
ছবি প্রতীকী।
সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেল না। কলকাতার নামী হোটেল, সুরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট পাকাপোক্ত। বাইরের কাউকে অনন্যার ঘরের সামনে বা করিডরে দেখা যায়নি। তবে এত বড় ব্যবসার কর্ণধার স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সঙ্গে তার কলকাতা অফিসের টিম কাজ করছিল। হোটেল রিসেপশন থেকে তাদের সকলের খোঁজ পাওয়া গেল।
একদিন বাদেই অনন্যা সেনগুপ্ত প্যাটেলের তাঁর নতুন হারবাল প্রোডাক্ট গোল্ড ডাস্ট ফেস ক্রিম লঞ্চ করবার কথা ছিল, কলকাতায় তাঁর কোম্পানির চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার অর্ণব দে, বিজ্ঞাপন সংস্থার লিয়াঁজো মালবিকা আর ইভেন্ট ম্যানেজের সাকিবকে নিয়ে অনন্যা অনেক রাত পর্যন্ত মিটিং করেছেন এই গতকালই। এই ইভেন্টে শহরের নামী চিত্রতারকাদের উপস্থিতির কথা। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ সারাদিনে অনেকগুলো ইন্টারভিউ এর ব্যবস্থা রেখেছিল।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৬: গ্রিন টি /৪

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৮: নীতি কেবল মুখোশ, রাজনীতির মূল হল কৌশল আর ছলনা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৯: পথিমধ্যে অতর্কিতে

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৩: শকুন
আজকাল প্রচারের ধরনটা একেবারে বদলে গিয়েছে। এক সময়ে প্রিন্ট মিডিয়ার রমরমা। তখন সেখানে একটা বিজ্ঞাপন বেরোনো বা একটা খবর বেরোনো চারদিকে হইহই ফেলে দিত। খবরের কাগজ আর পত্র-পত্রিকার মালিকপক্ষ স্কেল নয়, স্লাইড ক্যালিপার্সে মিলিমিটার মেপে পয়সা নিতো। তারপর এল হোর্ডিংয়ের যুগ। যত বড় মুখ, তত বড় বিজ্ঞাপন। কবি শঙ্খ ঘোষ লিখলেন, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’। তারপর সিনেমার পর্দায় ছবির ফাঁকে বিরতিতে বিজ্ঞাপন গুঁজে দেওয়া হত। তারপর এল টেলিভিশন। টেলিভিশন এখনও আছে। কিন্তু বিজ্ঞাপনের আকাশে এখন নতুন তারকা, ডিজিটাল মিডিয়া। মোবাইলে ঘাড় নিচু করে থাকার জন্য আজকাল ট্রামে মিনিবাসে গাড়িতে যাওয়ার সময় কারও আর ঘাড় উঁচু করে হোর্ডিং দেখার ইচ্ছে হয় না। মেট্রোরেলেও ক’জনই বা ঘাড় সোজা করে মোবাইল থেকে চোখ তুলে তাকান? তাই এখন সেই মোবাইলের মধ্যে দিয়েই মাথায় ঢোকার চেষ্টা চলছে। সিনেমা , রাজনীতি, ব্যবসা, বিজ্ঞাপন —সবেতেই এখন সস্তায় পুষ্টিকর ইউটিউবারদের রমরমা। নিখুঁত উইন-উইন সিচুয়েশন!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৭: আশ্রমকন্যা শকুন্তলার পুত্রের উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে চিরন্তন মাতৃত্বের প্রকাশ এবং দুষ্মন্তের লাম্পট্য ও প্রতারণা, সব যুগেই বিদ্যমান

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক
কোটি কোটি মনে বারবার মনগড়া ন্যারেটিভস পৌঁছে দিয়ে আসলে বড় না হয়েও প্রচারে অনেক অনেক বড় দেখাবার সহজলভ্য প্রচেষ্টায় মেতেছে সকলে। সাধারণ মানুষ থেকে অসাধারণ বিশিষ্টজনেরা। ঝকঝকে ছবি আর স্পষ্ট শব্দ ধরতে পারে এমন একটা মোবাইল ফোন আর আমাজন থেকে আনানো তারহীন মাইক থাকলেই কেল্লাফতে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সিনেমার পরিচালক অভিনেতা সমাজের আশপাশের অমল বিমল কমল এবং ইন্দ্রজিৎ—সকলেই আজকের সর্বগ্রাসী মিডিয়া গোলকের অংশবিশেষ। যুগের চাহিদা! সহজলভ্য প্রচার!
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৯: চেন টেনে উমাচরণের জেল হয়েছিল

