
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
নিজের রুমে শুয়েছিল সুদীপ্ত। বেশ কয়েকদিন একটানা কাজে ব্যস্ত থাকার পর আজ একটু বিশ্রামের অবকাশ পেয়েছে। কিন্তু ঘুমাতে পারছে না। যতক্ষণ না শাক্যদা একতা ফোন করছে। আজ সকালে ওরা পুরো টিম নিয়ে কালাদেওর গুহায় তদন্ত করতে গিয়েছে। এই ক’দিন সে ব্যস্ত ছিল কোর্টকাছারি আর কালপ্রিটদের ব্যবস্থা করতে। থানায় রাখা সেফ হবে না ভেবেই শাক্যর পরামর্শে পুলিশ জেল-হেফাজত চেয়েছিল। কোর্ট সেই মর্মেই রায় দিয়েছেন। ওদের পক্ষের উকিল অনেক চেষ্টা করেছিলেন এটা প্রমাণ করতে যে, তারা সেদিন কোনও খারাপ উদ্দেশ্যে হেলথসেন্টারে যায়নি, একজন পেশেন্টকে নিয়ে গিয়েছিল। এমার্জেন্সি ছিল। তারা জানত না ডাক্তার বসছেন না, ক’দিন হল। তারা ফিরে আসছিল, সেই অবস্থায় পুলিশ ওদের দেখে অন্যকিছু ভেবে অ্যাটাক্ করে বসে। যদিও সরকার পক্ষের উকিলের সওয়াল-জবাবে ওদের পক্ষের উকিলকে একসময় হার স্বীকার করতে হল। ফলে লোকগুলি জেল-ঘেফাজতে আছে। কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পুলিশ সেখানে গিয়েই তাদের জেরা করতে পারবে। নুনিয়া, শেফালিকা এবং গোবিন্দর স্পেশাল প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করেছে জেলাপুলিশসুপার নিজেই। ফোনে তাঁরই নির্দেশমতো তাদের এসপির বাংলোর হাতায় থাকা আউটহাউসে রাখা হয়েছে। করা পাহারা বসানো হয়েছে।
সেদিন এতকিছুর পরেও শেফালিকার ব্যবহার দেখে সে অবাক এবং মুগ্ধ না হয়ে পারেনি। যে লোকগুলি সম্ভবত সেদিন এসেই ছিল শেফালিকা এবং নুনিয়ার ক্ষতি করার জন্য, তাদের একজন গুলিতে আহত হয়েছ শুনে শেফালিকা যেভাবে সঙ্গে-সঙ্গে কাজে লেগে পড়লেন, তা দেখে বোঝা গেল, মানুষটি আসলে সেবাময়ী এবং সেবার সামনে শত্রু-মিত্র বিচার করেন না।
গোবিন্দকে দিয়ে গরম জল আনিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে বললেন, “ভাগ্য ভালো, গুলিটা ডিপ করে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়ে বেরিয়ে গেছে, ফলে রক্তপাত হলেও অপারেশন করতে হবে না। নাহলে ডাক্তারের কাছেই ছুটতে হত এখন। আমি প্রাইমারিলি যা-করার করে দিচ্ছি, আশা রাখছি রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সদরের হাসপাতালে হয়ত আপনার ডিপার্টমেন্ট শিফট্ করবে একে, তখন বেটার ট্রিটমেন্ট পাবে। ইনজুরির জায়গাটা গ্রাংগ্রিন না হলেই হল। আমি একটা ইঞ্জেকশন দিয়ে দিচ্ছি, টিটেনাস প্রিভেন্ট হোক আগে,” বলে আহত ব্যক্তিটিকে নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়লেন যে, দেখে মনে হল ভুলেই গেছেন, একটু আগেই এদের ওই হাতে তাঁর প্রাণসংশয় হতে যাচ্ছিল।
সেদিন এতকিছুর পরেও শেফালিকার ব্যবহার দেখে সে অবাক এবং মুগ্ধ না হয়ে পারেনি। যে লোকগুলি সম্ভবত সেদিন এসেই ছিল শেফালিকা এবং নুনিয়ার ক্ষতি করার জন্য, তাদের একজন গুলিতে আহত হয়েছ শুনে শেফালিকা যেভাবে সঙ্গে-সঙ্গে কাজে লেগে পড়লেন, তা দেখে বোঝা গেল, মানুষটি আসলে সেবাময়ী এবং সেবার সামনে শত্রু-মিত্র বিচার করেন না।
