
ছবি : প্রতীকী।
|| ফোটোগ্রাফ-৮ ||
ধৃতিমানের সঙ্গে কথা না বলেই ব্যাঙ্ক ডিটেলস পাঠিয়ে দিয়েছিলেন শান্তি সর্বজ্ঞ। পরের দিনই ব্যাঙ্কে টাকা ঢুকেছিল আর শান্তি সর্বজ্ঞ দলিলে ধৃতিমানকে দিয়ে সই করিয়ে করিমুলের হাতে ফেরত দিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথমে অভিমানে লাগলেও পরে টাকাটা পেয়েই ধৃতিমান তার পরবর্তী ছবির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শুরু করে দিয়েছিল। কাজ চালু হলে তিনিই তো মাইনে পেতেন। কিন্তু স্বার্থপরের মত স্বার্থহীন মানুষও যথেষ্ট রয়েছেন এই দুনিয়ায়! তাই ইন্ডাস্ট্রির বর্ষীয়ান প্রোডাকশন কন্ট্রোলার জানতে চেয়েছিলেন।
—ভাইপো প্রি-প্রোডাকশনের টাকা কোথায়?
—কেন ব্যাঙ্কে!
—পাসবইয়ে দেখাও তো।
—ওসব আমার কাছে কবে থাকে? সবই তো আপনার কাছে!
পাসবইয়ে দেখা গেল, সেই পুরো টাকাটাই ভাগে ভাগে ব্যাঙ্কে লম্বা সময়ের জন্য এফডি করা হয়েছে। ধৃতিমান টাকাপয়সার ব্যাপারে কখনও খোঁজখবর রাখে না। পুরোটাই শান্তিকাকা দেখতেন। তার মানে এফডির ফর্মে সই তো করেছে। কী, কেন শান্তিকাকাকে কখনও প্রশ্ন করেনি। আজ সেই শান্তিকাকার জন্যই মাসে মাসে পাওয়া একটা মোটা ব্যাঙ্ক ইন্টারেস্ট থেকেই বাবু-বুবুর সংসার বাড়িভাড়া দিয়েও মোটামুটি ভালোভাবে চলে যায়। শান্তিকাকাকে কথা দিয়েছিল তাই ওই এফডি ভাঙেনি। নির্দিষ্ট সময়ের পর অটোরিনিউ হতে থাকে! শান্তিকাকা আজ আর বেঁচে নেই, প্রতিমাসে ব্যাঙ্কের ইন্টারেস্ট ঢোকার এসএমএস-এ শান্তিকাকার কথা মনে পড়ে যায়। বাবুর চোখে জল আসে!
—ভাইপো প্রি-প্রোডাকশনের টাকা কোথায়?
—কেন ব্যাঙ্কে!
—পাসবইয়ে দেখাও তো।
—ওসব আমার কাছে কবে থাকে? সবই তো আপনার কাছে!
পাসবইয়ে দেখা গেল, সেই পুরো টাকাটাই ভাগে ভাগে ব্যাঙ্কে লম্বা সময়ের জন্য এফডি করা হয়েছে। ধৃতিমান টাকাপয়সার ব্যাপারে কখনও খোঁজখবর রাখে না। পুরোটাই শান্তিকাকা দেখতেন। তার মানে এফডির ফর্মে সই তো করেছে। কী, কেন শান্তিকাকাকে কখনও প্রশ্ন করেনি। আজ সেই শান্তিকাকার জন্যই মাসে মাসে পাওয়া একটা মোটা ব্যাঙ্ক ইন্টারেস্ট থেকেই বাবু-বুবুর সংসার বাড়িভাড়া দিয়েও মোটামুটি ভালোভাবে চলে যায়। শান্তিকাকাকে কথা দিয়েছিল তাই ওই এফডি ভাঙেনি। নির্দিষ্ট সময়ের পর অটোরিনিউ হতে থাকে! শান্তিকাকা আজ আর বেঁচে নেই, প্রতিমাসে ব্যাঙ্কের ইন্টারেস্ট ঢোকার এসএমএস-এ শান্তিকাকার কথা মনে পড়ে যায়। বাবুর চোখে জল আসে!
এই সব ভাবতে ভাবতে সন্ধে নেমেছিল কলকাতার বুকে। গ্যাস এসে গেছে বহুকাল। এখন অবশ্য যুদ্ধের আবহে খানিক টানাটানি। আজকাল বাড়িতে বাড়িতে ইডাকশন বা ইলেকট্রিক মাইক্রোওয়েভ অভেনের চল। বিদ্যুৎ তো! নিম্নমধ্যবিত্তের একই সাথে খটকা ও ঝটকা লাগে। মাসের শেষে হাতে ইলেকট্রিক বিল পেলে। এত বিল কেন? এত টাকা? কিন্তু আরও রোজগেরে মানুষজন স্ত্রীকে কুকিংরেঞ্জ কিনে দেন। রান্না করার জন্যে ছিমছাম একটি আসবাব। চাকা লাগানো। হাতল-ওয়ালা। ঠেলে এপাশে-ওপাশে সরানো যায়। ওপরে ঝকঝকে তকতকে কুকিং প্লেট আরও দামি হলে পেটের মধ্যে আভেন। স্টিরিওর মতো ছোটবড় তাপ নিয়ন্ত্রণের নব। বিলিতি ইংরেজিতে তার নাম হব। তবু এখনও আরিফ রোডের দোতলার জানালায় কেরোসিনে জ্বালানো কাঠ বা কয়লার উনুনের ধোঁয়ার গন্ধ পায় ধৃতিমান। এই গন্ধ তাকে মায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। গ্যাসের আকালে আবার কি সেখানেই ফিরবো?
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১২৬: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৭

