রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
জীবনবাবু স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তদন্ত শেষ করে এই শেষ বিকেলে ফিরছেন সাহেবরা। দুজনেই চুপচাপ। পিছনের সিটে বসে দুই কনষ্টেবলও চুপ করে বসে। সাহবরা আছেন, তারা কথা বলতে পারছে না সে-জন্য। তবে এখন লোকজন কথা বলার চেয়ে মোবাইল-ঘাঁটা বেশি পছন্দ করে। তারাও সেটাই করছিল।

শাক্য চুপচাপ বাইরের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসেছিল। তার চোখে রোদচশমা, বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই সে জেগে না ঘুমিয়ে, কোন্দিকে বা কার দিকে তাকিয়ে আছে—তাও বোঝার উপায় নেই। সুদীপ্ত মোবাইলে বউকে মেসেজ পাঠাচ্ছিলো। ক্রমেই দাম্পত্যটা গোলমেলে জায়গায় চলে যাচ্ছে। কবে যে তারা দুজনে একটু একত্রে থাকতে পারবে, সেটাই এই মুহূর্তে বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।

শাক্য অকারণে মোবাইল-ঘাঁটা পছন্দ করে না। তার চেয়ে বরং প্যাট্রেসিয়া হাইস্মিথ পড়লে সময়ও কাটবে, আবার অপরাধীর মনস্তত্ত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানলাভ হবে। আগাথা ক্রিস্টি খুব মনোরম করে গল্প বলেন, কিন্তু প্যাট্রেসিয়া একেবারে মনের গভীরে ছুরি-কাঁচি চালিয়ে ব্যবচ্ছেদ করে দেখান। তার বড় পছন্দের লেখক প্যাট্রেসিয়া। আপাতত সে অবশ্য প্যাট্রেসিয়া হাইস্মিথের কোন নভেল নিয়ে ভাবছিল না। সে ভাবছিল, তদন্তের ব্যাপারে। আশেপাশে দিনের আলোয় সরজমিনে তদন্ত করে যা বোঝা গেল, এই কেসে কোথাও একটা ফাঁক বা ফাঁকি আছে। কিছু একটা যেন মিসিং, যা থাকা উচিৎ ছিল, কিন্তু নেই। সেটা কী, মাথায় আসছে না এই-মুহূর্তে। ঘটনার একমাত্র সাক্ষী উন্মেষা আজও বলেছেন, তিনি দেখেছেন বিপুল অন্ধকারের মতো অতিকায় এক ছায়াময় হাতে মুগুরের মতো কিছু নিয়ে আঘাত করছে। এটা কতটা হ্যালুসিনেশন, কতটা বাস্তব—সেটা বার করা এই মুহূর্তে চাপের। কিন্তু উন্মেষা গতকালও বলেছিলেন, আজকেও বলেছেন, তিনি যা দেখেছেন, তা সজ্ঞানে দেখেছেন।
কাপাডিয়া কিছুই দেখেননি বলেছেন, কারণ অ্যাটাক্টা তাঁর পিছন দিক থেকে হয়েছিল। তার আগে তিনি ঝোপের ধারে কাউকেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেননি, দেখলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি সতর্ক হতেন এবং চেঁচিয়ে উঠতেন। গার্ডেরা আশেপাশেই ছিল, সামনের দিক থেকে পিছনে গেটের কাছে আসতে তাদের এক মিনিটও লাগত না। কিন্তু তিনি সেই সুযোগই পাননি। অতর্কিতে আঘাত নেমে এসেছিলো। আঘাতের সঙ্গে-সঙ্গেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সেই মুহূর্তে তাঁর যা মনে আছে, তাতে কারও পালিয়ে যাওয়ার আওয়াজ তিনি শোনেন নি। কালাদেও নামক অপদেবতাটি একদিকে আক্রমণের জন্য জুতো পরে ঘাসের উপর অপেক্ষা করেন, শরীরের চাপে ঘাস থেঁতলে পর্যন্ত যায়, আবার উন্মেষার সামনে তিনি ছায়াময় বিশাল আকার ধারণ করেন—এ-যেন পিসি সরকারের ম্যাজিক!

