
শ্রেয়ার এই ভয়ঙ্কর চেহারা দেখলে হার্ডকোর ক্রিমিনালদের হাড়ে কাঁপুনি লেগে যায়। বস্তির নেতাদের জোরে চিৎকার চেঁচামেচি রোখ-দেখানো বকুল মণ্ডল ভয়ের চোটে হাউ মাউ কোরে কান্নাকাটি শুরু করল। শ্রেয়া বুঝে গেল ওষুধে কাজ হয়েছে। এক সহকারীকে কোশ্চেনেয়ার দিয়ে স্টেটমেন্ট নিতে বলে শ্রেয়া আসলে ঘরের বাইরে থেকে গোপনে বকুলকে লক্ষ্য রাখতে শুরু করল।
ভয়ের চটে বকুল গলগল করে সব বলে ফেলল। আনন্দ এবং ঐশীর বাড়িতে সে প্রথম থেকেই আছে । তাদের মধ্যে এক বছরের পর থেকেই সম্পর্ক বিষিয়ে উঠেছিল। আনন্দ যে চাকরি করতো তাতে সংসার চালানো ক্রমশ অসম্ভব হয়ে পড়ছিল। মাঝে মাঝে বকুলের মাইনে বাকি পড়তো। বকুলের জবানবন্দির ভিত্তিতে শ্রেয়া এবার ঐশীকে জিজ্ঞাসাবাদ জন্য ডেকে পাঠালো। তবে অবাক কান্ড ঐশীকে খুব একটা চাপ দিতে হয়নি। সে সম্ভবত ভেতরে ভেতরে খানিকটা ভেঙে পড়েছিল। শ্রেয়া যখন তার ঘাটশিলার প্রেমের উপাখ্যান, প্রথম বিয়ের রাতে প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া, পরে হোটেল থেকে ধরা পড়া এই সব কিছু ঐশীর সামনে পরিষ্কার করে দিল তখন শ্রেয়ার কাছে ঐশী সবকিছু স্বীকার করে ফেললো।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১১৫: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৪

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৩: জরাসন্ধের ঔদ্ধত্য ও কৃষ্ণের ভূমিকা যুধিষ্ঠিরকৃত রাজসূয় যজ্ঞের প্রাসঙ্গিক সূচনা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৮: অপারেশন হেলথ সেন্টার

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৩: খাটাস
—আমার অতীতের ভুলগুলো আমি শুধরে নিতে চেয়েছিলাম। আনন্দকে নিয়ে আমি সুখের সংসার করতে চেয়েছিলাম। দূর্ভাগ্য যে আমার জীবনে সুখীদম্পতি হওয়া আর হল না!
আসলে আনন্দ খারাপ সময়টার থেকে বেরোনোর জন্য চেষ্টা করছিল আর ঐশী না চাইলেও শুভ্রাংশু মুখার্জির কাছ থেকে আনন্দ টাকা ধার নিতে শুরু করেছিল। ভেবেছিল কোনও একটা ব্যবসা করবে। ধারের টাকার পরিমাণ বাড়ছিল। শুভ্রাংশু মুখার্জি আনন্দকে কয়েকটা চাকরির খোঁজ দিয়েছিলেন। কিন্তু আনন্দ সেই চাকরি পায়নি। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ততায় ভরে উঠছিল। বকুল বলেছিল ঐশীকে মাঝেমধ্যে একা একা কান্নাকাটি করতেও দেখেছে। শ্রেয়া দেখল জবানবন্দি মিলছে ।
আসলে আনন্দ খারাপ সময়টার থেকে বেরোনোর জন্য চেষ্টা করছিল আর ঐশী না চাইলেও শুভ্রাংশু মুখার্জির কাছ থেকে আনন্দ টাকা ধার নিতে শুরু করেছিল। ভেবেছিল কোনও একটা ব্যবসা করবে। ধারের টাকার পরিমাণ বাড়ছিল। শুভ্রাংশু মুখার্জি আনন্দকে কয়েকটা চাকরির খোঁজ দিয়েছিলেন। কিন্তু আনন্দ সেই চাকরি পায়নি। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ততায় ভরে উঠছিল। বকুল বলেছিল ঐশীকে মাঝেমধ্যে একা একা কান্নাকাটি করতেও দেখেছে। শ্রেয়া দেখল জবানবন্দি মিলছে ।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৮: অসম-মিজোরাম সীমান্তে ঘাড়মুড়ার নব আবিষ্কৃত ভাস্কর্যও সুপ্রাচীন
ঐশী জানালো, একসময় শুভ্রাংশু মুখার্জি তাকে সিনেমায় সুযোগ দেবার চেষ্টা করেছিলেন। সিনেমায় সুযোগ না পেলেও শুভ্রাংশুর চেষ্টায় ঐশী মডেলিং-এর কাজ পেয়েছিল। আনন্দ নিজে টাকা রোজগার করতে না পারলেও ঐশীকে মডেলিংয়ে যেতে দিতে চায়নি। আনন্দ মাঝেমধ্যে দিনেদুপুরেও চাকরিতে বের হতো না কারণ তখন তার কোম্পানিতে ডামাডোল চলছে। এদিকে মডেলিংয়ের কাজে ঐশীকে বের হতে হতো। স্বামীস্ত্রীর ঝগড়া অশান্তি এতো চরমে পৌঁছল যে দুজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার উপক্রম!
—আনন্দ এতও টাকা ধার করেছিল যে ছোটখাট মডেলিং করে সে ঋণের বোঝা শোধ করার ক্ষমতা আমার ছিল না। শুভ্রাংশু মুখার্জির কাছে আমাকে…
—আনন্দ এতও টাকা ধার করেছিল যে ছোটখাট মডেলিং করে সে ঋণের বোঝা শোধ করার ক্ষমতা আমার ছিল না। শুভ্রাংশু মুখার্জির কাছে আমাকে…
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৬৩: বরাকের ভট্ট সঙ্গীত এবং বারমোসী গান

