
ছবি: প্রতীকী।
মফিজুল আর তার ফরেনসিকের টিম অপেক্ষা করছিল। এবার তারা এক এক করে ক্রাইমসিন এভিডেন্স কালেক্ট করতে লাগল। একটা থার্মোফ্লাস্ক, গ্রিন-টির পাউচ ঝোলানো দামি পাতলা কাচের কাপ-ডিশ আর ছোট্ট একটা টি-স্পুন ছাড়া সে-রকম বিশেষ কিছু নেই ওই ঘরে। থার্মোফ্লাস্কে তখনও কিছুটা জল রয়ে গিয়েছে। চায়ের কাপের তলানি চা-টুকু শুকিয়ে এসেছে। মৃতার পোশাক বিছানার চাদর সবকিছুই অবশ্য সংগ্রহ করা হবে। আগেই শ্রেয়া ধৃতিমানকে নিয়ে আরও একবার পরীক্ষা করেও বাইরে থেকে জোর করে ভিতরে আসার কোনওরকম চিহ্ন পায়নি। মৃতার শরীরে কোথাও কোনও আঘাত এমনকি ঘষটানির চিহ্নও নেই।
ঘরের দেওয়ালে দরজায় জানালায় কোথাও কোনও হাতের ছাপ নেই। নেই ফুটপ্রিন্টও! মৃতা রিয়ার দুটো ফোন, ফরেনসিক একটা পেয়েছে রিয়ার পাশে। বালিশের পাশে ছিল। অন্যটা ড্রেসিং টেবিলের সামনের দামি হ্যান্ডব্যাগের ভিতরে পাওয়া গেল। ফোনটা নিয়ে মফিজুল শ্রেয়ার দিকে তাকালেন! শ্রেয়া এই তাকানোর মানে জানেন। ফোনটা আনলক করতে বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হবে। মৃতা রিয়ায় চোখ বন্ধ। ফেস রেকগনিশনে ডিনায়াল আসবে। শ্রেয়া নিউ আলিপুর থানার লোকজনকে কোনও নির্দেশ দিতে পাশের হলে ডাকল। ধৃতিমান নজর রাখল মুহূর্তের মধ্যে মফিজুল রিয়ার আঙুল ছুঁইয়ে ফোন খুলে গ্লাভস পরা আঙুল দিয়ে ফোনের সব লকিং ইনঅ্যাক্টিভ করে দিল।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৪: গ্রিন টি /২

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৭: আঁধারে ছিল আগন্তুক?

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৭: রবীন্দ্রনাথের নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ, ‘চোখের বালি’ নাকি চুরি করে লেখা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১১: পাতিকাক
নিয়ম অনুযায়ী মৃতার ঘরটা পুলিশ সিল করে দেবে! কিন্তু মৃতার বয়স্কা মায়ের ঘরে যেতে গেলে এই ঘর দিয়েই যেতে হয়। এক্ষেত্রে সে ঘর বন্ধ করলে মায়ের ঘরে যাতায়াত করা যাবে না। শ্রেয়া মিঃ চক্রবর্তীর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করে সেনবাড়িতে জানিয়ে দিল
—ম্যাডাম আপনাদের বাড়িতে তো থাকার ঘরের কোনও অভাব নেই। আমাদের নিয়ম অনুযায়ী এই ঘরটা সিল করতে হবে! যতদিন এই কেস চলবে ততদিন ঘরটা ব্যবহার করা যাবে না। আমরা ফরেনসিক স্যাম্পেল নিয়েছি, কিন্তু বলা তো যায় না কেসের মাঝপথে আবার এই ঘরের থেকে স্যাম্পল নেওয়ার দরকার হতে পারে। এই সময়টুকু আপনাদের একটু কো-অপারেট করতে হবে। আপনার জরুরি যা জিনিসপত্র আছে আপনার ভিতরের ঘর থেকে অন্য কোনও ঘরে শিফট করে নিন, আমরা অপেক্ষা করবো, তারপর দুটো ঘরই সিল করে আমরা চলে যাব!
