
গাড়িতে লেখক।
গ্রীষ্মকালে দীর্ঘক্ষণ সূর্য দিগন্তের অনেকটা নিচের দিকে থাকে। এই সময় গাড়ি চালানো কিছুটা কঠিন। কারণ, এ সময় সূর্যের আলো মুখের ওপর এসে পড়ে। এর পর যদি বৃষ্টি হয়ে রাস্তা ভিজে যায় বা জল জমে, তাহলে তো কোনও কথাই নেই। চারিদিক থেকে এমন আলো এসে পড়ে যে, রাস্তায় প্রায় কিছু দেখাই যায় না।
কালো চশমা পরেও খানিকক্ষণ পর থেকে বেশ অসুবিধা হতে শুরু করে। ঘণ্টাখানেক রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার পর সূর্য একটু ঢলে গেলে যে আবার গাড়ি চালাবো তার উপায় নেই। কারণ এই পরিস্থিতি চলতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, যতক্ষণ সূর্য দিগন্তের কাছে থাকবে। সুয্যিমামা তো আর সহজে অস্ত যাবে না। আর এমন সময় যদি রাস্তার কোনও বাঁক থেকে একটা কিছু জন্তু- জানোয়ার বেরিয়ে পড়ে তাহলে বেশ মুশকিল হয়।
আরও পড়ুন:

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা

মুভি রিভিউ: সত্যিই তো, সবার নিজের নিজের মতো করে সবটাই নর্মাল

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২১: মহারাজ অফ শান্তিনিকেতন
আমার এমন অভিজ্ঞতা দু’ একবার হয়েছে। খুব জোর বেঁচে গিয়েছি। তবে এই বিপদগুলো গোটা আলাস্কার সব জায়গাতেই কম বেশি থাকে। সে কথা বাদ দিলে আরও একটা বিপদ আছে। একে বিপদ না বলে আপদও বলা যেতে পারে। ফেয়ারব্যাঙ্কস থেকে অ্যাঙ্করেজ পর্যন্ত রিচার্ডসন হাইওয়ে ধরে গেলে প্রায় সাড়ে তিনশো মাইল মতো রাস্তা। পুরো রাস্তায় গাড়িতে তেল ভরার জায়গা আছে গুনে গুনে তিনটে কি চারটে। অর্থাৎ প্রতি আশি থেকে একশো মাইল পর্যন্ত রাস্তায় কোনও পেট্রোল পাম্প নেই।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৬: বাজ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৪: মা সারদার নিত্যলীলা
তাই যাত্রাপথে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। নজর রাখতে হবে গাড়ির ড্যাশবোর্ডের তেলের মিটারের কাঁটায়। রাস্তায় যেখানেই তেল একটু কমে যাবে, সেখানেই তেল ভরে নিতে হবে। এতে বিপদ অনেকটা এড়ানো যাবে। আর রাস্তায় জনবসতি খুবই কম। তাই টেলি যোগাযোগ বা ইন্টারনেটের সমস্যা। বেশিরভাগ জায়গাতেই মোবাইলে যোগাযোগ করা যায় না, ইন্টারনেটের সুবিধাও মেলে না। অতএব ভাগ্য যদি খারাপ হয়, একবার তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না।
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৪: রিলেটিভিটি ও বিরিঞ্চিবাবা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২০: একেজি কলিং
আর গাড়িতে যদি তেল শেষ হয়ে যায়, তাহলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে কোনও দিক থেকে গাড়ি আসে কিনা তার জন্য। গাড়ি এলে তাকে হাত দেখিয়ে থামাতে হবে। যদি সে থামে তখন তাকে দিয়ে খবর পাঠাতে হবে নিকটবর্তী শহরে, অথবা সেই গাড়িতে উঠে পড়তে হবে নিকটবর্তী শহরে যাওয়ার জন্য। হয়তো বা সে নিকটবর্তী শহর আরও একশো মাইল দূরে। এ বার সেখান থেকে কোনও বড় পাত্র বা ড্রামে করে তেল ভরে নিয়ে আবার গাড়িতে করে ফেরত যেতে হবে। সেই ফিরতি গাড়ির জন্য হয়তো আবার কোন বন্ধুবান্ধবকে বলতে হবে যে কি না ফেয়ারব্যাঙ্কস থেকে আসবে। মানে এক কথায় হয়রানির চূড়ান্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২০: সত্য ও ন্যায় পরস্পরের সম্পূর্ণ বিরোধী নয়, তবে? ঔজ্জ্বল্য বেশি কার?
আলাস্কার বেশিরভাগ রাস্তাতেই পরিস্থিতি এরকমই। এরকম একটা অভিজ্ঞতা আমার একবার হয়েছিল। তবে তেল শেষ হয়নি। পাশের পাহাড় থেকে হঠাৎ ধসে যাওয়া পাথরে এসে সজোরে গাড়িতে ধাক্কা মেরে ছিল। ঘটনাটি এমন এক জায়গায় ঘটেছিল, যেখানে প্রায় সত্তর-আশি মাইল মতো রাস্তায় কিচ্ছু নেই। তার ওপরে পাথরে ধাক্কায় গাড়ির অনেক কিছু ভেঙে গিয়েছিল। বোঝাই যাচ্ছে, ঠিক কতটা বিপদে পড়েছিলাম। তবে সেটা রিচার্ডসন হাইওয়েতে নয়, অন্য একটা রাস্তায়।—চলবে।
* রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা (Mysterious Alaska) : ড. অর্ঘ্যকুসুম দাস (Arghya Kusum Das) অধ্যাপক ও গবেষক, কম্পিউটার সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কস।।


















