
ছবি : প্রতীকী।
|| ফোটোগ্রাফ-২০ ||
গোয়েন্দা দফতর হয়ে শ্রেয়ার সঙ্গে রিজেন্ট পার্কে অমিতাভ চক্রবর্তী বন্ধ ফ্ল্যাটে পৌঁছল ধৃতিমান। পৌঁছনোর আগেই শ্রেয়া মোবাইলে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছিল। ফ্ল্যাটের নিচে লোকাল থানার এএসআই বরুণ দত্ত অপেক্ষা করছিলেন। লোকাল থানার তত্ত্বাবধানে সিল ভাঙা হল। হাতে প্রথামত গ্লাভস পরে সাবধানে ঘরের ভিতরে ঢুকে ধৃতিমান সেই ছবিটা বের করে আনল। সিঁড়ির জানলার কাছে আলোয় ধৃতিমান ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ছবিটা দেখল। একবার দু’বার তিনবার! প্রতিবার সে যেন বিড়বিড় করে নিজের সঙ্গে কথা বলছিল। শ্রেয়া এই ধৃতিমানকে চেনে। আগে বহুবার ধৃতিমানের এই চেহারা সে দেখেছে।
রহস্য সমাধানের ঠিক আগে আগে ধৃতিমান ঠিক এইভাবে নিজের সঙ্গে কথা বলতে থাকে। শ্রেয়া অনেক সময় ঠাট্টা করে বলেছে—
— ফেলুদা তোপসে বা লালমোহনবাবুর সঙ্গে আলোচনা করতেন। ব্যোমকেশ আলোচনা করতেন অজিত বা সত্যবতীর সঙ্গে, কিন্তু আপনার সহকারী মিস বুবু তো আরিফ রোডের বাড়িতে খাঁচায় বসে একাএকা বকবক করছে আর আপনি নিজের মনের সঙ্গে কথা বলছেন! বরং আমাকে অ্যাসিস্ট্যান্ট করে নিন!
— ফেলুদা তোপসে বা লালমোহনবাবুর সঙ্গে আলোচনা করতেন। ব্যোমকেশ আলোচনা করতেন অজিত বা সত্যবতীর সঙ্গে, কিন্তু আপনার সহকারী মিস বুবু তো আরিফ রোডের বাড়িতে খাঁচায় বসে একাএকা বকবক করছে আর আপনি নিজের মনের সঙ্গে কথা বলছেন! বরং আমাকে অ্যাসিস্ট্যান্ট করে নিন!
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৩৮: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৯

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৯: বিড়ালীকৌশিক-জাতক —অতি ইচ্ছার সঙ্কট

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯২ : শিউলি বাড়ি
তখন ধৃতিমান হাসতে হাসতে বলেছে—
— আপনি খুব কস্টলি অ্যাসিস্ট্যান্ট! আমি অ্যাফোর্ড করতে পারবো না!
কথাগুলো ভেবে নিজের মনে হাসছিল শ্রেয়া—
— এবার সিল করে দিতে বলুন!
ধৃতিমানের কথায় শ্রেয়ার মনের ঘোর কাটল।
— আর কিছু নেওয়ার নেই!
— উঁহু!
— কেস সলভড?
— হুঁ! মনে হচ্ছে! বরুণবাবুকে একটা কথা বলতে হবে! আর একবার।
শ্রেয়া বহুদিন ধৃতিমানের সঙ্গে কাজ করছে। অনেক তদন্তের সফল সমাধানে তারা কাছাকাছি কাজ করেছেন। তাই ধৃতিমানের কথা শেষ হতেই শ্রেয়া বলে উঠল —
— বাসনার সঙ্গে কথা বলতে চান?
— আপনি খুব কস্টলি অ্যাসিস্ট্যান্ট! আমি অ্যাফোর্ড করতে পারবো না!
কথাগুলো ভেবে নিজের মনে হাসছিল শ্রেয়া—
— এবার সিল করে দিতে বলুন!
ধৃতিমানের কথায় শ্রেয়ার মনের ঘোর কাটল।
— আর কিছু নেওয়ার নেই!
— উঁহু!
— কেস সলভড?
— হুঁ! মনে হচ্ছে! বরুণবাবুকে একটা কথা বলতে হবে! আর একবার।
শ্রেয়া বহুদিন ধৃতিমানের সঙ্গে কাজ করছে। অনেক তদন্তের সফল সমাধানে তারা কাছাকাছি কাজ করেছেন। তাই ধৃতিমানের কথা শেষ হতেই শ্রেয়া বলে উঠল —
— বাসনার সঙ্গে কথা বলতে চান?
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৩: রাজসূয় মহাযজ্ঞের প্রস্তুতিপর্বে পাণ্ডবদের দিগ্বিজয় যেন রাজনীতির আনুগত্য-আদায়ের পাঠ

