শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

দণ্ডকারণ্যে রামের অরণ্যবাসে রাক্ষসরাজ রাবণের ভগিনী শূর্পনখা মহাবিপদ ডেকে এনেছে। রামকে দেখে বিমুগ্ধা রাক্ষসী সরাসরি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে ইচ্ছুক হয়েছিল। প্রথমে রাম, তার পরে ও লক্ষ্মণের কাছে প্রত্যাখ্যাতা, অবমানিতা রাক্ষসী শূর্পনখা বিধ্বংসী হয়ে সীতাকে গ্রাস করতে উদ্যত হল। জ্যেষ্ঠ রামের নির্দেশে শূর্পনখার নাক ও কান কেটে, তাকে শাস্তি দিলেন লক্ষ্মণ। ক্রোধে, অপমানে, প্রতিশোধস্পৃহায় জ্বলে উঠল রাক্ষসী। সে ভাই খরের শরণাপন্ন হল। রাক্ষস খরের আদেশে, শূর্পনখাকে সঙ্গে নিয়ে চোদ্দজন মহাবলশালী রাক্ষস রামের মুখোমুখি হল। তাদের উদ্দেশ্য—ভাই লক্ষ্মণ-সহ সপরিবারে রামের নিধন। রাম নিজে রাক্ষসদের বধ করলেন। দুঃখে হিতাহিতজ্ঞানশূন্যা রাক্ষসী শূর্পনখা,ভাই খরের কাছে ফিরে এসে তাকে তীব্র বাক্যবাণে বিদ্ধ করল। রাক্ষসী প্রতিজ্ঞা করল, দণ্ডকারণ্যের কাঁটা ওই রামকে অবিলম্বে হত্যা করে, নিষ্কণ্টক করতে হবে দণ্ডকবন। যদি আজই শত্রুঘাতক রামকে, খর যদি বধ না করে তবে, এই নির্লজ্জ জীবন আর নয়। শূর্পনখা খরের সামনে অবিলম্বে প্রাণ বিসর্জন দেবে। যদি রামমমিত্রঘ্নং ন ত্বমদ্য বধিষ্যসি। তব চৈবাগ্রতঃ প্রাণাংস্তক্ষ্যামি নিরপত্রপা।। খর, ভগিনীর হুমকি ও তিরস্কারে অসম্মানিত বোধ করলেন। তিনি ভগিনীকে আশ্বস্ত করলেন। চোদ্দো হাজার নৃশংস রাক্ষসদের নিয়ে বিচিত্র সব শাণিত অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে, রামের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করলেন, খর।
গর্দভের মতো ধূসরবরণ, ভয়ঙ্কর মেঘ, যুদ্ধাভিযানে প্রস্থানরত মহাবল দুর্ধর্ষ রাক্ষসদের ওপরে ঘোরশব্দে রক্তমিশ্রিত জল বর্ষণ করতে লাগল। খরের রথে যুক্ত দ্রুতগামী ঘোড়াগুলি কুসুমাস্তীর্ণ সমতল রাজপথে এসে পড়ল। শ্যামবর্ণ অথচ প্রান্তভাগ যার রক্তিম এমন অলাতচক্র (অঙ্গারচক্র) সম সূর্য দৃশ্যমান হলেন। একটি বিশালাকৃতি ভয়ঙ্কর গৃধ্র (শকুন) রথের স্বর্ণধ্বজটি আক্রমণ করে দখল করল। খরশব্দকারী মাংসাশী পশু ও পাখিরা জনস্থানের কাছে এসে নানাভাবে বিকটরব সৃষ্টি করল।