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৬: কুণ্টণি জাতক : ক্ষতির খতিয়ান
এই প্রথম ঐশী স্টেটমেন্ট দিতে দিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল।
—আনন্দ আর আমি প্রথম প্রথম মুখার্জীদার ফ্ল্যাটে পার্টি করতাম। পরের দিকে আনন্দ যেতে চাইতো না! কিন্তু আমি বাধ্য হতাম। আমায় সময় দিতেই হতো! আনন্দ চায়নি এবছরের ফাংশান করি! সত্যি বলতে আমিও চাইনি! আমার নিজেকে খুব ছোট লাগতো! ঘেন্না হতো! কখনও কখনও মনে হতো মরে যাবো। শেষ করে দেবো নিজেকে! একদিন ভুল করে আমি আমার রুমাল মুখার্জিদার বিছানায় ফেলে এসেছিলাম।
—ভুলটা কি ইচ্ছাকৃত?
—জানি না! আমি এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাইছিলাম। আনন্দ সব জেনে বুঝেও না জানার ভান করছিল! আমি চেয়েছিলাম আনন্দর সামনে সবটা পরিষ্কার হয়ে যাক! আনন্দ আর মুখার্জিদা আমাকে নিয়ে ওঁদের অবস্থান স্পষ্ট করুক।
—আনন্দ আর আমি প্রথম প্রথম মুখার্জীদার ফ্ল্যাটে পার্টি করতাম। পরের দিকে আনন্দ যেতে চাইতো না! কিন্তু আমি বাধ্য হতাম। আমায় সময় দিতেই হতো! আনন্দ চায়নি এবছরের ফাংশান করি! সত্যি বলতে আমিও চাইনি! আমার নিজেকে খুব ছোট লাগতো! ঘেন্না হতো! কখনও কখনও মনে হতো মরে যাবো। শেষ করে দেবো নিজেকে! একদিন ভুল করে আমি আমার রুমাল মুখার্জিদার বিছানায় ফেলে এসেছিলাম।
—ভুলটা কি ইচ্ছাকৃত?
—জানি না! আমি এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাইছিলাম। আনন্দ সব জেনে বুঝেও না জানার ভান করছিল! আমি চেয়েছিলাম আনন্দর সামনে সবটা পরিষ্কার হয়ে যাক! আনন্দ আর মুখার্জিদা আমাকে নিয়ে ওঁদের অবস্থান স্পষ্ট করুক।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৯ : উত্তরমেঘ

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৫: পরবাস প্রস্তুতি (এক)
স্বাভাবিকভাবে অশান্তি বাড়ল। একটা পুরনো পলিসি ম্যাচিওর হতে আনন্দ’র হাতে কিছু টাকা এসেছিল। মুখার্জীদার কিছুটা ধার শোধ করতে সেদিন আনন্দ মুখার্জিদার ফ্ল্যাটে গিয়েছিল। সেদিন সে আমার ফেলে আসা রুমালটা পায়। রাতে ফিরে এসে চরম অশান্তি হল। আমার মাথার ঠিক ছিল না। আমিও বলে দিলাম ধারের টাকা যে বর শোধ করতে পারে না টাকার বদলে তার বৌকে ছেড়ে দিতে হয়! আনন্দ সে রাতে আমায় গলা টিপে মারতে এসেছিল! মেরে দিলেই ভালো হতো। বেঁচে যেতাম! এটা ষষ্ঠীর দিন হল পরদিন সপ্তমী! মুখার্জিদাকে সব বললাম, আমাকে নিয়ে সারারাত কলকাতার ঠাকুর দেখালেন মুখার্জিদা! আনন্দ গোটারাত মদ খেয়ে অসুস্থ হল! অষ্টমী নবমী দু’দিন মুখার্জিদা কোনও কাজে কলকাতার বাইরে গেলেন। দশমীর সকালে ফিরলেন! রাতে ফাংশন হল ফিরে দেখলাম ওই ঘটনা! আমি আর মুখার্জিদা ফাংশনে ছিলাম! আনন্দ বাড়িতে একা ছিল! ভেবেছিলাম রাগে ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে, পরে আপনারা বললেন খুন! —চলবে।
আনন্দ পাল হত্যা রহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