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং কথা বলেছে একেজির ভাগ্নি রিমিতা। সে বলেছে, ভালো লাগছিল না বলে সে বারান্দায় বেরিয়েছিল, তখন সে দেখে পাশের রুমের বারান্দা থেকে কেউ টর্চের মতো আলো ফেলে যেন সংকেত দিচ্ছিল। তার পর-পরই কাপাডিয়ার উপর আক্রমণ হয় এবং নিচে হই-হই শব্দ শুনে সকলে দৌড়ে আসে। অথচ রিমিতা এবং পূষণ তাদের রুম থেকে বেরিয়ে দেখে পাশের রুমটিতে তালা দেওয়া, এবং সেটি একটি ক্লোকরুম।

আজ সকালে হোটেলের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসা করায়, তারাও বলেছে যে, ওই ঘরে বেডিং ইত্যাদি, নানা ইউটেনসিল, রুম ক্লিন করার সাজ-সরঞ্জাম ইত্যাদি থাকে। ওই রুম কখনই কাউকে ভাড়া দেওয়া হয় না। কারণ, সেই রকম অবস্থাতেই নেই ওই রুম। শাক্য শুনে রুমটি খুলিয়ে নিজে ঢুকে দেখেছে, মাকড়শার জাল আর ধুলোয় একেবারে ধূসর হয়ে আছে। বারান্দা একটা আছে অবশ্য, কিন্তু তার দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করা। তাহলে? কে সেই ব্যক্তি যে একটি বন্ধ ক্লক রুমের বারান্দা থেকে আলোর সংকেত দেবে এবং কাকেই বা দেবে? দেওয়ার কারণটিই বা কী?
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৯: গোখরো কিংবা কালাচ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৩: মা সারদা নিজের কষ্ট গোপন রাখতেন

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৪: ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাগণ সাহিত্য সংস্কৃতির অকৃপণ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন

অনেকেই ঘটনা ঘটার সময় রুমে কিংবা ডাইনিং-এও ছিল। আর্য এবং অরণ্য যেমন। তবে খাওয়া শেষ করে তারা উপরে উঠে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কাপাডিয়ার সঙ্গে ঘটনাটি ঘটে। অঞ্জন এবং উন্মেষা তাঁদের রুমেই ছিলেন। তৃধাও তাঁর খাবার রুমে দিয়ে যেতে বলেছিলেন। তিনি ভদ্কা অর্ডার করেছিলেন, যা তাঁকে সার্ভও করা হয়। আর্য রুমে ঢুকে যায় এবং তার কথা মতো টায়ার্ড লাগছিল বলে সে ঘুমিয়ে পড়ে। অরণ্য অবশ্য ব্যক্তিগত কারণে জেগে ছিল এবং সবকিছুর ফাঁকে সে হোয়াইট রাম অর্ডার করেছিল। তার রুমে তা পৌঁছে দেওয়া হয়। সকলের অ্যালিবি থাকলে গোটা ব্যাপারটিই ভূতুড়ে হয়ে পড়ে। কিন্তু ঘটনাটিকে মোটেই আলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত বলতে নারাজ শাক্য। সকলের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্যই ভূতুড়েভাবে সাজানো হয়েছে এমনটিই মনে হচ্ছে তার।

