শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

(বাঁদিকে) সুন্দরবনে গাছের উপরে তারখেল। (ডানদিকে) ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূলের মধ্যে দিয়ে খাবারের সন্ধানে তারখেল। ছবি সংগৃহীত।

ছোটবেলায় তো বটেই ঠাকুমা, পিসি ও জেঠুদের মুখে কৈশোরেও শুনেছি যে যখন আমাদের বাড়ির আশেপাশে অনেক জলা-জঙ্গল ছিল তখন নাকি বড় বড় গোসাপ গাছের ওপর শুয়ে থাকত। তারা নাকি সুযোগ পেলে বাড়ির পোষা হাঁস-মুরগি খেয়ে যেত। এমনকি কুকুরছানা, বিড়ালছানাও খেয়ে যেত। কিন্তু তেমন কোনও গোসাপ আমার চোখে আমাদের আশেপাশের এলাকায় কখনও পড়েনি। কারণটা অবশ্য স্পষ্ট। কারণ যে জলা-জঙ্গলের কথা বড়দের মুখে শুনেছি তা আমার শৈশবে প্রায় পুরো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ততদিনে জঙ্গল সাফ করে তৈরি হয়ে গিয়েছিল ঘন জনবসতিপূর্ণ গ্রাম। ওই বড় গোসাপগুলোকে বড়দের মুখে বলতে শুনেছি তারখেল। স্বর্ণগোধিকা অর্থাৎ হলুদ রঙের গোসাপ প্রচুর দেখেছি ছোট থেকে। সংখ্যায় অনেক কমে গেলেও এখনও দেখতে পাই। গোড়িয়োলদেরও এখনও মাঝে মাঝে দেখতে পাই। কিন্তু তারখেলদের সত্যি বলতে কি নিজের চোখে কখনও দেখিনি। তবে এদের গল্প অনেকের মুখে শুনেছি অনেকবার। সুন্দরবনের মৌলে, বাউলে, কাঁকড়া শিকারীদের মুখে এদের কথা এখনও শুনি। সুন্দরবনের নদী, খাঁড়ি ও উপকূলসংলগ্ন অঞ্চলে যেখানে জঙ্গল রয়েছে সেখানে মাটিতে কিংবা গাছের উপর দিনের বেলায় এদের অনেকেই দেখেছে। কোনও কোনও পর্যটকের নজরেও পড়েছে এবং তাঁরা ছবি তুলেছেন। সুতরাং সুন্দরবনে তারখেলরা সংখ্যায় খুব কমে গেলেও এখনও বেঁচে রয়েছে।

তারখেলদের কোথাও কোথাও সর্দার গোসাপও বলা হয়। সর্দার কারণ আমাদের দেশে গোসাপদের মধ্যে এদেরই হল সবচেয়ে বড় আকার। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত লম্বায় হয় ৫-৬ ফুট অর্থাৎ প্রায় এক মানুষ প্রমাণ লম্বা। আর ওজন হয় ২০-৫০ কেজি। তবে শ্রীলঙ্কায় নাকি একটা তারখেল পাওয়া গিয়েছিল যার দৈর্ঘ্য ছিল ৩.২১ মিটার অর্থাৎ প্রায় ১০ ফুট লম্বা। ভারতে অবশ্য এত লম্বা তারখেল পাওয়া না গেলেও টিকটিকি জাতীয় সরীসৃপদের মধ্যে এরা পৃথিবীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম। প্রথম স্থানাধিকারী হল ইন্দোনেশিয়ার কোমোডো দ্বীপের কোমোডোড্রাগন। বাংলায় এদের কালো গোসাপ বা রামগুডিও বলা হয়। ইংরেজিতে এদের বলা হয়: Asian water monitor, বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘Varanus salvator’।
তারখেলের গায়ের রং গাঢ বাদামি বা কালচে বাদামি। এইরকম রং হওয়ায় নদীর তীরে কাদামাটির মধ্যে নিজেকে মিশিয়ে নিতে সুবিধে হয়। এদের ত্বকের ওপর ছোট ছোট হলুদ রঙের ছিট দিয়ে তৈরি রিংয়ের মতো নকশা দেখা যেতে পারে। তাই এদের অনেকে ইংরেজিতে রিং লিজার্ড (ring lizard) বলে। অপরিণত তারখেলদের ত্বকের রং কালো এবং তার ওপর হলুদ রঙের গোল গোল দাগ ব্যান্ডের আকারে পিঠ থেকে লেজ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। বাচ্চাদের বুক ও পেট অংশেও ফ্যাকাশে বা হলদে রঙের ওপরে কালো রঙের ছিট দেখা যায়। তবে এই ছিট দাগ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হালকা হতে হতে মিলিয়ে যায়। পরিণত তারখেলদের পায়ের ভিতরের দিক এবং বুক, পেট ও গলার রং ফ্যাকাশে হলুদ। এদের লেজ বেশ লম্বা, দেহের দৈর্ঘ্যের থেকেও বেশি এবং খুবই শক্তিশালী। এই লেজ দু’দিক থেকে চ্যাপ্টা হওয়ায় জলে সাঁতার কাটার সময় লেজকে অনেকটা নৌকার হালের মতো ব্যবহার করে। এইরকম লেজের জন্য এরা অত্যন্ত দক্ষ সাঁতারু। আর তাই সামুদ্রিক নানা দ্বীপে এরা ছড়িয়ে পড়তে পেরেছে। আবার আত্মরক্ষার সময় লেজ দিয়ে চাবুকের মতো সজোরে ঝাপটা দেয়।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৫ : কালাদেওর গুহায়

