
ডিএম ওদের সময় দিয়েছিলেন দুপুর দুটোয়। তার আগে তাঁর জরুরি কিছু কাজকর্ম আছে, ফলে সকালের দিকে চাইলেও সময় বার করতে পারেননি। তাতে শাক্যদের কোনও অসুবিধা ছিল না। দেখা করে কথা হওয়াটা জরুরি, তা সে এ-বেলাই হোক বা ও-বেলা। সে আর সুদীপ্ত নির্দিষ্ট সময়ের ঘন্টাখানেক আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। সময়ের ব্যাপারে শাক্য অত্যন্ত সতর্কতা মেনে চলে। এ তার পিতার শিক্ষা। তিনি ছিলেন সময়ের ব্যাপারে একেবারে জীবন্ত ঘড়ি। সারাদিনের কাজকর্মও যেটা সময়ে করা সম্ভব, সেটা সময় মেনেই করতেন। অকারণে সময় নষ্ট কিংবা গয়ংগচ্ছ মনোভাব তাঁর ছিল না। ছেলেমেয়েকেও সেভাবেই মানুষ করতে চেয়েছিলেন তিনি। শাক্য এতদিন পরেও সে-কথা ভোলেনি।
পুলিশের কাজকর্ম যদিও সময়ের নিয়ম মেনে চলে না, করা সম্ভব নয়, তবুও যেখানে বা যখন সেটা সম্ভব, অন্য কোনও বাধা-বিপত্তি এসে না-পড়লে তখন সেটি সে মেনে চলে। সে দেখেছে, অনেক বিখ্যাত মানুষেরাই সময়জ্ঞান এবং নিয়মানুবর্তিতার ব্যাপারটি কড়াভাবে মেনে চলতেন, এখনও চলেন। সে সাধারণ মানুষ হলেও সেই সমস্ত প্রাতঃস্মরণীয় মানুষদের দৃষ্টান্ত যতদূরসম্ভব মেনে চলতে চেষ্টা করে। তবে তাদের প্রোফেশনে হঠাৎ-হঠাৎ কাজ এসে উপস্থিত হয়, তদন্তে বেরিয়ে সময়ের দিকে আর নজর দিলে চলে না, ফলে সমস্ময় যে মেনে চলতে পারে, এমন নয়। তবে আজকের ব্যাপারটা স্বতন্ত্র। সে আর সুদীপ্ত সময় হাতে রেখেই বেরিয়ে পড়েছিল কারণ, তারা ভেবেছিল, ডিএমের আগের কাজটি যদি সময়ের আগেই শেষ করে ফেলতে পারেন তিনি, তাহলে তারাও আর-একটু সময় বেশি পাবে কথা বলার।
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট পরে তারা ডাক পেল। শাক্য বুঝতে পারল, বাবার একটি কথা ঠিক যে— কেবল তুমি নিয়ম মানলে আর জগতের কেউ মানল না, তাহলে দেখবে একসময় তোমাকেও বেনিয়মে চলতে হচ্ছে। এইজন্য নিজে নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলের পাশাপাশি অন্যেও যাতে তা মেনে চলে, সেদিকটাও খেয়াল রাখা উচিত। তবে সে অবশ্য এই নিয়ে ডিএম মহোদয়কে কোন জ্ঞানদান থেকে বিরতই রইল।
ডিএম দেরি হওয়ার জন্য মৌখিক ‘অ্যাপোলজি’ চেয়ে নিয়ে বললেন, “আপনারা অনেকক্ষণ ওয়েট করছেন, চা-কফি-স্ন্যাকস্ খান আগে, তারপর না-হয় কথা হবে!”
শাক্য সবিনয়ে বলল, “স্যার, আমরা হেভি ব্রেকফাস্ট করেই বেরিয়েছি। আজকে লাঞ্চটা স্কিপ করলে আমাদের কারওই কোনও ক্ষতি হবে না। এখন সরাসরি কাজের কথায় ঢুকে পড়লেই ভালো।”
পুলিশের কাজকর্ম যদিও সময়ের নিয়ম মেনে চলে না, করা সম্ভব নয়, তবুও যেখানে বা যখন সেটা সম্ভব, অন্য কোনও বাধা-বিপত্তি এসে না-পড়লে তখন সেটি সে মেনে চলে। সে দেখেছে, অনেক বিখ্যাত মানুষেরাই সময়জ্ঞান এবং নিয়মানুবর্তিতার ব্যাপারটি কড়াভাবে মেনে চলতেন, এখনও চলেন। সে সাধারণ মানুষ হলেও সেই সমস্ত প্রাতঃস্মরণীয় মানুষদের দৃষ্টান্ত যতদূরসম্ভব মেনে চলতে চেষ্টা করে। তবে তাদের প্রোফেশনে হঠাৎ-হঠাৎ কাজ এসে উপস্থিত হয়, তদন্তে বেরিয়ে সময়ের দিকে আর নজর দিলে চলে না, ফলে সমস্ময় যে মেনে চলতে পারে, এমন নয়। তবে আজকের ব্যাপারটা স্বতন্ত্র। সে আর সুদীপ্ত সময় হাতে রেখেই বেরিয়ে পড়েছিল কারণ, তারা ভেবেছিল, ডিএমের আগের কাজটি যদি সময়ের আগেই শেষ করে ফেলতে পারেন তিনি, তাহলে তারাও আর-একটু সময় বেশি পাবে কথা বলার।
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট পরে তারা ডাক পেল। শাক্য বুঝতে পারল, বাবার একটি কথা ঠিক যে— কেবল তুমি নিয়ম মানলে আর জগতের কেউ মানল না, তাহলে দেখবে একসময় তোমাকেও বেনিয়মে চলতে হচ্ছে। এইজন্য নিজে নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলের পাশাপাশি অন্যেও যাতে তা মেনে চলে, সেদিকটাও খেয়াল রাখা উচিত। তবে সে অবশ্য এই নিয়ে ডিএম মহোদয়কে কোন জ্ঞানদান থেকে বিরতই রইল।
ডিএম দেরি হওয়ার জন্য মৌখিক ‘অ্যাপোলজি’ চেয়ে নিয়ে বললেন, “আপনারা অনেকক্ষণ ওয়েট করছেন, চা-কফি-স্ন্যাকস্ খান আগে, তারপর না-হয় কথা হবে!”
