শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

এরই মধ্যে মণিকে নিয়ে একদিন বাজারে গিয়েছিল তৃপ্তি! শহরে তখন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হয়ে গিয়েছে। মফস্বল শহরে একটা দুটো এই ধরনের দোকান তৈরি হচ্ছে। চুঁচুড়া কো-অপারেটিভ স্টোরস এখন লোকজনের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাজারের থেকে কম দামে ভালো জিনিস পাওয়া যায় এখানে। মণির বিয়ে যতই কলকাতা শহরে হয়ে থাক, আর সকাল সন্ধ্যা শহুরে সুযোগ-সুবিধেতে সে যতই অভ্যস্ত হয়ে পড়ুক—আদপে সে চুঁচুড়ার মেয়ে। এখানকার একটা নতুন কিছু তাকে খুব বেশি করে আনন্দ দেয়।
এ ধরনের দোকানে জিনিসপত্র তাকে রাখা থাকে। পছন্দমতো জিনিসপত্র নিয়ে এসে কাউন্টারে বিল মেটাতে হয়। তখন ক্রেডিট কার্ড চালু হলেও অনলাইনে পেমেন্ট করাটা স্বপ্নের অতীত ছিল। ফলে পেমেন্ট করার সময় লম্বা লাইন পড়ত। কি যেন একটা জিনিস ভুলে গিয়েছিল, তাই তৃপ্তিকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে মণি গেল জিনিসটা নিয়ে আসতে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-২৫: আকাশ এখনও মেঘলা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৪: যুদ্ধ করতে সব সময় পেশীশক্তি নয়, দরকার বিশ্বাসের গল্পও

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬১: রাস্তায় গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না

হঠাৎ বাঁ পাশ থেকে একটা চেনা গলা পেয়ে তৃপ্তি অবাক হয়ে তাকালো!
—কিগো একেবারে ডুমুরের ফুল হয়ে গিয়েছ নাকি! আমার ওপর রাগ করেছো!
—আরে স্নিগ্ধা তুমি? না না, আসলে আমি কদিন…
কথাটা শেষ না হতে দিয়েই স্নিগ্ধা বিদ্যুৎগতিতে উধাও হয়ে গেল। তৃপ্তি অবাক হয়ে চারদিকে তাকিয়ে খুঁজতে গিয়ে দেখল মণি এগিয়ে আসছে এবং সে তৃপ্তির দিকেই তাকিয়ে আছে।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৩: মেথরকে ডেকে এনে বসাতেন নিজের বিছানায়

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৬: জয় বাবা ফেলুনাথ: রুকুর অন্দরমহল

গোটারাস্তায় ফেরার সময় এ নিয়ে একটাও কথা বলেনি মণি!
দুপুরবেলা খাবার পর বৌদির ঘরে শুয়ে ছিল মণি।
—বৌদি
—হ্যাঁ, বলো।
—সকালের কো-অপারেটিভে দেখলাম স্নিগ্ধা এসে তোমার সঙ্গে কথা বলছে।
চুপচাপ কিন্তু কখন কোন কথাটা বলা উচিত বা বলা উচিত নয় সেটা তৃপ্তি খুব ভালো করে জানে। মণি নিজের চোখে যখন স্নিগ্ধাকে তার সঙ্গে কথা বলতে দেখেছে তখন এই ঘটনাটা গোপন করাটা মহাবোকামি হবে, একটা অকারণ সন্দেহ তৈরি হবে।
—হ্যাঁ, ওই দুপুরের দিকটা মাঝেমধ্যে দরকার থাকলে একটু কেনাকাটা করতে যেতাম তখনই আগে স্নিগ্ধার সঙ্গে দু’ একবার দেখা হয়েছে!
—আচ্ছা! কিন্তু আজ ও হঠাৎ আমাকে দেখেই ভ্যানিশ হয়ে গেল কেন?
—আমিও তো তাই দেখলাম!
—স্নিগ্ধা কিন্তু সাংঘাতিক মেয়েছেলে বৌদি কথা চালাচালি করতে ওস্তাদ!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২২: রামের পাদুকাগ্রহণের মাহাত্ম্য, ভরত কী রামের ছায়াশ্রিত প্রশাসক?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৭: আমুর বাজ

তৃপ্তি চুপ করে ছিল, ভাবছিল যে ব্যাপারটা কী? বৌভাতের রাতে মণি ছবি তোলার সময় তার দাদার পাশে স্নিগ্ধাকে ঘেঁষতে দেয়নি। স্নিগ্ধা বলেছে যে দুলালের মা তাদের পছন্দ করেন না। আজ মণিকে দেখে স্নিগ্ধা পালালো! কেন?
—আর ওর মা ছন্দা কাকিমা, সেও একটা জিনিস! ওদের বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলে কিন্তু খবরদার যেও না!

তৃপ্তি ভাবল তৃপ্তি যে স্নিগ্ধাদের বাড়িতে গিয়েছিল এবং স্নিগ্ধা সেটা দুলাল বা মাকে জানাতে বারণ করেছিল সেটা স্বীকার না করে মণির কাছে সবটা পরিষ্কার করে দেওয়াটা জরুরি।
—গিয়েছিলাম একদিন।
—কবে? হঠাৎ ওদের বাড়িতে যেতে গেলে কেন?
—দু’-তিন দিন এড়িয়ে গিয়েছি কিন্তু একদিন বলল যে ওর মা আমাকে দেখতে চেয়েছেন আমি ভাবলাম গুরুজন তাই একবার!
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৬: দীনদুখিনীর জননী সারদা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-২৬: যিনি নিরূপমা তিনিই ‘অনুপমা’

—কী বলল ছন্দা কাকিমা?
—বিশেষ কিছু না এটা সেটা! পুরনো ছবির অ্যালবাম দেখালেন। তোমার দাদার ছবি ওদের প্রোগ্রামের ছবি।
—মাকে বলেছো? দাদাকে?
—সেটাই তোমাকে বলতে যাচ্ছিলাম। স্নিগ্ধা আমাকে বারবার মানা করেছিল যে মাকে বা তোমার দাদাকে এ সব না জানাতে!
—কেন মানা করছে তুমি জিজ্ঞেস করোনি?
—করেছিলাম। বললো মা নাকি ওদের খুব একটা পছন্দ করেন না!
—ডাহা মিথ্যুক!
—আচ্ছা মণি একটা কথা, এটা তোমার দাদা বা মাকে বলো না। আমি খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। তবে সেদিন কথাটা শুনলাম তাই একটা সাধারণ কৌতুহল!
মণির চোখে মুখে একটা স্বাভাবিক উৎকণ্ঠা
—কি বৌদি?
—তোমার দাদার সঙ্গে স্নিগ্ধার কি বিয়ের সম্বন্ধ হয়েছিল?—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content