঞ্চিবাবার দেখানো রিলেটিভিটির আপাতঃ কঠিন ডেমনস্ট্রেশনটি বোঝান, যা এই চলচ্চিত্রের এক সম্পদ। দুটি আঙুল পরস্পর বিপরীতে চালিত হবে, ঘড়ির কাঁটার পক্ষে ও বিপরীতে, যুগপৎ একসঙ্গে। দুটি আঙুলের মধ্যস্থিত স্থির সংলগ্ন অংশটি বর্তমান, ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তিত হচ্ছে ভবিষ্যত্, বিপরীতেরটি অতীত। একসঙ্গে সবটুকুর প্রবর্তনা নিঃসন্দেহে কঠিন, কখনও বা অসম্ভব। নিবারণ ক্রমে ক্রমে তা সম্ভব করবেন। বিরিঞ্চিবাবা বলতে চান, বর্তমান বলে কিছু নেই, আছে অতীত আর ভবিষ্যৎ। তা বলে কি আর কিছু থেমে থাকে?
এই পর্বে দর্শকের জন্য অপেক্ষা করে আরেকটি ইঙ্গিত। ননীর রেকর্ড করা বাবাজীর কণ্ঠস্বর। রেকর্ড প্লেয়ারে ক্যাসেট রাখলে প্রথমে তা বিকৃত কণ্ঠস্বরে শোনা যায় যন্ত্রপ্রমাদে। পরে বিজ্ঞানীর হস্তক্ষেপে প্রমাদ কেটে গেলে শোনা যায় বিরিঞ্চিবাবার বিচিত্র হৃদয়গ্রাহী ভাষণ, যা আপাত মনোগ্রাহী ও বুদ্ধিদীপ্ত, যা ছদ্ম যৌক্তিক কাঠামোয় পরিবেশিত ও অভ্রান্ত বলেই স্বীকৃত হতে পারে। কিন্তু… এর পিছনে থাকা কিন্তুর ছায়াটি সরিয়ে সত্যোদ্ঘাটনের দায়িত্ব বিজ্ঞানবুদ্ধির, শুভবুদ্ধি ও শুভবোধের। এখানে বিজ্ঞানবুদ্ধিকেও কিছুটা নিস্পৃহতার ছলে হতচকিত, কিংকর্তব্যবিমূঢ় মনে হয় যেন, সে নিজেকে প্রচ্ছন্ন রাখার ভানে যেন আত্মবিস্মরণকেই স্বীকৃতি দেয় অসম্ভব খাদ্যাখাদ্যবিনিশ্চয়ের লোকে! আসলে বিরিঞ্চিবাবা জনগণকে যা ‘খাওয়াতে’ চাইছেন তাকে অমৃতনিষ্যন্দী মনে হলেও তা মনুষ্যোপযোগী নয়, অসম্ভব ছায়াবাজি কিংবা হাঁসজারু জাতীয় কিছু, যা খাওয়া যায় কিন্তু গেলা যায় না।
ননী বিরিঞ্চিবাবার দেখানো রিলেটিভিটির আপাতঃ কঠিন ডেমনস্ট্রেশনটি বোঝান, যা এই চলচ্চিত্রের এক সম্পদ। দুটি আঙুল পরস্পর বিপরীতে চালিত হবে, ঘড়ির কাঁটার পক্ষে ও বিপরীতে, যুগপৎ একসঙ্গে। দুটি আঙুলের মধ্যস্থিত স্থির সংলগ্ন অংশটি বর্তমান, ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তিত হচ্ছে ভবিষ্যত্, বিপরীতেরটি অতীত। একসঙ্গে সবটুকুর প্রবর্তনা নিঃসন্দেহে কঠিন, কখনও বা অসম্ভব। নিবারণ ক্রমে ক্রমে তা সম্ভব করবেন। বিরিঞ্চিবাবা বলতে চান, বর্তমান বলে কিছু নেই, আছে অতীত আর ভবিষ্যৎ। তা বলে কি আর কিছু থেমে থাকে?