শাক্য সবিনয়ে বলল, “স্যার, আমরা হেভি ব্রেকফাস্ট করেই বেরিয়েছি। আজকে লাঞ্চটা স্কিপ করলে আমাদের কারওই কোনও ক্ষতি হবে না। এখন সরাসরি কাজের কথায় ঢুকে পড়লেই ভালো।”
ডিএম বললেন, “বেশ, অ্যাজ ইউ উইশ। বলুন, কী বলতে চান। আমি নিজেও এই কালাদেও-নামক বিরাট একটা হোক্স নিয়ে ওয়রিড আছি। একের পর এক মার্ডার, একের পর এক আনন্যাচারাল ইনসিডেন্ট ঘটে চলেছে আর আমাদের পুলিশ ডিপার্টমেন্ট আর আমি হাঁ করে তা দেখছি, কোনও অ্যাকশানই নিতে পারছি না, এটি টোট্যালি মেনে নেওয়া জাস্ট ইমপশেবল হয়ে উঠছে! চিফ-মিনিস্টারের দপ্তর থেকে বার-কয়েক ফোন এসেছে, আপনাদের লালবাজার থেকেও চাপ এসেছে পাশাপাশি।
বুঝতেই পারছি, সিএম উদ্বিগ্ন হচ্ছেন বলেই লালবাজারকে দিয়ে প্রেশার দিচ্ছেন, যাতে কেসটা তাড়াতাড়ি সলভ করা যায়। দেখুন, আমি নিজেও মনে করি, কেসটা হয়তো ম্যান মেইড, অতএব আমাদের পক্ষে সাবধান-সতর্ক হলে যে বা যারা কাজটি করছে, তাদের ধরে ফেলা সম্ভব, দরকার একটি পাকা মাথার। আর যদি তা না হয়, যদি আধিভৌতিক কাণদই হয়, তাহলে সেটাও তদন্ত করে সকলের সামনে তুলে ধরা হোক, তাতে আমরা কেন যে অসহায়, সেটা পাবলিক বুঝতে পারবে। গোয়েন্দা-পুলিশ ইত্যাদি ছেড়ে আমরা না-হয় তন্ত্র-মন্ত্র-বুজরুকির শরণ নেবো! কিন্তু এইভাবে চলতে থাকলে আমার পক্ষে মাথা ঠাণ্ডা করে বসে থাকা কোয়ায়েট ইমপশিবল।”
“বিষয়টি সত্যিই এমবারেসিং। পার্সোনালি আমি মনে করি যে, প্রথমবার যখন ইনসিডেন্টটি ঘটেছিল, কিংবা নিদেনপক্ষে তার পরের বার, তখনই আমাদের সতর্ক হওয়ার দরকার ছিল এবং সঠিকভাবে ইনভেস্টিগেট করা জরুরি ছিল। তাহলে হয়তো পরের মার্ডারগুলির অনেকগুলিই আটকানো সম্ভব হতো। কিন্তু তা না-হওয়াতেই এই বিপত্তি!” শাক্য বলল।
“আপনারা করেন নি কেন প্রপার ইনভেস্টিগেট?” কথাটা জিজ্ঞাসা করলেন ডিএম সুদীপ্তকে।
সুদীপ্ত বললেন, “স্যার, প্রথম যখন ঘটনাটি ঘটে, তখন আমি এই থানায় ছিলাম না। মালাকার সাহেব ছিলেন, তিনি বলতে পারবেন, আসল ব্যাপারটি কী!”
