
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
রবীন্দ্রনাথের চলার পথ নিষ্কণ্টক ও মসৃণ ছিল না। বার বার রকমারি বাধা এসেছে, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, তীর্যক মন্তব্য। আঘাতে আঘাতে বিঘ্নিত হয়েছে চলার পথ। সমসাময়িক কবি-লেখকরা কখনও আড়ালে, কখনও বা প্রকাশ্যে এমন সব কথা বলেছেন, যা রবীন্দ্রনাথকে কষ্ট দিয়েছে, ব্যথিত করেছে। প্রায়শই তেমনভাবে প্রতিবাদ করেননি। প্রতিবাদ করে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাননি তিনি। ভিতরে ভিতরে অবশ্য ক্ষোভ সঞ্চিত হয়েছে।
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর কলকাতার কবি-লেখকরা ট্রেন-কামরা বোঝাই করে গিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে। আপাতভাবে মনে হতেই পারে, এই যাত্রা আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। প্রাণের আনন্দে বুঝি কবিকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। অকারণে আক্রমণ করতে অভ্যস্ত, নিন্দেমন্দ করে বেড়ান, এমন কয়েকজনকে সামনের সারিতে বসে থাকতে দেখে কবি মনের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। কবির লেখার নিন্দে-মন্দ করেছেন স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপিনচন্দ্র পালও। বিপিন পাল লিখতেন ছোটোদের লেখা, এমনকি উপন্যাসও। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ক্ষোভ সঙ্গত বলে সমর্থন করেছিলেন তিনি। এই ঘটনাটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। রবীন্দ্রনাথের মনে হয়েছে, যাঁরা তাঁর লেখাকে এযাবৎ স্বীকৃতি দেননি, তাঁরাই বিদেশ থেকে সম্মান-লাভের সঙ্গে সঙ্গে স্তুতি করতে শান্তিনিকেতনে ছুটে এসেছেন।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৬: ঠাকুরবাড়ির কন্যা ঘোড়ার পিঠে চড়ে বন্দুক উঁচিয়ে জমিদারি-কাজে বের হতেন

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৬: মিটিং

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১১: পাতিকাক
রবীন্দ্রনাথকে নস্যাৎ করার চেষ্টা, ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা তো কম হয়নি। নোবেল তিনি পেয়েছিলেন তিপান্ন বছর বয়েসে। প্রবল সম্ভাবনা নিয়ে সাহিত্যের আসরে অবতীর্ণ হয়ে প্রচলিত লেখার চেনা ছক ভেঙেছিলেন, নতুনতর পথ আবিষ্কার করেছিলেন। সেসময় অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বই তো রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করেছেন। রবীন্দ্রনাথের মতো প্রতিভাবানের বিরোধিতা করে বোধহয় তাঁরা আত্মতৃপ্তি লাভ করতে চেয়েছেন।

'বাংলার বাঘ' আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
সেকালে ‘সাহিত্য’ পত্রিকা পাঠকসমাজে খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। বহু ভালো লেখা এই পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ‘বঙ্গদর্শন’-এর আদর্শে প্রাণিত হয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের পরামর্শকে শিরোধার্য করে শুরু হয়েছিল ‘সাহিত্য’-র পথ-চলা।
সুরেশচন্দ্র সমাজপতির মাতামহ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ফলে সমাজজীবনে, সাহিত্যের প্রাঙ্গণে সুরেশচন্দ্রর এক সম্ভ্রমের আসন ছিল। সেসব ভুলে তিনি নেমেছিলেন রবীন্দ্রবিরোধিতায়। ‘সাহিত্য’-এর পাতায় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বারবার নিন্দাত্মক রচনা প্রকাশ করেছেন। এ জাতীয় রচনা প্রকাশের সূত্রপাত হয়েছিল গিরীন্দ্রমোহিনী দাসীর এক আক্রমাত্মক রচনা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। সেলেখা অবশ্য গিরীন্দ্রমোহিনী স্বনামে লেখেননি, লিখেছিলেন ‘কোন সম্ভ্রান্ত মহিলা’-র নামে।
সুরেশচন্দ্র সমাজপতির মাতামহ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ফলে সমাজজীবনে, সাহিত্যের প্রাঙ্গণে সুরেশচন্দ্রর এক সম্ভ্রমের আসন ছিল। সেসব ভুলে তিনি নেমেছিলেন রবীন্দ্রবিরোধিতায়। ‘সাহিত্য’-এর পাতায় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বারবার নিন্দাত্মক রচনা প্রকাশ করেছেন। এ জাতীয় রচনা প্রকাশের সূত্রপাত হয়েছিল গিরীন্দ্রমোহিনী দাসীর এক আক্রমাত্মক রচনা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। সেলেখা অবশ্য গিরীন্দ্রমোহিনী স্বনামে লেখেননি, লিখেছিলেন ‘কোন সম্ভ্রান্ত মহিলা’-র নামে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৭: শুধু মুখে ধর্মের বুলি আওড়ালেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায় না

