বুধবার ১০ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী।

শ্রেয়া ধৃতিমানকে বলল, জিপ নিয়ে এখনই বাইপাসের ওই পাঁচতারা হোটেলে পৌঁছে গাড়ি ফেরত পাঠাতে। রিয়া সেনের ঘর সিল করে বেরোতে আর একটু সময় লাগবে। মফিজুল তাঁর ফরেনসিক টিম নিয়ে হোটেলে আসছে। লোকাল থানাকে মিঃ চক্রবর্তী জানিয়ে দিয়েছেন, এই কেস গোয়েন্দা দপ্তর হাতে নিচ্ছে! তারা কো-অপারেট করবেন!

বেলা বেড়েছে। অফিসটাইমের ভিড় শুরু হয়ে গিয়েছে! কিন্তু এখন ধৃতিমান ওলা বা উবেরে নয়, আলো ঝিকমিক পুলিশের জিপে বসে চলেছে। নিউ আলিপুর পেট্রোল পাম্পকে ডানহাতে ফেলে তারাতলার দিকে এগিয়ে ত্রিকোণ পার্ক টপকে গেলে তারাতলা মোড়ের অফিসটাইমের যানজট এড়ানো যাবে! বাঁদিকে তাকাতেই নজর এল কেএমসি-র একটা বোর্ড। বীরসা মুন্ডা ত্রিকোণ পার্ক! নামটা নতুন মনে হল।
তবে ধৃতিমান উল্টোডাঙ্গার মুচিপাড়া বাজারের কাছে থাকে সুদূর দক্ষিণে কি ঘটছে না ঘটছে তার আপডেট রাখা একটু শক্ত! এই তো মিন্টের সামনে বাঁক নিতেই আবার চমক। এটাও তো জানা ছিল না! ভেঙে পড়া পুরনো মাঝেরহাট সেতু নতুন করে জয়হিন্দু সেতু হয়েছে! মাঝেরহাট টপকে মোমিনপুর পর্যন্ত গতিরোধ হল। আবার একবালপুর চিড়িয়াখানা তাজবেঙ্গল রেসকোর্স টপকে মা সেতু দিয়ে হই-হই করে বাইপাসের দিকে ছুটে চলল গাড়ি।

মফিজুল ধৃতিমানকে বহু বছর চেনে তাই ইঙ্গিতটা খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছিল! বাড়িতে প্রফেশনাল হাউসকিপিং সার্ভিসের লোকজন কাজ করেন। সন্ধেবেলার পরে তারা চলে যান পরের দিন সকালে আবার আসেন। রাতে বাড়িতে থাকেন মেয়ে রিয়া আর তার মা। ফ্ল্যাটের আশেপাশে স্পেশাল সিকিউরিটি ক্যামেরা রয়েছে। কমপ্লেক্সের সিকিউরিটি ছাড়াও রিয়া সেন তার পরিবারের জন্য ভাড়া করা সিকিউরিটি রেখেছিলেন। তাদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ থাকত প্রয়োজনে তাদের ডেকে পাঠাতেন।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৫: গ্রিন টি /৩

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৬: চিত্রকূটে রামচন্দ্রের প্রতি তপস্বীদের অনাস্থাপ্রকাশ এবং অত্রিপত্নী অনসূয়ার উপদেশের কোনও প্রাসঙ্গিকতা আছে?

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৯: চেন টেনে উমাচরণের জেল হয়েছিল

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৩: শকুন

শ্রেয়া প্রফেশনাল হাউস কিপিংয়ের যে ক’জন গতকাল ডিউটিতে ছিলেন তাদের এবং আজকের সকালে যারা এসেছেন তাদের প্রত্যেকের ডিটেল নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সিকিউরিটি সার্ভিস এর কোন লোককে কাল কোনরকম খবর করা হয়নি তারাও জেরার মুখে সেটা জানিয়েছে।

বাইপাসের হোটেলে এখনও গিয়ে এমন কেউ পৌঁছোননি যিনি ধৃতিমানকে প্রাথমিক খবরটুকু দিতে পারেন, তাই ঠিক কী হয়েছে হোটেলে না যাওয়া পর্যন্ত বোঝা যাবে না। তবে দুটো ঘটনার মধ্যে একটা মিল আবিষ্কার করে ফেলল ধৃতিমান। খুব ইন্টারেস্টিং মিল। দু’জনেই মহিলা। দু’জনেই বিপুল সম্পত্তির অধিকারিণী এবং সফল উদ্যোগপতি। রিয়া অবিবাহিতা শুনেছে অনন্যা বিধবা। স্বামী আদর্শ প্যাটেলের সঙ্গে বয়সের অনেকটা ফারাক। কিছুদিন আগে সেরিব্রাল হয়ে স্বামী মারা যান!
আরও পড়ুন:

