
ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।
কৃষ্ণ কৌশলগত পরিকল্পনা অবলম্বন করে, দ্বিতীয় পাণ্ডব ভীমকে দিয়ে মগধরাজ জরাসন্ধকে বধ করালেন। অবশেষে মগধরাজকারাগারে অবরুদ্ধ পরাজিত বন্ধুরাজাদের মুক্ত করে, ভীম ও অর্জুনকে সঙ্গে নিয়ে, কৃষ্ণ, গিরিব্রজনগর হতে বেরিয়ে এলেন। কৃষ্ণ জরাসন্ধের রথটিতে অশ্ব যুক্ত করে সওয়ার হলেন। সেই রথটির বিশেষত্ব হল, রথটি দিব্য-অশ্বযুক্ত এবং বায়ুসম বেগবান্। দেবনির্মিত শ্রেষ্ঠ রথের ধ্বজাটি নির্মাণকৌশলহেতু অসংলগ্ন বলে মনে হতো। ইন্দ্রধনুর মতো সুদৃশ্য রথটির ধ্বজা ছিল যোজনখানিক দূর হতে দৃশ্যমান। কৃষ্ণ গরুড়কে স্মরণ করলেন। গরুড় যুক্ত হলেন রথে। সেই মুহূর্তে রথ যেন চৈত্যবৃক্ষের অর্থাৎ আয়তনতরুর আকৃতি ধারণ করল। মুখব্যাদান করে মহাশব্দকারী, গরুড়, সাপ যার ভোজ্য, তিনি, ধ্বজটিতে বাসযোগ্য অন্যান্য প্রাণীদের সঙ্গে সেই উত্তম রথে অধিষ্ঠিত হলেন।অতিরিক্ত তেজস্বী বলে যাঁকে অন্য প্রাণীদের নিরীক্ষণ করা দুষ্কর বলে মনে হয়, মধ্যাহ্নের সহস্র কিরণাবৃত সূর্যের মতো প্রতিভাত হলেন সেই গরুড়। সেই দিব্য শ্রেষ্ঠ ধ্বজটি, কোন বৃক্ষের বাধাপ্রাপ্ত হতো না, অস্ত্রবিদ্ধ হতো না। মানুষেরা দিব্য শ্রেষ্ঠ ধ্বজটিকে (উড্ডীন অবস্থায়) দেখতে অভ্যস্ত ছিল।
পুরুষশ্রেষ্ঠ কৃষ্ণ, দুই পাণ্ডবভাইকে সঙ্গে নিয়ে মেঘমন্দ্রিতশব্দবিশিষ্ট রথে আরোহণ করে বেরিয়ে পড়লেন। দেবরাজ ইন্দ্রের কাছ থেকে উপরিচরবসু রথখানি লাভ করেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে পেয়েছিলেন বৃহদ্রথ। বৃহদ্রথের পুত্র জরাসন্ধ,রথটি পুরুষানুক্রমে লাভ করেছিলেন। মহাযশস্বী পদ্মলোচন কৃষ্ণ, সেই রথে আরোহণ করে, গিরিব্রজনগরের বাইরে সমতলে এসে দাঁড়ালেন। সেখানে ব্রাহ্মণপ্রমুখ নাগরিকরা বিধিবদ্ধ সৎকারের অঙ্গরূপে শাস্ত্রসম্মত স্তুতি করতে করতে, তাঁদের কাছে উপস্থিত হলেন। কারামুক্ত রাজারা, মধুসূদন কৃষ্ণের স্তুতি করে বললেন, দেবকীনন্দন কৃষ্ণের বল,ভীম ও অর্জুনের সঙ্গ।তাই ধর্মরক্ষা করা কোন বিস্ময়কর বিষয় নয়। তাঁরা কৃষ্ণের প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত হলেন, বললেন— জরাসন্ধ ভয়াবহ হ্রদের মতো ছিলেন।তাতে দুঃখের পাঁকে নিমজ্জিত রাজাদের উদ্ধারের এই কাজটি আপনি করেছেন। জরাসন্ধহ্রদে ঘোরে দুঃখপঙ্কে নিমজ্জতাম্। রাজ্ঞামুদ্ধরণং। দেব!যদদিদং কৃতবানসি।। রাজারা জানালেন, সৌভাগ্যক্রমে, অতি ভয়ঙ্কর গিরিদুর্গে (অবরুদ্ধ)অবসন্ন রাজাদের মুক্ত করে, কৃষ্ণ, উজ্জ্বল যশ লাভ করেছেন। কৃতজ্ঞতায় আনত হলেন রাজারা, কিং কুর্ম্মঃ পুরুষব্যাঘ্র! শাধি নঃ প্রণতিস্থিতান্। কৃতমিত্যেব তদ্বিদ্ধি নরৈর্যদ্যপি দুষ্করম্।।
