মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
শাক্য কোনওরকম ভণিতা না করে সরাসরি মূল কথায় এল। হাতে সময় নেই। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্ত এখন মূল্যবান। যথেষ্ট দেরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। সুদীপ্ত পাশে বসে আছে। সুদীপ্ত কোয়াটার্সে ফেরেনি। শাক্যকে তার বাংলোয় ড্রপ করে দিতে এসে সেখানেই আপাতত আছে এখন। কারণ, উল্লাস মেসেজের জবাবে জানিয়েছিল, সে এখন ফ্রি। সাড়ে সাতটায় তার এক ক্লায়েন্ট আছে। এখন সে অন্তত এক ঘণ্টা করে দু’ঘণ্টা দু’জনকে ম্যাসাজ সার্ভিস দিতে পারবে।
উল্লাসকে ইচ্ছে করেই বলা হয়নি যে, আজ ম্যাসাজ সার্ভিস দেওয়ার জন্য তাকে ডাকা হচ্ছে না। আজকের ডাক সম্পূর্ণ অন্য কারণে এবং অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে হয় ও ইচ্ছাকৃতভাবেই দেরি করবে, কিংবা আজ-কাল করে দিনকয়েক কাটিয়ে দেবে। তার মতো খেটে-খাওয়া মানুষের ক্ষেত্রে ঘণ্টা পিছু যেহেতু আয়ের ব্যাপারটি যেহেতু জড়িত, ফলে নষ্ট করার মতো সময় তার কম।
ঘরে ঢুকেই সে থমকে গিয়েছিল। ঘরে এসি চলছিল। শাক্য ও সুদীপ্ত সম্পূর্ণ ফুল ড্রেসে গম্ভীর মুখে দুটি চেয়ারে বসে সম্ভবত তারই অপেক্ষা করছিল। অন্তত উল্লাসের সেটাই মনে হচ্ছিল। সে যে-সময় বলেছিল, তার থেকে আধ ঘন্টা পরে এসেছে বলে সে কুন্ঠিত ভাবে সুদীপ্তকে বলল, “একটা জরুরি কাজে ফেঁসে গিয়েছিলাম স্যার। চেষ্টা করেও টাইমে আসতে পারলাম না। ক্ষমা করবেন।”
“তুমি আগে বসো উল্লাস!” সুদীপ্ত গম্ভীর গলায় বলল।
“স্যার। বসতে হবে না। আপনাদের মধ্যে যিনি আগে নেবেন, তিনি রেডি থাকলে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন, তবে আগে পোষাক-আশাকগুলি ছেড়ে নেবেন।”
শাক্য গম্ভীর গলায় বললেন, “আজ তার দরকার নেই উল্লাস। তুমি আগে বসো। কিছু কথা আছে। ভয় নেই, এইসব কথা বলার পর তোমার প্রতিক্রিয়া যদি স্বাভাবিক হয়, তাহলে আমরা পে করবো ঘণ্টাপিছু। কিন্তু ফর গড্‌ সেকস্‌, এখন চুপ করে যা-বলছি শুনে যাও…খামোকা কথার পিঠে কথা বলে সময় নষ্ট করবে না আশা করি!”
“সময় নষ্ট করার মতো সময় আমার নেই স্যার। আর আপনাদের জন্য কিছু করলে তার জন্য টাকা নেবো, এতটাও খারাপ স্বভাব আমার নয়!” উল্লাস বলল।
“তোমার যে স্বভাব খারাপ নয়, তা জানি বলেই আমরা তোমাকেই ডেকেছি উল্লাস। বুঝতেই পারছ, নিছক ম্যাসাজ-সার্ভিস কথাটা কতদূর ধোঁকার টাঁটি। আজ আমরা কেউ ম্যাসাজ-সার্ভিস নেবো না, তবে এটাও চাই না যে, সামান্য সময়ের জন্য হলেও তোমার সময় নষ্ট করে তোমার ভাত-কাপড় সংগ্রহের জন্য যে রুটি-রুজির সংস্থান, তাতে চোট পৌঁছাক। আপাতত তুমি যা-বলছি তা শোন!”
“বলুন স্যার।”
“উল্লাস, তুমি বলেছিলে তো, কালাদেওর মন্দির বা গুহা যাই হোক না কেন, যে-গ্রামে সেটি আছে, সেখানেই তোমার বাড়ি?”
“হ্যাঁ স্যার, সেখানেই তো।”
“আচ্ছা, কালাদেওর গুহায় ঢুকেছ কখন?”
“কী?”
“বলছি কখন তুমি বা তোমার চেনা কেউ কালাদেওর গুহায় ঢুকেছ?”
“কী বলছেন স্যার? কালাদেওর গুহায় আমি ঢুকবই বা কী-করে? সেখানে কেবল পুরোহিত ছাড়া আর-কেউ ঢুকতে পারে না!”
“পুরোহিতের নাম কী?”
“মঙ্গল মাহাতো স্যার!”
“তোমার মতে লোকটি কেমন?”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২০: একেজি কলিং

