সোমবার ৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
 

ফটোগ্রাফ-১

এবার খুব ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল বাংলা সিরিয়ালের অন্যতম নায়িকা নীলাঞ্জনা চক্রবর্তীর। পাত্র অমিতাভ চক্রবর্তী একজন আইটি প্রফেশন্যাল। আগে চাকরি করতেন, পরে কলেজে পড়াতেন। আবার পড়ানো ছেড়ে নিজের স্টার্টআপ শুরু করেছিলেন। নীলাঞ্জনা বিয়ের পরে চক্রবর্তী পদবীই রাখবে, এই বিয়েতে পদবী বদলানোর সেকেলে ঝামেলা ছিল না। তবে নীলাঞ্জনার পদবী বদলানোর ঝামেলায় আগেও হয়নি। গুনে দেখলে এটা তিন নম্বর বিয়ে। না গুনলে পাঁচ নম্বর সম্পর্ক।

সম্পর্ক আজকাল ‘ভালো বন্ধুত্বের’ আড়ালে থাকে। গ্রে রিলেশন্সের মতো গ্রে ডিভোর্স আজকালকার ট্রেন্ড। সংযোগের মতো বিয়োগও আজকাল ধরা পড়ে না। জনপ্রিয়দের আলো-আঁধারি জীবন। ভিউয়ারশিপের দুনিয়ায় রোজ একে-ওপরের সাফল্যে-কেচ্ছায় টপকে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। অমিতাভ’র বয়েস একটু বেড়েছে। মাথায় চুল ফিনফিনে আদ্দির পাঞ্জাবির মতো। মাথার চামড়া দেখা যায়। বয়েসের ফারাক থাকলেও নীলাঞ্জনা এমন কিছু কচি খুকি নয়।
অমিতাভ চক্রবর্তীর দ্বিতীয় বিবাহ। প্রথমজন রুনা। রুনা দত্ত। নামী কোম্পানিতে অমিতাভ’র টিমের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যা! মার্চ মাসে কনফিডেন্সিয়াল রিপোর্ট তৈরি হয়। মাস ছয়েক রুনা কোনও ক্লায়েন্ট পায়নি। কোম্পানি বসে বসে মাইনে দিয়েছে। আইটি জগতে যাকে বেঞ্চ বলে। সামনে এপ্রিল থেকে ইনক্রিমেন্ট তো পাবেই না, চাকরিটাই বাঁচবে কিনা সেটা জিজ্ঞাসার মুখে। কাজে অতটা পোক্ত না হলেও রুনার উপস্থিত বুদ্ধি চিরকালই প্রখর।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১১৯: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৮

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — পাতিশিয়াল

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৭: অরণ্যজাতক : বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি পর্ব-৯৫ : রাজনীতির দাবার ছকে ত্যাগের মহাকাব্য: এক অন্য পঞ্চতন্ত্রের খোঁজে

এরকম একটা কোম্পানিতে ঢোকাটাও একটা হ্যাক! একসময়ে হ্যাক করা মানে অনধিকার প্রবেশ ছিল। কালের প্রভাবে হ্যাক কথাটা অল্টারনেটিভ-এর একটা সিনোনিমস হয়ে গিয়েছে। অন্যতর সহজ উপায়। তো রুনা এক প্রতিপত্তিশালী মন্ত্রীর ভয়ংকর প্রভাব খাটিয়ে আইটি জগতের এই পাঁচতারা কোম্পানিতে ঢুকে পড়ল। কিন্তু এটা কলেজ নয় ঠেকা দিতে দিতে ডাঁয়ে-বাঁয়ে করে হড়কে পিছলে নিস্তার পাওয়া যাবে। এখানে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। প্রথম বছরটা তো ‘ট্রেনিংয়াও নমঃ’ করে কেটে গিয়েছে। দ্বিতীয় বছরটায় মাঠে নেমে গোলশূন্য খেলায় ছোটাছুটি সার। এবার ফলাফল। এমনিতে অমিতাভ চক্রবর্তী কাজের মানুষ। চরিত্রে কোনও দাগছোপ নেই। কিন্তু দিনের শেষে পুরুষমানুষ।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৯: পরবাস প্রস্তুতি (শেষ)

