
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
তিলজলা খালের ধার ঘেঁষে উদ্বাস্তু ঝুপড়ি। শুধু বাংলাদেশের উদ্বাস্তু নয়। এ বঙ্গের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কলকাতায় খুদ কুঁড়ো খুঁজতে হা-ঘরেদের ভিড়। শংকর এদের পরিত্রাতা হবে। এই তার স্বপ্ন। নয়া ভুবনের ঝিলিক আঁধার পাড়ার জোনাক আলোর সঙ্গে মিশে ওকে পথ দেখায়। এই টিন চালার নিচের প্রতিটা মানুষের হৃদস্পন্দন ওর চেনা। ডায়মন্ড হারবারে থাকতেই এই প্রাণের যোগ তৈরি হয়েছিল।
style="display:block"
data-ad-client="ca-pub-2284096077348736"
data-ad-slot="3069590626"
data-ad-format="auto"
data-full-width-responsive="true">
শংকর ‘এরা’ ‘এরা’ করছে কেন? এরা মানে কি সকলের মিলিত একটা নামহীন বিশেষত্বহীন স্তূপাকার আকৃতি? একটা গুচ্ছবন্দি কলতান, নাকি এরাও এক এক করে একজন! সাধারণ থেকে বিশেষ হয়ে ওঠা মানুষ-মানুষী। শংকর নিজের মনে হাসে। মানুষীই বটে, শংকরের চেনা জীবনের ঠিকানা ভুলিয়ে দিতে পারা মানুষী। সেও এখানেই থাকে। ওই তো দু’খানা ঘরের পরে। নকুল মন্মথরাও জেনে গিয়েছে শংকরের প্রজাপতির খবর। ব্যাপারটাতে ওরা সায় দেয়নি। খুবই আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি বিশেষ।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১২৯: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১০

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৪: বিড়াল জাতক : অতি চালাকের?
সেদিন রাতে জরুরি মিটিং সেরে তিলজলা ছেড়ে বেরোনোর সময় শংকর বলে—
—চল্ নবীন একবার দেইখ্যা যাই।
—কী দেখবা।
মন্মথ মুখ বাঁকায়।
—বুজঝস না মনে হয়।
নবীনের মুখ এবার গম্ভীর।
—না সেইদা এহন না। রাত ভারি হইছে, তাড়াতাড়ি আগায়ে চল, চাইরপাশে ভয় নি আসে।
মন্মথ ও একমত।
—পা চালায়ে চল শংকর, আমার মাথা ধরসে।
—তাই চল্ তবে।
বলল বটে, কিন্তু শংকরের অক্ষিগোলোকে অস্থিরতা। আমতা আমতা করছে,
—ভাইডি, আসলে কি জানোস তো, দুইদিন এহন আসা হইব না। বদ্যি বিশ্বাস আগামীকাল চাপড়ায় মিটিং ডাকছেন। তারপর কখন কোথায় যাইতে হয় ঠিক নাই।
—চল্ নবীন একবার দেইখ্যা যাই।
—কী দেখবা।
মন্মথ মুখ বাঁকায়।
—বুজঝস না মনে হয়।
নবীনের মুখ এবার গম্ভীর।
—না সেইদা এহন না। রাত ভারি হইছে, তাড়াতাড়ি আগায়ে চল, চাইরপাশে ভয় নি আসে।
মন্মথ ও একমত।
—পা চালায়ে চল শংকর, আমার মাথা ধরসে।
—তাই চল্ তবে।
বলল বটে, কিন্তু শংকরের অক্ষিগোলোকে অস্থিরতা। আমতা আমতা করছে,
—ভাইডি, আসলে কি জানোস তো, দুইদিন এহন আসা হইব না। বদ্যি বিশ্বাস আগামীকাল চাপড়ায় মিটিং ডাকছেন। তারপর কখন কোথায় যাইতে হয় ঠিক নাই।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০০ : স্থানীয়রা দিনে কৃষি কাজ করতেন, আর রাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতেন বিপ্লবীরা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৫: নৈতিকতার নিরিখে, মল্লযুদ্ধে জরাসন্ধবধ, আজও প্রাসঙ্গিক কেন?
ইতিমধ্যে পা দু’খানা কাঁঠালের আঠায় যেন আটকে গেছে। শংকর নামের লৌহ মানব তিতলি নাম্নি চুম্বকের টানে সটান দাঁড়িয়ে পড়েছে কুপিজ্বলা আঁধার ঘরটার সামনে। সঙ্গীদের বলেছে,
—তরা আগা, I’ll be right back, in just a few minutes.
কথা না বাড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছে মন্মথ নবীন। সামনে দরমার দরজা ঠেলে শংকর ঢুকে পড়েছে ভিতরে।
—চাচা বাড়ি আছ তো?
—কৌন হো, সংকর ক্যায়া?
—হা চাচা।
—আ যা বেটা অন্দর!
বিহারের বেতিয়া ক্যাম্প ছেড়ে গত বছর এই পরিবার এসেছে তিলজলায়। অমর সাউ আর নলিনী চাচি। সঙ্গে তাদের তিন ছেলেমেয়ে।
—তরা আগা, I’ll be right back, in just a few minutes.
কথা না বাড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছে মন্মথ নবীন। সামনে দরমার দরজা ঠেলে শংকর ঢুকে পড়েছে ভিতরে।
—চাচা বাড়ি আছ তো?