গোবিন্দকে দিয়ে গরম জল আনিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে বললেন, “ভাগ্য ভালো, গুলিটা ডিপ করে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়ে বেরিয়ে গেছে, ফলে রক্তপাত হলেও অপারেশন করতে হবে না। নাহলে ডাক্তারের কাছেই ছুটতে হত এখন। আমি প্রাইমারিলি যা-করার করে দিচ্ছি, আশা রাখছি রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সদরের হাসপাতালে হয়ত আপনার ডিপার্টমেন্ট শিফট্ করবে একে, তখন বেটার ট্রিটমেন্ট পাবে। ইনজুরির জায়গাটা গ্রাংগ্রিন না হলেই হল। আমি একটা ইঞ্জেকশন দিয়ে দিচ্ছি, টিটেনাস প্রিভেন্ট হোক আগে,” বলে আহত ব্যক্তিটিকে নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়লেন যে, দেখে মনে হল ভুলেই গেছেন, একটু আগেই এদের ওই হাতে তাঁর প্রাণসংশয় হতে যাচ্ছিল।
এইসময় আফজল বাইরে থেকে ফোন সেরে এসে দাঁড়াল, বলল, “থানায় জানিয়েছি। মালাকার স্যার তো খুব ক্ষিপ্ত। এতবড় অপারেশনের খবর তাঁকে আগে জানানো হয়নি কেন, সেজন্য জবাবদিহি চাইলেন!”
সুদীপ্তর চোয়াল একটু শক্ত হয়ে উঠল। তারপর স্বাভাবিক গলায় সে বলল, “তুমি কী বললে?”
“আমি বললাম, সে-কথা আপনি সুদীপ্ত স্যার এবং শাক্য স্যারকে জিজ্ঞাসা করে নেবেন! সুদীপ্ত স্যার শাক্য স্যারের নির্দেশেই এখানে এসেছিলেন, না এলে এতক্ষণ খুব খারাপ কিছু হয়ে যেত। শুনে শাক্য স্যারকে কাঁচাতম একটা খিস্তি মারলেন, তারপর বললেন, দু’দিনের মাগী, ভাতারকে কয় স্বামী। চোদাতে এসেছে এখানে…”
সুদীপ্ত বলল, “কথাগুলি রেকর্ড করে রাখলে না কেন?”
“ছাড়ুন তো, আপনি তো জানেন উনি কেমন। এখানকার অপারেশনের ফুল ক্রেডিট আপনার হবে, সেজন্য গায়ে ফোস্কা পড়ছে আর-কি!”
“কথাটা তা নয় আফজল। ক্রেডিট একা আমার কেন হবে, তুমি কিংবা শিবম্—তোমাদের কৃতিত্ব আমি একা ভোগ করবো? আর এদিকে গোবিন্দ সোরেন যা করেছে, তাকেও কি আমাদের টিমের থেকে আলাদা করতে পারবে? সে-তো আমাদেরই যা করার কথা ছিল, সেটাই করে রেখেছে। কিন্তু কথাটা ক্রেডিটের নয়। এতা আমাদের ডিউটি। সরকার আমাদের রেখেছে কীসের জন্য? এইজাতীয় কালপ্রিট-হুলিগানরা যাতে সাধারণ মানুষের জীবন না নরক করে দেয়, তা সুনিশ্চিত করার জন্য। আমরা আমাদের ডিউটি করেছি। ওঁকে বললেই বা কী হত, উনি থানার সুখনিদ্রা ছেড়ে এখানে রাতে এসে অপারেশনে সামিল হতেন? পুলিশ-ডিপার্টমেন্টের উচিৎ এইসমস্ত ট্র্যাশ অফিসারদের গোল্ডেন-হ্যাণ্ডসেক করে বসিয়ে দেওয়া। মিশন জঞ্জাল-ক্লিনিং বলতে পারো!” সুদীপ্তর গলায় স্পষ্ট বিরক্তি ঝরে পড়ছিল। শাক্যদা না বললে সে আজ এখানে আসার কথা ভাবত না। সদর থেকে ফেরার পথে যা-যা ঘটেছে, তারপর সেই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে এখানে এসে যেভাবে এই অপারেশনে ছুটে আসতে হয়েছে, অন্য কেউ হলে কিচ্ছু না করে একদিন ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিত। কিন্তু শাক্য দাকে দেখে সে অবাক। এতটা এনার্জেটিক একজন মানুষ কীভাবে হতে পারেন? সে তো তাও থানায় ফিরেছিল। কোয়াটার্সে গিয়ে স্নান করে ফ্রেশ হয়েছে। কিন্তু শাক্যদা? ওদিকের খবর না পাওয়া পর্যন্ত তার পেটের খাবার হজম হবে না।
সুদীপ্তর চোয়াল একটু শক্ত হয়ে উঠল। তারপর স্বাভাবিক গলায় সে বলল, “তুমি কী বললে?”