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র

সেই কবে স্বর্গে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে দেবরাজ ইন্দ্র অপারেশন অপ্সরা শুরু করেছিলেন। ঋষি মুনিরা কঠিন তপস্যা করে বিরাট শক্তির অধিকারী হয়ে গেলে কেলেঙ্কারি। রেগে মেগে কখন কোন দেবতাকে শাঁপ দিয়ে দেবেন। স্বর্গরাজ্যের অধিকর্তা ইন্দ্রের পক্ষে সেটা একটা চ্যালেঞ্জিং সিচুয়েশন। তাই তিনি নানাসময়ে রূপ-যৌবনের মায়ায় এই ঋষি মুনিদের ধ্যানভঙ্গ করে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে দিতেন না। লম্বা তালিকা। দেবরাজ বহু বহুবার উর্বশী, মেনকা, রম্ভা, তিলোত্তমা, ঘৃতাচী, সহজন্যা, প্রম্লোচা বা পূর্বচিত্তীর মতো অপ্সরাদের ব্যবহার করে ঋষি বিশ্বামিত্র, ঋষি বিশ্বশ্রবা, ঋষি পরাশর, ঋষি বিভাণ্ডক বা ঋষি কন্নুর মতো শক্তিশালী আরও অনেক মুনি-ঋষিদের কঠোর তপস্যাভঙ্গ করেছেন। সংস্কৃত অপ্সরস থেকে অপ্সরা শব্দের সৃষ্টি, সোজা কথায় সে জলপরী। আরবি ভাষায় তাকে সরাসরি বলা হয়েছে পরীটরী কিছু নয়, তারা স্বর্গের বারাঙ্গনা।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫২: শিকার এবং শিকারী

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা

মোদ্দাকথায় ইউএসপি হল শরীরী বিভঙ্গের আদিম আবেদনের সুকৌশলী ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। নিয়ন্ত্রিত কেন না উদ্দেশ্য সফল করার আগে ধরা দেওয়া যাবে না। তাই একা কনফারেন্স রুমে কাউন্সেলিংয়ের সময়টাই বেছে নিয়েছিল রুনা দত্ত। কাউন্সেলিং ব্যাপারটা হল মিষ্টিকথায় বুঝিয়ে বলা কেন তোমার ইঙ্ক্রিমেন্ট হবে না বা তোমার চাকরিটি থাকবে না। কোনও কোনও অফিস এসবের ধার ধারে না। দুমদাম ভাড়া করে বা তাড়া করে। হায়ার এন্ড ফায়ারের বঙ্গীকরণ! অমিতাভ’র কোম্পানিতে এসব শৌখিন ভদ্রতা ছিল। কিন্তু ১৫ মিনিটে যে কি ম্যাজিক হল ইনক্রিমেন্ট না হলেও রুনা কাজে বহাল থাকলো। আরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট গেল, রুনা দত্তের মধ্যে সদর্থক পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে। সেই পজেটিভ চেঞ্জটা ঘটলো। রুনার সিঁথি রাঙা হল। ঋষি বিশ্বামিত্রের অপ্সরা মেনকাকে বিয়ে করে ফেলার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই অমিতাভ চক্রবর্তী রুনাকে বিয়ে করে ফেললেন।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮২ : সখের চোর

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

সে বিয়ের কি হয়েছিল সে গল্পে যাওয়ার আগে, এখনকার গল্পের চোখ রাখাটা খুব জরুরি। নীলাঞ্জনার সঙ্গে ধুমধাম করে বিয়ের মাস ছয়েক কাটতে না কাটতেই তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এবং গত পরশু রাতে অমিতাভ চক্রবর্তীকে তার নিজের ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নীলাঞ্জনার রেখে যাওয়া ওড়নাতে ফাঁস দিয়ে অমিতাভর দেহ বারান্দার উঁচু লিংয়ের থেকে ঝুলছে। —চলবে।

অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব আগামী বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content