এই পর্বে দর্শকের জন্য অপেক্ষা করে আরেকটি ইঙ্গিত। ননীর রেকর্ড করা বাবাজীর কণ্ঠস্বর। রেকর্ড প্লেয়ারে ক্যাসেট রাখলে প্রথমে তা বিকৃত কণ্ঠস্বরে শোনা যায় যন্ত্রপ্রমাদে। পরে বিজ্ঞানীর হস্তক্ষেপে প্রমাদ কেটে গেলে শোনা যায় বিরিঞ্চিবাবার বিচিত্র হৃদয়গ্রাহী ভাষণ, যা আপাত মনোগ্রাহী ও বুদ্ধিদীপ্ত, যা ছদ্ম যৌক্তিক কাঠামোয় পরিবেশিত ও অভ্রান্ত বলেই স্বীকৃত হতে পারে। কিন্তু… এর পিছনে থাকা কিন্তুর ছায়াটি সরিয়ে সত্যোদ্ঘাটনের দায়িত্ব বিজ্ঞানবুদ্ধির, শুভবুদ্ধি ও শুভবোধের। এখানে বিজ্ঞানবুদ্ধিকেও কিছুটা নিস্পৃহতার ছলে হতচকিত, কিংকর্তব্যবিমূঢ় মনে হয় যেন, সে নিজেকে প্রচ্ছন্ন রাখার ভানে যেন আত্মবিস্মরণকেই স্বীকৃতি দেয় অসম্ভব খাদ্যাখাদ্যবিনিশ্চয়ের লোকে! আসলে বিরিঞ্চিবাবা জনগণকে যা ‘খাওয়াতে’ চাইছেন তাকে অমৃতনিষ্যন্দী মনে হলেও তা মনুষ্যোপযোগী নয়, অসম্ভব ছায়াবাজি কিংবা হাঁসজারু জাতীয় কিছু, যা খাওয়া যায় কিন্তু গেলা যায় না।

(বাঁদিকে) গাঙচিলের ডিম। (ডান দিকে) বাদামি মাথা গাঙচিল অপ্রজনন ঋতুতে। ছবি: সংগৃহীত।
যে সময়, দেশ কালের কথা দর্শক দেখছেন ও ভাবতে চাইবেন তার থেকেও বৃহত্তর হয়ে বিপুল অখণ্ড কাল ধরা দেবে। যে কাল স্থির, যেখানে অতীত থেকে ভবিষ্যত্ সব আপেক্ষিকতায় আক্রান্ত। যেখানে ধর্ম, বিজ্ঞান, ন্যায়, অন্যায় সমাজ, ব্যক্তি, গোষ্ঠী সব একটা গোলোকধাঁধায় ঢুকে পড়েছে, কিংবা এগুলি বাস্তব অস্তিত্বের বাইরে থাকা নিষ্ক্রিয় কিছু যেন। অদৃশ্য শক্তির অঙ্গুলিহেলনে যে অবিরত পুতুল নাচ চলে, বিরিঞ্চিবাবার এই সেমি পার্মানেন্ট সেটলমেন্টে বসে ঐশ্বরিক কর্মকাণ্ডে, আঙুলের সূক্ষ্ম সঞ্চালনে অতীত বর্তমান ভবিষ্যতের চলাচলের খেলায় সেই পুতুল নাচটি যেন দর্শক দেখতে পান নিমেষেই। দৃশ্যটি যন্ত্রস্থ ভাষণের সূত্র ধরে দৃশ্যান্তরে চলে যায়, বিরিঞ্চিবাবা বিচিত্র ভঙ্গী ও সুরে উপদেশ বলে চলেন “কাল অতি বিচিত্র বস্তু, কথায় বলে আজ আছি কাল নেই। আমি বলি কাল আছে। আজ নেই। কাল, সময়, টাইম আছে। কিন্তু আজ, মানে বর্তমান বলে কিছু নেই। কী করে থাকবে, অ্যাঁ! যা ভবিষ্যৎ, যা ভবিতব্য, যা ঘটলো, সে তো আর ঘটে একজায়গায় থেমে থাকল না যে তাকে বর্তমানের লেবল এঁটে পায়ে শিকল দিয়ে ধরে রেখে দেবে, আর ধরে রেখে বলবে, দেখো! এই হল বর্তমান! কটা দিন ফুরিয়ে গেল আর তা হয়ে গেল ঘটেছে, বা ঘটে গেল, বা ঘটেছিল। অর্থাৎ, অতীত, ভূত। এই নিয়ে প্লেটোর সঙ্গে আমার কত কথা কাটাকাটি।”