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৯: মা সারদার কাছের সেবিকাবৃন্দ
সুরেশচন্দ্র অকারণেই রবীন্দ্রনাথকে আক্রমণ করেছেন। আক্রমণ করার জন্যই যেন যুক্তিহীন কথার অবতারণা। ‘ভারতী’তে প্রকাশিত রবীন্দ্র-কবিতা সম্পর্কে আগ বাড়িয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘রবীন্দ্রবাবু আজকাল ভাবের মায়া কাটাইয়া নিপুণ শিল্পীর মতো কবিতার প্রত্যেক চরণ অনবরত পালিশ করিতেছেন। তাহার ফলে কবিতাগুলি চকচকে ঝকঝকে হইতেছে…।’
রবীন্দ্রনাথকে লেখার মধ্য দিয়ে আক্রমণ করে বোধহয় সুরেশচন্দ্রের মন ভরেনি, আক্রমণ আরও জোরালো করার কাজে পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাঠে নামিয়েছিলেন। পাঁচকড়ি ছিলেন সুরেশচন্দ্রের আস্থাভাজন। সুরেশচন্দ্রের মৃত্যুর পর পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ই হয়েছিলেন ‘সাহিত্য’-পত্রিকার সম্পাদক। এক সময় তিনি ‘বঙ্গবাসী’ নামে একটি সাহিত্যপত্র সম্পাদনা করতেন। ‘সাহিত্য’ সম্পাদনার দায়িত্ব-গ্রহণ, সে তো পরবর্তীকালের ঘটনা। পাঁচকড়িকে সামনে রেখে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ এনেছিলেন সুরেশচন্দ্র সমাজপতি। একেবারে ‘চুরি’র অভিযোগ, চুরি করে নাকি রবীন্দ্রনাথ ‘চোখের বালি’ লিখছেন।
রবীন্দ্রনাথকে লেখার মধ্য দিয়ে আক্রমণ করে বোধহয় সুরেশচন্দ্রের মন ভরেনি, আক্রমণ আরও জোরালো করার কাজে পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাঠে নামিয়েছিলেন। পাঁচকড়ি ছিলেন সুরেশচন্দ্রের আস্থাভাজন। সুরেশচন্দ্রের মৃত্যুর পর পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ই হয়েছিলেন ‘সাহিত্য’-পত্রিকার সম্পাদক। এক সময় তিনি ‘বঙ্গবাসী’ নামে একটি সাহিত্যপত্র সম্পাদনা করতেন। ‘সাহিত্য’ সম্পাদনার দায়িত্ব-গ্রহণ, সে তো পরবর্তীকালের ঘটনা। পাঁচকড়িকে সামনে রেখে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ এনেছিলেন সুরেশচন্দ্র সমাজপতি। একেবারে ‘চুরি’র অভিযোগ, চুরি করে নাকি রবীন্দ্রনাথ ‘চোখের বালি’ লিখছেন।

