মঙ্গলবার ৯ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগ্রহীত।

মহর্ষি সুতীক্ষ্ণের অনুমতি নিয়ে, সস্ত্রীক রাম ভাই লক্ষ্মণের সঙ্গে দণ্ডকারণ্যের অভিমুখে রওনা দিলেন। দেবী সীতা মনোগ্রাহী স্নিগ্ধবচনে স্বামীকে বললেন, ধর্মের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিচারানুসারে রাম অধর্মাচরণে যুক্ত হয়েছেন, কামজব্যসন হতে নিবৃত্ত হলে রাম, এর থেকে রেহাই পেতে পারেন। কামজব্যসনের তিনটি প্রকারভেদ আছে। মিথ্যা ভাষণ, পরস্ত্রীর প্রতি আসক্তি ও বিনা শত্রুতায় কারও প্রতি রুদ্ররূপধারণ।এদের মধ্যে মিথ্যাভাষণ ভয়ানক হলেও, অপর দুটি আরও গুরুতর। সীতার অভিমত, রাম অতীতে মিথ্যা বলেননি ভবিষ্যতেও নয়। মিথ্যাবাক্যং ন তে ভূতং ন ভবিষ্যতি রাঘব।

নরশ্রেষ্ঠ রামের, পরস্ত্রীর প্রতি আসক্তিরূপ অধর্মাচরণ কোন দিন হয়নি, হবেও না কোনওদিন। হে রাজপুত্র রাম, তোমার মনে এমন প্রবৃত্তি কখনও নেই। তুমি যে নিয়ত নিজপত্নীতেই নিমগ্ন হয়ে আছ। মনস্যপি তথা রাম ন চৈতদ্বিদ্যতে ক্বচিৎ। স্বদারনিরতশ্চৈব নিত্যমেব নৃপাত্মজ।। ধর্মনিষ্ঠ, সত্যপ্রতিজ্ঞ, পিতার আজ্ঞা পালনকারী রামের মধ্যে ধর্ম ও সত্যনিষ্ঠতা সর্বদাই প্রতিষ্ঠিত। যাঁরা সংযতেন্দ্রিয় তাঁরা এই গুণগুলি ধারণ করতে সক্ষম হন। রাম যে জিতেন্দ্রিয়, এ সত্য প্রাণীদের অবিদিত নয়। তৃতীয় ব্যসন, শত্রুতা বিনা প্রাণীহিংসার মতো ভয়ঙ্কর রুদ্ররূপধারণ। যেটিতে মোহবশত আসক্ত হয় মানুষ। তচ্চ তে সমুপস্থিতম্ সেটি এখন রামের সম্মুখে সমুপস্থিত হয়েছে। সীতার বক্তব্য হল, রাম দণ্ডকারণ্যবাসী ঋষিদের রক্ষার্থে যুদ্ধে রাক্ষসবধের নিমিত্ত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। এই কারণেই, ধনুর্বাণ ধারণ করে, ভাইয়ের সঙ্গে বিখ্যাত দণ্ডকবনে এসেছেন।

সীতা জানালেন, প্রস্থানরত রামকে দেখে, তাঁর মঙ্গলচিন্তায়, সীতার মন ব্যাকুল হয়েছে। সীতা এবারে স্পষ্টভাষায় বললেন, ন হি মে রোচতে বীর গমনং দণ্ডকান্ প্রতি। কারণং তত্র বক্ষ্যামি বদন্ত্যাঃ শ্রূয়তাং মম।। আমার দণ্ডকারণ্যে যেতে আমার রুচি নেই মোটেই। এর কারণগুলি এখন বলব, তুমি শোন। ভাই-সহ ধনুর্বাণধারী রাম বনে বনচরদের (রাক্ষসদের) দেখে বাণক্ষয় করবেন। অগ্নির ইন্ধন অর্থাৎ দাহ্যবস্তু কাছাকাছি হলে তার তেজ বৃদ্ধি করে থাকে তেমনই ক্ষত্রিয়দের ধনুক নিকটবর্তী হলে বল বৃদ্ধি করে থাকে।
স্ববক্তব্যের সমর্থনে সীতা একটি কাহিনির অবতারণা করলেন। পুরাকালে মৃগগণ-অধ্যুষিত এক পুণ্য বনে একজন সত্যনিষ্ঠ পবিত্র তপস্বী বাস করতেন। তাঁর তপস্যার বিঘ্ন ঘটানর ইচ্ছায় শচীপতি ইন্দ্র, খড়্গহাতে, সেই আশ্রমে এসে উপস্থিত হলেন। দেবরাজ, পুণ্যতপস্যারত মুনির কাছে তাঁর অসি ন্যাসরূপে (গচ্ছিত ধন) গচ্ছিত রাখলেন। তিনি উত্তম খড়্গটি ন্যস্ত করলেন। আত্মবিশ্বাসী মুনি, গচ্ছিতধনের রক্ষাবিষয়ে সতর্ক হয়ে, অস্ত্রটি রক্ষা করতে সারা বনে বিচরণ করতে লাগলেন। ন্যাসরক্ষায় তৎপর মুনি, ফলমূল আহরণকালীনও খড়্গ বিনা যেতেন না। অস্ত্র- বহনে অভ্যস্ত হয়ে মুনি ক্রমে ক্রমে তপস্যার নিষ্ঠা ত্যাগ করে, উগ্র রুদ্ররূপধারণে আসক্ত হলেন।