শাক্য বলল, “স্যার, আমার মনে হয়, মিঃ মালাকার নিজে এত সুপারস্টিশিয়াস যে, তিনিও লোকাল পাবলিকের মতো বিশ্বাস করতেন এবং হয়তো এখনও করেন যে, এটি ভূত-প্রেতের কাজ, এখানে মানুষ পুলিশ কিছু করতে পারবে না। তার ফলে তাঁর তদন্তের লক্ষ্য সঠিক দিক থেকে সরে গিয়েছে। তবে আমরা এখানে তাঁর ব্যাপারে অভিযোগ করতে আসিনি, ফলে তাঁর তদন্ত কেন সঠিক হয়নি, সে-প্রসঙ্গ এখন থাক। আমরা কাজের কথায় আসি” বলে শাক্য তার অবজারভেশন বিস্তারিতভাবে জানাল। এর মাঝখানেই এসডিপিও এসে ঢুকলেন। সুদীপ্ত সঙ্গে-সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়েছিল। অতিসংক্ষিপ্ত পরিচয় পর্বের শেষে শাক্য আবার ব্রিফিং শুরু করেছিল।
বুঝতেই পারছি, সিএম উদ্বিগ্ন হচ্ছেন বলেই লালবাজারকে দিয়ে প্রেশার দিচ্ছেন, যাতে কেসটা তাড়াতাড়ি সলভ করা যায়। দেখুন, আমি নিজেও মনে করি, কেসটা হয়তো ম্যান মেইড, অতএব আমাদের পক্ষে সাবধান-সতর্ক হলে যে বা যারা কাজটি করছে, তাদের ধরে ফেলা সম্ভব, দরকার একটি পাকা মাথার। আর যদি তা না হয়, যদি আধিভৌতিক কাণদই হয়, তাহলে সেটাও তদন্ত করে সকলের সামনে তুলে ধরা হোক, তাতে আমরা কেন যে অসহায়, সেটা পাবলিক বুঝতে পারবে। গোয়েন্দা-পুলিশ ইত্যাদি ছেড়ে আমরা না-হয় তন্ত্র-মন্ত্র-বুজরুকির শরণ নেবো! কিন্তু এইভাবে চলতে থাকলে আমার পক্ষে মাথা ঠাণ্ডা করে বসে থাকা কোয়ায়েট ইমপশিবল।”
“বিষয়টি সত্যিই এমবারেসিং। পার্সোনালি আমি মনে করি যে, প্রথমবার যখন ইনসিডেন্টটি ঘটেছিল, কিংবা নিদেনপক্ষে তার পরের বার, তখনই আমাদের সতর্ক হওয়ার দরকার ছিল এবং সঠিকভাবে ইনভেস্টিগেট করা জরুরি ছিল। তাহলে হয়তো পরের মার্ডারগুলির অনেকগুলিই আটকানো সম্ভব হতো। কিন্তু তা না-হওয়াতেই এই বিপত্তি!” শাক্য বলল।
“আপনারা করেন নি কেন প্রপার ইনভেস্টিগেট?” কথাটা জিজ্ঞাসা করলেন ডিএম সুদীপ্তকে।
সুদীপ্ত বললেন, “স্যার, প্রথম যখন ঘটনাটি ঘটে, তখন আমি এই থানায় ছিলাম না। মালাকার সাহেব ছিলেন, তিনি বলতে পারবেন, আসল ব্যাপারটি কী!”
শাক্য বলল, “স্যার, আমার মনে হয়, মিঃ মালাকার নিজে এত সুপারস্টিশিয়াস যে, তিনিও লোকাল পাবলিকের মতো বিশ্বাস করতেন এবং হয়তো এখনও করেন যে, এটি ভূত-প্রেতের কাজ, এখানে মানুষ পুলিশ কিছু করতে পারবে না। তার ফলে তাঁর তদন্তের লক্ষ্য সঠিক দিক থেকে সরে গিয়েছে। তবে আমরা এখানে তাঁর ব্যাপারে অভিযোগ করতে আসিনি, ফলে তাঁর তদন্ত কেন সঠিক হয়নি, সে-প্রসঙ্গ এখন থাক। আমরা কাজের কথায় আসি” বলে শাক্য তার অবজারভেশন বিস্তারিতভাবে জানাল। এর মাঝখানেই এসডিপিও এসে ঢুকলেন। সুদীপ্ত সঙ্গে-সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়েছিল। অতিসংক্ষিপ্ত পরিচয় পর্বের শেষে শাক্য আবার ব্রিফিং শুরু করেছিল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৬: ঠাকুরবাড়ির কন্যা ঘোড়ার পিঠে চড়ে বন্দুক উঁচিয়ে জমিদারি-কাজে বের হতেন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১১: পাতিকাক
ডিএম এবং এসডিপিও কোন ইন্টারাপ্ট না-করেই আগাগোড়া শাক্যর বক্তব্য শুনলেন, মাঝেমধ্যে সুদীপ্তর দিকে তাকাচ্ছিলেন কেবল। চেম্বারে উপস্থিত বলতে তাঁরা চারজন, এইমুহূর্তে আর কাউকে চেম্বারে ঢুকতে না-দেওয়ার হুকুম দেওয়াই আছে। কোন জরুরি দরকার থাকলে কেবল ফোন করে বলতে হবে।
শাক্য তার দীর্ঘ বক্তব্য শেষ করে একটু থামতেই ডিএম বললেন, “তাহলে আপনি চাইছেন পিশাচপাহাড় কেভে একটা ইনভেস্টিগেশন হোক? তাই তো?”