বিশ্বভারতী থেকে প্রকাশিত 'চোখের বালি'।
সে সময় ‘চোখের বালি’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল নবপর্যায়ের ‘বঙ্গদর্শন’-এ। উপন্যাসটি শেষ হওয়া তো দূরের কথা, তখন সবে কয়েক কিস্তি বেরিয়েছে। ওই কয়েক কিস্তি পড়ে বা না-পড়ে সুরেশচন্দ্র জানিয়েছিলেন, উপন্যাসটির বিষয়-ভাবনা রবীন্দ্রনাথের নিজের নয়, বেমালুম চুরি করে নিজের নামে চালাচ্ছেন তিনি। উপন্যাসের মধ্যে অশ্লীলতাও খুঁজে পেয়েছিলেন সুরেশচন্দ্র। এমনকি কল্পনাশক্তির অভাবও দেখেছিলেন। ‘চোখের বালি’ পত্রিকা-পৃষ্ঠায় প্রকাশের বছরখানেক আগে সুরেশচন্দ্রের আস্থাভাজন পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায় ‘উমা’ নামে একটি উপন্যাস লিখেছিলেন। সে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র উমাও বিধবা। ‘চোখের বালি’-র বিনোদিনীও বিধবা। এই সাদৃশ্যটুকু সামনে রেখে সুরেশচন্দ্র সমাজপতি রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে সরাসরি চুরির অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর সুরে সুর মিলিয়েছিলেন ‘উমা’-র রচনাকার পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭০: ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?
‘চোখের বালি’-র প্রকাশ আঙ্গিকে, বিষয়-ভাবনায় আধুনিকতার আলো আছে। সেই আলো মননশীল পাঠককে নাড়া দিয়েছিল। ‘বঙ্গদর্শন’-এর একটি সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর পরবর্তী সংখ্যার জন্য অপেক্ষা করেছে কৌতূহলী পাঠক। এহেন উপন্যাসের বিরুদ্ধে এমন যুক্তিহীন মনগড়া অভিযোগ পাঠকসমাজই বা মেনে নেবে কেন! সবার মধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শুধু সাধারণ পাঠক নয়, বিশিষ্টজনেরাও বুঝতে পেরেছিলেন, এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। ফলে তাঁরা আর এই অভিযোগ নিয়ে সেভাবে মাথা ঘামাননি। রবীন্দ্রনাথের প্রিয়জনেরা অবশ্য প্রতিবাদ করেছেন। প্রতিবাদের পাশাপাশি আতঙ্কিতও হয়েছেন তাঁরা। সুরেশচন্দ্র-পাঁচুগোপালদের থামানো দরকার। ক্রমাগত এসব বলতে থাকলে তা তো রবীন্দ্রনাথের পক্ষে অপমানজনকও।

সুরেশচন্দ্র সমাজপতি।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। অত্যন্ত সাহিত্য অনুরাগী এই মানুষটি অবনীন্দ্রনাথকে দিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাগেশ্বরী বক্তৃতা দেওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ভাগ্যিস করেছিলেন। না করলে অবনীন্দ্রনাথের শিল্পবিষয়ক প্রবন্ধগুলো হয়তো লেখাই হত না। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের এমনই নিবিড় সম্পর্ক ছিল যে, জামাইয়ের চাকরির জন্যও তাঁকে বলতে পারতেন কবি।
উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায় রবীন্দ্রজামাতা নরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়কে মাসিক পাঁচশো টাকা বেতনে ‘গুরুপ্রসাদ সিং প্রফেসর অফ এগ্রিকালচার’ পদে নিয়োগ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের নামে কুৎসিত কথাবার্তা চালাচালি হচ্ছে দেখে আশুতোষ উত্তেজিত হয়েছিলেন। তেজোদীপ্ত আশুতোষ, যাঁকে সকলে ‘বাংলার বাঘ’ বলে সমীহ করে, তিনি ভিত্তিহীন এসব কথা মেনে নেবেন কী করে! সুরেশচন্দ্রের কাণ্ডকারখানা, পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপপ্রচার মেনে নিতে পারেননি তিনি।
উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায় রবীন্দ্রজামাতা নরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়কে মাসিক পাঁচশো টাকা বেতনে ‘গুরুপ্রসাদ সিং প্রফেসর অফ এগ্রিকালচার’ পদে নিয়োগ করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের নামে কুৎসিত কথাবার্তা চালাচালি হচ্ছে দেখে আশুতোষ উত্তেজিত হয়েছিলেন। তেজোদীপ্ত আশুতোষ, যাঁকে সকলে ‘বাংলার বাঘ’ বলে সমীহ করে, তিনি ভিত্তিহীন এসব কথা মেনে নেবেন কী করে! সুরেশচন্দ্রের কাণ্ডকারখানা, পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপপ্রচার মেনে নিতে পারেননি তিনি।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’
রবীন্দ্রনাথ অবশ্য সুরেশচন্দ্র ও পাঁচকড়ি সম্পর্কে একটি বাক্যও উচ্চারণ করেননি। সচেতনভাবে তাঁদের উপেক্ষা করেছেন। আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এসব মেনে নিতে না পেরে পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীক্ষ্ণ ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করেছেন। আশুতোষকেও বিরূপ কথা শুনতে হয়েছে। ক্রমাগত অপপ্রচার চলেছে। সে-সব কানে এসেছে, উত্তেজিত হয়ে রবীন্দ্রনাথকেও জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন আশুতোষ। বলেছেন,’রবিবাবু, পাঁচকড়িকে নিয়ে তো আর পারা যায় না। যা তা লিখছে আপনার ও আমার সম্বন্ধে। লাইবেলের চার্জ এনে ওকে না ফাঁসালে আর চলে না। কী বলেন আপনি?’

পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়।
আশুতোষ মুখোপাধ্যায় মানহানির অভিযোগ করে আদালতের শরণাপন্ন হতে চাইলেও সে প্রস্তাবকে তেমন আমল দেননি রবীন্দ্রনাথ। শুধুই মুচকি হেসেছিলেন। ‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় পাঁচকড়ির মুখ বন্ধ করার ভিন্নতর কোনও উপায় খুঁজে পাননি। স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন, মানহানির অভিযোগই হবে মোক্ষম দাওয়াই। রবীন্দ্রনাথ তেমন আমল না দেওয়ায় আশুতোষ কবিকে পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছেন, ‘পাঁচকড়ির মুখ বন্ধ করর অন্য কোন উপায়!’ প্রত্যুত্তরে রবীন্দ্রনাথ হেসেছেন। সে হাসিতে কৌতুক ছিল। বলেছেন,’আহা, ওর কথার কি মূল্য আছে বলুন তো যে ওর মুখ বন্ধ না করলেই নয়?’
কেন এ কথা বলছেন, পরমুহূর্তেই খোলসা করেছেন রবীন্দ্রনাথ। বলেছেন, ‘ভাবুন, ওঁর যিনি সাক্ষাৎ জন্মদাতা—কিনা যিনি সবচেয়ে বেশি চিনতেন — তিনি ওঁর নামকরণ করার সময় ওঁর পাঁচকড়ির বেশি মূল্য ধার্য করেননি।’
সমালোচককে কীভাবে নস্যাৎ করতে হয়, তা জানতেন রবীন্দ্রনাথ। তাই কখনোই গায়ে মাখেননি। তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েননি। উপেক্ষা করেছেন। নিন্দুক-সমালোচকদের কীভাবে উপেক্ষা করতে হয়, তা রবীন্দ্রনাথ ভালো জানতেন।
কেন এ কথা বলছেন, পরমুহূর্তেই খোলসা করেছেন রবীন্দ্রনাথ। বলেছেন, ‘ভাবুন, ওঁর যিনি সাক্ষাৎ জন্মদাতা—কিনা যিনি সবচেয়ে বেশি চিনতেন — তিনি ওঁর নামকরণ করার সময় ওঁর পাঁচকড়ির বেশি মূল্য ধার্য করেননি।’
সমালোচককে কীভাবে নস্যাৎ করতে হয়, তা জানতেন রবীন্দ্রনাথ। তাই কখনোই গায়ে মাখেননি। তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েননি। উপেক্ষা করেছেন। নিন্দুক-সমালোচকদের কীভাবে উপেক্ষা করতে হয়, তা রবীন্দ্রনাথ ভালো জানতেন।
* গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি (Tagore Stories – Rabindranath Tagore) : পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Parthajit Gangopadhyay) অবনীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্যে ডক্টরেট। বাংলা ছড়ার বিবর্তন নিয়ে গবেষণা, ডি-লিট অর্জন। শিশুসাহিত্য নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গবেষণা করে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যের বহু হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছেন। ছোটদের জন্য পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন। সম্পাদিত বই একশোরও বেশি।


















