
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
কৃষ্ণের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভীম জরাসন্ধকে হত্যা করলেন। কৃষ্ণ ইন্দ্রপ্রস্থ হতে সসম্মানে বিদায় নিয়ে নিজের রাজধানীতে ফিরে গেলেন। পৃথাপুত্র অর্জুন, শ্রেষ্ঠ ধনু, অক্ষয়দুটি তূণ, রথ, ধ্বজ ও সভার (সমর্থন) লাভ করে যুধিষ্ঠিরকে বললেন, ধনু, শস্ত্র, বাণ, শৌর্য, সমর্থক, ভূমি, যশ, ও বল প্রভৃতি দুষ্প্রাপ্য ও আকাঙ্খিত এত কিছু তিনি লাভ করেছেন। এখন তাঁর কর্তব্য রাজকোষের বৃদ্ধি। তাই অর্জুনের অনুরোধ — করমাহারয়িষ্যামি রাজ্ঞঃ সর্ব্বান্ নৃপোত্তম!। হে নৃপশ্রেষ্ঠ, আমি সমস্ত রাজাদের কাছ হতে কর আদায় করব। শুভ নক্ষত্রযোগের তিথি ও মুহূর্ত এখন উপস্থিত হয়েছে, তাই তিনি কুবের অধিকৃত দিকে অভিযানে যাবেন। যুধিষ্ঠির স্নিগ্ধ ও গম্ভীর স্বরে প্রত্যুত্তর দিলেন, যোগ্য ব্রাহ্মণদের দিয়ে স্বস্তিবচন পাঠ করিয়ে নিয়ে অমঙ্গলাকাঙ্খীদের নিরানন্দের জন্য ও শুভার্থীদের আনন্দের জন্য অর্জুন যুদ্ধযাত্রা করুন। তাঁর জয় অবধারিত। অর্জুন প্রিয় অভীষ্ট লাভ করবেন। যুধিষ্ঠিরের কথা শেষ হল। পার্থ বিশাল সৈন্যদল পরিবৃত হয়ে অগ্নিদেবের প্রদত্ত অদ্ভুত দিব্য রথে আরোহণ করে প্রস্থান করলেন। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির সৈন্যসহ ভীমসেন ও যমজ দুই ভাই নকুল ও সহদেবকে,সসম্মানে বিদায় জানালেন। যথাক্রমে, অর্জুন ধনপতি কুবেরচিহ্নিত উত্তর, ভীমসেন পূর্ব, সহদেব দক্ষিণ ও নকুল পশ্চিমদিক জয় করলেন। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির, খাণ্ডবপ্রস্থে (ইন্দ্রপ্রস্থে) শুভাকাঙ্খীদের সঙ্গে পরম রাজ্যসুখ উপভোগ করতে লাগলেন।
পাণ্ডবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বীর অর্জুনের পৃথিবীজয়ের বৃত্তান্তটি বিচিত্র ও আকর্রষণীয়। অর্জুন প্রথমে কুলিন্দদেশের রাজাদের বশীভূত করে, আনর্ত্ত, কালকূট, অন্য এক কুলিন্দদেশ জয় করলেন। তার পরে পদানত সুমণ্ডলদেশের রাজাকে সঙ্গে নিয়ে শাকলদ্বীপ এবং প্রতিবিন্ধ্যরাজাকে পরাজিত করলেন। সপ্তদ্বীপের মধ্যে বিখ্যাত শাকলদ্বীপবাসী রাজারা। সসৈন্য সেই রাজাদের সঙ্গে অর্জুনের ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হল। মহাধনুর্দ্ধর সেই রাজাদের জয় করে, তাঁদের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে প্রাগ্ জ্যোতিষপুরের উদ্দেশে যাত্রা করলেন। সেখানে ভগদত্তরাজার সঙ্গে ভীষণ যুদ্ধ হল তাঁর। রাজা ভগদত্ত কিরাত, চীন ও সাগরের তীরবর্তী জলপ্রায়প্রদেশের অনেক যোদ্ধাপরিবৃত হয়ে যুদ্ধ করলেন। অর্জুনের সঙ্গে আট দিনব্যাপী যুদ্ধ করে ভগদত্তরাজা,যুদ্ধে অক্লান্ত অর্জুনকে যোগ্যবীরের মর্যাদা দান করলেন। পাকশাসন ইন্দ্রের উত্তরাধিকারী অর্জুনের শৌর্য যেন যুদ্ধের শোভাবিশেষ। ভগদত্ত জানালেন, তিনি যুদ্ধে দেবরাজের থেকে কোনও অংশে কম নন এবং তিনি দেবরাজের এমন একজন সখা, তবু তিনি যুদ্ধে বাছা অর্জুনের, সম্মুখে অবস্থান করতেই পারছেন না। ভগদত্ত যেন সস্নেহে প্রস্তাব রাখলেন, হে পাণ্ডুপুত্র, তোমার কাঙ্খিত কি করতে পারি? পুত্র, তুমি যা বলবে, সেটাই আমি করব। ত্বমীপ্সিতং পাণ্ডবেয়! ব্রূহি কিং করবাণি তে। যদ্বক্ষ্যসি মহাবাহো! তৎ করিষ্যামি পুত্রক!।।