—ম্যাডাম আপনাদের বাড়িতে তো থাকার ঘরের কোনও অভাব নেই। আমাদের নিয়ম অনুযায়ী এই ঘরটা সিল করতে হবে! যতদিন এই কেস চলবে ততদিন ঘরটা ব্যবহার করা যাবে না। আমরা ফরেনসিক স্যাম্পেল নিয়েছি, কিন্তু বলা তো যায় না কেসের মাঝপথে আবার এই ঘরের থেকে স্যাম্পল নেওয়ার দরকার হতে পারে। এই সময়টুকু আপনাদের একটু কো-অপারেট করতে হবে। আপনার জরুরি যা জিনিসপত্র আছে আপনার ভিতরের ঘর থেকে অন্য কোনও ঘরে শিফট করে নিন, আমরা অপেক্ষা করবো, তারপর দুটো ঘরই সিল করে আমরা চলে যাব!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৭: শুধু মুখে ধর্মের বুলি আওড়ালেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায় না

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭০: ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে
বলা বাহুল্য ওঁরা রাজি হয়ে গেলেন! এই সময়টুকু বাড়িটা আরো ভালোভাবে সার্ভে করল ধৃতিমান। লিফটের পরে সদরদরজা তারপরে পুরো ফ্ল্যাটটা ভীষণভাবে সিকিউরড! প্রত্যেক ফ্লোরে ফ্লোরে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নেওয়া হল। কমপ্লেক্সের সমস্ত সিকিউরিটির সঙ্গে কথা হল। ডিউটি রোস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে কারা কারা ডিউটিতে ছিল সেসব চেক করা হল। কমপ্লেক্সের মধ্যেই বেশ কয়েকটা টাওয়ার। এই যে টাওয়ার, যাতে রিয়া সেনরা থাকতেন সেখানকার সমস্ত সিকিউরিটির জবানবন্দি নেওয়ার কাজ সেরে ফেলল শ্রেয়া।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৫: আজও আধুনিক সমাজ রাজা দুষ্মন্তের তঞ্চকতা এবং দ্বিচারিতার দূষণমুক্ত নয়

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৩: অগত্যা আমার গাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আলাস্কা ভ্রমণে
শ্রেয়ার মা বয়স্ক। স্বামী মারা যাবার পর মেয়ে ব্যবসার হাল ধরেছিল। এখন মেয়ের মৃত্যুতে বয়স্ক মানুষটি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শ্রেয়া ধৃতিমানের কাছে জানতে চাইল—
—আজ আর ভিকটিমের মাকে কিছু জিজ্ঞেস করবো না! কী বলেন?
শ্রেয়া আজকাল অনেক শান্ত হয়ে গিয়েছেন। আগে কর্তব্যে অত্যন্ত সুকঠিন ছিলেন। সচরাচর কোনও মানবিক সিদ্ধান্ত শ্রেয়া বাসু নিতেন না! জেরা করতে বসে দুমদাম হাত চলত! এজন্য বেশ কয়েকবার অফিস মেমো খেতে হয়েছে শ্রেয়াকে। বিভূতি চক্রবর্তীর মতো গোয়েন্দাকর্তা না হলে শ্রেয়ার কপালে দুঃখ ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রেয়াও নিজেকে বদলে নিতে শিখেছেন।
ধৃতিমান তার অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে বোঝবার চেষ্টা করছিল ঘটনাটা কী হতে পারে। ৩৮ বছরটা আচমকা হার্ট অ্যাটাকের মতো কোনও বয়স না। যদি না অন্য কোন কারণ থেকে থাকে। যেমন প্রথম থেকেই হার্ট দুর্বল বা দুষ্টু লোকেরা যেভাবে কোভিডের ভ্যাকসিনকে দোষারোপ করছে। রিয়া কি কোভিড ভ্যাকসিন বিদেশ থেকে নিয়েছিল। নাকি বুস্টার ডোজটা এখানকার। এগুলো খোঁজ নিতে হবে। বারবার নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে হঠাৎ একটা দিকনির্দেশ পেল। মফিজুলকে কাছে ডাকল—
—হঠাৎ একটা ব্যাপার মনে হল তুমি ভেবে নাও প্রয়োজন আছে কিনা! বাড়ির কিচেন থেকে যদি এই গ্রিন-টির আনিউজড স্যাম্পেল পাওয়া যায়! মানে আমরা চলে যাবার পর সেটা নাও পাওয়া যেতে পারে।
—আজ আর ভিকটিমের মাকে কিছু জিজ্ঞেস করবো না! কী বলেন?
