রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

 

|| ফোটোগ্রাফ-১৯ ||

নীলাঞ্জনা চক্রবর্তী। টিভি সিরিয়াল নায়িকা। তাঁর প্রাক্তন স্বামী অমিতাভ চক্রবর্তীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত করছেন কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগ। সেই সূত্রে বাবু মানে আমাদের ধৃতিমান চৌধুরী অমিতাভ হত্যারহস্য সমাধানে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে সহায়তা করছেন।

অমিতাভ চক্রবর্তী দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা চক্রবর্তী হোয়াটসঅ্যাপ- এ ভয়েস মেসেজ করে তাঁর স্বীকারোক্তি জানিয়েছেন। তদন্তকারী অফিসের শ্রেয়া বাসুর কাছে আসা সেই স্বীকারোক্তি শ্রেয়া ধৃতিমানকে ফরওয়ার্ড করেছে। আরিফ রোডের ভাড়াবাড়ির দোতলার ঘরে অন্ধকার মধ্যরাতে কানে হেডফোন দিয়ে ধৃতিমান শুনছে সেই স্বীকারোক্তি।
—আমি মেসেজ করে জানিয়েছিলাম কোনও সময় ফোন করলে আমি স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারব। অবশ্যই শুটিংয়ের পরে বাড়িতে। এক্ষেত্রে তিনি নিশ্চয়ই কিছু জানাতে চান তাই আমি শুনবো তিনি বলবেন। মায়ের সামনে খুব একটা অসুবিধা হবে না। রাতে ফোন এলো। মহিলা নিজের পরিচয় দিলেন রুনা দত্ত। বিয়ের পর রুনা দত্ত চক্রবর্তী লিখতেন। মোটা টাকা অ্যালামনি নিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি আবার পুরনো নামে ফিরেছেন।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০২ : ‘স্বজাতির্দূরতিক্রমা’—জন্মগত স্বভাব কি কখনও বদলায়? পঞ্চতন্ত্রের পাতায় এক অমোঘ রাজনৈতিক সত্যের

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯২ : শিউলি বাড়ি

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৯ : আড়ালে আছে আততায়ী

আমি জানালাম “আপনি কে, তা আমি বুঝতে পেরেছি। বলুন কি বলতে চান?” রুনা বললেন, “আবার একটা বিয়ে ভাঙছে?’
আমি চুপ করে ছিলাম। আমার সেই নিয়ে নতুন করে বলার কিছু ছিলো না। আর আমার মা ছিলেন পাশের ঘরে। তাই কিছু বলিনি। রুনা বুদ্ধিমতী। বুঝলেন ফোনটা আমি শুনতেই ধরেছি। কথা বলতে নয়। রুনা এরপর না থেমে প্রায় একটানা বলে গেলেন
আরও পড়ুন:

আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৭২: আকাশ এখনও মেঘলা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৪: কুকুরমুখো ফল বাদুড়

—আমিও প্রথমে বুঝতে পারিনি। আমি একটা সুখী সংসার চেয়েছিলাম। হ্যাঁ আমি যে অমিতাভকে জোর করে বিয়ে করেছিলাম সেটা আপনি নিশ্চয়ই ওর কাছে শুনেছেন। প্রথম কিছুদিন যেন স্বপ্নের মতো কেটে গেল। আমরা কাশ্মীর বেড়াতে গেলাম। ফিরে এসে মন দিয়ে সংসার গড়তে শুরু করলাম। বাচ্চা আমি ভালোবাসি কিন্তু হুড়োহুড়ি না করে একটু সময় চেয়েছিলাম। এর মধ্যে প্রাথমিক ভালোলাগা থিতিয়ে এলো। ও বাড়িতে যাবার পর থেকে দেখতাম কাজের মেয়ে বাসনার খুব দাপট।
ভয়েস মেসেজ থমকে দিল ধৃতিমান।
আরও পড়ুন:

সাগর উঠে তরঙ্গিয়া

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

চোখ বুজে একবার ফিরে গেল রিজেন্ট পার্ক পোস্ট অফিসের পাশের গলিতে অমিতাভ’র ফ্ল্যাটে। সেদিন শ্রেয়া বাসনাকে জেরা করছিল।
— তুমি কতদিন কাজ করছো?
জেরার মুখে ঠিক কী বলেছিল কাজের মেয়ে বাসনা?
— আমি! আমি তা বছর দু’য়েক!
—- তাহলে তো তোমার জানা উচিত!
— কী?
— আগের বিয়ের কথাটা!
— দেখুন, আমি এসে তো কাউকে দেখিনি! আর আমি কাজের লোক মনিবের কবে কোথায় বিয়ে কি না আমি অতশত জানবো কী করে?
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬২: যুদ্ধের নৃশংসতা নয়, জনমানসে ঠাঁই পায় শুধু যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য

তার মানে রুনার সঙ্গে দেখা হওয়ার ব্যাপারটা আজাদগড় মিনাপাড়ার বাসিন্দা কাজের মেয়ে বাসনা অস্বীকার করেছিল? কিন্তু কেন? হঠাৎ এর সঙ্গেই চোখে ভেসে উঠল একটা ছবি। নীলাঞ্জনা ও অমিতাভ’র যুগল ছবির ল্যামিনেশন। কিন্তু এই ছবিটাই কেন? ভাবতে গিয়েই মনে হল একঝলক দেখা ছবিটায় কিছু ছিল। এখন ভোর রাত। শ্রেয়া ঘুমোচ্ছে। কিন্তু সকাল হলেই একবার কথা বলা দরকার। সাতসকালে শ্রেয়াই ফোন করল।
— গুড মর্নিং!
— হ্যাঁ মর্নিং!
— শুনলেন কী সাংঘাতিক?

শ্রেয়া কী মীন করছে? ভয়েস মেসেজে সাঙ্ঘাতিক কী ছিল? রুণার ফোন? বাকিটা তো শোনা হয়নি।
— হ্যালো! হাই তুলছেন না কি? রাতে ঘুম হয়নি?
— না! ভোর হবার অপেক্ষায় ছিলাম!
— কেন?
— আচ্ছা আপনার মনে আছে, অমিতাভের ফ্ল্যাট থেকে সিজার লিস্টে নীলঞ্জনা-অমিতাভের ল্যামীনেটেড একটা ফোটো ছিল কিনা?
— যেটা তাকের ওপর রাখা ছিল?
— হ্যাঁ, হ্যাঁ! আপনার মনে পড়েছে?
— হ্যাঁ, ওটাতো সোশ্যাল মিডিয়ায় আছে। কমন ছবি!
— ছবিটা কিছু আনিউজিয়াল কিছু নজরে আসেনি।
— সোশ্যাল মিডিয়ার ছবিতে তো…। তবে ছবিটা এখনো ওই ফ্ল্যাটেই আছে। ওটা সিজ করা হয়নি
— ফ্ল্যাট সিল করা আছে তো?
— এনি ক্লু?
— আমি সিওর নই। কিন্তু সামথিং ইজ রং! আজ একবার দেখা যায় ? কিন্তু সীল খুলতে তো
— ওটা আমি করে নেবো! আপনি ১১টা না ১২টায় চলে আসুন অফিসে।—চলবে।

অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content