রিসর্টের কর্মচারীদেরও অ্যালিবি পাকা। অবশ্য তখন রাত হয়ে গিয়েছিল। সকলে ডিনার খাবে, এটাই স্বাভাবিক। এই রিসর্টের নিয়ম অনুযায়ী, স্টাফেরা নিজেরা একটা মেস ক্যান্টিন চালায়। রিসর্টের ওভেন, গ্যাস কেবল তাদের ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। বাকিটা তারা নিজেরা বাজার করে। তাদের মেনুও সাধারণ, যেমন বিভিন্ন মেসে হয়। তারা নিজেরাই পালা করে রান্না করেন। সবচেয়ে অবাক ঘটনা হল, ম্যানেজারবাবু অর্থাৎ কাপাডিয়াও তাদের মেসের মেম্বার এবং তাদের মতোই মাসিক টাকা দেন। ব্যাপারটা ভালো লেগেছে শাক্যর। ম্যানেজার আলাদা কোন পৃথিবীর বাসিন্দা নন, তাদেরই মতো বেতনভূক কর্মচারী একজন, এ-কথা স্টাফেরা বুঝতে পারলে মন লাগিয়ে কাজ করবে, এই রিসর্টকে নিজেদের খুব আপনজন এবং ব্যবসাকে নিজেদের ব্যবসা বলেই মনে করবে। এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। এই ব্যাপারে সকলেই কাপাডিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

সেদিন মেস-ক্যান্টিনে সকলেই খাওয়া-দাওয়া করেছিল বলতে গেলে, একজন স্টাফ কেবল পেট খারাপ বলে খায়নি সেদিন। বারবার টয়লেটে যেতে হচ্ছিল বলে ম্যানেজার তাকে ডেকে স্টাফ-ব্যারাকে চলে যেতে বলেন। যদিও সে যায়নি। তারপরেও সে ছিল এবং সকলের সঙ্গে একসঙ্গে ফিরবে বলেও জানিয়েছিলো। কাপাডিয়া নিজে তো ভুক্তভোগী। অতএব তাঁর কথা ছেড়ে দিল শাক্য। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার এই যে, এরা কেউই কিছু দেখেনি বা কোনও অস্বাভাবিক আওয়াজও শোনেনি। তাহলে? কালপ্রিট কি তবে নিঃসন্দেহে বাইরের কেউ?
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৪: ভুবন চিল ও শঙ্খচিল

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৯: খাণ্ডবদহনের প্রেক্ষিতে জরিতা,লপিতা ও ঋষি মন্দপালের উপাখ্যানের আজ প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?

আরও কিছু ভাববে বলে সে তৈরি হচ্ছিল, এমন সময় তার মোবাইল ফোনটায় রিং হলো। চিন্তার সূত্র ছিন্ন হল বলে সাময়িক ক্ষুব্ধ হলেও কলকর্তার নাম স্ক্রিনে ফুটে উঠতেই তার বিরক্তি নিমেষে উধাও।
সে তাড়াতাড়ি ফোন রিসিভ করে বলল, “হ্যালো স্যার…”
ও-দিক থেকে রাশভারি গলায় কলকর্তা বললেন, “স্যার, আমি অধম একেজি বলছি…”
শুনে হেসে ফেলল শাক্য। তারপর এই প্রগল্ভতার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বলল, ‘স্যার বলুন। আমি ফিরেই আপনাকে কল করতাম আজ।”
“তুমি ওখানে কষ্ট করছ, সেজন্য নিজেই কল করে নিলাম তোমাকে। কেমন আছো ? শরীর ঠিক আছে তো তোমার ? খুব খাটনি যাচ্ছে বুঝতে পারছি ? তুমি চাইলে ডিপার্টমেন্ট থেকে আর-একজনকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি।”
“থ্যাঙ্ক ইউ স্যার, নিজেই কল করার জন্য। আমি ফিরে গিয়েই ব্রিফিং করতাম। যাই হোক, এখন পর্যন্ত ঠিক আছি। কাজের চাপ একটু বেশি। কালাদেও এন্ড কোং দম ফেলার ফুরসৎ দিচ্ছে না। তবে এখানে আমি একা নই। সুদীপ্ত আছেন। লোকাল থানার সেকেন্ড অফিসার। খুব করিতকর্মা অফিসার। উনি আছেন বলেই আমার খাটনি তেমন খাটনি বলে মনে হচ্ছে না!”
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২০: রবীন্দ্রনাথ আশ্রমের একমাত্র তাঁকেই প্রণাম করতেন