“ইয়েস স্যার, আমি চাইছি। যত তাড়াতাড়ি সেটা আমরা করতে পারব, তত তাড়াতাড়ি আমরা সমাধানের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো!”
“কিন্তু সেক্ষেত্রে মাস-এজিটেশনের সম্ভাবনা আছে না? যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি বা না-করি, কালাদেওর সঙ্গে লোকাল পাবলিকের সেন্টিমেন্টের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে, ফলে তারা এ-নিয়ে তো ঝামেলা পাকাতে পারে!” এসডিপিওর গলায় সতর্কতার সুর।
ডিএমও মাথা নেড়ে সমর্থন জানালেন তাঁকে। তারপর শাক্যর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।
শাক্য বলল, “কথাটি আমারও মাথায় আছে স্যার। আমি কালকে রাতেও একেজি স্যারের সঙ্গে এ-বিষয়ে কথা বলেছি। আমার প্ল্যানটা খুব স্পষ্ট। দিনের আলোয় কোন অভিযান চালান যাবে না, কারণ তা-হলে পাবলিক ক্ষেপে উঠে ফেরোশাস হয়ে উঠতে পারে। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই আমাদের অভিযান চালাতে হবে সন্ধ্যের পরে, যখন পিশাচপাহাড়ের ওই কেভ বা মন্দিরচত্বর জনহীন হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, যে লোকাল পাবলিকের এজিটেশনকে আমরা ভয় পাচ্ছি, সেই লোকাল পাবলিক কিন্তু নিজেদের বিশ্বাস এবং সংস্কারবশতই সন্ধের পরে আর ও-দিক মাড়ায় না। হাজার দরকারেও না। তাছাড়া কালাদেওর কাণ্ডকারখানা শুরু হওয়ার পরে তো আরোই যাচ্ছে না। ফলে আমাদের অভিযান শুরু হবে সন্ধের পরে।”
শাক্য তার দীর্ঘ বক্তব্য শেষ করে একটু থামতেই ডিএম বললেন, “তাহলে আপনি চাইছেন পিশাচপাহাড় কেভে একটা ইনভেস্টিগেশন হোক? তাই তো?”
“ইয়েস স্যার, আমি চাইছি। যত তাড়াতাড়ি সেটা আমরা করতে পারব, তত তাড়াতাড়ি আমরা সমাধানের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো!”
“কিন্তু সেক্ষেত্রে মাস-এজিটেশনের সম্ভাবনা আছে না? যেহেতু আমরা বিশ্বাস করি বা না-করি, কালাদেওর সঙ্গে লোকাল পাবলিকের সেন্টিমেন্টের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে, ফলে তারা এ-নিয়ে তো ঝামেলা পাকাতে পারে!” এসডিপিওর গলায় সতর্কতার সুর।
ডিএমও মাথা নেড়ে সমর্থন জানালেন তাঁকে। তারপর শাক্যর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।
শাক্য বলল, “কথাটি আমারও মাথায় আছে স্যার। আমি কালকে রাতেও একেজি স্যারের সঙ্গে এ-বিষয়ে কথা বলেছি। আমার প্ল্যানটা খুব স্পষ্ট। দিনের আলোয় কোন অভিযান চালান যাবে না, কারণ তা-হলে পাবলিক ক্ষেপে উঠে ফেরোশাস হয়ে উঠতে পারে। সেই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই আমাদের অভিযান চালাতে হবে সন্ধ্যের পরে, যখন পিশাচপাহাড়ের ওই কেভ বা মন্দিরচত্বর জনহীন হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, যে লোকাল পাবলিকের এজিটেশনকে আমরা ভয় পাচ্ছি, সেই লোকাল পাবলিক কিন্তু নিজেদের বিশ্বাস এবং সংস্কারবশতই সন্ধের পরে আর ও-দিক মাড়ায় না। হাজার দরকারেও না। তাছাড়া কালাদেওর কাণ্ডকারখানা শুরু হওয়ার পরে তো আরোই যাচ্ছে না। ফলে আমাদের অভিযান শুরু হবে সন্ধের পরে।”
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৭: শুধু মুখে ধর্মের বুলি আওড়ালেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায় না

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৯: মা সারদার কাছের সেবিকাবৃন্দ
“ব্যাপারটা কিন্তু রিস্কি! কেভে সাপখোপ থেকে শুরু করে অন্যান্য অ্যানিম্যাল লুকিয়ে থাকতে পারে। তারা হয়ত অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই আমাদের উপর আক্রমণ করবে!” ডিএম শঙ্কামিশ্রিত গলায় বললেন।
“দেখুন স্যার, আমার মনে হয়, শঙ্কাটি অমূলক। সাপখোপ থাকতেই পারে, সেক্ষেত্রে আমাদের টিমে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, কোন জেনারেল ফিজিশিয়ানকে আমরা ইনক্ল্যুড করতে পারি। আমাদের ওখানকার ব্লক-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার সত্যব্রত আচার্যের নাম আমি সাজেস্ট করছি, কারণ, আমাদের এই তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনেকখানি সাহায্য করেছেন তিনি। আর বাকি রইলো, হিংস্র জন্তু-জানোয়ার। আমি মনে করি কোন-এক কালে, তা শতাব্দীকাল আগেও হতে পারে, ওই কেভে কোন হিংস্র জন্তুজানোয়ার থাকলেও মানুষ নামক ততোধিক হিংস্র জানোয়ারের আক্রমণে তারা অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এইরকম কোনও জানোয়ার যদি থাকত, তাহলে এতদিনে ভুল করে হলেও সে কাউকে-না-কাউকে আক্রমণ করতো। তবে ভালো করে অবজার্ভ করলে বুঝতে পারবেন, কালাদেও আশ্চর্যজনকভাবে মন্দিরের ধারে-কাছে কাউকে আক্রমণ করেনি, কেন?”