মুভি রিভিউ: সত্যিই তো, সবার নিজের নিজের মতো করে সবটাই নর্মাল

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২১: মহারাজ অফ শান্তিনিকেতন

“এমনিতে ঠিক আছে। কথাবার্তা বললে কথাবার্তা বলে। তবে কালাদেওর সেবায়েত বলে দেমাক আছে। তাছাড়া টাকার খুব খাঁই। কেউ হয়তো ছেলেপিলের অসুখ, কাজকর্ম পাওয়ার আশায় কালাদেওর থানে মানতকরল, পেলও, তখন ইচ্ছে মতো টাকা-পয়সা চেয়ে বসে, নাহলে পূজা চড়াতে চায় না। গরীব মানুষ, কালাদেওর থানে হয়ত নিজেদের একমাত্র পোষা মোরগটাকে নিয়ে গেছে, আর ফল-ফুল যা সাধ্য, কিন্তু মঙ্গল মাহাতোর ওইটুকুতে হবে না। চাল চাই, ডাল চাই, নগদ টাকা চাই। না দিলে কিছুতেই পূজা দিতে চায় না। কতলোক তখন ধারদেনা করে হলেও তার খাঁই মেটায়!”
সুদীপ্ত বলল, “তোমরা লোকাল-থানায় অভিযোগ দায়ের কর না কেন ?”
উল্লাস বলল, “কে করবে স্যার? কার ঘাড়ে ক’টা মাথা? কালাদেও যদি কূপিত হন, এই ভেবে সকলেই চুপ করে থাকে। ভয় পায় যদি কালাদেওর অভিশাপে খারাপ কিছু ঘটে!”
“তুমি পাও?” শাক্য জিজ্ঞাসা করল।
“আমার পাওয়া না-পাওয়ায় কী যায় আসে স্যার?”
“অনেক কিছু। উল্লাস তোমাকে আমাদের জন্য একটা কাজ করে দিতে হবে। খুব রিস্কের কাজ। কিন্তু যদি ঠিকঠাক করতে পারো, তাহলে তোমাদের এ-অঞ্চলের মানূষেরা বেঁচে যাবে, অনেকদিনের অনেক ভুলের অবসান ঘটবে, অন্তত কালাদেওকে অনেকে যে পাতি খুনী ভাবছে, যিনি কি-না নির্বিচারে খুন করে যান, সেই ভুলের অবসান ঘটবে!” শাক্য বলে তাকালো উল্লাসের দিকে। উল্লাসের প্রতিক্রিয়া দেখার চেষ্টা করছিল সে।

উল্লাস কেমন অবাক চোখে তাকালো। বোঝার চেষ্টা করল শাক্যর কথার অর্থ। তারপর বলল, “যদি তা-ই হয়, তাহলে তো ভালোই। কী করতে হবে?”
শাক্য বলল, “উল্লাস, তোমাকে কথা দিতে হবে আজ তোমাকে যা-যা বলবো, সে-ব্যাপারে ঘুণাক্ষরেও কাউকে কিছু বলবে না। বললে, আমাদের এত প্রচেষ্টা সব জলে চলে যাবে !”
উল্লাস দুজনের মুখের দিকে তাকাল। তারপর আস্তে-আস্তে বলল, “ব্যাপার সিরিয়াস বুঝতে পারছি স্যার। আপনারা কি কালাদেওর গুহায় ঢুকতে চাইছেন?”
শাক্য চমৎকৃত হল। মুখ দিয়ে সন্তোষজনক আওয়াজ করে বলল, “আমি ভুল করিনি উল্লাস। তুমি সত্যিই বুদ্ধিমান।”
“বুদ্ধির কিছু নেই স্যার। আপনি প্রথমেই কালাদেওর গুহায় আমি ঢুকেছি কি-না জানতে চাইলেন, তখনই ভাবছিলাম, আপনারা কি সেখানে ঢুকতে চাইছেন? সে-জন্য আমাকে প্রশ্ন করে কিছু ইনফরমেশন জেনে নিতে চাইছেন? আমার ভাবনার সঙ্গে আপনাদের ইচ্ছে মিলে গেল, এটাই ম্যাজিক। না মিললে বলতেন, আমি কী বোকা!”

আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৬: বাজ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৪: মা সারদার নিত্যলীলা

সুদীপ্ত বলল, “কিন্তু কাজটা তো সহজ হবে না উল্লাস। তুমি তা জানো!”
উল্লাস থুতনির উপর হাত রেখে বলল, “হুম ! কাজটা সহজ হবে না কারণ, যদি আমার এলাকার লোক জানতে পারে যে, আপনারা কেউ আমাদের পবিত্র কালাদেওর গুহায় ঢুকতে চাইছেন, তাহলে হয়ত টাঙ্গি, লাঠি, কুড়ুল—হাতের কাছে যা পাবে, তা নিয়েই রে-রে করে তেড়ে আসবে। আমাদের কাছে কালাদেওই ভগবানের পূর্ণ রূপ!”
“আমরা তোমাদের সেন্টিমেন্টকে আঘাত করতে চাই না উল্লাস। সেইকারণেই এমন প্ল্যান ভেবেছি, যে-প্ল্যান সাকসেসফুল করতে হলে কেউ টের না-পায়, এমনভাবেই কাজ সারতে হবে।”
“যেমন ?”
“আবারও বলচি উল্লাস। সমস্ত ভাবনাটি এখন প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। তোমাকে গ্রিন সিগন্যাল দিলে তবেই এগোবে। তবে তার জন্য তোমাকে আগে বাড়ি ফিরতে হবে। এখান থেকে বসে তো আর গ্রাম-নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না!”
“গ্রাম-নিয়ন্ত্রণ? সেটা কী-রকম?”
“উল্লাস। আমরা ভেবেছি, কালাদেওর মন্দিরে ঢুকতে গেলে এমনসময় ঢুকতে হবে, যখন পুরোহিত নিজে অনুপস্থিত থাকেন। সারাদিনে এমনসময় তো নিশ্চয়ই আসে, যখন উনি মন্দিরে থাকেন না। আমাদের সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকতে হবে। আগে থেকে প্ল্যান জেনে গেলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।”
“দেখ, কালাদেওর গুহায় ঢুকতে গেলে কেবল পুরোহিত একাই তো ঝামেলা পাকাবে না। তুমিই বললে যে, গ্রামের লোকেরাও ঝামেলা পাকাবে। কিন্তু তারা নিশ্চয়ই কারুর নেতৃত্বে ঝামেলাটি করবে। তারা কারা? অনুমান করে নিতে অসুবিধা হয় না যে, তারা হবে গ্রামের মাতব্বর গোছের লোকেরা। যেমন পঞ্চায়েত-প্রধান, তার চ্যালাচামুন্ডা, কিছু অতিবিপ্লবী মানুষ, যারা সুবিধামতো ধর্মেও থাকে, জিরাফেও থাকে। এখন তাদের বেশিরভাগকেই যদি সেদিন গ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় অন্তত পরের দিন ভোরবেলা পর্যন্ত, তাহলে রাতের অন্ধকারে আমরা নিশ্চিন্তে গুহায় ঢুকতে পারবো। দিনের বেলায় ঢুকতে পারলে ভালো ছিল, কিন্তু সে-ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে। আমি চাইছি, এমন কিছু করতে যাতে সাপও মরে, লাঠিও ভাঙে না। রাতের বেলা ঢোকাই তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে নিরাপদ।”
“রাতের বেলা ঢুকবেন? সর্বনাশ! রাতের বেলা যে ইদানীং কালাদেও জেগে ওঠেন। বিচিত্র আওয়াজ ভেসে আসে, শুনে গায়ের রক্ত জল হয়ে যায়!” উল্লাস পাংশুমুখে বলল।
“আমাদের দেখে শব্দ করেন কি-না তোমার কালাদেও, সেটাই তো দেখার। আর তাছাড়া ভয় নেই, আমরা আর্মড্‌ অবস্থাতেই যাবো। সঙ্গে লোকজন থাকবে। চিন্তা করার মতো কিছু হয়নি।”
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৪: রিলেটিভিটি ও বিরিঞ্চিবাবা