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা

শাক্যর মুখে নিজের নাম শুনে সুদীপ্ত তার দিকে তাকিয়ে হাতজোড় করল। শাক্য হাসল মৃদু।
একেজি বললেন, “বাহ! তাহলে তো ভালোই হয়েছে। আমাকেও আর কাউকে পাঠাতে হবে না। যদিও তোমার সঙ্গে কাজ করার জন্য অনেকেই এক পায়ে খাড়া।”
“থাক্ স্যার। আপনাকে আর লেগপুলিং করতে হবে না। পাভেলের কথা বলুন? সে আছে কেমন? মোবাইল দিয়েছে ব্যবহার করতে?”
“আগের চেয়ে বেটার। তবে এখনও খুব দুর্বল। আইসিইউ থেকে জেনারেল বেডে দিলেও মোবাইল ব্যবহার করার ব্যাপারে এখনও নিষেধাজ্ঞা আছে।”
“হ্যাঁ, আমি কল করেছিলাম বার-দুয়েক। মাসিমা ধরেছিলেন। আসলে অনেকদিন ওর গলা শুনিনি। সেইজন্য মনটাও কেমন অস্থির হয়ে আছে। এখানকার কাজ কবে মেটাতে পারবো জানি না !”
“এখন কি ব্রিফিং করতে পারবে? হ্যাঁ কিংবা না-তে উত্তর দেবে। আমি বুঝে যাবো।”
“না!”
একেজি বুঝলেন এখন কেসের ব্যাপারে ডিটেইলে কথা বলতে অসুবিধা আছে। তিনি সতর্ক হলেন। বললেন, “তুমি কী কালকের ঘটনার ব্যাপারেই আজ আবার গিয়েছিলে?”
“হ্যাঁ!”
“এনি পজিটিভ আউটকাম?”
“এখন পর্যন্ত না।”
“রাতে আমি ফ্রি থাকবো। তোমার সময় মতো কল করো।”
“আচ্ছা স্যার।”
“তুমি কাল যাদের সম্পর্কে ইনফরমেশন চেয়েছিলে, তা তৈরি হচ্ছে। কাজটার ভার কে নিয়েছেন জানো?”
“কে?”
“ইরাবতী। ইরাবতী মিত্র।”

শুনে চমৎকৃত হল শাক্য। লালবাজারে হাল আমলে যে-যে অফিসার এসেই নিজেদের তীক্ষ্ণধার বুদ্ধি আর পরিশ্রম দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন ইরাবতী। সম্প্রতি বিশিষ্ট একজন লেখকের হত্যারহস্যের কিনারা করে, যথেষ্ট প্রশংসা অর্জন করেছেন ইরাবতী। তার সঙ্গে অবশ্য সামান্যই আলাপ-পরিচয়। তবে দুজনেই দুজনকে শ্রদ্ধা করে। ইরাবতী এই দায়িত্ব নিয়েছেন শুনে শাক্য নিশ্চিন্ত বোধ করল।
“আমার ভাগ্নী আর তার হবু হাবির কী খবর? ভালো আছে তারা?” বলে হাসলেন একেজি।
“মনে হয় টেনশনে আছেন। সকলেই আছেন। সুদীপ্ত আর আমি ঠিক করেছি, এবার পাখিদের আর খাঁচায় বন্দি করে রাখব না। ছেড়ে দেব। কে কতদূর উড়তে পারে দেখবো!”
“ভালো প্রস্তাব। তবে আমার ভাগ্নি যেন বেশিদূর উড়তে না পারে, তাহলে আমার বোন আমার একটিও হাড়গোড় আস্ত রাখবে না। এমনিতেই ওরা প্রি-হানিমুনে গিয়েছে বলে চটিতং হয়ে রয়েছে।”
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৩: পরেশের পরশপাথর

