
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
|| ফোটোগ্রাফ-৪ ||
আজাদগড় মীনাপাড়ার দিকে থাকে। সকাল থেকে দু’ বাড়িতে বাসনমাজার কাজ সেরে দশটা নাগাদ বাসনা এই বাড়িতে আসে।
— তুমি যখন আসতে তখন বাড়িতে কেউ থাকতেন না!
— কখনও স্যার থাকতেন। কখনও অফিস বেরিয়ে যেতেন। ঠিক ছিল না!
— আর ম্যাডাম?
— তুমি যখন আসতে তখন বাড়িতে কেউ থাকতেন না!
— কখনও স্যার থাকতেন। কখনও অফিস বেরিয়ে যেতেন। ঠিক ছিল না!
— আর ম্যাডাম?
বাড়িতে এখনও পর্যন্ত ম্যাডাম মানে সিরিয়ালের জনপ্রিয় নায়িকা নীলাঞ্জনা চক্রবর্তীর কোন ছবি নজরে আসেনি ধৃতিমানের। তবু শ্রেয়া প্রশ্নটা করল। কেন করল? প্রশ্নটা চোখে নিয়েই ধৃতিমান তাকালো। শ্রেয়াও উত্তরটা চোখেই দিল পাশের তাকে চোখ ফিরিয়ে কিছু একটা ইঙ্গিত করল। ধৃতিমান কয়েক পা সরে গিয়ে দেখল। তাকে একটা ল্যামিনেশন ছবি উল্টো করে রাখা আছে। গ্লাভস পরা হাতে সাবধানে ছবিটার সামনে দিকটা দেখল ধৃতিমান। মৃত অমিতাভ আর নীলাঞ্জনার বিয়ের চেনা ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকবার নজরে এসেছে ছবিটা। সম্পর্কের মতই ধূসর ধুলোয় উল্টে রাখা আছে। তদন্তের সময়ে ঘরের নানান বস্তুতে হাত দেয় পুলিশ। সন্দেহজনক হলে সেটা ফরেনসিক সংগ্রহ করে। আর বাকি জিনিসপত্র যেমন ছিল সেই অবস্থায় রেখে দেয় এটাই নিয়ম।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৯: মহাভারতের কথা অমৃতসমান কেন?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৮ : শত্রুরা যখন নিজেদের মধ্যে লড়ে, আখেরে লাভ হয় তৃতীয় ব্যক্তিরই

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১২২: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৩

