শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

(বাঁদিকে) ভরতাল নৃত্য। (ডানদিকে) ঝুমুর নৃত্য। ছবি: সংগৃহীত।

অসমের ভৌগোলিক পরিসর যথেষ্ট বিস্তৃত। অসমের সংস্কৃতি বা ভাষার মধ্যেও বৈচিত্র দেখা যায়। তাই অসমের সাংস্কৃতিক জগৎ বেশ প্রসারিত। এ রাজ্যের প্রচলিত গান-বাজনার কথা বলতে গেলে বলতে হয় ভারি গানের কথা, ঝুমুর গানের কথা। মূলত বরাক উপত্যকার ভট্ট সঙ্গীত-সহ আরও অনেক ধরনের লোক সঙ্গীতের কথাও উল্লেখ করতে হয়। ভারি হল অসমের এক প্রাচীন নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ লোকগীতি বা লোকনাট্য বিশেষ। এই বিশেষ লোকনাট্যটি রাভা সম্প্রদায়ের মানুষই বিশেষত করে থাকে। ৩০ থেকে ৩৫ জন দলবদ্ধ হয়ে রামায়ণের কাহিনি অবলম্বনে এই ভারি গান উপস্থাপনা করে থাকেন। কাঠের ভারি মুখোশ পরিধান করে কাহিনির চরিত্র হিসেবে গানের মধ্যমে এই ভারি গান মঞ্চস্থ করা হয়। ভারি গান যেন অনেকটা যাত্রা গানের মতোই।
রামায়ণের চরিত্র এবং কাহিনি বজায় রেখে ভারি গানে দর্শকের মনোরঞ্জনের জন্য সামাজিক ঘটনা বা সংবেদনশীল বিষয় কেন্দ্রিক গান ও অভিনয়ের সঙ্গে প্রস্তুত করা হয়। তাছাড়া ভারি গানের মধ্যে মহাদেবের তাণ্ডব নৃত্য, কালিকা নৃত্য, হনুমান নৃত্য ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মূলত ভারিগান নৃত্য এবং গীতের এক অদ্ভুত সমন্বয়। অসম সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে সব সময়ই যে এগিয়ে রয়েছে, এ কথা অস্বীকার করা যায় না। লোক নৃত্য এবং লোক নাচে সম্বৃদ্ধ অসম। আসলে এখানে রয়েছে বিভিন্ন জাতি-জনজাতি লোক, তাঁদের নিজস্ব এক সংস্কৃতি রয়েছে। অসমের বড় সমাজের ‘বাটারফ্লাই ড্যান্স’ বা প্রজাপতি নৃত্য যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এই নৃত্যটিতে প্রজাপতির মতো উড়ে উড়ে পাখা মেলার মতো করে এই নৃত্য প্রদর্শন করা হয়। নৃত্য শিল্পীরা হাতে বুনা বড় চাদর কাঁধের উপর রেখে, দু’ হাতে চাদরের দুই কোণ ধরে প্রজাপতির মতো নাচা হয়।
আরও পড়ুন:

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৬০: অসমের লোকগান

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৯: মধ্যরাতে শিশুর কান্না শুনে রবীন্দ্রনাথ ওষুধ হাতে হাজির হয়েছিলেন

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

ভরতাল নৃত্য হচ্ছে একটি শত্রীয় শক্তি প্রদর্শনকারী নৃত্য। এই নৃত্য বরপেটা জেলায় বিশেষ দেখা যায়। অসমের নৃত্য সমূহের মধ্যে ভরতাল নৃত্য এবং আরও কয়েকটি নৃত্য ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের অন্তর্গত। মূলত ৬ থেকে ১০ জনের মতো পুরুষ শিল্পীরাই একসঙ্গে মিলে এই নৃত্য করে থাকেন। নৃত্যশিল্পীরা যথেষ্ট ভারি এবং বড় কাঁশা বা পিতলের তৈরি ভরতাল তাল নামক বাদ্য যন্ত্রটি হাতে নিয়েই নৃত্য পরিবেশন করেন। তাছাড়া ঢোল, খোল ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্রেরও ব্যবহার হয় এই নাচে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪০: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

আকাশ এখনও মেঘলা/৪২

অসমের সাতত্রিয়া নৃত্যও বিশেষ উল্লেখযোগ্য একটি শাস্ত্রীয় নৃত্য। সঙ্গীত-নাটক একাড্যমি ভারতের আটটি নৃত্যকে শাস্ত্রীয় নৃত্যের সম্মান প্রদান করেছে। এর মধ্যে অসমের সাতত্রিয়া নৃত্য অন্যতম। বগুড়ুম্বা অসমের একটি বিখ্যাত লোকনৃত্য। এই নাচটিও অনেকে মিলে এক সঙ্গে করে থাকে। বড় উপজাতির এই নাচটি নববর্ষের সময় বৈশাগু উৎসবে নেচে থাকেন। এই নাচের সঙ্গে বড়দের সামাজিক আচার অনুষ্ঠান জড়িয়ে রয়েছে। অসমের উদালগুঁড়ি, কোকরাঝাড়, চিরাংগ, নলবাড়ী এবং শোনিতপুর জেলায় এই নৃত্য এবং বাগরুম্বা অনুষ্ঠানটি পালিত হয়।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮১: ত্রিপুরা : ইতিহাস পুনর্নির্মাণে প্রত্ন সম্পদ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৩ : জনঅরণ্য: সরস্বতী না লক্ষ্মী?

মিশি উপজাতির লোক সমাজের বিখ্যাত নৃত্য হচ্ছে গুমরাগ। আলি-আই-লিগাং নামক একটি জনপ্রিয় উৎসবে এই নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এই নৃত্যের সঙ্গে কিছু লোক আচার অনুষ্ঠান জড়িত রয়েছে। কিছু লোক বাদ্য যন্ত্রের সহযোগে এই নৃত্য দল বদ্ধ ভাবে প্রস্তুত করা হয়। সাধারণত বিকেলবেলার দিকেই এই নাচ করা হয়ে থাকে। ছেলেমেয়েরা রঙিন মিশি পোশাক পরে এই উৎসবে যোগদান করেন এবং নৃত্য করে সবাইকে মোহিত করে।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৫: সুন্দরবনের পাখি: বিলের বালুবাটান

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

ঝুমুর অসমের চা জনজাতিদের মধ্যে প্রচলিত একটি জন প্রিয় লোকনৃত্য। পুরুষ মহিলারা মিলে সম্মিলিত ভাবে এই নাচ করা হয়। ঝুমুর গানে এখানকার চা জনজাতির মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাপনের ছবি ফুটে উঠে। ঝুমুর নাচে পুরুষরা বাদ্যযন্ত্র বাজায় এবং মহিলারা একে ওপরের হাত ধরে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে নাচে।

আসলে গান বাজনা মানুষের জীবনে সভ্যতার সেই শুরুর সময় থেকেই অঙ্গ হয়ে রয়েছে। মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের বিভিন্ন উৎসবে পার্বনে গান নাচ করে মানুষ। অসমের মতো বহুল জন জাতির মানুষের রাজ্যে তাই দেখতে পাওয়া যায় এক বর্ণময় সাংস্কৃতিক পরিবেশ।

* ড. শ্রাবণী দেবরায় গঙ্গোপাধ্যায় লেখক ও গবেষক, অসম।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content