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা
বাসনার খোঁজে লোকাল থানার এ এস আই বরুণ গিয়ে জানতে পারলো বাসনা বাড়িতে নেই কাজে গেছে। শ্রেয়ার কাছে খবর এলো। শ্রেয়ার তৎক্ষণাৎ নির্দেশ —
— বাড়িতে যারা আছে তাদের মোবাইলগুলো নিয়ে নিন! না হলে বাসনাকে পাওয়া যাবে না! আর যে যে বাড়িতে বাসনা কাজ করে সেখানে তাড়াতাড়ি লোক পাঠান। আর বাসনাকে পেলে সঙ্গে সঙ্গে তার ফোনটা সিজ করবেন।
— বাড়িতে যারা আছে তাদের মোবাইলগুলো নিয়ে নিন! না হলে বাসনাকে পাওয়া যাবে না! আর যে যে বাড়িতে বাসনা কাজ করে সেখানে তাড়াতাড়ি লোক পাঠান। আর বাসনাকে পেলে সঙ্গে সঙ্গে তার ফোনটা সিজ করবেন।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৩: স্মৃতিশাস্ত্রের রক্তচক্ষু বনাম এক স্নেহশীল পিতা: মূষিক-কন্যার বিবাহ-উপাখ্যান

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
ধৃতিমান অবাক হয়ে ভাবছিল শ্রেয়াকে তার সন্দেহের কিছু প্রায় বলা হয়নি। কিন্তু ঘটনাটা আন্দাজ করে শ্রেয়া যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেগুলো একদম ঠিকঠাক। একজন সন্দেহভাজনকে কোনরকম চালাকি করতে না দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে নিতে এভাবেই এগোতে হবে।
পুলিশের তৎপরতায় বাসনাকে পাওয়া গেল। শ্রেয়া নির্দেশ দিল তাকে থানায় বসিয়ে বরুন যেন লোকজন নিয়ে এসে অমিতাভর রিজেন্ট পার্কের এই ফ্ল্যাট আবার সিল করে দেয়।
বরুনের ওপর ফ্ল্যাট সিল করার দায়িত্ব দিয়ে সে আজ ধৃতিমানকে জিজ্ঞেস করল —
— অতঃকিম?
ধৃতিমানের উত্তর
— একটা নয় তিনটি কাজ
— একে একে বলে ফেলুন।
— তিনটে তিন জায়গায়।
— নো প্রবলেম!
— এই ছবিটায় কারও একটা রিফ্লেকশন আছে। ডিজিটালি যেকোন ভাবে সেই রিফ্লেকশনটা আরো স্পষ্ট করতে হবে।
পুলিশের তৎপরতায় বাসনাকে পাওয়া গেল। শ্রেয়া নির্দেশ দিল তাকে থানায় বসিয়ে বরুন যেন লোকজন নিয়ে এসে অমিতাভর রিজেন্ট পার্কের এই ফ্ল্যাট আবার সিল করে দেয়।
বরুনের ওপর ফ্ল্যাট সিল করার দায়িত্ব দিয়ে সে আজ ধৃতিমানকে জিজ্ঞেস করল —
— অতঃকিম?
ধৃতিমানের উত্তর
— একটা নয় তিনটি কাজ
— একে একে বলে ফেলুন।
— তিনটে তিন জায়গায়।
— নো প্রবলেম!
— এই ছবিটায় কারও একটা রিফ্লেকশন আছে। ডিজিটালি যেকোন ভাবে সেই রিফ্লেকশনটা আরো স্পষ্ট করতে হবে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭০ : চার্চ হাসপাতালের সেই সকাল
ছবিটা ভালো করে দেখতে দেখতে শ্রেয়া বলল—
— আশ্চর্য সোশ্যাল মিডিয়ার একটা ছবিতেও এই রিফ্লেকশনটা কিন্তু নেই!
— মোবাইলে এআই দিয়ে রিফ্লেকশন অ্যাভয়েড করা যায়।
— আমাদের এখন রিফ্লেকশনটা কী সেটা খুঁজে বার করতে হবে?
— হ্যাঁ! যেতে হবে অমিতাভ চক্রবর্তী ব্যাংকের ব্রাঞ্চে।
— চারটে ব্যাংকে টাকা রাখেন। কোনটাও যাব?
— যে ব্যাংকের সবথেকে কম ট্রানজাকশন হয় সেখান থেকে শুরু করতে হবে। যেটা খুঁজছি সেটা না পেরে চারটে ব্যাংকেই যেতে হবে।
— স্টেটমেন্ট চেয়ে নিতে পারি।
— কবেকার স্টেটমেন্ট চাইবো সেটাই তো জানি না।
— তাহলে খুঁজবো কি করে?
— মেডিক্যাল এক্সপেন্সেস!
— হোয়াট? —চলবে।
— আশ্চর্য সোশ্যাল মিডিয়ার একটা ছবিতেও এই রিফ্লেকশনটা কিন্তু নেই!
— মোবাইলে এআই দিয়ে রিফ্লেকশন অ্যাভয়েড করা যায়।
— আমাদের এখন রিফ্লেকশনটা কী সেটা খুঁজে বার করতে হবে?
— হ্যাঁ! যেতে হবে অমিতাভ চক্রবর্তী ব্যাংকের ব্রাঞ্চে।
— চারটে ব্যাংকে টাকা রাখেন। কোনটাও যাব?
— যে ব্যাংকের সবথেকে কম ট্রানজাকশন হয় সেখান থেকে শুরু করতে হবে। যেটা খুঁজছি সেটা না পেরে চারটে ব্যাংকেই যেতে হবে।
— স্টেটমেন্ট চেয়ে নিতে পারি।
— কবেকার স্টেটমেন্ট চাইবো সেটাই তো জানি না।
— তাহলে খুঁজবো কি করে?
— মেডিক্যাল এক্সপেন্সেস!
— হোয়াট? —চলবে।
অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