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৬: গ্রিন টি /৪
তাই প্রথিতযশা মিডিয়া হাউস ছাড়াও মোবাইলের দুনিয়ায় পরিচিতমুখেরাও প্রোডাক্ট লঞ্চের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। কাগজপত্র এমনকি মেডিকেল জার্নালেও দাবি করা হয় যে গোল্ড ডাস্ট বা স্বর্ণরেণু মানুষের চামড়ার জন্য নাকি ভীষণ উপকারী। গ্রিক রোমান বা মিশরীয় সভ্যতাতেও এই স্বর্ণরেণু ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। ধৃতিমান পড়েছে স্বর্ণরেণুর ব্যবহার নাকি চামড়ার জেল্লা বাড়ায়, বয়সজনিত ছাপ পড়তে দেয় না, রক্ত চলাচল বাড়ায়, দাগ ছোপ হালকা করে দেয়। তবে সে কখনো ব্যবহার করেনি। তাই এর সত্য-মিথ্যা সে জানে না। অনন্যা তার নতুন ফ্রেশ ক্রিমে গোল্ড ডাস্ট থাকবে বলে দাবি করেছিলেন। তা সে এই ফক্কিকারীর যুগে দাবি তো সকলেই করেন! এখন এত যে ভেষজ ভেষজ বলে ঢক্কানিনাদ চলছে। তার মধ্যে সত্যিকারের ভেষজ কতটুকু?
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
অন্যদের কাছ থেকে সেরকম কোনও আপাত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া না গেলেও কলকাতার সিইও অর্ণব জানালেন যে অতি সম্প্রতি ম্যাডাম মানে অনন্যা প্যাটেল সেনগুপ্তের সঙ্গে দুবাইতে তাদের সংস্থার প্রোডাক্ট বিক্রির একটা বড়সড় কন্ট্রাক্ট সই হয়েছে। টাকায় নয়, ডলারে। তাই অর্থমূল্যের পরিমাণটা অনেক অনেক বেশী। এমএনসি-রা বিদেশে ব্যবসা করে কিন্তু দেশীয় ভেষজ ক্রিম সংস্থার সরাসরি বিদেশে ব্যবসার ব্যাপারটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্ল্যু হলেও হতে পারে। রেস্টুরেন্ট থেকে খোঁজ পাওয়া গেল অনেক রাতে ম্যাডাম অনন্যা তার রুম থেকে ফোন করে গ্রিন-টি অর্ডার করেছিলেন।
আচমকা শ্রেয়ার ফোন!
—কলকাতায় আজ শনি লেগে গিয়েছে!
মানে!
—আবার একটা মৃত্যু! বা মার্ডার, যদি প্রমাণ হয়।
—ভিক্টিম?
—এবারেও মহিলা! সফল ব্যবসায়ী। ডিভোর্সি, ফ্যাশান ডিজাইনার নেহা চ্যাটার্জি পার্কসার্কাসের কাছে কোয়েস্ট মলে নিজের শোরুমের সামনে!
—এখানেও কি বাই এনি চান্স…
—হ্যাঁ! গ্রিন টি।—চলবে।
আচমকা শ্রেয়ার ফোন!
—কলকাতায় আজ শনি লেগে গিয়েছে!
মানে!
—আবার একটা মৃত্যু! বা মার্ডার, যদি প্রমাণ হয়।
—ভিক্টিম?
—এবারেও মহিলা! সফল ব্যবসায়ী। ডিভোর্সি, ফ্যাশান ডিজাইনার নেহা চ্যাটার্জি পার্কসার্কাসের কাছে কোয়েস্ট মলে নিজের শোরুমের সামনে!
—এখানেও কি বাই এনি চান্স…
—হ্যাঁ! গ্রিন টি।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