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫০: বালোদক-জাতক—বীরভোগ্যা বসুন্ধরা
এর মধ্যে শ্রেয়ার প্রশ্নোত্তর চলছে।
— ম্যাডাম আসতেন না!
— হুঁ! কবে থেকে আসতেন না?
— অনেক দিন!
— অনেক দিন মানে? একমাস দু’ মাস ছ’ মাস এক বছর! ঠিক কতদিন?
— অতো দিনক্ষণ কী করে বলি!
— ওদের এই বিয়েটা কতদিন হয়েছে?
— এই তো! বছর খানেক হয়নি বোধহয়!
— আর আগের বিয়েটা?
— আগের বিয়ে?
—তুমি কতদিন কাজ করছো?
—আমি! আমি তা বছর দুয়েক!
— তাহলে তো তোমার জানা উচিত!
— কী?
— আগের বিয়ের কথাটা!
— দেখুন আমি এসে তো কাঊকে দেখিনি! আর আমি কাজের লোক – মনিবের কবে কোথায় বিয়ে কী না আমি অতো সতো জানবো কি করে?
— তার মানে তুমি এই পরের বিয়েটার সব জানো!
— সেতো দুনিয়াশুদ্দু লোক জানে! মোবাইলে এত এত ছবি ভিডিও- ম্যাডাম টিভি হিরোইন! হইহই তো হবেই!
— ম্যাডাম আসতেন না!
— হুঁ! কবে থেকে আসতেন না?
— অনেক দিন!
— অনেক দিন মানে? একমাস দু’ মাস ছ’ মাস এক বছর! ঠিক কতদিন?
— অতো দিনক্ষণ কী করে বলি!
— ওদের এই বিয়েটা কতদিন হয়েছে?
— এই তো! বছর খানেক হয়নি বোধহয়!
— আর আগের বিয়েটা?
— আগের বিয়ে?
—তুমি কতদিন কাজ করছো?
—আমি! আমি তা বছর দুয়েক!
— তাহলে তো তোমার জানা উচিত!
— কী?
— আগের বিয়ের কথাটা!
— দেখুন আমি এসে তো কাঊকে দেখিনি! আর আমি কাজের লোক – মনিবের কবে কোথায় বিয়ে কী না আমি অতো সতো জানবো কি করে?
— তার মানে তুমি এই পরের বিয়েটার সব জানো!
— সেতো দুনিয়াশুদ্দু লোক জানে! মোবাইলে এত এত ছবি ভিডিও- ম্যাডাম টিভি হিরোইন! হইহই তো হবেই!
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৫ : অতর্কিতে হামলা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২২: সঞ্চারিত অনুরাগের রেশ
— তুমি সকালে এসে কী দেখলে!
— দরজা বন্ধ!
— বেল বাজালে?
— হ্যাঁ! অনেকবার!
— তারপর।
— পাশের বাড়িতে বললুম!
— আচ্ছা বাসনা! তোমার কাছে তো মোবাইল ফোন ছিল! তুমি ফোন করলে না কেন?
— ফোন?
— হ্যাঁ ফোন! এ বাড়িতে তুমি কাজ করো। ফোনে তো তোমার মনিবের সঙ্গে অনেকবার কথা হয়েছে। কী বল দাদাবাবু ?
— স্যার!
— তা স্যারকে ফোন করলে না কেন? সেটাই তো স্বাভাবিক ছিল!
বাসনা খানিক থমকে থেকে বলে
— হ্যাঁ! আগে মাথায় আসেনি!
— পাশের বাড়ির লোকেরা এসে কী করল?
— নিচের কেলাবের ছেলেরা এলো তারা দরজা ভাঙতে যাচ্ছিল! পাশের বাড়ির কাকু মানা করলেন! বললেন পুলিশে খবর দাও!
— দরজা বন্ধ!
— বেল বাজালে?
— হ্যাঁ! অনেকবার!
— তারপর।
— পাশের বাড়িতে বললুম!
— আচ্ছা বাসনা! তোমার কাছে তো মোবাইল ফোন ছিল! তুমি ফোন করলে না কেন?
— ফোন?
— হ্যাঁ ফোন! এ বাড়িতে তুমি কাজ করো। ফোনে তো তোমার মনিবের সঙ্গে অনেকবার কথা হয়েছে। কী বল দাদাবাবু ?
— স্যার!
— তা স্যারকে ফোন করলে না কেন? সেটাই তো স্বাভাবিক ছিল!
বাসনা খানিক থমকে থেকে বলে
— হ্যাঁ! আগে মাথায় আসেনি!
— পাশের বাড়ির লোকেরা এসে কী করল?
— নিচের কেলাবের ছেলেরা এলো তারা দরজা ভাঙতে যাচ্ছিল! পাশের বাড়ির কাকু মানা করলেন! বললেন পুলিশে খবর দাও!
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪০: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বুনো শুয়োর

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৪ : শুন বরনারী
ঠিক দুপর তিনটে নাগাদ নীলাঞ্জনা এলেন। সাদা শাড়ি। চোখে কালো চশমায় ঢাকা! তাঁর সঙ্গে একজন বাউন্সার! তিনি যে একজন সেলিব্রিটি সেটা বোঝাবার জন্যে বাউন্সার থাকা খুব জরুরি! নীলাঞ্জনা নিঃসন্দেহে পরিচিত মুখ। কিন্তু যারা এখনও সেই পরিচিতি পাননি তারাও ডিজাইনার ড্রেস দামি গাড়ির মতো বাউন্সারের ভাড়া মেটান! এটা আজকের চাহিদা!
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২২ : জনঅরণ্য ও পরশপাথর— যে জন থাকে মাঝখানে

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
বারান্দায় টানা উঁচু গ্রিল দেওয়া। সেখান দিয়ে ঘরে আসার সুযোগ নেই! বাড়ির দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দরজার লক। তার বাইরে কোলাপসেবল গেটে তালা দেওয়া। সবদিক থেকে ব্যাপারটা আত্মহত্যার দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু একটা খটকা বাবু মানে ধৃতিমান চৌধুরীকে ভাবাচ্ছে। বারান্দার উঁচু গ্রিলে নীলাঞ্জনার ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস লাগানোটা যেন ম্যাচ করছে না! অমিতাভ কী চেয়েছিল তার মৃতদেহটা রাস্তা থেকে কেউ দেখতে পাক? —চলবে।
অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