হাসল শাক্য। “আপনি বলুন, আমিও বলবো। ওঁদের মাথায় গোয়েন্দাগিরির শখ চেপেছে। ওঁরা কালাদেও রহস্যের জাল ছিন্ন করতে চান। এই করতে গিয়ে সাপের লেজে পা দিয়ে ফেললেই বিপদ!”
“সেটাই। আমিও সেই ভয় পাচ্ছি। দুজনেই হঠকারী। এবার ফিরে এলেই একটা ডেট ঠিক করে বিয়ে দিয়ে দেবো ভেবে রেখেছি আমরা। কতদিন আর এভাবে ওড়াউড়ি করবে?”
“সেটাই ভালো!”
“আর তুমিও সাবধানে থেকো। আমি জানি না, ওরা এই হঠকারিতা করবে কি-না। তাও বলি, তোমার উপরে হামলা হতে পারে।”
“আমিও চাইছি হোক। চ্যালেঞ্জটা কাকে জানাবো, সেটাই বুঝতে পারছি না !”
“বুঝে কাজ নেই। তুমিও হঠকারীর মতো কথা বলছি দেখতে পাচ্ছি। ঠান্ডা মাথায় ভাবো!”
“আমরা কাল সদরে যাচ্ছি। শপিং করার জন্য!”
‘শপিং করা’ আদতে একটা কোড। যখন পাবলিক-প্লেসে থেকে তদন্তের ব্যাপারে কথা বলতে হয়, তখন এইরকম অনেক কোড একেজির সঙ্গে চলে তাদের। একেজিই কোডগুলি শিখিয়েছেন।
“বেশ। আমি বলে রেখেছি এস.পি এবং ডি.এম দুজনকেই। দুজনেই থাকবেন। আশা করছি কাজ হয়ে যাবে। তবে আমি ভাবছি আসল কাজটা নিয়ে। লোকাল সেন্টিমেন্ট জড়িয়ে আছে ব্যাপারটির সঙ্গে। কাকপক্ষীও যাতে টের না-পায়, এমনভাবে কাজটা সারতে হবে তোমাদের। দেখা যাক্ কীভাবে প্ল্যান সাকসেসফুল হয়। আমার সাহায্য লাগলে বলো।”
“হ্যাঁ, আপনি না-থাকলে তো হবেই না কিছু !”
“বুঝলাম। রাখছি এখন। রাতে তাহলে ফোন করো। ডিসকাস করা যাবে সব।”
“হ্যাঁ। করবো।”
ফোনটা রেখে সুদীপ্তর দিকে তাকাল শাক্য। সুদীপ্তও তার দিকে তাকিয়ে ছিল, কিছু জিজ্ঞাসা করবে বলে। শাক্য তাকে ইশারায় চুপ করে থাকতে বলল। ঠিক এমনি সময় দেখা গেল সামনে একজন লঝঝড়ে একটা বাইক নিয়ে চলেছে। সম্ভবত থার্ড কিংবা ফোর্থ হ্যাণদ হবে। তাকে দেখে শাক্য অবাক গলায় সুদীপ্তকে বলল, “আরে উল্লাস না ?”
“উল্লাস? কোথায়?”
“ওই তো উড়ন খাটোলা নিয়ে চলেছে…” বলে হাত দিয়ে দেখাল শাক্য।
“আরে, তাই তো। এ-যে মেঘ না চাইতেই জল। দাঁড়ান কল করছি।”
“দরকার নেই। মেসেজ করে দিন। বাইক চালাতে-চালাতে মোবাইলে কথা বলা একটা ক্রাইম। যে-কোন মুহূর্তে অ্যাকসিডেন্ট হতে পারে। পরে যেন ও আসে। ম্যাসাজ নিতে হবে!” শেষ কথাটা ইচ্ছে করে বলা। মিথ্যে করে বলা। উল্লাস কেন আসছে, তা এই মুহূর্তে সে আর সুদীপ্ত ছাড়া আর কেউ জানুক, তা সে চায় না।—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer atanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content