“আমি বললাম, সে-কথা আপনি সুদীপ্ত স্যার এবং শাক্য স্যারকে জিজ্ঞাসা করে নেবেন! সুদীপ্ত স্যার শাক্য স্যারের নির্দেশেই এখানে এসেছিলেন, না এলে এতক্ষণ খুব খারাপ কিছু হয়ে যেত। শুনে শাক্য স্যারকে কাঁচাতম একটা খিস্তি মারলেন, তারপর বললেন, দু’দিনের মাগী, ভাতারকে কয় স্বামী। চোদাতে এসেছে এখানে…”
সুদীপ্ত বলল, “কথাগুলি রেকর্ড করে রাখলে না কেন?”
“ছাড়ুন তো, আপনি তো জানেন উনি কেমন। এখানকার অপারেশনের ফুল ক্রেডিট আপনার হবে, সেজন্য গায়ে ফোস্কা পড়ছে আর-কি!”
“কথাটা তা নয় আফজল। ক্রেডিট একা আমার কেন হবে, তুমি কিংবা শিবম্—তোমাদের কৃতিত্ব আমি একা ভোগ করবো? আর এদিকে গোবিন্দ সোরেন যা করেছে, তাকেও কি আমাদের টিমের থেকে আলাদা করতে পারবে? সে-তো আমাদেরই যা করার কথা ছিল, সেটাই করে রেখেছে। কিন্তু কথাটা ক্রেডিটের নয়। এতা আমাদের ডিউটি। সরকার আমাদের রেখেছে কীসের জন্য? এইজাতীয় কালপ্রিট-হুলিগানরা যাতে সাধারণ মানুষের জীবন না নরক করে দেয়, তা সুনিশ্চিত করার জন্য। আমরা আমাদের ডিউটি করেছি। ওঁকে বললেই বা কী হত, উনি থানার সুখনিদ্রা ছেড়ে এখানে রাতে এসে অপারেশনে সামিল হতেন? পুলিশ-ডিপার্টমেন্টের উচিৎ এইসমস্ত ট্র্যাশ অফিসারদের গোল্ডেন-হ্যাণ্ডসেক করে বসিয়ে দেওয়া। মিশন জঞ্জাল-ক্লিনিং বলতে পারো!” সুদীপ্তর গলায় স্পষ্ট বিরক্তি ঝরে পড়ছিল। শাক্যদা না বললে সে আজ এখানে আসার কথা ভাবত না। সদর থেকে ফেরার পথে যা-যা ঘটেছে, তারপর সেই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে এখানে এসে যেভাবে এই অপারেশনে ছুটে আসতে হয়েছে, অন্য কেউ হলে কিচ্ছু না করে একদিন ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিত। কিন্তু শাক্য দাকে দেখে সে অবাক। এতটা এনার্জেটিক একজন মানুষ কীভাবে হতে পারেন? সে তো তাও থানায় ফিরেছিল। কোয়াটার্সে গিয়ে স্নান করে ফ্রেশ হয়েছে। কিন্তু শাক্যদা? ওদিকের খবর না পাওয়া পর্যন্ত তার পেটের খাবার হজম হবে না।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৫ : কালাদেওর গুহায়

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৩২: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৩

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৮: জরাসন্ধবধ ও জনার্দনের কৃতিত্ব
খাবারের কথা মনে হতেই সুদীপ্তর হঠাৎ খিদে পেয়ে গেল। তার মনে পড়ল, রাতে সে ডিনার না করেই বেরিয়ে পড়েছিল। একটা সিগারেটও ধরাতে হবে। গলাটা শুকিয়ে গিয়েছিল তার। সে গোবিন্দকে জিজ্ঞাসা করল, “একটু খাবার জল দিতে পারো গোবিন্দ?”
