
দোনোমনো করে দিয়া কথাটা বলে ফেললো।
— আমি তো বলেছিলাম মা! কাজটা আমি করি। যতদিন ভালো চাকরি না পাই ততদিন করব!
মা হাঁ হাঁ করে ওঠেন।
—ও কথা মুখে আনবি না দিয়া! বিশুবাবু আমার চোখ খুলে দিয়েছেন। এতও পড়াশোনা করে তুই ওই কাজ করবি?
— কোন কাজই ছোট না! তোমারাই তো ছোটবেলায় শিখিয়েছো!
— হ্যাঁ! কিন্তু তুই যদি একটা যেকোন কাজে ঢুকে পড়িস তাহলে তোর লেখাপড়ার যোগ্য কাজে আর তুই ফিরতে পারবি না। স্বপ্ন দেখতে ভুলে যাবি! কাজটা আমিই করব! ভুল হলে হবে। কথা শোনায় শোনাবে। এক-দুবার টাকা কেটে নিলে নেবে।
— অফিসে কাজে ভুল করলে কেউ টাকা কাটে না! এটা স্কুলের পরীক্ষার মতো হলে বহু মানুষ মাসের শেষে টাকাই পেতো না! খালি হাতে বাড়ি আসতো। নিচু থেকে উঁচু পোস্টের সকলে ভুল করে। ক্রমাগত কাজে ভুল করে। জেনে না জেনে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। আমি তোমার সঙ্গে প্রথম দিন যাবো।
— আমি তো বলেছিলাম মা! কাজটা আমি করি। যতদিন ভালো চাকরি না পাই ততদিন করব!
মা হাঁ হাঁ করে ওঠেন।
—ও কথা মুখে আনবি না দিয়া! বিশুবাবু আমার চোখ খুলে দিয়েছেন। এতও পড়াশোনা করে তুই ওই কাজ করবি?
— কোন কাজই ছোট না! তোমারাই তো ছোটবেলায় শিখিয়েছো!
— হ্যাঁ! কিন্তু তুই যদি একটা যেকোন কাজে ঢুকে পড়িস তাহলে তোর লেখাপড়ার যোগ্য কাজে আর তুই ফিরতে পারবি না। স্বপ্ন দেখতে ভুলে যাবি! কাজটা আমিই করব! ভুল হলে হবে। কথা শোনায় শোনাবে। এক-দুবার টাকা কেটে নিলে নেবে।
— অফিসে কাজে ভুল করলে কেউ টাকা কাটে না! এটা স্কুলের পরীক্ষার মতো হলে বহু মানুষ মাসের শেষে টাকাই পেতো না! খালি হাতে বাড়ি আসতো। নিচু থেকে উঁচু পোস্টের সকলে ভুল করে। ক্রমাগত কাজে ভুল করে। জেনে না জেনে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। আমি তোমার সঙ্গে প্রথম দিন যাবো।
দিয়া প্রথম দিন এসেছিল। বিশু পাল সেদিন ছিলেন না। গ্যাস কোম্পানিতে কোনও মিটিং ছিল। সেখানে গিয়েছিলেন । বাইরে যেখানে বসে মাকে কাজ করতে হবে, সেখানে বেশ গরম । দেওয়ালে লাগানো টেবিল ফ্যান ঘুরছে। এই টেবিল ফ্যানগুলো দেখলেই দিয়ার মনে হয় – টেনে টেনে না বলছে ফ্যানটা। না, না, না— কিন্তু কেউই তার কথা শুনছে না।
আরও পড়ুন:

আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৬৬: আকাশ এখনও মেঘলা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৮: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— তিল কাছিম

ত্রিপুরায় আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা
বিশুবাবুর ঘরে তার কালো বড় চেয়ারে বসেছিলেন বিশুবাবুর জামাই। লোকটাকে এতোটুকু পছন্দ হয়নি দিয়ার। ভিতরেরটা মালিকের ঘর। তাই সেখানে ঘরঘর করে এসি চলছে। কিন্তু বিশু পালের বদলে বসে থাকা তাঁর জামাইয়ের চোখের নোংরা দৃষ্টি আর চ্যাটাং চ্যাটাং কথাবার্তায় দিয়ার কানমাথা গরম হয়ে যাচ্ছিল। কানে পালক ঘোরাতে ঘোরাতে আধবোজা চোখ দিয়ার শরীরের ওপরে রেখে লোকটা বলেছিল—
— ও! হ্যাঁ, শ্বশুরমশাই বলেছিলেন বটে। কিন্তু আপনি কি এসব ক্যালক্যুলেশনের কাজ পারবেন?
— চেষ্টা করবো! আমায় পারতে হবে!
— ও! হ্যাঁ, শ্বশুরমশাই বলেছিলেন বটে। কিন্তু আপনি কি এসব ক্যালক্যুলেশনের কাজ পারবেন?
— চেষ্টা করবো! আমায় পারতে হবে!
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