ভয়ঙ্কর রৌদ্রকর্মাসক্তিতে নিরত, অস্ত্রধারণে অভ্যস্ত মুনি, বিভ্রান্ত হয়ে অধর্মাচরণের কারণে নরকে গেলেন। অস্ত্রসংসর্গের এমনই পুরা কাহিনি প্রচলিত আছে। শস্ত্রসংযোগকে, অগ্নিসংযোগতুল্য হেতু (বিকারহেতু) বলা হয়ে থাকে। সীতা সবিনয়ে স্বামীকে বললেন, সসম্মানে প্রীতিভরে তোমায় মনে করিয়ে দিলাম, শিক্ষা দিচ্ছি না কিন্তু। বিনা শত্রুতায় কখনও দণ্ডকবনাশ্রিত রাক্ষসবধ, ধনুর্ধারী তোমার উচিত কাজ নয়। স্নেহাচ্চ বহুমানাচ্চ স্মারয়ে ত্বান্তু শিক্ষয়ে। ন কথঞ্চন সা কার্য্যা গৃহীতধনুষা ত্বয়া।। বিনাপরাধে নরহত্যা, বীরের উপযুক্ত কাজ নয়। অপরাধং বিনা হন্তুং লোকো বীর ন মৎস্যতে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৮: পার্ক স্ট্রিট থেকে মহর্ষি ফিরে এসেছিলেন জোড়াসাঁকোয়

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮২: ত্রিপুরা : উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রত্নভূমি ঊনকোটি

জানকীর মতে, অরণ্যে, সংযতেন্দ্রিয় ক্ষত্রিয় বীরদের কাজ হল, ধনুক দ্বারা আর্তদের সুরক্ষাদান। কোথায় অস্ত্র, কোথায় অরণ্য, কোথায় ক্ষত্রিয়ধর্ম আর কোথায় বা তপস্যা, দুই ধর্মের বৈপরীত্যহেতু এই সবকিছুই পরস্পরবিরোধী। সীতার অনুরোধ, তাই আমাদের দেশধর্মের প্রতি (অরণ্যে তপস্বীদের আচরিত ধর্ম) সম্মানপ্রদর্শন কর্তব্য। দেশধর্মস্তু পূজ্যতাম্। শস্ত্রধারণের ফলে কদর্য ও কালিমাযুক্ত বুদ্ধির উদয় হয়।

সীতার প্রস্তাব, অযোধ্যায় ফিরে গিয়ে, বরং রাম ক্ষত্রিয়দের আচরিতধর্ম পালন করবেন। যদি রাম রাজ্য ত্যাগ করে মুনিবৃত্তি অবলম্বন করেন তবে সীতার শ্মশ্রূমাতা ও শ্বশুরমহাশয়, অপরিসীম আনন্দ লাভ করবেন। ধর্ম হতে অর্থ, ধর্ম হতেই সুখোৎপত্তি, ধর্মে দ্বারা সবকিছু লাভ করা সম্ভব। পৃথিবীতে ধর্মই সারবস্তু। নিয়মনিষ্ঠ দক্ষ মানুষ, নিয়মগুলি পালন করে, নিজেকে কৃশ পরিণত করে, ধর্ম লাভ করে থাকেন। কারণ, সুখে নিমগ্ন থেকে সুখদায়ক ধর্মলাভ সম্ভব নয়। স্বামীর প্রতি সীতার অনুরোধ, হে সৌম্য,তুমি পবিত্র মনে তপোবনের আচরণীয় ধর্ম পালন কর। ত্রিলোকের সমস্ত বিষয় সম্বন্ধে তোমার যথাযথ জ্ঞান আছে। নিত্যং শুচিমতিঃ সৌম্য চর ধর্ম্মং তপোবনে। সর্ব্বন্তু বিদিতং তুভ্যং ত্রৈলোক্যমপি তত্ত্বতঃ।।