“হ্যাঁ, কেন পারব না। এক্ষুনি নিয়ে আসছি,” বলে সে চলে গেল।
সুদীপ্ত ভিতরে-ভিতরে অস্থির হচ্ছিল। তাড়াতাড়ি এখান থেকে বেরিয়ে পড়তে হবে। পুলিশফোর্স আসার আগেই যদি এদের গ্যাং-এর আর কোন দল এসে পড়ে! সে আফজলকে বলল, “আফজল, নুনিয়া আর শেফালিকা আর গোবিন্দ—এদের তিনজনকে নিয়ে তুমি বেরিয়ে যাবে। ফোর্স এলে ওদের ক’জনকে নিয়ে আগে তুমি বেরিয়ে যাবে। মাথায় রাখবে নুনিয়াকে পেতে এরা মরিয়া, ফলে রাস্তায় খুব সাবধান-সতর্ক থাকবে। দরকার হলে ওয়েপন ব্যবহারে দ্বিধা কর না। হিসেব পরে বুঝিয়ে দিলেই হল। আমি আছি। আমার উপর দায় ঠেলে দেবে। আমি এই হুলিগানদের নিয়ে যাচ্ছিস তোমার পিছন-পিছন। একটা কথা মাথায় রাখবে, এরা কেউ পালালেও আমাদের তত ক্ষতি হবে না, যতটা ক্ষতি হবে নুনিয়াকে হারালে!”
আফজল ব্যাপারটির গুরুত্ব বুঝে বলল, “তাহলে আপনি নুনিয়াদের নিয়ে যান না। আমি এই হারামিগুলিকে নিয়ে যাচ্ছিস না-হয়!”
সুদীপ্ত বলল, “ভয় পাচ্ছো?”
শুনেই দপ্ করে জ্বলে উঠল আফজল, “ভয়? ভয় এই আফজল কাউকেই পায় না। একবার নির্দেশ দিন, এনকাউন্টার করে এখানেই শেষ করে দিচ্ছি!”
সুদীপ্ত আফজলকে তাতানোর জন্য ইচ্ছে করেই বলেছিল। সে তাড়াতাড়ি বলল, “আরে আফজল, করছ কী? শান্ত হও। এনকাউন্টারের কথা যেখানে-সেখানে যখন-তখপন বলে ফেলো না। কোন হিউম্যান রাইটস্ অরগ্যানাইজেশন শুনে ফেললে হাত ধুয়ে তোমার পিছনে পড়ে যাবে।”
“হ্যাঁ, কেন পারব না। এক্ষুনি নিয়ে আসছি,” বলে সে চলে গেল।
সুদীপ্ত ভিতরে-ভিতরে অস্থির হচ্ছিল। তাড়াতাড়ি এখান থেকে বেরিয়ে পড়তে হবে। পুলিশফোর্স আসার আগেই যদি এদের গ্যাং-এর আর কোন দল এসে পড়ে! সে আফজলকে বলল, “আফজল, নুনিয়া আর শেফালিকা আর গোবিন্দ—এদের তিনজনকে নিয়ে তুমি বেরিয়ে যাবে। ফোর্স এলে ওদের ক’জনকে নিয়ে আগে তুমি বেরিয়ে যাবে। মাথায় রাখবে নুনিয়াকে পেতে এরা মরিয়া, ফলে রাস্তায় খুব সাবধান-সতর্ক থাকবে। দরকার হলে ওয়েপন ব্যবহারে দ্বিধা কর না। হিসেব পরে বুঝিয়ে দিলেই হল। আমি আছি। আমার উপর দায় ঠেলে দেবে। আমি এই হুলিগানদের নিয়ে যাচ্ছিস তোমার পিছন-পিছন। একটা কথা মাথায় রাখবে, এরা কেউ পালালেও আমাদের তত ক্ষতি হবে না, যতটা ক্ষতি হবে নুনিয়াকে হারালে!”