একলা নববর্ষ
মায়ের কথার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরছে দেখে দিয়ার ভালো লাগে। কিন্তু বিশু পালের জামাইকে আর নেওয়া যাচ্ছে না। লোকটা হঠাৎ বলে বসল!
— কাজটা এই মেয়েকে দিলে তো পারতেন। কমবয়েস। চালাকচতুর। ও কাজ করলে সুবিধে হোত । কদ্দুর পড়েচো?
দিয়ার উত্তর দেবার স্পৃহা নেই।
— মাধ্যমিক?
দিয়া অন্যপাশে রামকৃষ্ণদেবের ক্যলেণ্ডারের দিকে তাকিয়ে ।
— এইচ এস?
— কাজটা এই মেয়েকে দিলে তো পারতেন। কমবয়েস। চালাকচতুর। ও কাজ করলে সুবিধে হোত । কদ্দুর পড়েচো?
দিয়ার উত্তর দেবার স্পৃহা নেই।
— মাধ্যমিক?
দিয়া অন্যপাশে রামকৃষ্ণদেবের ক্যলেণ্ডারের দিকে তাকিয়ে ।
— এইচ এস?
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৫: অকালরাবী জাতক—সময় গেলে সাধন হবে না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৪ : অতঃপর অভিযান
এতক্ষণ চুপ করে থাকার পর ঠান্ডা গলায় উত্তরটা এল শান্তির কাছ থেকে।
—আমার মেয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে। বিভিন্ন কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিচ্ছে।
মায়ের এই একটা কথায় লোকটার সব ভাবভঙ্গী আশ্চর্যভাবে বদলে গেলো। কিলবিল করা চোখের দৃষ্টি চলে গেল টেবিলে। টেবিলের তলায় কালীঘাটের কালীমায়ের জাগ্রত মূর্তি। টেবিলে বাঁহাত ছুঁইয়ে বেল বাজালেন। এখন তিনি দ্বায়িত্ববান পুরুষমানুষ। মা কি লোকটার চোখের দৃষ্টি পড়তে পেরেছিলেন? বিশুবাবুর মেয়ে? এই লোকটার স্ত্রী ? তিনি কি জানেন যে তাঁর পতি-পরমেশ্বর রাস্তায়-ঘাটে অফিসে লালঝরা লেড়িকুত্তার মতো মেয়েদের শরীরের ভাঁজে ভাঁজে তাঁর লোভাতুর দৃষ্টি বুলিয়ে যান?
ফাইল এলো। ফাইল খুলে তিনটি জায়গা দেখিয়ে মাকে সই করতে বললেন।
— তিন জায়গায় সই করুন । ব্যাংক সিগনেচার। কাটাকাটি করবেন না!
মা একটু ভয়ে ভয়ে দিয়ার দিকে তাকালেন। দিয়া তার দু’চোখের চাহনিতে সাহস যুগিয়ে ডটপেন এগিয়ে দিল।
—আমার মেয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে। বিভিন্ন কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিচ্ছে।
মায়ের এই একটা কথায় লোকটার সব ভাবভঙ্গী আশ্চর্যভাবে বদলে গেলো। কিলবিল করা চোখের দৃষ্টি চলে গেল টেবিলে। টেবিলের তলায় কালীঘাটের কালীমায়ের জাগ্রত মূর্তি। টেবিলে বাঁহাত ছুঁইয়ে বেল বাজালেন। এখন তিনি দ্বায়িত্ববান পুরুষমানুষ। মা কি লোকটার চোখের দৃষ্টি পড়তে পেরেছিলেন? বিশুবাবুর মেয়ে? এই লোকটার স্ত্রী ? তিনি কি জানেন যে তাঁর পতি-পরমেশ্বর রাস্তায়-ঘাটে অফিসে লালঝরা লেড়িকুত্তার মতো মেয়েদের শরীরের ভাঁজে ভাঁজে তাঁর লোভাতুর দৃষ্টি বুলিয়ে যান?
ফাইল এলো। ফাইল খুলে তিনটি জায়গা দেখিয়ে মাকে সই করতে বললেন।
— তিন জায়গায় সই করুন । ব্যাংক সিগনেচার। কাটাকাটি করবেন না!
মা একটু ভয়ে ভয়ে দিয়ার দিকে তাকালেন। দিয়া তার দু’চোখের চাহনিতে সাহস যুগিয়ে ডটপেন এগিয়ে দিল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৬: প্রাকৃতিক অবস্থার পরিবর্তন ও প্রাণীদের অস্থিরতা : যুদ্ধের দূষণ, মনে, প্রাণে, বাতাবরণে, সর্বত্র

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম
মাকে তো আগে এতও সইসাবুদ করতে হতো না। তাই সই করতে বললেই একটু যেন ঘাবড়ে যান। ওই ‘যদি ভুল হয়ে যায়’ জাতীয় একটা অকারণ ভয়ের বদভ্যেস। মা একটু ধরে ধরে সময় নিয়ে সই তিনটে শেষ করলেন।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