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৩: জরাসন্ধ ও কৃষ্ণের কথোপকথন সূত্রে নিহিত আছে রাজনীতির পাঠ

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০০ : প্রাচীন ভারতের ‘স্টিং অপারেশন’-এরও নজির মেলে পঞ্চতন্ত্রের কূটনীতিতে!

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৬ : অগ্নি সংস্কার
গলির ভিতরে আদ্যিকালের চায়ের দোকান। সন্ধেবেলায় বিহারি স্বামী-স্ত্রী হাতে গড়া রুটি বানায়। কলকাতার বৌদিরা এখন হাতরুটি কিনে নেন। আটামাখা বেলার অতো সময় কোথায়? ছোটবেলার গোল ফুলকো রুটিকে আজকাল সর্বভারতীয় নামে ডাকা হয়। ফুলকা। চাপাটি হলে তাতে আটায় তেলমেশানো থাকে। আমাদের অতি পরিচিত রুটি আর পরোটার একটা দো-আঁশলা ভার্সন। আটার কত রূপ! ছোটবেলায় আটা ভাঙানোর কল চলতো। ঘরঘর ঘরঘর। রামের গম থেকে রহিমও আটা পেতো। বাদবিচার ছিল না।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৬ : ‘বসন্তবায় মোরে জাগায় পল্লব কল্লোলে’

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৯ : ভোরের রক্তাক্ত কবিতা
বুবু ঘুমিয়ে পড়েছে। তার খাঁচায় রোজকার মতই চাপা দেওয়া। ঘরের আলো নেভানো। বড়বড় গরাদওয়ালা লম্বালম্বা জানলা ছিল এ বাড়িতে। বুবুর জন্যে বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলে আলাদা করে জাল লাগিয়ে নিয়েছে ধৃতিমান। চলকে আসা চাঁদের আলো সেই জাল বেয়ে মেঝেতে পড়েছে। স্টেজে ডিমারের মুখে জাল লাগিয়ে যেরকম একটা এফেক্ট দেওয়া হয়। মেঝেতে ঠিক তেমনি আলো-ছায়ার আঁকিবুকি।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৭: রাজতন্ত্রের শাসন হলেও ত্রিপুরায় তখন ধীরে ধীরে গণচেতনার উন্মেষ ঘটছে

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৫ : য-এ যুদ্ধ
এ সবের মধ্যেই হঠাৎ করে মনে পড়ে গেলো নীলাঞ্জনা আর অমিতাভের কথা। প্রেম হয়েছিল। ভালোবাসা নিশ্চয়ই ছিল। অল্পসময়ের জন্য হলেও ছিল। কিছুদিনের জন্য হলেও তো কাছাকাছি এসেছিলেন তাঁরা। সম্পর্ক ভাঙলো কেন? নীলাঞ্জনা অমিতাভকে ছেড়ে চলে গেলেন কেন? অমিতাভ আর রূনার বিয়ের খবর নীলাঞ্জনা নিশ্চয়ই জানতেন। আচ্ছা রূনার সঙ্গে অমিতাভ’র বিয়ে ভেঙ্গে গিয়েছিলো কেন? ছোটবেলায় প্রিলিমিনারি এরিথম্যাটিক বা প্রাথমিক পর্যায়ের পাটিগণিতে আননোন নম্বর মানে অজানা সংখ্যা বের করতে হতো। অমিতাভ হত্যার রহস্য এ ধরনের অনেকগুলো অজানা সংখ্যা খুঁজে বের করতে হবে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪২: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — গঙ্গার শুশুক

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
হঠাৎ দেখলো উল্টো করে রাখা টেলিফোনটা কাঁপছে। বুবু শুয়ে পড়লে ফোনটা সাইলেন্টে চলে যায়। ফোন সোজা করে দেখলো শ্রেয়া! সকালে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে ওই ভাবে দুম করে ধৃতিমানকে কিছু না বলে অমিতাভ’র ফ্ল্যাট ছেড়ে গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়া বা খানিকপরেই আবার লোকাল থানার এএসআই বরুণ দত্তকে ফোন করে ধৃতিমানকে ষ্টেশনে পৌঁছে দিতে বলা– তার এতোক্ষণ পর আবার শ্রেয়ার ফোন!
—হ্যালো! —চলবে।
—হ্যালো! —চলবে।
অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