শ্রেয়া আজকাল অনেক শান্ত হয়ে গিয়েছেন। আগে কর্তব্যে অত্যন্ত সুকঠিন ছিলেন। সচরাচর কোনও মানবিক সিদ্ধান্ত শ্রেয়া বাসু নিতেন না! জেরা করতে বসে দুমদাম হাত চলত! এজন্য বেশ কয়েকবার অফিস মেমো খেতে হয়েছে শ্রেয়াকে। বিভূতি চক্রবর্তীর মতো গোয়েন্দাকর্তা না হলে শ্রেয়ার কপালে দুঃখ ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্রেয়াও নিজেকে বদলে নিতে শিখেছেন।
ধৃতিমান তার অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে বোঝবার চেষ্টা করছিল ঘটনাটা কী হতে পারে। ৩৮ বছরটা আচমকা হার্ট অ্যাটাকের মতো কোনও বয়স না। যদি না অন্য কোন কারণ থেকে থাকে। যেমন প্রথম থেকেই হার্ট দুর্বল বা দুষ্টু লোকেরা যেভাবে কোভিডের ভ্যাকসিনকে দোষারোপ করছে। রিয়া কি কোভিড ভ্যাকসিন বিদেশ থেকে নিয়েছিল। নাকি বুস্টার ডোজটা এখানকার। এগুলো খোঁজ নিতে হবে। বারবার নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে হঠাৎ একটা দিকনির্দেশ পেল। মফিজুলকে কাছে ডাকল—
—হঠাৎ একটা ব্যাপার মনে হল তুমি ভেবে নাও প্রয়োজন আছে কিনা! বাড়ির কিচেন থেকে যদি এই গ্রিন-টির আনিউজড স্যাম্পেল পাওয়া যায়! মানে আমরা চলে যাবার পর সেটা নাও পাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
নিউ আলিপুরে খুনের তল্লাশ চলতে চলতেই শ্রেয়ার ফোন বেজে উঠল। কাল রাতে মোটামুটি এ ভাবেই আর একটা অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে।
অনন্যা প্যাটেল সেনগুপ্ত, শহরের একজন উদ্যোগপতি ইদানিং তাঁর তৈরি ভেষজ মেকআপ সামগ্রীর ভীষণ কাটতি! একসময় কলকাতায় থাকতেন এখন পাকাপাকিভাবে বম্বের বাসিন্দা। আজ খানিকআগে কলকাতার ইএম বাইপাসের এক পাঁচতারা হোটেলের বিছানায় তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। —চলবে।
অনন্যা প্যাটেল সেনগুপ্ত, শহরের একজন উদ্যোগপতি ইদানিং তাঁর তৈরি ভেষজ মেকআপ সামগ্রীর ভীষণ কাটতি! একসময় কলকাতায় থাকতেন এখন পাকাপাকিভাবে বম্বের বাসিন্দা। আজ খানিকআগে কলকাতার ইএম বাইপাসের এক পাঁচতারা হোটেলের বিছানায় তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। —চলবে।
গ্রিন-টি। পরবর্তী পর্ব আগামী বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট, ২০২৫।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