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা

“চিন্তা করার অনেক কিছু আছে স্যার। আজকাল গ্রাম আর সেই গ্রাম নেই। সন্ধ্যে হতেই ঘুমিয়ে পড়ে না সক্কলে। আর কিছু না হোক মোবাইল টাওয়ার বসেছে, ছেলে-ছোকরারা অনেক রাত অবধি মোবাইল নিয়ে খুটুর-খুটুর করে, গেম খেলে, গরম ভিডিও দেখে। সামান্য সন্দেহ হলেই গ্রাম জেগে উঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে কতক্ষণ? আর ও পঞ্চায়েত-প্রধান, সে-তো একটি মিটমিটে ডান! আর তার শাগরেদগুলিও তেমনই। সব এককালের নাম কাটা সিপাই। স্কুল তাড়িয়ে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। এরা কিন্তু কাউকে রেয়াৎ করবে না। দরকার হলে পুলিশের পেটে ড্যাগার চালিয়ে দেব!” উল্লাসের গলায় ভীতি।
“দেখ, তুমি যাদের ভয় পাচ্ছ, তারা দু-তিনজন যদি কোন কার্যগতিকে সেইসময় গ্রামের বাইরে থাকে, তাহলে তো কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।”
“সেটা তো একেবারেই অসম্ভব স্যার। ওরা তো এক-আধজন নয়, অন্তত জনা দশেক। তার মধ্যে মাথা ধরুন জনা তিনেক। তারা সকলেই একই সময়ে গ্রামের বাইরে যাবে, এটা তো হতে পারে না!” উল্লাস মাথা নাড়লো।
শাক্য বলল, “সম্ভব উল্লাস। ধর এমন কোন জায়গা থেকে জরুরি তলব এল এবং ওরা দেখল সেই তলব অনুযায়ী না গেলে অদেরই লোকসান, তাহলে ওরা নিশ্চয়ই যাবে। তারপর কাজেকর্মে ওরা ধর আটকে পড়ল দু-তিন দিন, তার মধ্যে আমাদের অপারেশন হয়ে যাবে আশা করি।”
“কিন্তু কে তলব করবে?”
“ধর, যদি বলি পার্টির তরফে হাইকম্যাণ্ড যদি ডেকে পাঠায়, তাহলে ওরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় রক্ষা করতেই ছুটে যেতে বাধ্য হবে।”
“বেশ। কিন্তু পুরোহিত?”
“তুমি ওইদিন পুরোহিতকে দিয়ে বিশেষ পূজা দেওয়াবে। শুনেছি, ঠিক সন্ধ্যা নামার আগে দিনের শেষ পূজাটি দেওয়া হয়। সেইসময় তুমি পূজা দিতে যাবে। বলবে, ব্যবসা তেমন ভালো চলছে না। সেজন্য কালাদেওর থানে বিশেষ ভোগ চড়াতে চাও। জ্যান্ত মুরগি নিয়ে যাবে উৎসর্গ করার জন্য। সঙ্গে রান্না করা মাংস, মদের বোতল, পাঁচ রকমের ভাজা-তরকারিসহ পোলাও। রান্না আমরাই সাপ্লাই দেবো। সেই রান্নার সবটাই তুমি দিএ দেবে পুরোহিতকে। সে নিশ্চয়ই এতখানি খাওয়ার পেয়ে বাড়িতে নিয়ে যাবে এবং সেই খাবার খেয়ে এমন ঘুম ঘুমাবে যে, পরের দিন বেলা না-গড়ালে তার ঘুম ভাঙবে না!”
“ঘুমের ওষুধ মেশানো থাকবে না-কি স্যার?”
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২০: সত্য ও ন্যায় পরস্পরের সম্পূর্ণ বিরোধী নয়, তবে? ঔজ্জ্বল্য বেশি কার?

“থাকবে হয়তো! এখনও ভাবিনি। কিন্তু তোমার কাজ ওখানেই শেষ নয়। তুমি ফিরে সতর্কভাবে নজর রাখবে কারা-কারা গ্রামের মাথাদের অনুপস্থিতিতে রাতের অন্ধকারে বেরুচ্ছে এবং কোথায় যাচ্ছে। তোমার সঙ্গে আরও দুই খোচড় থাকবে, তুমি একা তো আর গ্রামের চারদিকে নজরদারি চালাতে পারবে না। তিন জন তিন দিকে, আর-একদিকে আমরা থাকবো। মোটের উপর দেখা দরকার, গ্রামের কে বা কারা রাতের অন্ধকারে গ্রামের এদিক থেকে ওদিকে যাচ্ছে এবং তাদের গন্তব্যস্থল কোথায়! তারপর আমাকে রিপোর্ট করবে। তুমি দেখবে কেউ যেন কালাদেওর গুহার দিকে যেন না-আসে, আর যদি আসেও তাহলে সে কে, তা নজর করে দেখতে ভুলবে না। সামান্য ভুলের জন্য অনেক বড় মাশুল তোমাকে-আমাদেরকে গুণতে হতে পারে মনে রেখো!”
উল্লাস একবার তাকালো শাক্যর দিকে। তারপর বলল, “চিন্তা নেই, আমি আপনাদের ডুবাবো না। এখন আপনারা যদি নিজেরাই নিজেদের প্ল্যানের জন্য ডোবেন, তাহলে আলাদা কথা!”—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer atanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content