হে পুরুষোত্তম, আমরা কি করব, প্রণত আমাদের উপদেশ দান করুন। মানুষের পক্ষে যদি দুষ্করও হয়, সেটা আমরা করেছি বলে মনে করুন। মহামনা কৃষ্ণ তাঁদের আশ্বস্ত করলেন, যুধিষ্ঠির রাজসূয়যজ্ঞানুষ্ঠান করতে ইচ্ছুক হয়েছেন। ধার্মিক যুধিষ্ঠির, সাম্রাজ্যলাভে ইচ্ছুক। কৃষ্ণের অনুরোধ, সর্ব্বৈর্ভবদ্ভির্বিজ্ঞায় সাহায্যং ক্রিয়তামিতি। আপনারা এই বিষয়ে অবগত হয়ে সাহায্য করুন। আনন্দিত রাজারা কৃষ্ণের কথায় সম্মত হয়ে বললেন, তথৈবাস্তু। তাই হবে। রাজারা কৃষ্ণকে রত্নসম্ভার উপহার দিলেন। কৃষ্ণ তাঁদের প্রতি অনুকম্পাবশত কষ্ট হলেও সেগুলি গ্রহণ করলেন। তিনি জরাসন্ধপুত্র সহদেব পরিজনবর্গ ও অমাত্যদের সঙ্গে, পুরোহিতকে পুরোভাগে রেখে রওনা হলেন। বিনত সহদেব, বহু রত্ন-সহ মানুষদের মধ্যে দেবপ্রতিম কৃষ্ণের সামনে, করজোড়ে উপস্থিত হলেন। কৃষ্ণ,ভয়ার্ত সহদেবকে অভয়দান করে, মূল্যবান রত্নোপহার গ্রহণ করলেন। সেখানে সহদেবনন্দনকে অভিষিক্ত করলেন। সহদেব, দুই পাণ্ডুপুত্র এবং কৃষ্ণের অভিন্নহৃদয় বন্ধু হলেন।
হে পুরুষোত্তম, আমরা কি করব, প্রণত আমাদের উপদেশ দান করুন। মানুষের পক্ষে যদি দুষ্করও হয়, সেটা আমরা করেছি বলে মনে করুন। মহামনা কৃষ্ণ তাঁদের আশ্বস্ত করলেন, যুধিষ্ঠির রাজসূয়যজ্ঞানুষ্ঠান করতে ইচ্ছুক হয়েছেন। ধার্মিক যুধিষ্ঠির, সাম্রাজ্যলাভে ইচ্ছুক। কৃষ্ণের অনুরোধ, সর্ব্বৈর্ভবদ্ভির্বিজ্ঞায় সাহায্যং ক্রিয়তামিতি। আপনারা এই বিষয়ে অবগত হয়ে সাহায্য করুন। আনন্দিত রাজারা কৃষ্ণের কথায় সম্মত হয়ে বললেন, তথৈবাস্তু। তাই হবে। রাজারা কৃষ্ণকে রত্নসম্ভার উপহার দিলেন। কৃষ্ণ তাঁদের প্রতি অনুকম্পাবশত কষ্ট হলেও সেগুলি গ্রহণ করলেন। তিনি জরাসন্ধপুত্র সহদেব পরিজনবর্গ ও অমাত্যদের সঙ্গে, পুরোহিতকে পুরোভাগে রেখে রওনা হলেন। বিনত সহদেব, বহু রত্ন-সহ মানুষদের মধ্যে দেবপ্রতিম কৃষ্ণের সামনে, করজোড়ে উপস্থিত হলেন। কৃষ্ণ,ভয়ার্ত সহদেবকে অভয়দান করে, মূল্যবান রত্নোপহার গ্রহণ করলেন। সেখানে সহদেবনন্দনকে অভিষিক্ত করলেন। সহদেব, দুই পাণ্ডুপুত্র এবং কৃষ্ণের অভিন্নহৃদয় বন্ধু হলেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৬: প্রাকৃতিক অবস্থার পরিবর্তন ও প্রাণীদের অস্থিরতা : যুদ্ধের দূষণ, মনে, প্রাণে, বাতাবরণে, সর্বত্র

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৮: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— তিল কাছিম

ত্রিপুরায় আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা
অভিষিক্ত জরাসন্ধপুত্র, উজ্জ্বল, কান্তিমান, সহদেব, বৃহদ্রথের প্রতিষ্ঠিত রাজ্যে প্রবেশ করলেন। জয়লাভের আনন্দে, পদ্মের মতো প্রফুল্লনয়ন কৃষ্ণ, দুই পৃথাপুত্রের সঙ্গে রত্নসম্ভার নিয়ে প্রস্থান করলেন। ইন্দ্রপ্রস্থে উপস্থিত হয়ে দুই পাণ্ডব-সহ কৃষ্ণ, ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে আলাপচারিতায় রত হলেন।জানালেন, সৌভাগ্যক্রমে ভীমসেন জরাসন্ধকে ধ্বংস করেছেন, কারারুদ্ধ রাজারা এখন মুক্ত। ভাগ্যসহায়, তাই ভীমসেন ও ধনঞ্জয় অর্জুন অক্ষতদেহে নিজেদের নগরে ফিরে এসেছেন। সন্তুষ্ট যুধিষ্ঠির, নিজের সামর্থ্যানুসারে কৃষ্ণকে সম্মান জানিয়ে ভীম ও অর্জুনকে আলিঙ্গন করলেন। জরাসন্ধ নিশ্চিহ্ন হয়েছেন,ভাইরা বিজয়গৌরব অর্জন করেছেন—অজাতশত্রু যুধিষ্ঠির ভাইদের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠলেন। ভাইদের সঙ্গে নিয়ে রাজাদের বয়সানুসারে কোনও রাজাকে করলেন সমাদর,আবার কোন রাজা হলেন সম্মানিত। তাঁদের সসম্মানে বিদায় দিলেন, যুধিষ্ঠির। রাজগণ, সন্তুষ্টমনে, যুধিষ্ঠিরের অনুমতি নিয়ে, উঁচু নীচু বিচিত্র সব যানে আরোহণ করে নিজরাজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। বুদ্ধিবলে কৃষ্ণ পাণ্ডবদের দিয়ে জরাসন্ধকে হত্যা করালেন।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৩১: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১২

