সোমবার ৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী।

আচমকা প্লেন থেকে লাফিয়ে পড়ার পর হঠাৎ প্যারাশুট খুলে যাওয়ার মতো। পুরো রহস্যের জটটা এক ঝটকায় খুলে গেল ধৃতিমানের মাথায়।
—শ্রেয়া এক মিনিট এই রেডটা কখন হয়েছে।
—আজ ভোরবেলা।
চক্রবর্তী সাহেবকে এক্ষুনি মুম্বই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলুন! বলুন আমি বলেছি, হিতেশ ওয়াদিয়াকে আজই অ্যারেস্ট করতে হবে না হলে সে চিরকালের মতো হারিয়ে যাবে।
—ওয়াদিয়াকে পাবে কোথায়!
—বাড়ির ওই কেয়ারটেকারকে থানায় তুলে নিয়ে আসতে বলুন ইমিডিয়েটলি যদি এখনও সে বাড়িতে থাকে।
—আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।
—আমি বোঝাতে গেলে দেরি হয়ে যাবে এক্ষুনি চক্রবর্তী সাহেবকে বলুন আমি এটা বলেছি, আমি এখুনি অফিসে আসছি!

ভৈরব চক্রবর্তী কেন ধৃতিমানকে চ্যাম্প বলেন সেটা আবার প্রমাণ হল। মুম্বই পুলিশ আগেই সন্দেহ করে নেরুলের ওই কমপ্লেক্সের বাইরে জোরালো পুলিশপ্রহরা রেখেছিল। ফ্ল্যাটের সেই কেয়ারটেকারকেও নজরবন্দি করে রেখেছিল। বাড়ির থেকে বের হতে দেয়নি। ভৈরব চক্রবর্তী এবং মুম্বই পুলিশ কর্তা বিজয় কার্নিক, একই ব্যাচের আইপিএস। দু’জনের মধ্যে যথেষ্ট হৃদ্যতা। ফলে চক্রবর্তী সাহেব সহজেই তার বন্ধু আইপিএসকে ধৃতিমানের সন্দেহের কথা গুরুত্ব দিয়ে বুঝিয়ে ছিল।
সেই বোবা কালা কেয়ারটেকারই যে আসলে হিতেশ ওয়াদিয়া, এটা ধৃতিমানের মাথায় অনেক আগে থেকেই একটা সন্দেহের মতো ছিল। কিন্তু এই ল্যান্ডডিলের ক্লু পাওয়ার পর সেই সন্দেহটাই সিদ্ধান্ত হয়ে উঠল। খুনে বদমাইশদের মুখ থেকে জবানবন্দি আদায় করতে কলকাতা পুলিশের মতোই মুম্বই পুলিশও সিদ্ধহস্ত। পুলিশের ম্যাজিক টাচ পেলে বোবা কালাও কথা শুনতে পায় এবং বলতে পারে। অথচ আমাদের দেশের এমনই আইনব্যবস্থা যেখানে ছিঁচকে চোরডাকাতের দায়িত্ব রাজ্যপুলিশের আর দুর্নীতিতে পিএইচডি করা রাঘববোয়াল বজ্জাতদের দায়িত্ব অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার যাঁরা অতি ভদ্রসভ্য মার্জিত ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ফলে অপরাধী কখনই দোষ স্বীকার করে না, বছরের পর বছর তদন্ত চলতে থাকে এবং নিষ্পত্তি হয় না। যেখানে অপরাধের হার্ড এভিডেন্স রয়েছে অথচ স্বীকারোক্তি নেই। সেখানে মেরে পাট বিছিয়ে দেওয়া উচিত। চোরজোচ্চর বদমাইশের আবার মানবাধিকার কী? অমানবিক কাজ করবার পরেও মানবাধিকারের সুযোগ পাবে সে? আর যে লোকগুলোকে ঠকিয়ে তাদের মানবাধিকার কেড়ে নিয়েছে তার বিচার কে করবে?

বোবাকালা কেয়ারটেকার ওরফে হিতেশ ওয়াদিয়াকে মুম্বই ক্রাইমব্রাঞ্চে তিন-চারদিন জামাই আদরে রাখার পর সে সব স্বীকার ফেলল। কিন্তু এই অন্ধকার জগতের অলিখিত নিয়ম কেউ কাউকে চেনে না। কখনও সামনাসামনি হয়নি। তাই তাকে দিয়েই তার মোবাইলেই নতুন ফাঁদ পাতা হল। কন্ট্রাক্ট কিলারদের ডার্ক ওয়েব এপ্লিকেশনে নতুন কনট্র্যাক্ট দেওয়া হল। টার্গেট গোয়েন্দা বিভাগের কর্তা ভৈরব চক্রবর্তী!
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩২: কবিকন্যা মীরার স্বামী রবীন্দ্রনাথকে ভর্ৎসনা করেছিলেন

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০০: গ্রিন টি /৮

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৬: এক উপেক্ষিতা রাজকন্যার কথা