এসডিপিও ডিএমের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমারও মনে হয়, অফিসারের বক্তব্যটি যথার্থ। এইরকম কোন ইনসিডেন্টের কথা সাম্প্রতিককালে তো দূর, তার আগেও কোনদিন ঘটেছে বলে আমার জানা নেই!”
শাক্য বলল, “আমাদের এই টিমে বাছাই করা কিছু পুলিশ, তারা লোকাল থানার না-হওয়াই বাঞ্ছনীয় এক্সেপ্ট সুদীপ্ত, একজন আর্কিওলজিস্ট, একজন ডাক্তার, জেলাপুলিশের বিশ্বস্ত দু’-তিনজন অফিসার, আর এসডিপিও স্যার স্বয়ং এবং আমি থাকবো। পাশাপাশি কিছু প্যারামিলিটারিকে দিয়ে যদি জায়গাটা গোপনে কর্ডন করে রাখা যায়, তাহলে সঠিক হবে।”
“প্যারামিলিটারির কথাটা আমারও মাথায় এসেছে। ওঁদের তো থাকতেই হবে। বাই-চান্স যদি কোন বড়সড় বিপত্তি ঘটে যায়, তাহলে তারা সামলাতে পারবে!” এসডিপিও বললেন।
“নিশ্চয়ই। সেজন্যই তাদের এই অভিযানে ইনক্লুড করতে চাইছি। কিন্তু তার আগে আর-একটা বড় কাজ বাকি আছে, যা না করা সম্ভব হলে, আমাদের এই অভিযান ব্যর্থ হয়ে যাবে। সন্ধ্যের পরে অভিযান শুরু করলেও লোকাল-এজিটেশন এড়ানো যাবে না।”
“কোন বড় কাজ?” কৌতূহলে ডিএম একটু নড়েচড়ে বসলেন।
“আপনার মিটিং!”
“আমার মিটিং! মানে?” ডিএম অবাক গলায় জিজ্ঞাসা করলেন।
“যে-কোনও ছুতোয় অভিযানের দিন এবং তার পরের দিন পিশাচপাহাড় ব্লক এবং তার আশেপাশের চার-পাঁচটি ব্লকের পঞ্চায়েত-প্রধান এবং তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের যদি জরুরি মিটিং-এর অছিলায় আপনি এখানে এনে আটকে না রাখতে পারেন, তাহলে আমরা যতই সতর্ক থাকি না কেন, অভিযান সাকসেসফুল হবে না!” শাক্য বলল।
“দেখুন স্যার, আমার মনে হয়, শঙ্কাটি অমূলক। সাপখোপ থাকতেই পারে, সেক্ষেত্রে আমাদের টিমে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, কোন জেনারেল ফিজিশিয়ানকে আমরা ইনক্ল্যুড করতে পারি। আমাদের ওখানকার ব্লক-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডাক্তার সত্যব্রত আচার্যের নাম আমি সাজেস্ট করছি, কারণ, আমাদের এই তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনেকখানি সাহায্য করেছেন তিনি। আর বাকি রইলো, হিংস্র জন্তু-জানোয়ার। আমি মনে করি কোন-এক কালে, তা শতাব্দীকাল আগেও হতে পারে, ওই কেভে কোন হিংস্র জন্তুজানোয়ার থাকলেও মানুষ নামক ততোধিক হিংস্র জানোয়ারের আক্রমণে তারা অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এইরকম কোনও জানোয়ার যদি থাকত, তাহলে এতদিনে ভুল করে হলেও সে কাউকে-না-কাউকে আক্রমণ করতো। তবে ভালো করে অবজার্ভ করলে বুঝতে পারবেন, কালাদেও আশ্চর্যজনকভাবে মন্দিরের ধারে-কাছে কাউকে আক্রমণ করেনি, কেন?”
এসডিপিও ডিএমের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমারও মনে হয়, অফিসারের বক্তব্যটি যথার্থ। এইরকম কোন ইনসিডেন্টের কথা সাম্প্রতিককালে তো দূর, তার আগেও কোনদিন ঘটেছে বলে আমার জানা নেই!”