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৮: জরাসন্ধবধ ও জনার্দনের কৃতিত্ব

এদের সারা গা কিন্তু বেশ মোটা, খসখসে কিন্তু অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের আঁশ দিয়ে ঢাকা। এদের ত্বকে ক্যালসিয়াম ফসফেট ও কোলাজেন সঞ্চিত হয়ে একরকম শক্ত পাতের মতো অংশ (Osteoderm) তৈরি হয় যা শত্রুর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করে। এদের গলাটা বেশ লম্বা, আর মাথাটা অনেকটা লম্বা ও ত্রিকোণাকার। এদের তুন্ডের সামনে অনেকটা উপরের দিকে দুটো নাসারন্ধ্র রয়েছে। নাসারন্ধ্রের এমন অবস্থানের কারণে এরা জলের মধ্যে ডুবে ডুবে যখন সাঁতার কাটে তখন নাসারন্ধটাকে দিব্যি জলের ওপরে তুলে রেখে শ্বাসকার্য চালাতে পারে। তবে এরা আধঘণ্টা পর্যন্ত শ্বাস না নিয়ে জলের তলায় ডুবে থাকতে পারে! শিকারের খোঁজে কিংবা শত্রুর খপ্পর থেকে নিজেকে রক্ষা করতে এদের জলের তলায় ডুবে থাকার প্রয়োজন হয়। এদের চোখের পেছনদিক থেকে একটা নিচু ও লম্বা কালো দাগ কিছুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, আর এই দাগের প্রান্ত ভাগ হলুদ। এদের চারটে পা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং পায়ের প্রতিটি আঙুলে তীক্ষ্ণ নখর আছে। এই নখর আত্মরক্ষার কাজে, মাটি খুঁড়তে আর গাছে চড়তে দারুণ সাহায্য করে। আর এদের জিভ! সাপের জিভের মতো লম্বা ও আগার দিকে দ্বিখন্ডিত। খাবারের যখন খোঁজ করে তখন লিকলিকে জিভটা বার বার মুখের বাইরে আনে ও ভেতরে ঢুকিয়ে নেয়।
কলকাতায় বৃষ্টি

তারখেলের ছানা। ছবি : সংগৃহীত।

তারখেলদের বসবাসের জন্য আদর্শ জায়গা হল ঘন ঝোপ-জঙ্গল ভরা নদী বা খাঁড়ি তীরবর্তী ম্যানগ্রোভ অরণ্য। দক্ষ সাঁতারু বলেই এরা জলের কাছাকাছি থাকতে বেশি পছন্দ করে। পর্যটকদের মুখ থেকে শুনেছি, এদের ছোট ছোট খাঁড়ি সাঁতরে একদিকের জঙ্গল থেকে আর একদিকের জঙ্গলে যেতে দেখেছেন। শীতকাল এলে এদের বেশিরভাগ সময় রোদ পোহাতে দেখা যায় কাদামাটির ওপর কিংবা কোনও বড় ম্যানগ্রোভের গুঁড়ির ওপর কিংবা গাছের শাখায়। এদের সাধারণত সাকাল আর বিকেলের দিকে খাবারের সন্ধানে বেশি সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। এদের খাদ্য তালিকা বেশ লম্বা। সবচেয়ে পছন্দের খাবার হল কাঁকড়া। বিভিন্ন ধরনের মাছ, ডাখুর (মাড স্কিপার), ইঁদুর, বিভিন্ন সাপ, ব্যাঙ, শামুক, টিকটিকি, গিরগিটি, পিঁপড়ে, ঝিঁঝিঁ পোকা, বিছা, মাকড়সা, প্রজাপতি, এমনকি কুমিরের ডিম ও বাচ্চাও ধরে খেতে পারে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৯: নোনা জলের কুমির

