
ছবি: প্রতীকী।
|| ফোটোগ্রাফ-১২ ||
একসঙ্গে এত কাজ করার পর আজ আত্রেয়ীকে ধৃতিমানের সঙ্গে কথা বলতে দেখেই শ্রেয়া চটে গেল কেন? ধৃতিমান নিশ্চিত এর মধ্যে স্বাভাবিক কনক্লুশন করলে ভুল হবে। হ্যাঁ, এর মধ্যে একটা ভালো বন্ধুত্ব আছে ঠাট্টা ইয়ার্কি হয়। সেই অর্থে প্রেম নেই। মানে ধৃতিমান যতটুকু জানে বোঝে তাতে সেটাই সঠিক। ধৃতিমানের দিকটা সে নিজে জানে। নিজের মনটা নিজের কাছে খুলে পাতা উল্টে দেখতে পারে। শ্রেয়ার মনে ভেতরে প্রেমরোগ বাসা বেঁধেছে কিনা সেটা শ্রেয়া জানে।
কিন্তু যদি তা নাও হয়, শ্রেয়ার অধিকারবোধ কোথাও ধাক্কা খেয়েছে। ধৃতিমান চৌধুরী সরাসরি গোয়েন্দা দপ্তরের নিজস্ব সম্পত্তি। ভৈরব চক্রবর্তীর আবিষ্কার। গোয়েন্দা দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রনজয় রায় বা উল্টোডাঙা থানার এসআই বিপুল পালের মতো লোকাল থানার অনেক অফিসারই গোয়েন্দা কর্তা ভৈরব চক্রবর্তীর বিশেষ স্নেহভাজন ধৃতিমান চৌধুরীকে চেনে এবং অপছন্দ করে। তাদের সকলের বিরাগভাজন হওয়ার থেকে শ্রেয়া বসু ধৃতিমানকে আড়াল করে আগলে রাখে। তাই সে চায় যে যোগাযোগটা গোয়েন্দা দপ্তরের সঙ্গেই থাকবে? তাই কি? নাকি পুরুষ মানুষ বলে মফিজুলের সঙ্গে বন্ধুত্বটা শ্রেয়া মেনে নিচ্ছে। অথচ মহিলা বলেই আত্রেয়ীর সঙ্গে কথা বলাটা শ্রেয়ার খারাপ লেগেছে। প্রেম-ভালোবাসা যদি নাই থাকে তাহলেও বন্ধুত্বের দাবি তেমনটা হতে পারে। অবশেশন বা আসক্তি এতটাই তীব্র।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৩০: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১১

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০১ : ত্রিপুরাতেও সিপাহি বিদ্রোহের ছোঁয়া লেগেছিল

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৫: অকালরাবী জাতক—সময় গেলে সাধন হবে না
সিগমুণ্ড ফ্রয়েড বলেছেন আসক্তি হল অচেতন মনের অতৃপ্ত চাহিদা। সেই যে মনের একতলা দোতলা। দোতলা সচেতন একতলা অচেতন। ব্রেনের একতলা বারবার দোতলাকে ছাপিয়ে যায়। তাই আবেগে আতঙ্কে জ্ঞান যুক্তি বুদ্ধি সবই হার মানে। শ্রেয়ার মাথাটা পরীক্ষা করলে যাবে তার মাথার একতলাটা অনেকটা বড়। দোতলায় মাত্র একটাই ঘর। অনেক বাড়িতে হয় না। দোতলা বানাবার একটা পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নানান আর্থিক কারণে আর সেটা হয়ে ওঠেনি।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

একলা নববর্ষ
এখন সাকূল্যে একটাই ঘর আছে, বাকিটা খোলা ছাদ। কিন্তু আবার এটাও দেখা গিয়েছে। যে পিলার তুলে ছোট্ট একতলার ওপর বড় দোতলা বানানো যায় বটে কিন্তু তাতে ভারসাম্য থাকে না। খুব বেশি চিন্তা-ভাবনা বুদ্ধি যুক্তি জ্ঞানের তোড়ে কাজের কাজ কিছুই হয়ে ওঠে না। এরা সকাল বিকেল সন্ধ্যে রাত খালি নিয়ম করে পরিকল্পনা করে। সাতসতেরো অনেক কিছু ভাবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করে উঠতে পারে না। কারণ কাজের উৎসাহ উদ্দীপনা সাহস উদ্যম সবই আসে একটা আবেগ থেকে। পরিকল্পনা নিশ্চয়ই লাগে। একরাস্তায় সাফল্য না এলে অন্যরাস্তায় যাবার ভাবনাও জরুরি। তাই একতলা আর দোতলা দুটোই ঠিকঠাক থাকাটা খুব জরুরি।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— শিকরেঠুঁটো কাছিম