মহাশব্দে শেয়ালরা আলোর দিকে তাকিয়ে থেকে, ঘোর অশুভ রবে চিৎকার করে উঠল। সেই চিৎকারে রাক্ষসদের অমঙ্গলের ইঙ্গিত মিশে ছিল। মদজলবর্ষী হাতির মতো রক্তধারাবর্ষণকারী মেঘগুলিতে আকাশ ছেয়ে গেল। রোমাঞ্চকর ভীষণ গভীর আঁধার ঘিরে ধরল চারিদিক। দিগ্বিদিক আর সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান নয়। ক্ষতনিঃসৃত রক্তের সিক্ত আভার মতো বর্ণময়ী সন্ধ্যা অসময়ে ঘনিয়ে এল। পশু ও শকুনগুলি খরের দিকে তাকিয়ে ভয়ঙ্কর রবে ডেকে উঠল। কাক, শেয়াল ও শকুনের চিৎকারে আসন্ন ভয়ের সঙ্কেত। যুদ্ধে সর্বদাই অমঙ্গলকর, এই ভীষণাকৃতি শিয়ালগুলি। তাদের মুখ হতে আগুন ঝরছে, তারা সৈন্যদের উদ্দেশে গর্জন করছে। মুগুরের মতো এক কবন্ধকে সূর্যের নিকটবর্তী হতে দেখা গেল। অসময়ে এক মহাগ্রহ সূর্যকে গ্রাস করল। প্রবলবেগে প্রবাহিত হল বায়ু, সূর্য নিষ্প্রভ হল। রাত্রি বিনা অন্য সময়ে জোনাকীর মতো তারাগুলি খসে পড়তে লাগল। পাখি ও মাছেরা বিলীন হল। সরোবরে শুকিয়ে গেল পদ্মগুলি। সেই সময়ে, ফলফুলহীন হল গাছগুলি। বায়ু বিনা মেঘের মতো ধূসর ধুলোর ঝড় উঠল। সারিকাগুলি (ময়না) চি চি কু চি রবে শব্দ করতে লাগল। সশব্দে ভয়ঙ্কর উল্কাপাত হল। পাহাড়-বন-বাগানসহ পৃথিবী কেঁপে উঠল। রথে বসে, গর্জনকারী, বুদ্ধিমান, খরের বাম হাত কাঁপতে লাগল, গলার স্বর রুদ্ধ হয়ে এল, চারিদিকে তাকিয়ে অশ্রুজলে ভরে উঠল চোখ, তার কপালে ঘামের ফোঁটা।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৫: নৈতিকতার নিরিখে, মল্লযুদ্ধে জরাসন্ধবধ, আজও প্রাসঙ্গিক কেন?

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

চৈত্রশেষে

এই সব সত্ত্বেও,সর্বত্র রোমাঞ্চকর ভীষণ উৎপাতগুলি দেখে, সে মোহবশত ফিরে গেল না। এই অবস্থায়,খর হাসতে হাসতে সমস্ত রাক্ষসদের বলল, এই সব ঘোর বিপত্তি দেখা দিয়েছে। বলশালী যেমন দুর্বলদের গ্রাহ্য করে না, তেমনই সে এই বিষয়ে আদৌ চিন্তিত নয়। খর প্রবল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল, শাণিত বাণ দিয়ে আকাশের তারাও আমি নামিয়ে আনতে পারে। আমি নিজে ক্রুদ্ধ হয়ে, মৃত্যুরও মরণ ঘটাতে পারে। তারা অপি শরৈস্তীক্ষ্ণৈঃ পাতয়েয়ং নভস্তলাৎ। মৃত্যুং মরণোত্তর সংক্রুদ্ধো যোজয়াম্যহম্।। খর সদর্পে ঘোষণা করল, সুতীক্ষ্ণ বাণে বলগর্বিত রাঘব রাম ও লক্ষ্মণকে বধ না করে আমি কোনওমতেই ফিরছি না। রাঘবং তং বলোৎসিক্তং ভ্রাতরঞ্চাপি লক্ষ্মণম্। অহত্বা সায়কৈস্তীক্ষ্ণৈর্নোপাবর্ত্তিতুমুৎসহে।। খর আরও বলল, যার কারণে রামলক্ষ্মণের এই বিপর্যয়, খরের সেই ভগিনী তাদের দু’জনের রক্ত পান করে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করুক। খরের গলায় যেন আশ্বাসের সুর,সে রাক্ষসদের বলল, তোমরা স্বচক্ষে দেখেছ, অতীতে যুদ্ধে কখনও আমি পরাজিত হইনি। আমি কিন্তু মিথ্যা বলছি না। ন ক্বচিৎ প্রাপ্তপূর্ব্বো মে সংযুগেষু পরাজয়ঃ। যুষ্মাকমেতৎ প্রত্যক্ষং নানৃতং কথয়াম্যহম্।। দম্ভভরে খর বলল, ঐরাবতের আরোহী বজ্রধারী দেবরাজ ইন্দ্রকে পর্যন্ত হত্যা করতে পারি, এরা তো সামান্য দুই মানুষমাত্র। *কিং পুনস্তৌ চ মানবৌ।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০০ : স্থানীয়রা দিনে কৃষি কাজ করতেন, আর রাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতেন বিপ্লবীরা

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৪: বিড়াল জাতক : অতি চালাকের?

