কলকাতায় বৃষ্টি

টেকেলি ভাঙা খেলা।

খেলাধুলা মানুষের জীবনের অঙ্গ। আজকের এই ‘টু মিনিট নুডলস’ সময়ের দৌড়েও মানুষ কিন্তু তার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে খেলতে এখনও পছন্দ করে। খেলাধুলা মানুষের মনে বিপুল আনন্দ প্রদান করে, জীবনী শক্তিতে ভরিয়ে দেয়। বৃহত্তর পরিসরে শুধুই মনোরঞ্জনের জন্য খেলা নয়, দেশ কিংবা রাজ্যের জন্য যখন খেলোয়াড়রা খেলেন তখন তার মধ্যে এক বিশেষ ভাবনা বা অনুভূতি কাজ করে।
অসমে প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের খেলা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ধোপখেল’। এই খেলাটি বল নিয়ে খেলা হয়। এতে ১১ জন করে দুটি দলের প্রয়োজন হয়। মাঠে ৪টি পতাকা থাকে। একটি বল নিয়ে খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের দিকে ছুঁড়ে মারে। খেলাটি কিন্তু ফুটবলের মতো নয়। কারণ বল ছুঁড়ে মারার পর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা সেটা ধরে চিহ্নিত হওয়া থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করে। এক সময় এটি আহোম রাজ পরিবারকে আনন্দ প্রদান করার জন্য খেলা হতো। তবে এখন আর এই খেলাটি খেলতে খুব একটা দেখা যায় না।
আরও পড়ুন:

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৪: অসমের বিখ্যাত হস্তশিল্প

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৫: রবীন্দ্রনাথের বিয়ের রাতে মারা গিয়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাই

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১০: ভুতুম প্যাঁচা

অসমে খেলাধুলার প্রচলন রয়েছে এমন আরেকটি খেলা হল, কাবাডি। মূলত বিহুর সময় বিভিন্ন ধরনের খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তরোয়াল খেল এবং মল্ল যুদ্ধও অসমের ক্রীড়াগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কাবাডি আমাদের এক প্রচীন খেলা। দল বেঁধে কাবাডি খেলা হয়। খেলোয়াড়রা অন্য দলের খেলোয়াড়দেরকে ঝুঝে নিজের জায়গায় ফিরে আসতে হয়। তলোয়ার খেল প্রাচীন খেলার মধ্যে অন্যতম। তলোয়ার নিয়ে দু’জনের মধ্যে খেলা হয়। মল্লযুদ্ধ অসমে মুকনা নামে পরিচিত। মল্লযুদ্ধ এখনও অসমের বেশ কিছু গ্রামে খেলা হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৬: আমরা আসলে কাকে পুজো করছি? ঈশ্বরকে, নাকি রক্তমাখা অভ্যাসকে?

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৮: সকলের উপর মা সারদার ছিল সমান অধিকার

আরও একটি মজার খেলা হচ্ছে রশি ধরে টানা। এই খেলাটি দুই দলের মধ্যে খেলা হয়। একটি রশি বা দড়ির দুই প্রান্ত ধরে দু’ দলের খেলোয়াড়রা টানতে থাকে। এই টানাটানি করেই একটি দল জয় লাভ করে। বিহুর সময় খেলা হয়ে থাকা আরও একটি জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে টেকেলি ভাঙা। এই খেলায় খেলোয়াড়দের চোখে কাপড় বেঁধে দেওয়া হয়। তারা একটি মাটির পাত্রকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়তে থাকে, বা লাঠি দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?

এই সব খালায় কোনও রকম কৃত্রিমতা নেই। নেই আধুনিক জীবনের চিকচক্য। রয়েছে সরল মানুষের আনন্দ। রয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে একাত্মবোধের প্রচেষ্টা। এই সারল্য অসমের মানুষদের মধ্যে ভাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে রাখে এবং প্রকৃতির অনেক কাছে নিয়ে যায়।

ইংরেজদের হাত ধরে সমগ্র ভারতের সঙ্গে অসমেও বিদেশি জীবনশৈলী প্রভাব ফেলতে শুরু করে। সেই সঙ্গে খেলার জগতেরও অনেক পরিবর্তন হয়। দেশীয় খেলার সঙ্গে বিদেশি খেলাগুলিও নিজেদের জায়গা করে নিতে লাগলো। ফুটবলও ইংরেজদের সঙ্গেই এসেছিল এবং এদেশের মানুষের এক প্রিয় খেলা হয়ে উঠে। অসম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তৈরি হয়েছিল ১৯৪৬ সালে। কিন্তু ঠিক কবে বা কোনও তারিখে অসমে প্রথম ফুডবল খেলা হয়েছিল তা বলা শক্ত। জোরহাট স্টেডিয়ামটি অসমের সবচেয়ে পুরনো স্টেডিয়াম।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’

প্রথম এক দিনের ক্রিকেট খেলা হয়েছিল স্বাধীনতার পর। স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশ চা উদ্যোগপতিরাই মূলত ক্রিকেট খেলত। জোরহাট জিমখানা ক্লাব সেই সময়ে ক্রিকেট খেলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। তখন ক্রিকেট খেলা যেন ইংরেজদের এক নিজস্ব সম্পত্তির মতো ছিল। চা বাগানের ইংরেজ সাহেব এবং ইংরেজদের মনোনীত দু’ একজন দেশীয়রা সেই খেলায় অংশ গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর সেই ভাবনার পরিবর্তন হয়। পরে অসমের সাধারণ মানুষও ভালোবেসে ক্রিকেট খেলতে শুরু করলেন।
কলকাতায় বৃষ্টি

মজার খেলা রশি ধরে টান।

খেলাধুলা যেমন শরীরচর্চার জন্য বিশেষ প্রয়োজন, তেমনি মনকেও ভালো রাখে। আজকের এই অতি দ্রুত সময়ে মানুষের খেলা হয়ে উঠছে মোবাইল কেন্দ্রিক। বড়রা নিজেরা যেমন মোবাইল হাতে নিয়ে খেলছেন, তেমনি অনেকেই ছোটোদের হাতেও দিয়ে দিচ্ছেন মোবাইল। এতে বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ছোটবেলা থেকেই প্রয়োজন প্রকৃতির কোলে গিয়ে একটু সময়ের জন্য হলেও বন্ধুদের সঙ্গে খেলা, সময় কাটানো।—চলবে।
* ড. শ্রাবণী দেবরায় গঙ্গোপাধ্যায় লেখক ও গবেষক, অসম।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content