শাক্য বলল, “আমাদের এই টিমে বাছাই করা কিছু পুলিশ, তারা লোকাল থানার না-হওয়াই বাঞ্ছনীয় এক্সেপ্ট সুদীপ্ত, একজন আর্কিওলজিস্ট, একজন ডাক্তার, জেলাপুলিশের বিশ্বস্ত দু’-তিনজন অফিসার, আর এসডিপিও স্যার স্বয়ং এবং আমি থাকবো। পাশাপাশি কিছু প্যারামিলিটারিকে দিয়ে যদি জায়গাটা গোপনে কর্ডন করে রাখা যায়, তাহলে সঠিক হবে।”
“প্যারামিলিটারির কথাটা আমারও মাথায় এসেছে। ওঁদের তো থাকতেই হবে। বাই-চান্স যদি কোন বড়সড় বিপত্তি ঘটে যায়, তাহলে তারা সামলাতে পারবে!” এসডিপিও বললেন।
“নিশ্চয়ই। সেজন্যই তাদের এই অভিযানে ইনক্লুড করতে চাইছি। কিন্তু তার আগে আর-একটা বড় কাজ বাকি আছে, যা না করা সম্ভব হলে, আমাদের এই অভিযান ব্যর্থ হয়ে যাবে। সন্ধ্যের পরে অভিযান শুরু করলেও লোকাল-এজিটেশন এড়ানো যাবে না।”
“কোন বড় কাজ?” কৌতূহলে ডিএম একটু নড়েচড়ে বসলেন।
“আপনার মিটিং!”
“আমার মিটিং! মানে?” ডিএম অবাক গলায় জিজ্ঞাসা করলেন।
“যে-কোনও ছুতোয় অভিযানের দিন এবং তার পরের দিন পিশাচপাহাড় ব্লক এবং তার আশেপাশের চার-পাঁচটি ব্লকের পঞ্চায়েত-প্রধান এবং তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের যদি জরুরি মিটিং-এর অছিলায় আপনি এখানে এনে আটকে না রাখতে পারেন, তাহলে আমরা যতই সতর্ক থাকি না কেন, অভিযান সাকসেসফুল হবে না!” শাক্য বলল।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৯: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম কারিগর ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?
“পিশাচপাহাড় ব্লক না-হয় বুঝলাম, কিন্তু আশেপাশের ব্লকগুলি কেন?” ডিএম জিজ্ঞাসা করলেন।
“তার কারণ, কালাদেও-সংক্রান্ত বিশ্বাস সবচেয়ে জোরদার পিশাচপাহাড় ব্লক এবং তার আশেপাশের কয়েকটি ব্লকের মানুষের মধ্যে। তাদের মাথাদের যদি কায়দা করে সরিয়ে নেওয়া যায় ওই দু’দিন, তাহলে নেতারা আর উসকানি দিতে পারবে না। সাধারণ মানুষরা কিন্তু নিজের থেকে বড় কোন ঝুটঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে চাইবে না, বিশেষ করে তারা যখন শুনবে এর সঙ্গে পুলিশ জড়িয়ে আছে। কিন্তু এদের নেতারা তো পলিটিক্যাল কানেকশনের জন্যই বেপরোয়া। সে-কথা পনারা যেমন জানেন, আমরাও জানি। ফলে এরা পুলিশ-ভূত-প্রেত এমনকি কালাদেও কাউকেই রেয়াৎ করে না, যদি সেখানে কিছুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থের গন্ধ খুঁজে পায়। সামনের বছর বিধানসভা ইলেকশন, তার আগে এইরকম হাতেগরম লোকতাতানো ইস্যু পেলে কেউ ছাড়ে?” শাক্য বলল।
“তাহলে তো ক’দিন লাগবে। কারণ, ওদের কী বলে মিটিং-এ ডাকা যায়, সেটার একতা যুক্তিসঙ্গত কারণ তো খুঁজে পেতে হবে!” ডিএম বললেন।
শাক্য বলল, “সেটা খুব মুশকিল হবে না কারণ, একেজি স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি নিজে সিএমের দপ্তরে যোগাযোগ করে সিএমের সঙ্গে কথা বলবেন, যাতে তাঁর দপ্তর থেকে এই মর্মে কোন ইন্সট্রাকশন আসে, যেটা সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলিতেও যাবে, ফলে তাদের পক্ষে আর কোনও সন্দেহ করা সম্ভব হবে না। আপনারও মিটিং কল করতে কোন অসুবিধা হবে না।”
শাক্যর কথা শুনে ডিএমের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল, “বাঃ! এটা হলে তো কোনও কথাই নেই। দু’দিন কেন, কোনও-না-কোনও ছুতোয় তিন দিন অবধি আটকে রেখে দেবো।”
“হ্যাঁ, ঢালাও মাংস-ভাত আর ওটার ব্যবস্থা করলে ওরা নিজেরাই নড়তে চাইবে না এখান থেকে!” বলে এসডিপিও হেসে উঠলেন।
“কিন্তু কোন্ ডেটে হবে ব্যাপারটা?”
“যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। দরকার হলে দিন চার-পাঁচেকের ভিতরেই। কারণ, যত দেরি হবে, ততই আরও নানারকম বিপদ ঘাড়ে এসে পড়বে। আগে একেজি স্যারকে রিপোর্ট করি। উনি সিএমের দপ্তর থেকে চিঠিটা পাঠান।” শাক্য বলল।
এসডিপিও বললেন, “আমাকে একটা সুযোগ দিন একেজি স্যারের সঙ্গে কথা বলার। ভারি ভালো মানুষ, আর তেমনই ইন্টেলিজেন্ট অফিসার। উনি অবশ্য আমাকে ফোন করেছিলেন, আপনাদের যাতে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করা হয়, সেটা বলতে। কিন্তু এই ছুতোয় আবারও তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হারাতে চাই না!”
“তার কারণ, কালাদেও-সংক্রান্ত বিশ্বাস সবচেয়ে জোরদার পিশাচপাহাড় ব্লক এবং তার আশেপাশের কয়েকটি ব্লকের মানুষের মধ্যে। তাদের মাথাদের যদি কায়দা করে সরিয়ে নেওয়া যায় ওই দু’দিন, তাহলে নেতারা আর উসকানি দিতে পারবে না। সাধারণ মানুষরা কিন্তু নিজের থেকে বড় কোন ঝুটঝামেলায় জড়িয়ে পড়তে চাইবে না, বিশেষ করে তারা যখন শুনবে এর সঙ্গে পুলিশ জড়িয়ে আছে। কিন্তু এদের নেতারা তো পলিটিক্যাল কানেকশনের জন্যই বেপরোয়া। সে-কথা পনারা যেমন জানেন, আমরাও জানি। ফলে এরা পুলিশ-ভূত-প্রেত এমনকি কালাদেও কাউকেই রেয়াৎ করে না, যদি সেখানে কিছুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থের গন্ধ খুঁজে পায়। সামনের বছর বিধানসভা ইলেকশন, তার আগে এইরকম হাতেগরম লোকতাতানো ইস্যু পেলে কেউ ছাড়ে?” শাক্য বলল।
“তাহলে তো ক’দিন লাগবে। কারণ, ওদের কী বলে মিটিং-এ ডাকা যায়, সেটার একতা যুক্তিসঙ্গত কারণ তো খুঁজে পেতে হবে!” ডিএম বললেন।
শাক্য বলল, “সেটা খুব মুশকিল হবে না কারণ, একেজি স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি নিজে সিএমের দপ্তরে যোগাযোগ করে সিএমের সঙ্গে কথা বলবেন, যাতে তাঁর দপ্তর থেকে এই মর্মে কোন ইন্সট্রাকশন আসে, যেটা সংশ্লিষ্ট ব্লকগুলিতেও যাবে, ফলে তাদের পক্ষে আর কোনও সন্দেহ করা সম্ভব হবে না। আপনারও মিটিং কল করতে কোন অসুবিধা হবে না।”
শাক্যর কথা শুনে ডিএমের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল, “বাঃ! এটা হলে তো কোনও কথাই নেই। দু’দিন কেন, কোনও-না-কোনও ছুতোয় তিন দিন অবধি আটকে রেখে দেবো।”
“হ্যাঁ, ঢালাও মাংস-ভাত আর ওটার ব্যবস্থা করলে ওরা নিজেরাই নড়তে চাইবে না এখান থেকে!” বলে এসডিপিও হেসে উঠলেন।
“কিন্তু কোন্ ডেটে হবে ব্যাপারটা?”
“যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। দরকার হলে দিন চার-পাঁচেকের ভিতরেই। কারণ, যত দেরি হবে, ততই আরও নানারকম বিপদ ঘাড়ে এসে পড়বে। আগে একেজি স্যারকে রিপোর্ট করি। উনি সিএমের দপ্তর থেকে চিঠিটা পাঠান।” শাক্য বলল।
এসডিপিও বললেন, “আমাকে একটা সুযোগ দিন একেজি স্যারের সঙ্গে কথা বলার। ভারি ভালো মানুষ, আর তেমনই ইন্টেলিজেন্ট অফিসার। উনি অবশ্য আমাকে ফোন করেছিলেন, আপনাদের যাতে সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করা হয়, সেটা বলতে। কিন্তু এই ছুতোয় আবারও তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হারাতে চাই না!”
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’
শাক্যর ভালো লাগলো। একেজি স্যারের ব্যাপারে যদিও কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। তাদের ডিপার্টমেন্টে এইরকম কিছু মানুষ আছেন বলেই, এখনও পুলিশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি। সঠিক লক্ষ্যে চলছে। সে বলল, “আচ্ছা আচ্ছা, আমি আমার মতো রিপোর্ট দেবো, আপনি ওই-ব্যাপারে কথা বলবেন!”