ক্যাবলাদের ছোটবেলা, পর্ব-৩৭: লোকে যারে বড় বলে

যেহেতু এরা গাছে চড়তে ওস্তাদ তাই বাসা থেকে পাখির ডিম আর পাখির বাচ্চা চুরি করতে দেখা যায়। গাছের কোটরে বিভিন্ন পাখির বাসায় এজন্য এরা মাঝে মাঝেই হানা দেয়। কখনও কখনও বড় বৃক্ষের কোটরে বাস করার জন্য পাখিদের হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই কারণে পাখিদের সাথে তারখেলদের লড়াই হতে দেখা যায়। এই সময় এরা বুকটাকে ফুলিয়ে চেহারাটাকে একটু বড় করে তুলে কিংবা পায়ের উপর ভর দিয়ে দেহকে কিছুটা খাড়া করে তুলে এবং মুখে হিস হিস শব্দ করে শরীর দুলিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। কখনও কখনও বড় হাঁ করেও ভয় দেখায়। এরা কাছাকাছি জনবসতি থাকলে সেখান থেকে হাঁস-মুরগি শিকার করে। তবে এরা নদীর মরা মাছ বা মরা জীবজন্তুর মাংস খেয়ে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তারখেলকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এমন শত্রুও রয়েছে সুন্দরবনে। সুন্দরবনের বাঘ, কুমির আর অজগর সাপ হল তারখেলদের শত্রু। সুন্দরবনের অনেক বিষাক্ত সাপ খেয়ে নেয় বলে তারখেল বিষধর সাপের দংশন থেকেও মানুষকে পরোক্ষভাবে রক্ষা করে। বিষধর সাপ তারখেলকে দংশন করলে তারখেলের কোনও বিষক্রিয়া হয় না। তাছাড়া এদের আঁশ ও ত্বক এত শক্ত হয় যে সাপ কামড়ালেও তা চামড়া ভেদ করে রক্তে পৌঁছতে পারে না।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৫: অকালরাবী জাতক—সময় গেলে সাধন হবে না

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

তারখেলদের প্রজনন ঋতু হল জুন থেকে সেপ্টেম্বর। এই সময় সুন্দরবন অঞ্চলে পুরুষ তারখেলদের মধ্যে স্ত্রীর উপর দখলদারির জন্য লড়াই হতে দেখা যায়। সাধারণত এই লড়াই এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হয়ে যায়। লড়াইয়ের সময় এরা নখ ও দাঁত ছাড়াও লেজ ব্যবহার করে। এদের লেজ এত শক্তিশালী যে সর্পবিদ রমুলাস হুইটেকার বলেছেন যে লেজের আঘাত যদি মুখে এসে লাগে তাহলে চোখ ছিটকে বেরিয়ে আসতে পারে! একটি পুরুষ তারখেল প্রজনন ঋতুতে একাধিক স্ত্রী তারখেলের সঙ্গে মিলিত হতে পারে। স্ত্রী ও পুরুষ তারখেল চেনা যায় আকারে। স্ত্রী তারখেল আকারের কিছুটা ছোট হয়। যৌন মিলনের পর স্ত্রী তারখেল গাছের গুঁড়িতে থাকা গর্তের মধ্যে কিংবা মাটিতে গর্ত খুঁড়ে তার মধ্যে ১০-২০টি ডিম পাড়ে। অবশ্য কখনও কখনও ৫টি বা ২০টির বেশি ডিম পাড়তেও দেখা যায়। তবে পচা জৈব বস্তু যদি কাছাকাছি থাকে তার কাছাকাছি বাসা তৈরি করতে এরা পছন্দ করে। ডিম পেড়ে গর্ত মাটি দিয়ে বুজিয়ে দিতে পারলেই মায়ের দায়িত্ব শেষ। ১৬৮ থেকে ২৫৪ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। দেখা গিয়েছে একটি ঋতুতে একটি স্ত্রী তারখেল একাধিকবার ডিম পাড়তে পারে।
কলকাতায় বৃষ্টি

(বাঁদিকে) সুন্দরবনের অরণ্যে তারখেল। (মাঝেখান) গাছের উপর উঠে রোদ পোহাচ্ছে তারখেল। (ডানদিকে) চেরা জিভ তারখেল। ছবি : সংগৃহীত।

তারখেলদের সংখ্যা সুন্দরবনে মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার জন্য দায়ী একাধিক কারণ। প্রথমত: জনবসতি বৃদ্ধির কারণে ম্যানগ্রোভ জঙ্গল ধ্বংস হওয়া। দ্বিতীয়ত: গৃহস্থের হাঁস-মুরগি শিকার করার কারণে মানুষ এদের পিটিয়ে হত্যা করেছে। তৃতীয়ত: মাংস ও চামড়ার জন্য এদের বেআইনিভাবে শিকার করা হয়েছে। চতুর্থত: মানুষের অন্ধবিশ্বাস। এই বিষয়টি একটু খোলসা করে বলি। শুধু তারখেল নয়, গোড়িয়োল ও স্বর্ণগোধিকা বা হলুদ গোসাপ এখনও লুকিয়ে চুরিয়ে হত্যা করা হয় ‘হাতাজোড়ি’ নামে এক জঘন্য অন্ধবিশ্বাসের কারণে। হিন্দি হাতাজোড়ি শব্দের অর্থ হল দুই হাতের তালু নমস্কারের ভঙ্গিতে জোড় করা। পুরুষ গোসাপ ধরে তার শিশ্ন অর্থাৎ পুং যৌনাঙ্গ কেটে সংগ্রহ করা হয় এবং তারপর তা শুকিয়ে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। শুকনো শিশ্ন দেখলে মনে হয় যেন দুটি হাত জোড় করা রয়েছে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম

অনেক সময় খুব নৃশংসভাবে পুরুষ গোসাপের শিশ্ন সংগ্রহ করা হয়। আগুনের ওপরে গোসাপকে ধরে রাখা হয়। যন্ত্রণায় তার শিশ্ন যখন বেরিয়ে আসে তখন তা কেটে নেওয়া হয়। বিভিন্ন তান্ত্রিক ও গুণিন এই হাতাজোড়ি বিভিন্ন অন্ধবিশ্বাসী মানুষকে চড়া দামে বিক্রি করে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ বিশ্বাস করে যে তান্ত্রিক বা গুণিন মন্ত্র দেওয়ার পর একটা হাতাজোড়ি কিনে যদি বাড়িতে রেখে দেয় তার নাকি প্রভূত উন্নতি, সমৃদ্ধি, সুখ-শান্তি আসবে, সমস্ত বিপদ কেটে যাবে, এমন কি আদালতে মামলা পর্যন্ত জিতে যাবে। ইন্টারনেটে দেখলাম এখনও অনলাইন শপিং অ্যাপে হাতাজোড়ি কেনা যাচ্ছে। বিদেশে এক একটি হাতাজোড়ির দাম নাকি ২৫০ ডলার আর দেশের মধ্যে দেখছি ছাড় দিয়ে দাম ৪৫০০-৫০০০ টাকা! ভারত-সহ এশিয়ার নানা দেশে এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও ইউরোপের আরও অনেক দেশেও হাতাজোড়ির চাহিদা দেখা গেছে। ইন্টারনেট থেকে জানলাম, আইনি কারণে এখন আসল হাতাজোড়ির পরিবর্তে প্লাস্টিকের তৈরি নকল হাতাজোড়ি বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য অনলাইন বিজ্ঞাপনে ‘অরিজিনাল’ লেখা রয়েছে!
কলকাতায় বৃষ্টি

(বাঁদিকে) তারখেলের কাঁকড়া শিকার। (ডানদিকে) অনলাইনে এখনও বিক্রি হচ্ছে হাতাজোড়ি। ছবি : সংগৃহীত।

আর তাই হাতাজোড়ির ব্যবসা বন্ধ হয়নি। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে গুজরাতের সুরাটে একটি ছোটো দোকান থেকে সুরাট বন দপ্তর গোসাপের ৬টি শুকনো শিশ্ন উদ্ধার করে। ওই বছরই জুন মাসে গুজরাটের নভসারিতে বন্য জীবজন্তুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চোরাকারবারিদের একটি দল পাকড়াও হলে তাদের কাছ থেকেও গোসাপের ৭টি শুকনো শিশ্ন উদ্ধার হয়। তাই নিশ্চিত করে বলা যায় ভারতের সর্বত্র তিনটি জাতের গোসাপের চোরাশিকার আগে ব্যাপকভাবে হয়েছে, এখনও লুকিয়ে-চুরিয়ে হচ্ছে। সুন্দরবনেও চলছে চোরাশিকার। আর তাই তারখেল ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ তালিকায় শিডিউল-১-এ তালিকাভুক্ত প্রাণী। এই আইন লঙ্ঘনের শাস্তি ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও তিন থেকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাবাস। ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (WCCB) এবং ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (WTI)-এর যৌথ উদ্যোগে বন্য জীবজন্তুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চোরাকারবার রোধে দেশজুড়ে যে “Operatin Wildnet” কর্মসূচি লাগু হয়েছে তার ফলে চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য কিছু কমেছে। তবে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে কেবল আইন করে বন্য জীবজন্তুর চোরাশিকার ও চোরাকারবার নির্মূল করা যাবে না। —চলবে।
* সৌম্যকান্তি জানা। সুন্দরবনের ভূমিপুত্র। নিবাস কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পেশা শিক্ষকতা। নেশা লেখালেখি ও সংস্কৃতি চর্চা। জনবিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের জন্য ‘দ্য সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল ২০১৬ সালে ‘আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ এবং শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান লেখক হিসেবে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ ২০১৭ সালে ‘অমলেশচন্দ্র তালুকদার স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করে সম্মানিত করেছে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content