পাণ্ডবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বীর অর্জুনের পৃথিবীজয়ের বৃত্তান্তটি বিচিত্র ও আকর্রষণীয়। অর্জুন প্রথমে কুলিন্দদেশের রাজাদের বশীভূত করে, আনর্ত্ত, কালকূট, অন্য এক কুলিন্দদেশ জয় করলেন। তার পরে পদানত সুমণ্ডলদেশের রাজাকে সঙ্গে নিয়ে শাকলদ্বীপ এবং প্রতিবিন্ধ্যরাজাকে পরাজিত করলেন। সপ্তদ্বীপের মধ্যে বিখ্যাত শাকলদ্বীপবাসী রাজারা। সসৈন্য সেই রাজাদের সঙ্গে অর্জুনের ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হল। মহাধনুর্দ্ধর সেই রাজাদের জয় করে, তাঁদের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে প্রাগ্ জ্যোতিষপুরের উদ্দেশে যাত্রা করলেন। সেখানে ভগদত্তরাজার সঙ্গে ভীষণ যুদ্ধ হল তাঁর। রাজা ভগদত্ত কিরাত, চীন ও সাগরের তীরবর্তী জলপ্রায়প্রদেশের অনেক যোদ্ধাপরিবৃত হয়ে যুদ্ধ করলেন। অর্জুনের সঙ্গে আট দিনব্যাপী যুদ্ধ করে ভগদত্তরাজা,যুদ্ধে অক্লান্ত অর্জুনকে যোগ্যবীরের মর্যাদা দান করলেন। পাকশাসন ইন্দ্রের উত্তরাধিকারী অর্জুনের শৌর্য যেন যুদ্ধের শোভাবিশেষ। ভগদত্ত জানালেন, তিনি যুদ্ধে দেবরাজের থেকে কোনও অংশে কম নন এবং তিনি দেবরাজের এমন একজন সখা, তবু তিনি যুদ্ধে বাছা অর্জুনের, সম্মুখে অবস্থান করতেই পারছেন না। ভগদত্ত যেন সস্নেহে প্রস্তাব রাখলেন, হে পাণ্ডুপুত্র, তোমার কাঙ্খিত কি করতে পারি? পুত্র, তুমি যা বলবে, সেটাই আমি করব। ত্বমীপ্সিতং পাণ্ডবেয়! ব্রূহি কিং করবাণি তে। যদ্বক্ষ্যসি মহাবাহো! তৎ করিষ্যামি পুত্রক!।।
অর্জুন বললেন, কুরুবংশের রাজা, ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির, ধর্মবিদ, সত্যপ্রতিজ্ঞ এবং যজ্ঞে বিপুল দক্ষিণাদাতা। তাঁর নিরঙ্কুশ সাম্রাজ্যলাভ কামনা করি। তাঁকে কর প্রদান করুন। তস্য পার্থিবতামীপ্সে করস্তস্মৈ প্রদীয়তাম্। অর্জুন রাজা ভগদত্তকে পিতৃবন্ধুরূপে স্বীকার করলেন। তাঁর কণ্ঠে যেন পুত্রতুল্য আবদারের বায়না, আমি আপনাকে সন্তুষ্ট করেছি, তাই আদেশ নয়, ভালোবেসে দান করুন। ভবান্ পিতৃসখা দেব! প্রীয়মাণো ময়াপি চ। ততো নাজ্ঞাপয়ামি ত্বাং প্রীতিপূর্ব্বং প্রদীয়তাম্।। ভগদত্ত অকপটে তাঁর আনুগত্য প্রকাশ করলেন, আমার কাছে কুন্তীপুত্র তুমি যেমন, যুধিষ্ঠিরও তেমনই। আমি তোমার জন্য (প্রস্তাবানুসারে) সব কিছু করব। তোমার জন্যে আর কি করতে পারি? কুন্তীমাতর্যথা মে ত্বং তথা রাজা যুধিষ্ঠিরঃ। সর্ব্বমেতৎ করিষ্যামি কিঞ্চান্যৎ করবাণি তে।।
