শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

‘রাজর্ষি’র পত্র যোগাযোগের সূত্রেই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। মাণিক্য রাজপরিবারের সুখ-দুঃখের সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন কবি। বীরচন্দ্র, রাধাকিশোর, বীরেন্দ্র কিশোর এবং বীরবিক্রম — এই চারজন মাণিক্য রাজার সঙ্গেই কবির সম্পর্ক ছিল। বয়সের কারণে রাধাকিশোরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল বেশি। কখনও কবি তাদের রাজ্যশাসন সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন, কখনও রাজপরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব কিংবা নানা ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন তাদের, আবার কখনও রাজ্যের বাজেট প্রণয়ন নিয়ে নোট পাঠিয়েছেন রাজার কাছে।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের মন্ত্রী পদে লোক ঠিক করে দিয়েছেন কবি, রাজকুমারদের শিক্ষা দীক্ষার ব্যাপারেও উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। ত্রিপুরার রাজার সঙ্গে কোচবিহারের রাজার পরিচয় করে দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। ‘রাজর্ষি’র পত্র যোগাযোগ সূত্রে কবির সঙ্গে ত্রিপুরার রাজপরিবারের সম্পর্কের সূচনা হলেও পরবর্তী সময়ে তা ঘনিষ্ঠতার রূপ নিয়েছে।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১১৮: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৭

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বাঘরোল

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫০: মধ্যরাতের বিপদ-আপদ

১২৯২ বঙ্গাব্দে রবীন্দ্রনাথ ত্রিপুরার রাজবংশের ইতিহাস নির্ভর গল্প ‘মুকুট’ ও উপন্যাস ‘রাজর্ষি’ লিখেছিলেন। সেই ‘রাজর্ষি’কে আরও ঐতিহাসিক উপাদানে পুষ্ট করতে তিনি ১২৯৩ বঙ্গাব্দে মহারাজ বীরচন্দ্রকে পত্র দিয়েছিলেন। তা হলে দেখা যাচ্ছে রাজাকে পত্র দেয়ার আগেই রবীন্দ্রনাথ ত্রিপুরার কিছু কিছু ঐতিহাসিক উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু কার কাছ থেকে তিনি তা সংগ্রহ করেছিলেন?
আরও পড়ুন:

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৬: কুণ্টণি জাতক : ক্ষতির খতিয়ান

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র

‘রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস’ গ্রন্থ প্রণেতা বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ কৈলাসচন্দ্র সিংহের কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথ ত্রিপুরার কিছু কিছু ঐতিহাসিক উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়েছে। কৈলাসচন্দ্রের সঙ্গে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের সম্পর্ক ছিল আগে থেকেই। ‘ভারতী’ পত্রিকায় তাঁর প্রবন্ধ প্রকাশিত হবার পর থেকেই এই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত আদি ব্রহ্ম সমাজের সহকারী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। কিছুদিন পর কৈলাসচন্দ্র ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই নব্যভারত, বান্ধব, বঙ্গদর্শন প্রভৃতি পত্রিকাতে তাঁর গবেষণা মূলক ঐতিহাসিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতে থাকে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি পর্ব-৯২: অবিবেচনা যত দ্রুত সিদ্ধান্ত আনে, তত দ্রুত ধ্বংসও আনে

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৭: পরবাস প্রস্তুতি (তিন)

ধারণা করা যায়, সেই সূত্রেই তাঁর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। অল্প বয়সে, লেখালেখির প্রাথমিক পর্যায়ে ত্রিপুরার কিছু কিছু ঐতিহাসিক উপাদান রবীন্দ্রনাথ কৈলাসচন্দ্রের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্রও কৈলাসচন্দ্রকে রবীন্দ্রনাথের ‘নায়েব’ বলে উপেক্ষা করেছিলেন বলে জানা যায়। রবীন্দ্র জীবনীকার প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন—”স্বাধীন ত্রিপুরার ইতিহাস ‘রাজমালা’ গ্রন্থের সম্পাদক কৈলাসচন্দ্র সিংহ (১২৫৮-১৩২১) এই সময়ে ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার’ সহকারী সম্পাদক, তিনি আদি ব্রাহ্ম সমাজের সহিত গভীর ভাবে সংশ্লিষ্ট। বঙ্কিমচন্দ্র ‘প্রচার’ পত্রিকার প্রবন্ধে ইঁহাকে ‘রবীন্দ্রবাবুর নায়েব’ বলিয়া উপেক্ষা করিয়াছিলেন।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮০ : হাত বাড়ালেই বন্ধু

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

আমাদের মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ কৈলাসচন্দ্রের নিকট হইতে ত্রিপুরার আখ্যান গুলি সংগ্রহ করেন; কৈলাসচন্দ্র ‘রাজমালা’র মালমসলা বোধ হয় তখনই কিছু কিছু সংগ্রহ করিয়াছিলেন।…”
রবীন্দ্র জীবনীকারের এই লেখা থেকে এটা স্পষ্ট যে,এক সময় কৈলাসচন্দ্রের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের উল্লেখ থেকেই এটা প্রতীয়মান। না হলে বঙ্কিমচন্দ্র কেন তাঁকে ‘রবীন্দ্রবাবুর নায়েব’ বলে উল্লেখ করবেন! তাই রবীন্দ্রনাথ যে ত্রিপুরার রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের আগেই ত্রিপুরার কিছু কিছু ঐতিহাসিক উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন এবং কৈলাসচন্দ্রের সাহায্যেই তা সম্ভব হয়েছিল তা ধারণা করতে অসুবিধা হয় না। কিন্তু ত্রিপুরার রাজপরিবারের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সুদীর্ঘকালের সম্পর্কের অধ্যায়ে কৈলাসচন্দ্রের নাম অনুক্ত থেকে গেল কেন? সে কী কৈলাসচন্দ্র রাজপরিবারের বিরাগভাজন ছিলেন বলে?—চলবে।
* ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে পান্নালাল রায় এক সুপরিচিত নাম। ১৯৫৪ সালে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জন্ম। প্রায় চার দশক যাবত তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আগরতলা ও কলকাতার বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ইতিমধ্যে তার ৪০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ভিত্তিক তার বিভিন্ন গ্রন্থ মননশীল পাঠকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সে-সব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। রাজন্য ত্রিপুরার ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সম্পর্ক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক রচনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ব্যতিক্রমী রচনা আবার কখনও স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ইত্যাদি তাঁর গ্রন্থ সমূহের বিষয়বস্তু। সহজ সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনই তাঁর কলমের বৈশিষ্ট্য।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content