আফজল ব্যাপারটির গুরুত্ব বুঝে বলল, “তাহলে আপনি নুনিয়াদের নিয়ে যান না। আমি এই হারামিগুলিকে নিয়ে যাচ্ছিস না-হয়!”
সুদীপ্ত বলল, “ভয় পাচ্ছো?”
শুনেই দপ্ করে জ্বলে উঠল আফজল, “ভয়? ভয় এই আফজল কাউকেই পায় না। একবার নির্দেশ দিন, এনকাউন্টার করে এখানেই শেষ করে দিচ্ছি!”
সুদীপ্ত আফজলকে তাতানোর জন্য ইচ্ছে করেই বলেছিল। সে তাড়াতাড়ি বলল, “আরে আফজল, করছ কী? শান্ত হও। এনকাউন্টারের কথা যেখানে-সেখানে যখন-তখপন বলে ফেলো না। কোন হিউম্যান রাইটস্ অরগ্যানাইজেশন শুনে ফেললে হাত ধুয়ে তোমার পিছনে পড়ে যাবে।”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৯: নোনা জলের কুমির

ক্যাবলাদের ছোটবেলা, পর্ব-৩৭: লোকে যারে বড় বলে
আফজল একটা কাঁচা খিস্তি মারল, তারপর বলল, “অপরাধীদের জন্য যতগুলি হিউম্যান রাইটস্ অরগ্যানাইজেশন সারা বিশ্বে চলে, সাধারণ মানুষের রাইটস্ নিয়ে ততটা কিন্তু চলে না। আপনি কোনও হিউম্যান রাইটস অরগ্যানাইজেশনকে দেখবেন না, যারা এই সমস্ত গ্যাং-এর ভিকটিম হিসেবে মারা গিয়েছে, তাদের হয়ে কথা বলতে। আমাদের সিস্টেম—ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত এত কোরাপটেড—আপনি তো জানেন, আমাদের পুলিশকেই কি লোকে সাধে এমনি-এমনি বদনাম করে? আজ যদি সিস্টেম ঠিক থাকত না, তাহলে মানবাধিকার রক্ষার নামে এ-জাতীয় বাড়াবাড়ি বন্ধ হত। স্যরি, আমি হয়তো আপনার বিশ্বাসে আঘাত দিলাম, কিন্তু যা উপলব্ধি করেছি, সেটাই বললাম।”
সুদীপ্ত এগিয়ে এসে তার কাঁধে হাত রেখে বলল, “শান্ত হও। আমি তোমাকে তাতানোর জন্য বলেছিলাম কথাটা। আমিই স্যরি বলছি। এখন গোবিন্দ জল আনলে খেয়ে কিছুটা ধোঁয়া উড়িয়ে আসি চল।”
গোবিন্দ অবশ্য এসেই পড়েছিল। দুটি জলের বড় দু’ লিটারি বোতলে করে জল এনেছে সে। পরিষ্কার বোতল। সুদীপ্ত একটা বোতল নিয়ে প্রায় এক লিটার জল গলায় ঢেলে দিল। তারপর আফজলের দিকে এগিয়ে দিল। আফজল বাকিটা খেয়ে খালি বোতলটা গোবিন্দকে ফেরৎ দিয়ে বলল, “অন্যটাও পরে দরকার হবে হয়তো।”
গোবিন্দ হেসে বলল, “হোক্ না। কত জল খাবেন খান না। খাচ্ছেন তো ওই জল। আমার কাছে তো বাতাসাও থাকে না যে, আপনাদের দিতে পারবো!”