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৩ : রিমিতার ব্রেকিং-নিউজ
সঠিক লাঞ্চের সময় শ্রেয়া ও ধৃতিমান কালার ফিউশন স্টুডিয়োতে পৌঁছল। জায়গাটা রুবি জেনারেল হাসপাতালের পাশে আরবানা কমপ্লেক্সের পিছনে। অফিসের জিপ। শ্রেয়া সামনে বসে ছিল। বাড়ির থেকে নিতে এলে অন্যান্য দিন শ্রেয়া পিছনের সিটেই বসে। স্বাভাবিক থাকে। আজ খুব চুপচাপ ছিল।
ধৃতিমান এসে ভদ্রতা করে বলেছিল।
— অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে?
— না না! জাস্ট খানিকক্ষণ!
নাজিরাবাদের স্টুডিয়োতে পৌঁছনো পর্যন্ত চুপচাপ। এখনও ধৃতিমান আন্দাজ করতে পারছে না ব্যাপারটা কি ঘটলো।
নীলাঞ্জনার মুখোমুখি হতেই শ্রেয়া অন্য মানুষ।
— বলুন!
ধৃতিমান এসে ভদ্রতা করে বলেছিল।
— অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে?
— না না! জাস্ট খানিকক্ষণ!
নাজিরাবাদের স্টুডিয়োতে পৌঁছনো পর্যন্ত চুপচাপ। এখনও ধৃতিমান আন্দাজ করতে পারছে না ব্যাপারটা কি ঘটলো।
নীলাঞ্জনার মুখোমুখি হতেই শ্রেয়া অন্য মানুষ।
— বলুন!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৬: প্রাকৃতিক অবস্থার পরিবর্তন ও প্রাণীদের অস্থিরতা : যুদ্ধের দূষণ, মনে, প্রাণে, বাতাবরণে, সর্বত্র

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম
আজ নীলাঞ্জনার সঙ্গে কেউ নেই। অনেকটা জায়গা নিয়ে ছড়ানো স্টুডিয়ো। খয়েরী রঙের গেট। গেটের মাথাটা অদ্ভুতভাবে খাঁজ কাটাকাটা। পাঁচিলের পাশ দিয়ে লম্বারাস্তা ঢুকে গিয়েছে। পাঁচিঁলের দিকে হলিউডের কায়দায় অক্ষর সাজিয়ে লেখা কালার ফিউশন স্টুডিয়ো। মাঝে একটা হাতে টানা রিকশা দেখা গেল। শুটিংয়ে ব্যবহার হয় বোধহয়। ডানদিকে সারসার ঘর। ছোট্ট একটা গার্ডেন মত টপকে গিয়ে গাড়িটা রাখতে হল। ওরা এসে বসেছে নীলাঞ্জনার ঘরে।
— না, মানে আপনারা আমার কাছ থেকে ঠিক কি জানতে চাইছেন সেটা বললে একটু সুবিধে হতো।
— যে মানুষটির মৃত্যু হয়েছে তার সম্বন্ধে আপনি কি জানেন? কীভাবে পরিচয়? আপনাদের দাম্পত্য কেমন ছিল? আপনি ও বাড়ি থেকে চলে এলেন কেন? এই সবটুকু আপনি বলতে থাকুন। তার মাঝে আমাদের কিছু মনে হলে আমরা আপনাকে আলাদা করে জিজ্ঞেস করবো। —চলবে।
— না, মানে আপনারা আমার কাছ থেকে ঠিক কি জানতে চাইছেন সেটা বললে একটু সুবিধে হতো।
— যে মানুষটির মৃত্যু হয়েছে তার সম্বন্ধে আপনি কি জানেন? কীভাবে পরিচয়? আপনাদের দাম্পত্য কেমন ছিল? আপনি ও বাড়ি থেকে চলে এলেন কেন? এই সবটুকু আপনি বলতে থাকুন। তার মাঝে আমাদের কিছু মনে হলে আমরা আপনাকে আলাদা করে জিজ্ঞেস করবো। —চলবে।
অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