মানুষের যে মনস্তত্ত্ব ও অজ্ঞতা নিয়ে বিরিঞ্চিবাবারা করে খান, যেখানে তাঁদের প্রাজ্ঞ অধ্যাপক, ব্যাকরণের পণ্ডিত, মহাদার্শনিক কিংবা ধুরন্ধর ত্রিকালজ্ঞ মহাপুরুষ যা কিছু মনে হতে পারে, কিন্তু তিনি কী আর কী নন তার উদ্ঘাটন করতে পারে, একজন পারে একজন-ই পারে, সে হল বিজ্ঞানবোধ, যন্ত্রের ঠোকাঠুকি, অঙ্কের হিসেব আর স্বার্থের কচকচির অনেক ঊর্ধ্বে উঠতে হয় তাকে। এখানেই এসে যেন মনে হয়, এই বিজ্ঞান বিজ্ঞান খেলা আর ভণ্ডামির আগেও কিছু আছে। ভূতের রাজা, গুপির গান, বাঘার বাদ্যি আর নিষ্কলুষ শুদ্ধ বুদ্ধির প্রসন্ন আলোকের সেই অলৌকিক দুনিয়াটার প্রমাদগুলো মুখোশ আঁটা আধা নাগরিক আধা পলায়নপর, আদ্যন্ত ভীরু আবার যুদ্ধোন্মাদ, স্বার্থনিষ্ঠ আই গো আপ উই গো ডাউনের, টাইম মেশিনে চেপে সস্তায় লোহা কিনে চড়া দামে বেচে টু পাইস কামানোর অলৌকিক স্বপ্নে বুঁদ হতচেতন জনমানসের বিপন্নতার থেকে খুব বেশি দূরে নয়। এখানেই কেউ পরশপাথর পেয়ে লোহাকে সোনা করে দিতে চায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য, কেউ অতীতে যেতে চায় সেই ভাবী কল্যাণের জন্য। বিরিঞ্চিবাবারা এখানেই আবির্ভূত হন, তাঁরা জানিয়ে দেন বর্তমান বলে কিছু নেই। আদৌ আছে কি এই কীটদষ্ট কালে?—চলবে।
মানুষের যে মনস্তত্ত্ব ও অজ্ঞতা নিয়ে বিরিঞ্চিবাবারা করে খান, যেখানে তাঁদের প্রাজ্ঞ অধ্যাপক, ব্যাকরণের পণ্ডিত, মহাদার্শনিক কিংবা ধুরন্ধর ত্রিকালজ্ঞ মহাপুরুষ যা কিছু মনে হতে পারে, কিন্তু তিনি কী আর কী নন তার উদ্ঘাটন করতে পারে, একজন পারে একজন-ই পারে, সে হল বিজ্ঞানবোধ, যন্ত্রের ঠোকাঠুকি, অঙ্কের হিসেব আর স্বার্থের কচকচির অনেক ঊর্ধ্বে উঠতে হয় তাকে। এখানেই এসে যেন মনে হয়, এই বিজ্ঞান বিজ্ঞান খেলা আর ভণ্ডামির আগেও কিছু আছে। ভূতের রাজা, গুপির গান, বাঘার বাদ্যি আর নিষ্কলুষ শুদ্ধ বুদ্ধির প্রসন্ন আলোকের সেই অলৌকিক দুনিয়াটার প্রমাদগুলো মুখোশ আঁটা আধা নাগরিক আধা পলায়নপর, আদ্যন্ত ভীরু আবার যুদ্ধোন্মাদ, স্বার্থনিষ্ঠ আই গো আপ উই গো ডাউনের, টাইম মেশিনে চেপে সস্তায় লোহা কিনে চড়া দামে বেচে টু পাইস কামানোর অলৌকিক স্বপ্নে বুঁদ হতচেতন জনমানসের বিপন্নতার থেকে খুব বেশি দূরে নয়। এখানেই কেউ পরশপাথর পেয়ে লোহাকে সোনা করে দিতে চায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য, কেউ অতীতে যেতে চায় সেই ভাবী কল্যাণের জন্য। বিরিঞ্চিবাবারা এখানেই আবির্ভূত হন, তাঁরা জানিয়ে দেন বর্তমান বলে কিছু নেই। আদৌ আছে কি এই কীটদষ্ট কালে?—চলবে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।


