রাজা ভগদত্ত, অর্জুনের বীরত্বে মুগ্ধ হয়েছিলেন। অর্জুন তাঁর আনুগত্য ও আস্থা অর্জন করলেন। ভগদত্তরাজার অধিকৃত প্রাগ্জ্যোতিষপুর করদরাজ্যে পরিণত হল। সেখান থেকে, অর্জুন কুবেররক্ষিত উত্তরদিকে যাত্রা করলেন। অর্জুন যথাক্রমে অন্তর্গিরি, বহির্গিরি ও উপগিরিদেশ জয় করলেন। তিনি, পার্বত্যপ্রদেশ ও সেখানের সব রাজাদের বশীভূত করে ধন আহরণ করলেন। অনুগত সেই রাজাদের প্রীত করে মৃদঙ্গ প্রভৃতি শ্রেষ্ঠবাদ্য ও রথচক্রের অরশব্দে এবং হাতিদের শব্দে এই পৃথিবী কাঁপিয়ে, উলূকদেশের রাজা বৃহন্তর উদ্দেশে যাত্রা করে সেখানে উপস্থিত হলেন। বৃহন্তরাজা তাঁর হস্তী, অশ্ব, রথ ও পদাতিক, এই চতুরঙ্গ সেনাসহ নগর থেকে বেরিয়ে এসে ফাল্গুন অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগলেন। ধনঞ্জয় অর্জুন ও বৃহন্তর তুমুল সংঘর্ষ হল। রাজা বৃহন্ত অর্জুনের পরাক্রমের সম্মুখে অসহায় প্রতিপন্ন হলেন। কুন্তীপুত্রের অসহনীয় শৌর্যের কাছে নতিস্বীকার করলেন পর্বতের অধীশ্বর বৃহন্ত। দুর্দ্ধর্ষ রাজা, সমস্ত ধন নিয়ে, অর্জুনের কাছে হাজির হলেন। নিজরাজ্যে বৃহন্তর অধিকার বজায় রেখে, অর্জুন, উলূকরাজার সঙ্গে যাত্রা করলেন। তিনি অচিরেই সেনাবিন্দু রাজাকে রাজ্যচ্যুত করলেন।
রাজা ভগদত্ত, অর্জুনের বীরত্বে মুগ্ধ হয়েছিলেন। অর্জুন তাঁর আনুগত্য ও আস্থা অর্জন করলেন। ভগদত্তরাজার অধিকৃত প্রাগ্জ্যোতিষপুর করদরাজ্যে পরিণত হল। সেখান থেকে, অর্জুন কুবেররক্ষিত উত্তরদিকে যাত্রা করলেন। অর্জুন যথাক্রমে অন্তর্গিরি, বহির্গিরি ও উপগিরিদেশ জয় করলেন। তিনি, পার্বত্যপ্রদেশ ও সেখানের সব রাজাদের বশীভূত করে ধন আহরণ করলেন। অনুগত সেই রাজাদের প্রীত করে মৃদঙ্গ প্রভৃতি শ্রেষ্ঠবাদ্য ও রথচক্রের অরশব্দে এবং হাতিদের শব্দে এই পৃথিবী কাঁপিয়ে, উলূকদেশের রাজা বৃহন্তর উদ্দেশে যাত্রা করে সেখানে উপস্থিত হলেন। বৃহন্তরাজা তাঁর হস্তী, অশ্ব, রথ ও পদাতিক, এই চতুরঙ্গ সেনাসহ নগর থেকে বেরিয়ে এসে ফাল্গুন অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগলেন। ধনঞ্জয় অর্জুন ও বৃহন্তর তুমুল সংঘর্ষ হল। রাজা বৃহন্ত অর্জুনের পরাক্রমের সম্মুখে অসহায় প্রতিপন্ন হলেন। কুন্তীপুত্রের অসহনীয় শৌর্যের কাছে নতিস্বীকার করলেন পর্বতের অধীশ্বর বৃহন্ত। দুর্দ্ধর্ষ রাজা, সমস্ত ধন নিয়ে, অর্জুনের কাছে হাজির হলেন। নিজরাজ্যে বৃহন্তর অধিকার বজায় রেখে, অর্জুন, উলূকরাজার সঙ্গে যাত্রা করলেন। তিনি অচিরেই সেনাবিন্দু রাজাকে রাজ্যচ্যুত করলেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৮: রাক্ষস খর ও রামের সংঘাতে, যুদ্ধের বিবিধবার্তা

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৬ : ভাগ্য যখন ফেরে

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন
মহারথ অর্জুন বামদেব, সুদামান, সুসঙ্কুল নামে দেশগুলি এবং উলূকদেশের উত্তরের রাজাদের নিজের আয়ত্তে আনলেন। সেখানে থেকে কিরীটী অর্জুন ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের আদেশানুসারে সসৈন্যে পঞ্চগণনামের দেশগুলি জয় করলেন। তিনি সেনাবিন্দুরাজার দেবপ্রস্থনগরে উপস্থিত হয়ে, চতুরঙ্গ সেনাদল নিয়ে শিবিরে অবস্থান করতে লাগলেন। সেই সব সৈন্যবলপরিবৃত মহাতেজস্বী অর্জুন, পুরুবংশীয় বিশ্বগশ্ব রাজাকে দমন করতে উপস্থিত হলেন। অর্জুন, যুদ্ধে পার্বত্য মহারথ বীরদের জয় করে, সসৈন্যে পৌরবরক্ষিত দেশটি জয় করলেন। পৌরবদেশ জয় করে, পার্বত্যদেশবাসী দস্যুদের দমন করে, উৎসবে রমণে আমোদে হাতের সাহায্যে সঙ্কেত দেয় যাঁরা এমন উৎসবসঙ্কেত নামের সাতটি দলকে জয় করলেন। তার পরে, ক্ষত্রিয়শ্রেষ্ঠ অর্জুন, দশটি ছোট রাজ্য-সহ কাশ্মীর ও লোহিতদেশের বীর ক্ষত্রিয়দের পরাজিত করলেন। অনন্তর ত্রিগর্ত, দার্ব্ব, কোকনদদেশের বহু ক্ষত্রিয়, সার্বিকভাবে বিজিত হয়ে তাঁর কাছে সমবেত হলেন। এর পরে অর্জুন রমণীয় অভিসারী নগর পদানত করলেন।অর্জুন দীপ্ততেজস্বী উরগনগরবাসীদের যুদ্ধে পরাস্ত করলেন। পাকশাসন ইন্দ্রের পুত্র অর্জুন রাজা চিত্রায়ুধের সুরক্ষিত সুন্দর সিংহপুর রাজ্য মথিত করলেন।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫০: তারখেল

ক্যাবলাদের ছোটবেলা, পর্ব-৩৭: লোকে যারে বড় বলে
কুরুনন্দন শ্রেষ্ঠপাণ্ডব কিরীটী অর্জুন যথাক্রমে সুহ্মদেশে ও চোলরাজ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করলেন। পাকশাসনি অর্থাৎ পাক নামক অসুরের শাস্তিদাতা পাকশাসন ইন্দ্রের পুত্র পরমশৌর্যবান অর্জুন, প্রচণ্ড লড়াই করে, অদম্য বহ্লীকদেশীয়দের স্ববশে আনলেন। শ্রেষ্ঠ সৈন্যবল-সহ অর্জুন কাম্বোজ ও দরদদেশ জয় করলেন। প্রভাবশালী অর্জুন, উত্তর দিকে ঈশানকোণ আশ্রয় করে যারা বাস করে এবং অরণ্যভূমি যাদের বিচরণক্ষেত্র সেই সব দস্যুদের পর্যন্ত দমন করলেন। এরপরে ইন্দ্রপুত্র অর্জুনের বিজয়রথ অব্যাহতগতিতে এগিয়ে চলল। তিনি সব মিলিয়ে লোহ, পরমকাম্বোজ এবং উত্তরের ঋষিকদেরও জয় করলেন। ঋষিকদেশে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ হল। ঋষিকরাজ ও অর্জুনের দ্যুতিময় অস্ত্রসম্ভারের উজ্জ্বলতায় তারকাসমৃদ্ধ আকাশতুল্য হল যুদ্ধক্ষেত্র। সমরাঙ্গনে ঋষিকদের জয় করে শুকপাখির উদরের মতো সমানবর্ণের আটটি ঘোড়া আনলেন অর্জুন। তিনি ময়ূরের সমান বর্ণের, উৎকৃষ্ট তীরসম বেগবান অন্য কতগুলি অশ্ব কররূপে গ্রহণ করলেন। পুরুষোত্তম অর্জুন, হিমালয় ও নিষ্কুটপর্বত জয় করে শ্বেতাঙ্গ কৈলাসে এসে উপস্থিত হলেন।
ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের রাজসূয়যজ্ঞানুষ্ঠান সম্পন্ন করবার উদ্দেশ্য ছিল অপ্রতিহত রাজ্যাধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। এই বিষয়ে তাঁর উৎসাহদাতা ছিলেন শুভাকাঙ্খী কৃষ্ণ। যে কোনও বড় উদ্যোগ বাস্তবে রূপায়িত করতে হলে চাই সুনির্দিষ্ট কর্মোদ্যোগ এবং অর্থবল। সম্রাটের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভাবি সম্রাট যুধিষ্ঠিরের অভীষ্ট সিদ্ধির রূপকার হলেন অর্জুন, যিনি বাহুবলে সব কিছু অর্জন করতে অভ্যস্ত। যুধিষ্ঠিরের অপর তিন ভাই এই বিষয়ে প্রবল উৎসাহী, তবু অর্জুনের দিগ্বিজয়ের বর্ণনা বিশদ এবং বর্ণময়। অর্জুনের লক্ষ্য উত্তরের দেশগুলি।তিনি অবলীলাক্রমে একের পর এক রাজ্যগুলি জয় করলেন। প্রতিবন্ধকতা ছিল, কিন্তু অর্জুনের শৌর্য, বীর্য্য ও প্রতাপের কাছে সব কিছু তুচ্ছ প্রতিপন্ন হল। আক্রান্ত রাজারা কেউ নতিস্বীকার করলেন, কেউ বা সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন।
ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের রাজসূয়যজ্ঞানুষ্ঠান সম্পন্ন করবার উদ্দেশ্য ছিল অপ্রতিহত রাজ্যাধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। এই বিষয়ে তাঁর উৎসাহদাতা ছিলেন শুভাকাঙ্খী কৃষ্ণ। যে কোনও বড় উদ্যোগ বাস্তবে রূপায়িত করতে হলে চাই সুনির্দিষ্ট কর্মোদ্যোগ এবং অর্থবল। সম্রাটের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভাবি সম্রাট যুধিষ্ঠিরের অভীষ্ট সিদ্ধির রূপকার হলেন অর্জুন, যিনি বাহুবলে সব কিছু অর্জন করতে অভ্যস্ত। যুধিষ্ঠিরের অপর তিন ভাই এই বিষয়ে প্রবল উৎসাহী, তবু অর্জুনের দিগ্বিজয়ের বর্ণনা বিশদ এবং বর্ণময়। অর্জুনের লক্ষ্য উত্তরের দেশগুলি।তিনি অবলীলাক্রমে একের পর এক রাজ্যগুলি জয় করলেন। প্রতিবন্ধকতা ছিল, কিন্তু অর্জুনের শৌর্য, বীর্য্য ও প্রতাপের কাছে সব কিছু তুচ্ছ প্রতিপন্ন হল। আক্রান্ত রাজারা কেউ নতিস্বীকার করলেন, কেউ বা সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন।
আরও পড়ুন:

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৬: দুর্বচ-জাতক : উল্লঙ্ঘন

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা
অপ্রতিহত গতিতে এগিয়ে চলল অর্জুনের বিজয়রথ। বেশির ভাগ রাজারা আত্মসমর্পণ করলেন। কেউ তাঁদের প্রতিরোধ করতে প্রবল পরাক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ল। পরিশেষে, অসীম শক্তিধর অর্জুনের বিক্রমের সামনে নতমস্তকে করদানের অঙ্গীকার করলেন। কত দেশ, কত সব নামের বাহার, অর্জুনের সৈন্যবাহিনীর সামনে সকলের প্রতিরোধ যেন অনায়াসে ভেসে গেল। অর্জুনের জয়ের লক্ষ্য ছিল উত্তরের রাজাদের পদানত করে তাঁদের থেকে রাজস্ব আদায়। কর বা রাজস্ব যে কোন শাসনব্যবস্থার প্রাণবায়ুতুল্য। অর্থ ছাড়া কোন প্রশাসনের কোন পরিকল্পনা সফল হতে পারে না। রাজতন্ত্র বা গণতন্ত্র উভয়ক্ষেত্রে কোষাগারে সঞ্চিত অর্থের অপরিসীম গুরুত্ব আছে। আধুনিক যুগে করদাতারা অনেকেই নিশ্চয়ই এই বিষয়ে অবহিত আছেন। রাজতন্ত্রে বৃহৎ সাম্রাজ্যের স্বেচ্ছায় মিলিত সংযুক্ত রাজ্যগুলি তাদের প্রদেয় অর্থ বা কর দান করে থাকে। প্রতিদানে তাঁরা পান সুরক্ষা, যে কোনও বিপর্যয়কালে সর্বোচ্চ কেন্দ্রীয়শক্তির সহায়তা ও