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০১ : ত্রিপুরাতেও সিপাহি বিদ্রোহের ছোঁয়া লেগেছিল
এবারে বিদায় নেবার পালা। কৃষ্ণ, প্রত্যেকের কাছে পৃথকভাবে অনুমতি নিলেন। যথাক্রমে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির, পৃথা কুন্তী, কৃষ্ণা, সুভদ্রা, ভীমসেন, ফাল্গুন অর্জুন, যমজ দুই ভাই নকুল ও সহদেবের অনুমতি নিয়ে, পুরোহিত ধৌম্যকে নমস্কার করে, কৃষ্ণ, চললেন নিজরাজ্যে। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের প্রদত্ত উপহার, সেই মনের তুল্য বেগবান দিব্য রথটি, দিগ্বিদিক নিনাদিত করে ছুটে চলল। বিদায়ের আগে যুধিষ্ঠির প্রভৃতি মুখ্য পাণ্ডবরা, অনায়াসে যিনি সব কাজ সম্পন্ন করেন, সেই কৃষ্ণকে প্রদক্ষিণ করলেন। মহান বিজয়গৌরবে,রাজাদের অভয়দান করে, দেবকিনন্দন কৃষ্ণ প্রস্থান করলেন। পাণ্ডবরা প্রভূত খ্যাতি অর্জন করলেন, দ্রৌপদীর আনন্দের সীমা রইল না। সেই সময়ে, যুধিষ্ঠির ধর্মানুসারে এবং নির্দিষ্ট কামনা পূরণ করে, প্রজাপালন করতে লাগলেন এবং প্রজাদের ধর্মবিষয়ক উপদেশ দিতে লাগলেন।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৫: অকালরাবী জাতক—সময় গেলে সাধন হবে না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৪ : অতঃপর অভিযান
জরাসন্ধকে বধ করলেন দ্বিতীয় পাণ্ডব অর্জুন। পরিকল্পিত হত্যার অন্তরালে ছিল কৃষ্ণের একক অবিসংবাদী ভূমিকা। তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত কৌশল। যুধিষ্ঠিরের সম্রাটপদে উত্তরণের প্রথম ও প্রধান বাধা, জরাসন্ধ, অপসারিত হলেন। স্বৈরাচারী জরাসন্ধ অমানবিক উপায় অবলম্বন করে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিলেন। উত্তরোত্তর ক্ষমতার শীর্ষাকাঙ্খী কোন শাসকের নিরঙ্কুশ আধিপত্যবিস্তারের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হল সাধারণ ও প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের মনে ভীতিসৃষ্টি। হত্যা, মৃত্যু, নৃশংসতা তাঁর প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার। ত্রাসসৃষ্টি—সন্ত্রাসের ভিত। উচ্চাকাঙ্খী জরাসন্ধ সেই সন্ত্রাসের পথ অবলম্বন করেছিলেন। প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের রাজাদের পরাজিত করে তাঁদের বলিদানের পরিকল্পনা-ক্ষমতালিপ্সু জরাসন্ধের অমানবিক পৈশাচিক মানসিকতার পরিচয় বহন করছে। যে কোনও রাজনৈতিক বিজয় হল প্রতিপক্ষের মতাদর্শ নস্যাৎ করে, নিজের অধিকারপ্রতিষ্ঠা এবং গণসমর্থন আদায়। রাজতন্ত্রের মধ্যেও আধুনিক গণতন্ত্রের ছায়া নয় তো? না, জনতা জনার্দনের পরিবর্তে ছিল শুধু জনার্দনের সম্মতির অঙ্গীকার। এক রাজকীয় বোঝাপড়া। পরিবর্তিত প্রেক্ষিত, স্বৈরাচার-উৎখাতের রূপকার জনার্দন, যিনি জনগণের অর্দন অর্থাৎ দুঃখের পরিত্রাতা। আপামর ভারতবাসী যাঁকে স্মরণ করে দুঃখপরিত্রাণের উপায় খুঁজে পান আজও।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম
উদ্দিষ্ট লক্ষ্যপূরণের পরে কাজটির রূপকারের উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। তাই জরাসন্ধবধের পরে কৃষ্ণের প্রস্থান অবশ্যম্ভাবী হল। আধুনিক যুগেও যে কোনও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় কৌশল স্থির হয় শ্রেষ্ঠ কোনও বুদ্ধিমানের মস্তিষ্কপ্রসূত নির্দেশে। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী কৃষ্ণ। তিনি যুধিষ্ঠিরের সাম্রাজ্যলাভের অন্তরায় দূর করবার পরিকল্পনা রূপায়িত করেছেন, নিজে কিন্তু দ্বন্দ্বে লিপ্ত হননি। রাজনৈতিক পালাবদলের চালচিত্রে এমনটাই ঘটে থাকে। মুক্ত রাজাদের, আশীর্বাদধন্য কৃষ্ণ তাঁদের কৃতজ্ঞতার বিনিময়ে, যুধিষ্ঠিরের সাহায্যার্থে তাঁদের সহায়তা কামনা করেছেন। কৃষ্ণ জরাসন্ধের পুত্র সহদেবের প্রতি নির্মম হননি। তিনি জরাসন্ধপুত্র সহদেবকে, সখার বাঁধনে জড়িয়েছেন। এমন কি কৃষ্ণ, ভীম এবং অর্জুন তাঁর অভিন্নহৃদয়বন্ধু হয়েছেন। গত্বৈকত্বং স কৃষ্ণেন পার্থাভ্যাঞ্চৈব সৎকৃতঃ। দক্ষ রাজনীতিবিদ, চিরস্থায়ী শত্রুতার মধ্যে দ্বন্দ্ব-অবসানের প্রত্যাশী নন, তিনি পারস্পরিক ঐক্যের বন্ধনসৃষ্টিতে বিরোধাবসানের সূত্র সন্ধান করে থাকেন। সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান নয়, সমস্যার চিরন্তন অবসান তাঁর উদার মনের ব্যাপ্তিতে প্রতিফলিত হয়।

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।
কৃষ্ণ,জরাসন্ধকে বধ করিয়েছিলেন।তিনি নিজে অস্ত্র ধারণ করেননি। বৃষ্ণিবংশীয়দের শত্রুবিনাশ তাঁর লক্ষ্য হলেও, কৃষ্ণের বৃহত্তর স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্য ছিল মানবজাতির স্বার্থরক্ষা। চিন্তাশীল কল্যাণকামী ব্যক্তিত্ব, সর্বদাই বৃহত্তর কোনও লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য সচেষ্ট হন। তখন নিজেদের স্বার্থচিন্তা তাঁর কাছে গৌণ হয়ে ওঠে। কৃষ্ণ মহাভারতের ভরতবংশীয়দের যে কোনও ধ্বংস ও সৃষ্টির নির্ণায়ক হয়েছেন। ধর্মর সংজ্ঞা যতটা ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির অনুসরণ করেছেন, কৃষ্ণ যেন সেটির কার্যে রূপায়ণের দায়িত্ব নিয়েছেন। যুধিষ্ঠিরের সম্রাটপদপ্রাপ্তির উদ্যোগ, রাজসূয়যজ্ঞের আয়োজন, এই সব কিছুর উদ্যোক্তা হয়েছেন কৃষ্ণ। এই তো সবে শুরু। মহাভারতের বিচিত্র অনুষঙ্গ ছাড়াও, কৃষ্ণ ও তাঁর প্রলম্বিত ছায়াশ্রিত পাণ্ডবদের বিভিন্ন কীর্ত্তিকাহিনী সংযোজিত হওয়ায় হয়তো ভারতকথার এই গৌরবময় পরিণতি সম্ভব হয়েছে। মহাভারতের ভরতবংশীয়দের যশ ও অপযশ ছাপিয়ে, প্রোজ্জ্বল হয়ে ওঠেন যিনি, তিনি ভরতের উত্তরসূরীদের কাছে আজও প্রিয় জনার্দন, কৃষ্ণ।—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।


