সীতা জানালেন, স্ত্রীলোকসুলভ চপলতাহেতু এমন বলেছেন, তা না হলে রামকে ধর্মোপদেশদানের সাধ্য কার আছে? আর বিলম্ব নয়, ভাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে, রাম যেটি উচিত কাজ বলে মনে করেন, সেটিই করুন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪০: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

উত্তম কথাচিত্র,পর্ব-৭২ : গলি থেকে রাজপথ

মহর্ষি সুতীক্ষ্ণের পরামর্শ অনুযায়ী, রাম দণ্ডকারণ্য অভিমুখে যাত্রা করলেন।বাদ সাধলেন স্ত্রী সীতা। তিনি এই যাত্রায় অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন। তাঁর এই অসম্মতি প্রকারান্তরে রামের সমালোচনার নামান্তর। এই সমালোচনায় নেই কোনও নঞর্থক চিন্তার প্রভাব, নেই কোনও নিন্দাপূর্ণ তিরস্কারের ক্লেদ। এই প্রস্তাবে স্বামীর মঙ্গলচিন্তায় নিবেদিতপ্রাণ এক গৃহবধূর সম্পূর্ণ নিখাদ ভালবাসার অভিব্যক্তি পরিস্ফুট হয়েছে। সীতার এই স্বাধীন মতপ্রকাশে আছে রক্ষণশীল প্রাচীন ভারতবর্ষের সামাজিক বাতাবরণে এক গৃহবধূর অনবদ্য আধুনিকতা, আছে ক্ষত্রিয়া নারীর পরিশীলিত ভাষণের রুচিবোধ। এ ছাড়াও স্পষ্ট হয়েছে এক নারীর দ্বিচারিতাহীন আত্মবিশ্বাসী ভাবমূর্তি। কোনও কর্কশ, কদর্য তিরস্কার নয়, ধৈর্যশীলা নারীর অসীম স্থৈর্য্য তাঁর চরিত্রমাধুর্য বৃদ্ধি করেছে। রাজাদের ব্যসনাসক্তির প্রবণতাসম্বন্ধে তিনি সম্পূর্ণভাবে অবহিত। দেবী সীতার উল্লেখিত কামজব্যসনের প্রথম প্রকারভেদ, মিথ্যাভাষণ। মিথ্যা বলার প্রবৃত্তি রামের নেই। এ কথা অকপটে ঘোষণা করছেন সীতা। পরস্ত্রীবিষয়ে জিতেন্দ্রিয় রাম নির্লিপ্ত,এ বিষয়ে তাঁর গভীর বিশ্বাস। তাই, স্বামীর কাছে স্ত্রী সীতার স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, কুতোঽভিলষণং স্ত্রীণাং পরেষাং ধর্ম্মনাশনম্। তব নাস্তি মনুষ্যেন্দ্র ন চাভূৎ তে কদাচন।।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৩ : জনঅরণ্য: সরস্বতী না লক্ষ্মী?

রাম সর্বদাই স্বদারনিয়তঃ স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত, এই বিষয়ে সীতা নিঃসন্দেহ। রামের স্ত্রীর প্রতি একনিষ্ঠতা সীতার গভীর আত্মতৃপ্তির উৎস। স্বামীদের তথাকথিত বিশ্বস্ততার প্রতি আসক্তির ঊর্দ্ধে নন তিনি। স্বামীর কাছে সীতার কাঙ্খিত প্রত্যাশা, যে কোনও ভারতীয় বধূর স্বামীর কাছে প্রত্যাশিত একান্ত চাহিদা। কিন্তু কামজব্যসনের তৃতীয় প্রকারভেদব্যাখ্যায় সীতার অনন্যতা প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁকে ব্যতিক্রমী নারীতে পরিণত করেছে। প্রথম দুটিতে স্বামীর কাছে সীতার চাহিদা আর পাঁচটি আটপৌরে পরিমণ্ডলের অঙ্গনার থেকে পৃথক নয়।স্বামীস্ত্রীর চিরন্তন সম্পর্কের রসায়ন একটি গণ্ডীতে সীমাবদ্ধ।ক্রমে রামের কাছে সীতার প্রত্যাশার গ্রাফটি উর্দ্ধমুখী হয়ে, তাঁকে যে কোনও প্রাণের প্রতি সহানুভূতিশীলা এক কোমলপ্রাণা নারীতে পরিণত করেছে। এই সংবেদনশীলতা সীতাকে পারিবারিক গণ্ডী ভেঙ্গে এক বৃহত্তর প্রেমের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড় করিয়েছে। স্বামীর মধ্যে কামজব্যসনের তৃতীয়টির প্রবণতাপ্রসঙ্গে সীতার মূল প্রতিবাদী সত্তার বিকশিত রূপটি দেখা যায়। বিনা শত্রুতায় প্রাণীহত্যা, সীতার মতবিরুদ্ধ বিষয়। রাম দণ্ডকারণ্যবাসী ঋষিদের রক্ষার্থে রাক্ষসবধ করবেন, এটি রামের দণ্ডকারণ্যগমনের মূল কারণ। এই কারণে রামের ক্ষত্রিয়তেজবৃদ্ধিতে, সীতার ঘোর আপত্তি। সেই জন্যই দণ্ডকারণ্যগমনে সীতার অনিচ্ছা।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৫: সুন্দরবনের পাখি: বিলের বালুবাটান