সমর্থন। আধুনিক গণতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্রের সঙ্গে রাজতন্ত্রের যুদ্ধের লক্ষ্যপূরণবিষয়ে প্রশাসনিক পরিকাঠামোগত সাযুজ্য হয়তো খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের পারিপার্শ্বিকে সহায়ক ভাইরা প্রত্যেকেই বীরত্বে ও বীর্য্যবত্তায় অনন্য। অর্জুন যুদ্ধাভিযানে যাবার আগে নিজ স্বীকার করেছেন, ধনুঃ শস্ত্রং শরা বীর্য্যং পক্ষো ভূমির্যশো বলম্। প্রাপ্তমেতন্ময়া রাজন্! দুষ্প্রাপং যদভীপ্সিতম্।। যা কিছু ঈপ্সীত সব কিছু তিনি লাভ করেছেন, যেমন ধনুক, অস্ত্র, শর, বীর্য্য, সমর্থক (কৃষ্ণ), মাটি, যশ, বাহুবল প্রভৃতি। বৃহৎ শক্তির তথাকথিত অস্তিত্বরক্ষার জন্য যা কিছু প্রয়োজন সবই অর্জুনদের আয়ত্তাধীন। তবে? অন্যদের ওপরে আধিপত্যবিস্তারের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? অর্জুন জানিয়েছেন, কৃত্যমহং মন্যে কোষস্য পরিবর্দ্ধনম্। তাঁর অন্যতম করণীয় বিষয় কোষবৃদ্ধি। এখন আধুনিক যুগেও বৃহৎ শক্তির উদ্দেশ্য হল আগ্রাসনের মাধ্যমে আক্রান্ত দেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ হস্তগত করা। যুগভেদে রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রে পররাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আদর্শ ও উদ্দেশ্য পরিবর্তিত হয়। অর্থ অর্থের মূল হলেও অর্থ যে কোনও শাসনব্যবস্থার মেরুদণ্ড। কোষাগারে সঞ্চিত অর্থ অনেক অসাধ্য সাধন করে থাকে, ক্ষুদ্র পারিবারিক গণ্ডী থেকে বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে অর্থের গুরুত্ব সমধিক। তাই নিজেদের কোষাগারে সঞ্চিত অর্থ বৃহত্তরশক্তিকে প্রদানের অঙ্গীকারের মধ্যে লুকিয়ে আছে চরম আনুগত্যস্বীকারের প্রকাশ, সেটি পরাধীনতার নামান্তর।

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
তবে সবটাই নির্ভর করছে যে রাজ্যের আনুগত্য স্বীকার করা হয়েছে তার উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির উপরে। সেই রাজতন্ত্র বিলুপ্তপ্রায় তবে আধুনিক রাষ্ট্রেও যুদ্ধের মাধ্যমে আয়ত্তাধীন রাষ্ট্রের থেকে কর আদায় শুধু নয়, সেই রাষ্ট্রের সম্পদ অধিগত করবার লুব্ধপ্রচেষ্টা এখন প্রচলিত। অর্জুনের যুদ্ধাভিযান শেষ হয়নি। তাঁর অন্য ভাইরা একই লক্ষ্যপূরণে ব্যস্ত রয়েছেন। ক্ষমতাধিকারের নেশায় ব্যাপৃত পাণ্ডব ভাইয়েরা। এমনই ঘটে থাকে আধিপত্যবিস্তারের অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ, শৌর্যশ্রেষ্ঠ মহাকাব্যের ক্ষত্রিয়কুলের সদস্যদের অশ্বগতিতে এগিয়ে নিয়ে যায় যুদ্ধক্ষেত্রে তেমনই এই ক্ষমতাদখলের নেশা আধুনিক যুগেও অনেক বৃহৎ শক্তিকে টেনে নিয়ে যায় আপাতদৃষ্টিতে জয় কিংবা ধ্বংসের কোনও অমোঘ পরিণতির লক্ষ্যে কি না, সেটার দর্শক শুধুমাত্র আবহমান সময়।—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।


