তার গর্জন শুনে, মরণপাশে আবদ্ধ সেই বিশাল রাক্ষসসেনাবাহিনী পরম আনন্দ লাভ করল। যুদ্ধদর্শনার্থীরা ভিড় করলেন। সমবেত দর্শনার্থীরা হলেন মহান ঋষি, দেব, গন্ধর্ব, সিদ্ধপুরুষ ও চারণগণ। পুণ্যাত্মাদের একে অপরের সঙ্গে আলোচনার বিষয় ছিল—গো, ব্রাহ্মণ ও মানুষেরা যাঁদের মেনে নিয়েছেন তাঁদের মঙ্গল হোক। স্বস্তি গোব্রাহ্মণেভ্যস্তু লোকানাং যে চ সম্মতাঃ। ঠিক যেমন সুদর্শনচক্রধারী, বিষ্ণু, অসুরশ্রেষ্ঠদের পরাজিত করেছিলেন তেমনই রাঘব রাম পুলস্ত্যবংশীয় নিশাচর রাক্ষসদের জয় করুন। বিমানে অবস্থানকারী, কৌতূহলী দেবতা ও ঋষিমুখ্যরা, এমন বহু আলাপচারিতায় ব্যস্ত হলেন। তাঁরা, নিঃশেষিতপ্রায় আয়ু যাদের, সেই রাক্ষসবাহিনীকে দেখতে লাগলেন। সৈন্যদের সামনে থেকে রথারোহী খর বেরিয়ে এল। বারজন মহাশক্তিধর রাক্ষস খরকে ঘিরে ধরে চলতে লাগল। এই রাক্ষসরা হল — শ্যেনগামী, পৃথুগ্রীব, যজ্ঞশত্রু, বিহঙ্গম, দুর্জয়, করবীরাক্ষ, পরুষ, কালকার্মুক, মেঘমালী, মহামালী, সর্পাস্য,রুধিরাশন। এ ছাড়াও ছিল, মহাকপাল, স্থূলাক্ষ, প্রমাথী, ত্রিশিরা এই চারজন। যুদ্ধাকাঙ্খী, অতি ভয়ঙ্কর রাক্ষসবীরদের সেনাবাহিনী প্রবলবেগে ছুটে গিয়ে হঠাৎ দুই রাজপুত্র, রাম ও লক্ষ্মণের কাছে উপস্থিত হল, মনে হল গ্রহগুলি যেন একাধারে চাঁদ এবং সূর্যের কাছে উপস্থিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৬: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— সবুজ কাছিম

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!

শূর্পনখার হিংস্র আচরণের বিরুদ্ধে লক্ষ্মণ তার নাক ও কান কেটে এক দীর্ঘশত্রুতার সূচনা করেছিলেন। এ ছাড়া অবশ্য তাঁদের কোন উপায় ছিল না। একটি হিংসা অনেক প্রতিহিংসার জন্ম দেয়। শূর্পনখার ভাই খরের যুদ্ধযাত্রা তেমন এক দৃষ্টান্ত। তার রোমাঞ্চকর বিবরণে আছে প্রকৃতি, প্রাণীদের ওপরে আসন্ন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ। পৃথিবীতে বুদ্ধিবৃত্তির অধিকারী প্রাণীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দুই সচল প্রাণী, যুযুধান মানুষ ও দানব। তাদের লড়াইয়ে সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যারা, মহর্ষি বাল্মীকির লেখনীতে তাদের অবক্ষয়ের ছবি যেন ফুটে উঠেছে। রাক্ষসরা দুর্বিনীত, নৃশংস, অত্যাচারী মানুষদের প্রতিচ্ছবি বলেই মনে হয়। হঠাৎ উপস্থিত কোনও দুর্বিপাকের ইঙ্গিত বহন করে প্রকৃতি এবং ইতর প্রাণীরা। অস্বাভাবিক আবহ ঘিরে ধরে ধরিত্রীর পর্যাবরণ।যেমন,গাধার মতো ধূসরবর্ণের ভয়াবহ রক্তবর্ষী মেঘসৃষ্টি। এইগুলো হয়তো মানুষের দুর্বল মনে আপাতদৃষ্টিতে কোন কুপ্রভাবের ইঙ্গিত বলে মনে হতেই পারে। যুদ্ধযাত্রার অব্যবহিত পরে,রাক্ষসদের আকাশে ধূসরবর্ণ মেঘের আবির্ভাব, আসন্ন বিবর্ণ কলুষিত বাতাবরণের ছবি যেন। সেই মেঘ হতে জলধারার পরিবর্তে রাক্ষসদের ওপরে ঝরে পরছে রক্ত,এ যেন যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হত্যাপূর্ণ মৃত্যুর রক্তাক্ত ছবি। ঋষি কবির মানসদৃষ্টিতে,শ্যামবরণ প্রকৃতিতে রক্তচ্ছটা। সূর্যের চারিদিকে এক আগুনের বলয়। এ কি যুদ্ধের ফলে কোনও প্রাকৃতিক দূষণচিত্র? যুদ্ধের ফলে প্রকৃতির স্বাভাবিক শ্যামলিমা উধাও হয়। যুদ্ধের বিষবাষ্প প্রকৃতিকে কলুষিত করে যখন,কবির অনুভবে,সূর্যের চারিদিকে দীপ্তির প্রকাশ, অগ্নিচক্র হয়ে ওঠে। যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিবেশ, সূর্যের স্বাভাবিকতা ব্যাহত করে। জীবনদায়ী সূর্য প্রদাহসৃষ্টিকারী আগুনের চাকার বেষ্টনীতে ঘেরা বলে মনে হয়। যুদ্ধের সূচনায়, খররাক্ষসের রথের ধ্বজায় বিরাট এক শকুনের আবির্ভাব, এ যে অশনিসঙ্কেতের পূর্বাভাস। যুদ্ধ নামক মারণযজ্ঞের হোতা, খরের রথধ্বজায় অপেক্ষা করছে শকুন, আসন্ন যুদ্ধে মৃতদের মাংস যে তার প্রিয় ভোজ্য।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক পর্ব-১৬২ : আঁধারে আলো