শেফালিকা ভিতরে থাকলেও ঠিক শুনতে পেয়েছেন। তিনি ভিতর থেকে বললেন, “কে গোবিন্দ, কে খাবেন বাতাসা? আমার কোয়াটার্সে যাও। দেখ বয়াম ভর্তি বাতাসা, গুড়খই, চিঁড়ে ভাজা রাখা আছে। ওগুলি নিয়ে এসে ওঁদের দাও। আহা, সমস্ত রাত্তির এই করতে গিয়ে হয়ত খাওয়াই হয়নি। আমার কাছ থেকে চাবি নিয়ে যাও।”
সুদীপ্ত এগিয়ে এসে তার কাঁধে হাত রেখে বলল, “শান্ত হও। আমি তোমাকে তাতানোর জন্য বলেছিলাম কথাটা। আমিই স্যরি বলছি। এখন গোবিন্দ জল আনলে খেয়ে কিছুটা ধোঁয়া উড়িয়ে আসি চল।”
গোবিন্দ অবশ্য এসেই পড়েছিল। দুটি জলের বড় দু’ লিটারি বোতলে করে জল এনেছে সে। পরিষ্কার বোতল। সুদীপ্ত একটা বোতল নিয়ে প্রায় এক লিটার জল গলায় ঢেলে দিল। তারপর আফজলের দিকে এগিয়ে দিল। আফজল বাকিটা খেয়ে খালি বোতলটা গোবিন্দকে ফেরৎ দিয়ে বলল, “অন্যটাও পরে দরকার হবে হয়তো।”
গোবিন্দ হেসে বলল, “হোক্ না। কত জল খাবেন খান না। খাচ্ছেন তো ওই জল। আমার কাছে তো বাতাসাও থাকে না যে, আপনাদের দিতে পারবো!”
শেফালিকা ভিতরে থাকলেও ঠিক শুনতে পেয়েছেন। তিনি ভিতর থেকে বললেন, “কে গোবিন্দ, কে খাবেন বাতাসা? আমার কোয়াটার্সে যাও। দেখ বয়াম ভর্তি বাতাসা, গুড়খই, চিঁড়ে ভাজা রাখা আছে। ওগুলি নিয়ে এসে ওঁদের দাও। আহা, সমস্ত রাত্তির এই করতে গিয়ে হয়ত খাওয়াই হয়নি। আমার কাছ থেকে চাবি নিয়ে যাও।”
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৫: অকালরাবী জাতক—সময় গেলে সাধন হবে না

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা
সুদীপ্ত অভিভূত হয়ে গেল। মেয়েরা যতই আধুনিক হোক, যতই নারীবাদ মেয়েদের মেয়ে হয়ে ওঠার বিরুদ্ধে বলুক না কেন, আসলে কোথাও যেন এই মমতা, এই স্নেহ-ভালবাসা মেয়েদের মধ্যে আজন্মকালের সংস্কার হিসেবেই এমনভাবে দৃঢ়প্রোথিত হয়ে গিয়েছে যে, এর থেকে সহজে বেরুনো মুশকিল। তার খিদে পেলেও এই মিষ্টি কথাতেই তার অনেকখানি খিদে যেন দূর হয়ে গেল। সে বাইরে থেকে কিছুটা গলা তুলে বলল, “লাগবে না দিদি। আপনি আপাতত এই লোকটিকে ড্রেসিং করে রেডি করে দিন। আমরা বাকি দুটিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ফোর্স এসে পড়ল বলে।”
শেফালিকা বললেন, “হয়েই এসেছে, আর দশ মিনিট!”
সুদীপ্ত গোবিন্দকে বলল, “ভিতরে শিবম্ আছে, ওকে জল দিয়ে এসো গোবিন্দ। যদি খায়।”
গোবিন্দ ভিতরে চলে যেতেই ও আর আফজল সামান্য এগিয়ে সিগারেট ধরাল দু’জনে। এইসময়েই একটা মেসেজ ঢুকল সুদীপ্তর মোবাইলে। সে মোবাইলতা নিয়ে চেক করল। আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে। হিন্দিতে করা মেসেজ বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় এই যে, “কাল সকালে মেসেজ দেখলে একটা ফোন করবেন এই নাম্বারে। জরুরি খবর আছে!”
এত রাতে আননোন নম্বর থেকে মেসজ পাঠিয়ে কে আবার কোন জরুরি খবর দিতে চাচ্ছে তাকে? সাত-পাঁচ ভেবে সুদীপ্ত প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই ওই নম্বরে কল করল। “কৌন?”
ও-পাশ থেকে হিন্দিতে একজন বলল, “আপনি কে বলছেন? মিঃ শাক্য সিং?”