—কৌন হো, সংকর ক্যায়া?
—হা চাচা।
—আ যা বেটা অন্দর!
বিহারের বেতিয়া ক্যাম্প ছেড়ে গত বছর এই পরিবার এসেছে তিলজলায়। অমর সাউ আর নলিনী চাচি। সঙ্গে তাদের তিন ছেলেমেয়ে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬১ : গোবিন্দ সোরেন দ্য গ্রেট

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
তিতলি সুবল আর সরল।
—নেহি চাচা, বহুৎ রাত, এক ঝলক মিলনে কে লিয়ে আয়ে..
শংকরের হিন্দি এখনো চোস্ত নয়। মিলিয়ে মিশিয়ে খিচুড়ি করে কাজ সারে। তারপর একটু উঁচু গলায় বলে, চাচি নেই, চাচি।
টিনের দেওয়াল ভেদ করে ক্ষীণকণ্ঠ ভেসে আসে—
—হাঁ, বেটা আছি.. ইধার তো পরজাপতি কা বহুৎ বিমার, বিস্তর পে লেটে পড়ে আছে, কাল সাঁঝ সে। নলিনী চাচি তিতলিকে পরজাপতি বলে ডাকে। দরমা দেওয়া দুটো খুপরির সামনেরটায় অমর চাচা তার দুই ছেলে নিয়ে থাকে আর ভিতরের আরও অন্ধকার গর্তে মা মেয়ে। তিতলির বিমারির কথা শুনে বুক মুচড়ে উঠল শংকরের। দুশ্চিন্তায়। সামান্য খুঁড়িয়ে ভিতর থেকে ততক্ষণে বেরিয়ে এসেছে চাচি। তার মুখ ক্লান্তিতে কালো। কথা বলে চলেছে নাগাড়ে। বেশিটাই মেয়ের বিরুদ্ধে।
—বিলকুল মেরি বাত নেহি মানতি। হর জাগা ঘুমতি রহতি। ইধার ভারি বারিষ কা মৌসম চল রাহা হ্যায়। বহুত ভিগ গই লেড়কি, ঔর বিমার পড়া, সারা কাম মেরি উপর আ পড়ি হ্যায়।
—নেহি চাচা, বহুৎ রাত, এক ঝলক মিলনে কে লিয়ে আয়ে..
শংকরের হিন্দি এখনো চোস্ত নয়। মিলিয়ে মিশিয়ে খিচুড়ি করে কাজ সারে। তারপর একটু উঁচু গলায় বলে, চাচি নেই, চাচি।
টিনের দেওয়াল ভেদ করে ক্ষীণকণ্ঠ ভেসে আসে—
—হাঁ, বেটা আছি.. ইধার তো পরজাপতি কা বহুৎ বিমার, বিস্তর পে লেটে পড়ে আছে, কাল সাঁঝ সে। নলিনী চাচি তিতলিকে পরজাপতি বলে ডাকে। দরমা দেওয়া দুটো খুপরির সামনেরটায় অমর চাচা তার দুই ছেলে নিয়ে থাকে আর ভিতরের আরও অন্ধকার গর্তে মা মেয়ে। তিতলির বিমারির কথা শুনে বুক মুচড়ে উঠল শংকরের। দুশ্চিন্তায়। সামান্য খুঁড়িয়ে ভিতর থেকে ততক্ষণে বেরিয়ে এসেছে চাচি। তার মুখ ক্লান্তিতে কালো। কথা বলে চলেছে নাগাড়ে। বেশিটাই মেয়ের বিরুদ্ধে।
—বিলকুল মেরি বাত নেহি মানতি। হর জাগা ঘুমতি রহতি। ইধার ভারি বারিষ কা মৌসম চল রাহা হ্যায়। বহুত ভিগ গই লেড়কি, ঔর বিমার পড়া, সারা কাম মেরি উপর আ পড়ি হ্যায়।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— বালিকাঠা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
না, শংকরের কানে এখন আর কোনও কথা প্রবেশ করছে না। আঁতকে ওঠা হৃদপিন্ডে আতঙ্কের ঘণ্টা বাজছে। সর্বনাশ! ওর জন্যই তিতলির এই বিমারি। সঙ্গে সঙ্গে প্রবল ভয়ের চাবুক আছড়ে পড়েছে। ফাঁস হয়ে যাবে না তো! ফাঁস করে দেবার মেয়ে অবশ্য তিতলি নয়। কিন্তু মায়েরা যে সব টের পায়। তার নিজের মা যেমন। শংকর মাকে একদিন বলেছিল, মা তোমার একটা ছবি আঁকবো, সে ছবিতে তুমি হবে চার চক্ষু। সামনে দুটো আর পিছনে দুটো চোখ। কিন্তু সে যা হোক, নলিনী চাচি কি টের পেয়ে যাবে? কাল ভর দুপুরে ঘোর বর্ষায় ওদের দু’জনের হারিয়ে যাবার খবর!—চলবে।
* ধারাবাহিক উপন্যাস (novel): দেওয়াল পারের দেশ (Dewal Parer Desh)। লিখছেন জয়িতা দত্ত (Dr. Jayita Dutta), বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, হুগলি মহসিন কলেজ।।


