আকাশ এখনও মেঘলা/পর্ব-৩১

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭০: ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে

অনন্যা একাই এই বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মালকিন! রিয়া আর অনন্যা দু’জনের বয়সই সম্ভবত ৩০ থেকে ৪০-এর মধ্যে মানে সফল হতে গেলে তো একেবারে কমবয়সে সাফল্য আসে না। বাবু মানে আমাদের সত্যানুসন্ধানী ধৃতিমান চৌধুরী আরও ভাবছিল, এই ধরনের লোকজন বাইরের লোককে নয়। কিন্তু কাছের লোকেদের খুব বেশি বিশ্বাস করেন। এর আগে অনেক কেস স্টাডিতে সে দেখেছে, অপরাধের সঙ্গে খুব পরিচিত কাছের জন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে। এমন ঘটনার অতীতে ঘটতো না তা নয়। কিন্তু ইদানিং যেন খুব বেশি বেড়ে গিয়েছে।

কারণ ইদানিং মানুষের বিশ্বস্ততা খুব কমে গিয়েছে। এক না দু’দিন আগেই ধৃতিমান মোবাইলে একটা খবর দেখে বেশ অবাক হয়েছিল। ছোটবেলায় সোনা দু’ধরনের ছিল পাকা সোনা আর গিনি সোনা। গিনি সোনার স্বদেশে আগমন ব্রিটিশের হাত ধরে। ২২ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি হওয়া ব্রিটিশ মুদ্রা হল গিনি। পশ্চিম আফ্রিকার গিনি অঞ্চল থেকে আনা সোনা দিয়ে তৈরি তাই এর নাম গিনি। আর পাকা সোনা হল ২৪ ক্যারেটের খাঁটি সোনা, যাকে বাংলা সাহিত্যে ‘খাঁটি সোনার মতো’ হৃদয় বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৮: নীতি কেবল মুখোশ, রাজনীতির মূল হল কৌশল আর ছলনা

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৩: অগত্যা আমার গাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আলাস্কা ভ্রমণে

জগৎ যত বদলাতে থাকল সোনার বিশ্বস্ততাও বদলে গেল। ২৪ আর ২২ থেকে নামতে নামতে ১৮ ক্যারাট তারপর ১৪ ক্যারাট। এখন নাকি ৯ ক্যারাটের সোনাও পাওয়া যাবে! মানুষের সততা বিশ্বস্ততা মানও তেমনই ধাপে ধাপে নামছে। রিসেপশনে জানা গেল, শ্রীমতি অনন্যা প্যাটেল হোটেলের গোল্ড উইংয়ের এক্সিকিউটিভ রুমে ছিলেন। কলকাতায় তাঁর নতুন একটি প্রোডাক্টের লঞ্চিং ছিল এই হোটেলেই একদিন বাদে। আর তার পরদিন পর্যন্ত অনন্যা দেবীর বুকিং ছিল! রাস্তায় আসতে আসতে গুগল করে ধৃতিমান জেনে ফেলছে যে আদর্শ প্যাটেলের সঙ্গে বিয়ে হবার আগেও অনন্যা একজন সফল ব্যবসায়ী ছিল।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

অনন্যার রুমে পৌঁছনোর জন্য লিফটে ওঠার আগেই ধৃতিমান নিজের পরিচয় দিয়ে রিসেপশনে জানিয়ে দিয়েছে হোটেলের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ তার চাই এবং সেটা গত তিনদিনের। যেদিন অনন্যা এই হোটেলে উঠেছিলেন তার দুদিন আগের থেকে ফুটেজ চাই। লোকাল থানার অফিসারকে মনিটর রুমে বসিয়ে দিল যাতে ফুটেজে কোন কারিকুরির সুযোগ না থাকে এবং জানিয়ে দিল হোটেলের সিকিউরিটি ইনচার্জ যেন এখনই অনন্যার রুমে এসে ধৃতিমানের সঙ্গে দেখা করেন।

হোটেলের রুমে ঢুকে ধৃতিমান চমকে উঠল, এখানেও মৃতার ঠিক পাশেই আধখাওয়া কাপে গ্রিন-টি!—চলবে।

গ্রিন-টি। পরবর্তী পর্ব আগামী বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট, ২০২৫।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content