হিতেশ ওয়াদিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে একটা মোটা টাকা ডলারে পেমেন্ট করা হল! ভৈরব চক্রবর্তী শরীরে জিপিএস নিয়ে ঘোরাফেরা শুরু করলেন। এই সময়টায় তার পরিবারের সব লোককে নিরাপদ আশ্রয় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভৈরব চক্রবর্তী যে বাড়িতে থাকেন তার আশপাশের ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে সর্বক্ষণ নজরদারি করা হচ্ছে। ভৈরব চক্রবর্তীর খাদ্যপানীয় সবকিছু নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে তবে তার কাছে পৌঁছচ্ছে। ৩-৪ দিন কেটে গেল কারও হদিশ মিলল না। ভৈরব চক্রবর্তীকে নিয়ে এই পুরো পরিকল্পনা এত গোপন ছিল যে রাজ্য প্রশাসনেরও কারও পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি। একমাত্র সিপি জানতেন। শ্রেয়া বা ধৃতিমান এই তিন চারদিন ধরে এক মুহূর্তের জন্য বাড়ি ফেরেনি বিশ্রাম নেয়নি। বুবুকে কলকাতার এক পোষ্য-হস্টেলে ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৮: ছোট বাবুইবাটান

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

পঞ্চম দিনের মাঝরাতে ভৈরব চক্রবর্তীর হেস্টিংসে ফ্ল্যাটের উল্টোদিকে এক নির্মীয়মান বাড়ির ১৬ তলা থেকে একজন বিহারী শার্প শুটারকে ইউক্রেনিয়ান স্নিপেক্স আলিগেটর রাইফেল সমেত ধরা হল, যার ভারতীয় টাকায় দাম প্রায় তিন লক্ষ টাকা। বিহারী মুসলমান মোসারফ খানের সূত্র ধরে গ্রেফতার হল কলকাতা ও বাংলাদেশে যাতায়াতকারী এক রোহিঙ্গা যুবক। যার অজস্র নাম অসংখ্য পাসপোর্ট! তাঁর সঙ্গে যুক্ত শ্রীলঙ্কার এক ব্যবসায়ী লুব্রিক্যান্ট ব্যবসায়ী নালকা পেরেরা। সেই কলকাতার তিন মহিলা উদ্যোগপতিকে সরিয়ে দিতে রিয়া সেনের সার্ভিস টিমের একটি মেয়েকে পাঁচতারা হোটেলের একজন লেডি হাউসকিপিং স্টাফকে আর নেহা দাদলানির জন্যে নিজেই বিষাক্ত গ্রিন-টি দেবার গুরুদ্বায়িত্ব নিয়েছিল। সার্ভিস টিমের মেয়েটি বা পাঁচতারা হোটেলের লেডি স্টাফ জানতো না কী ঘটেছে। তাদের সেই রাতেই প্রচুর টাকাকড়ি দিয়ে কলকাতার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মারের চোটে সেই যুবক মেয়ে দুটির হদিশ দিতে বাধ্য হয় – অবশ্য তাদের শাস্তি কম হবে। কারণ এই খুনে তারা সরাসরি যুক্ত নয়, লোভের কারণে জড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩১: শ্রেষ্ঠ স্থপতি ও প্রকৌশলী ময়দানবের কৃতজ্ঞতার ঋণশোধ

তবে এই মৃত্যুর বরাত নেওয়া অদ্ভুত আপ্লিকেশনের পিছনে যে মূলচক্রী তিনি এক তামিল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার! নাম শ্রীরাধিকা শ্রীনিবাসন। চল্লিশোর্ধ এই মহিলার স্বামী তামিলনাড়ু রাজ্য পুলিশের একজন পূর্বতন ডিজিপি যাকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধীরা খুন করে। কিন্তু পুলিশ এই কেসের কিনারা করতে পারেনি কেউ অভিযুক্ত হয়নি। খানিকটা সমাজের প্রতি প্রতিশোধ নিতেই শ্রীরাধিকা শ্রীনিবাসন সিকে বা কন্টাক্ট কিলিংয়ের মতো একটা অদ্ভুত ডার্কওয়েব তৈরি করেন। যাদের জাল গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে ছড়ানো।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

এই কেসের কিনারা করতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রকের সাহায্য লেগেছিল। এবং এ পর্যন্ত ধৃতিমান শ্রেয়ার করা সবথেকে জটিল খুনের মামলা। জেরার মুখে জানা গিয়েছিল, কী একটা অদ্ভুত কারণে আগুয়ান মহিলা উদ্যোগপতিদের টার্গেট করে তাদের থেকে বিজনেসের রাশ নিয়ে নেওয়ার একটা ঘৃণ্য পরিকল্পনা করতো হিতেশ ওয়াদিয়া! এবং এই সব ক্ষেত্রেই এই উদ্যোগপতিদের পিছনে আর কেউ নেই যারা ব্যবসার হাল ধরতে পারেন। হিতেশ মৃত উদ্যোগপতিদের পরিবারকে একটা অস্বাভাবিক টাকার অফার করে ব্যবসাগুলো নিজের অধীনে নিয়ে যেত। এর আগে দিল্লিতে অপেক্ষাকৃত ছোটমাপের এক ফুডচেনের মালকিন আর নবি মুম্বইয়ের ফ্যাশন জুয়েলারির মহিলা উদ্যোগপতির ব্যবসা এভাবেই ছিনিয়ে নিয়েছে সে।
গ্রিন-টি রহস্য সমাধান করার ফলে ধৃতিমান যথেষ্ট পরিচিতি পেল। তার নাটকের দল এবং সিনেমা প্রোডাকশনের বন্ধু-বান্ধবরা বলতে শুরু করল—”এখন তো তুই পুরোদস্তুর গোয়েন্দা, শখ হলে নাটক বা ছবি তৈরি করিস! আমরা আছি!” — শেষ

আগামী বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫ থেকে শুরু হচ্ছে নতুন গল্প ‘ডেসডিমোনার রুমাল’।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content