“আচ্ছা, বেশ, তাই হবে!” এসডিপিও বললেন।
“আর কিছু?” ডিএম জিজ্ঞাসা করলেন।
“ব্লক হেলথ্-সেন্টারের ডক্টর সত্যব্রতর কথা একটু আগে আপনাকে বলেছিলাম। তিনি একটা ভাইটাল ক্ল্যু দিয়েছেন। কিছুদিন আগে এখানকার পলাশতলী নামক অঞ্চলে একটি বেদের দল এসে ডেরা বাঁধে। তারা অন্যান্য খেলা ইত্যাদির সঙ্গে মিনিসার্কাস নামের একটি অদ্ভুত সার্কাসের তাঁবু ফেলেছিল, যেখানে নানা অদ্ভুত মানুষ তাদের শক্তি-ক্ষমতা ইত্যাদি দেখাতো। সেখানের একটি ছেলেকে কেউ ভাড়া করে নিয়ে আসে এবং বুধন মাহাতো নামের ছেলেটি মারা যাওয়ার পরেও সে বেঁচে আছে প্রমাণ করতে ওই সার্কাসের ছেলেটিকে ব্যবহার করে। ফলস্ মেইল-প্রেগন্যান্সি নিয়ে খেলা দেখানো সেই নকল বুধন কিন্তু আমাদের এই কেসের একজন ভাইটাল সাক্ষী।
শুনেছি, কার্যোদ্ধার হয়ে যাওয়ায় নকল বুধন সাজা ছেলেটি হেলিথ-সেন্টার থেকে উধাও হয়ে দলে গিয়ে ভেড়ে এবং দলও রাতারাতি তল্পিতল্পা গুটিয়ে পাশের স্টেটে চলে গিয়েছে আপাতত। আমি সত্যব্রতকে কথা দিয়েছিলাম যে, যে-ভাবেই হোক দলটিকে এবং বিশেষ করে ওই ছেলেটিকে আটক করে আনবই। আপনাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে!”
ডিএম মনে করতে পারছিলেন না বুধন-মাহাতোর কেসটি। সুদীপ্ত ব্রিফ করতে মাথা নাড়লেন যে, তাঁর মনে পড়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “এই কেসের সঙ্গে কোন যোগ আছেন বলছেন?”
“দেখা যাক্ আছে-কি-নেই। থাকলে ভালো, মিটেই গেলো, আর-না-থাকলে ওই খুনের তদন্তেরও কিনারা করতে সাহায্য করবে। ওই হত্যারহস্যের কিনারা করাও তো আমাদেরই দায়িত্ব, তাই না?” —চলবে।
“আচ্ছা, বেশ, তাই হবে!” এসডিপিও বললেন।
“আর কিছু?” ডিএম জিজ্ঞাসা করলেন।
“ব্লক হেলথ্-সেন্টারের ডক্টর সত্যব্রতর কথা একটু আগে আপনাকে বলেছিলাম। তিনি একটা ভাইটাল ক্ল্যু দিয়েছেন। কিছুদিন আগে এখানকার পলাশতলী নামক অঞ্চলে একটি বেদের দল এসে ডেরা বাঁধে। তারা অন্যান্য খেলা ইত্যাদির সঙ্গে মিনিসার্কাস নামের একটি অদ্ভুত সার্কাসের তাঁবু ফেলেছিল, যেখানে নানা অদ্ভুত মানুষ তাদের শক্তি-ক্ষমতা ইত্যাদি দেখাতো। সেখানের একটি ছেলেকে কেউ ভাড়া করে নিয়ে আসে এবং বুধন মাহাতো নামের ছেলেটি মারা যাওয়ার পরেও সে বেঁচে আছে প্রমাণ করতে ওই সার্কাসের ছেলেটিকে ব্যবহার করে। ফলস্ মেইল-প্রেগন্যান্সি নিয়ে খেলা দেখানো সেই নকল বুধন কিন্তু আমাদের এই কেসের একজন ভাইটাল সাক্ষী।
শুনেছি, কার্যোদ্ধার হয়ে যাওয়ায় নকল বুধন সাজা ছেলেটি হেলিথ-সেন্টার থেকে উধাও হয়ে দলে গিয়ে ভেড়ে এবং দলও রাতারাতি তল্পিতল্পা গুটিয়ে পাশের স্টেটে চলে গিয়েছে আপাতত। আমি সত্যব্রতকে কথা দিয়েছিলাম যে, যে-ভাবেই হোক দলটিকে এবং বিশেষ করে ওই ছেলেটিকে আটক করে আনবই। আপনাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে!”
ডিএম মনে করতে পারছিলেন না বুধন-মাহাতোর কেসটি। সুদীপ্ত ব্রিফ করতে মাথা নাড়লেন যে, তাঁর মনে পড়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “এই কেসের সঙ্গে কোন যোগ আছেন বলছেন?”
“দেখা যাক্ আছে-কি-নেই। থাকলে ভালো, মিটেই গেলো, আর-না-থাকলে ওই খুনের তদন্তেরও কিনারা করতে সাহায্য করবে। ওই হত্যারহস্যের কিনারা করাও তো আমাদেরই দায়িত্ব, তাই না?” —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