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

শেয়ালের চিৎকারে চিরকালের, বিপদসঙ্কেতের ইশারা,অশুভের আগমনী বার্তা। কবির কল্পনায়, আকাশে ছেয়ে আছে হাতির মতো বিরাট মেঘের দল, জলের পরিবর্তে তারা অচিরেই রক্তবর্ষণ করবে। রোমহর্ষক আঁধারে দিগ্বিদিক সমাচ্ছন্ন হয়েছে। যুদ্ধ, জ্ঞানদৃষ্টি ঢেকে অজ্ঞানের তিমিরে ঢেকে দেয় চারিদিক, সুচেতনার আলোর অভাবে পথভ্রষ্ট হয় স্বাভাবিক শুভবোধ। অসময়ে অপ্রত্যাশিত জীবনসন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। অসময়ে দিনান্তের সূচনা কি অকালে জীবন ঝরে পড়ার ইঙ্গিতবাহী? বাতাসের প্রবল গতি, সূর্যের স্তিমিত জ্যোতি, দিবালোকে নক্ষত্রদের খসে পড়া, এ সব কিছুতেই প্রকৃতির অস্বাভাবিক বৈপরীত্য দেখা দিয়েছে। যুদ্ধে, দৈনন্দিন জীবনছন্দ হারিয়ে যায়, লোপ পায় প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিময়তা। সূর্যের নিষ্প্রভভাব, তীব্রগতিতে বাতাসের বয়ে চলা, দিবালোকে তারাদের বিচ্যুতি এগুলি, হিংস্র খরের যুদ্ধাভিযানের বিপক্ষে কবির সতর্কবার্তা নয় কি? তা হলে শুধু রামায়ণে এই বার্তা সীমাবদ্ধ নয়, এর আবেদন কিন্তু চিরকালীন গণসমর্থনের আশা রাখে। পশুপাখিদের অস্থিরতা কি আগাম কোনও বিপদসঙ্কেত?প্রকৃতির বুকে ফলফুলহীন শূন্যতা, সশব্দে উল্কাপাত, পৃথিবীর হঠাৎ কেঁপে ওঠা— এসব দৃশ্যের অবতারণা, বোধ হয় যুদ্ধের বিধ্বংসী ভাবি ফলাফলের চিত্রকল্পমাত্র।
কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

সর্বনাশা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় যাঁরা মেতে উঠে, অনায়াসে প্রাণহানির মারণখেলায় অংশ গ্রহণ করেন,খর তাঁদের প্রতিনিধি। নিজেদের আত্মক্ষয়ী শক্তির প্রতি আস্থা রেখে তাঁরা প্রবল আত্মবিশ্বাসে প্রতিপক্ষকে অবহেলা করেন। দম্ভ তাঁদের অসীম সাহসিকতার বর্ম, মানুষের আর্তনাদ সেই দুর্ভেদ্য আচ্ছাদন ভেদ করে, তাঁদের অন্তরের অন্তঃস্থলে পৌঁছতে পারে না। কিংবা আমরা দুর্বলচিত্ত মানুষেরা হয়তো মনে করি, একদা নিয়তির অমোঘ নির্দেশে এই দুর্ভাগ্যজনক চরম পরিণতি তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি জেনেও নিছক কৌতূহলী দর্শকের ভূমিকায় থেকে যান, দেবতা, ঋষি, সিদ্ধপুরুষদের মতো প্রভাবশালীদের অনেকেই। এক অর্বাচীন কথকঠাকুরাণীর মস্তিষ্কপ্রসূত এই ব্যখ্যা। সুধী পাঠকবর্গ, কোনও ধর্মীয় ভাবাবেগের মূলে কুঠারাঘাত বলে মনে করবেন না। বর্তমান দুনিয়ার যুগচিত্রের সঙ্গে এর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় কী?—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content