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

রামের মঙ্গলচিন্তায় সীতা ব্যাকুল হয়েছেন। বোধ হয়, জিতেন্দ্রিয় রামের এই প্রাণীহিংসার্থে রুদ্ররূপধারণ তাঁর নৈতিকতার অবক্ষয় বলে মনে হয়েছে।কারণ আর্তদের পরিত্রাণ ক্ষত্রিয়দের ধর্ম। সীতার মনে হয়েছে,অরণ্য ও অস্ত্রধারণ, তপস্বীদের ধর্ম ও ক্ষত্রিয়ধর্মপালন—এই দুয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। অনবরত অস্ত্রসাহচর্যে বুদ্ধি কালিমালিপ্ত হয়,অস্ত্রব্যবহারের স্থান অরণ্য নয়, অযোধ্যা ক্ষত্রধর্মপালনের আদর্শ স্থান। সীতার বক্তব্যের সমর্থনে যে কাহিনিটি বলেছেন,সেটি হয়তো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। অহিংস ঋষির, দেবরাজ ইন্দ্রের অস্ত্রসংরক্ষণের সূত্রে তপস্যার পথ বিসর্জন দিয়ে ভয়ঙ্কর হিংস্রবৃত্তি অবলম্বন, হয়তো নিতান্তই ব্যতিক্রমী ঘটনামাত্র। কিন্তু সীতার কাহিনির মূল বক্তব্য হয়তো স্বামী রামের হিংসার পথ অবলম্বন, প্রতিহত করা। সন্ত্রাস কোন যুগেই সমাদৃত হয়নি। বর্তমান পৃথিবীতেও সন্ত্রাসবাদীদের উগ্রতা নিন্দিত ও ধিক্কৃত হয়ে থাকে।সীতার মূল প্রতিবাদ সেই উগ্র ত্রাসসৃষ্টির বিরুদ্ধে। সত্যপরায়ণ ধার্মিক রামের পাছে নৈতিক পদস্খলন হয়, সে বিষয়ে তিনি ব্যাকুল হয়েছেন।

কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগ্রহীত।

সীতার বক্তব্যের মূল সুরটি বোধ হয়, রামের, ঋষিদের সুরক্ষাদানের আশ্বাসে নয়,অকারণে কোন হিংস্র কাজে লিপ্ত হওয়ায়। এই মানবিকবোধে উদ্দীপ্তা সীতার এ যেন নতুন রূপ। পতিগতপ্রাণা সীতা অবশ্যই স্বামীর কল্যাণ কামনা করেই তাঁর বক্তব্য রেখেছেন। তবে সার্বিকভাবে তিনি যেন অরণ্যজীবনে সকল জীবের প্রতি সহানুভূতিশীলা মঙ্গলময়ী এক নারী। মানবিকতার দীপ্তিতে উজ্জ্বল ভারতীয় নারীর আদর্শ ভাবমূর্তি সীতা। স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় পূর্ণ কণ্ঠে নিজের সুঠাম বক্তব্য উপস্থাপনের আদর্শ ক’জনের আছে? প্রীতি ও সংবেদনশীলতা, পারিবারিক গণ্ডী ছাপিয়ে যখন সকলের মঙ্গলকামনায় উৎসারিত হয় তখন তার আবেদন বিশ্বজনীন হয়ে ওঠে। রামায়ণের বিনম্র সীতার এই বক্তব্য উপস্থাপনা, কী সন্ত্রাসকবলিত আধুনিক ভারতীয় জনজীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করতে পারে?—চলবে।

* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content