“এটা তো শাক্য সিংহের নম্বর নয়। আমি পিশাচপাহাড় থানার সেকেন্ড অফিসার। আমার নাম সুদীপ্ত।”
“ও হো। আচ্ছা সুদীপ্তবাবু। আসলে তিনটি নম্বর আমাদের প্রোভাইড করা হয়েছিল। আপনাদের ডিএম সাহেব নিজের এবং শাক্য সিংহের নামে দুটি নম্বর দিয়েছিলেন। বাকি দুটি নম্বরে সকাল থেকে করছি, কিন্তু খালি বলছে, সার্ভিস এরিয়ার বাইরে আছেন। সেইজন্য এখন এই নাম্বারে মেসেজ করলাম। এত রাতে আপনার ঘুম ভাঙানোর জন্য দুঃখিত।”
“আপনাকে দুঃখিত হতে হবে না। আমি ডিউটিতে আছি। মোটেও ঘুমাচ্ছিলাম না। আপনি বলুন, কী দরকারি কথা বলবেন। বাই-দ্য-ওয়ে আপনি কে এবং কোথা থেকে বলছেন?”
“আমাকে আপনি চিনবেন না। আপাতত দেওঘর থানা থেকে বলছি। আমি থানার ওসি। আপনাদের ডিএম আমাদের এসপি সাহেবের বন্ধু। তিনি একটি জিপসিদের দলের খোঁজ করছিলেন, যেখানে একটি ছেলে আছে যে, লেড়কা হয়েও প্রেগন্যান্ট। তা আমার কাছে পাকা খবর এসেছে, দলটি এখন মধুপুরের কাছে ঘাঁটি গেড়েছে। ওখানে দিন পনেরো থেকে তারপর অন্যত্র চলে যাবে। আপনারা যা বলবেন, সেটাই করবো। আপনাদের টিম এলে মধুপুর থানা যাতে আপনাদের সাহায্য করে, সেটার ব্যবস্থা আমি করে দেব। ওখানকার থানায় আমার ভাতিজা আছে। ইয়াং ম্যান, কিন্তু ক্রিমিন্যালদের কাছে সিংঘম থ্রি!” বলে শব্দ করে হাসলেন দেওঘর থানার ওসি।
শেফালিকা বললেন, “হয়েই এসেছে, আর দশ মিনিট!”
সুদীপ্ত গোবিন্দকে বলল, “ভিতরে শিবম্ আছে, ওকে জল দিয়ে এসো গোবিন্দ। যদি খায়।”
গোবিন্দ ভিতরে চলে যেতেই ও আর আফজল সামান্য এগিয়ে সিগারেট ধরাল দু’জনে। এইসময়েই একটা মেসেজ ঢুকল সুদীপ্তর মোবাইলে। সে মোবাইলতা নিয়ে চেক করল। আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে। হিন্দিতে করা মেসেজ বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায় এই যে, “কাল সকালে মেসেজ দেখলে একটা ফোন করবেন এই নাম্বারে। জরুরি খবর আছে!”
এত রাতে আননোন নম্বর থেকে মেসজ পাঠিয়ে কে আবার কোন জরুরি খবর দিতে চাচ্ছে তাকে? সাত-পাঁচ ভেবে সুদীপ্ত প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই ওই নম্বরে কল করল। “কৌন?”
ও-পাশ থেকে হিন্দিতে একজন বলল, “আপনি কে বলছেন? মিঃ শাক্য সিং?”
“এটা তো শাক্য সিংহের নম্বর নয়। আমি পিশাচপাহাড় থানার সেকেন্ড অফিসার। আমার নাম সুদীপ্ত।”
“ও হো। আচ্ছা সুদীপ্তবাবু। আসলে তিনটি নম্বর আমাদের প্রোভাইড করা হয়েছিল। আপনাদের ডিএম সাহেব নিজের এবং শাক্য সিংহের নামে দুটি নম্বর দিয়েছিলেন। বাকি দুটি নম্বরে সকাল থেকে করছি, কিন্তু খালি বলছে, সার্ভিস এরিয়ার বাইরে আছেন। সেইজন্য এখন এই নাম্বারে মেসেজ করলাম। এত রাতে আপনার ঘুম ভাঙানোর জন্য দুঃখিত।”
“আপনাকে দুঃখিত হতে হবে না। আমি ডিউটিতে আছি। মোটেও ঘুমাচ্ছিলাম না। আপনি বলুন, কী দরকারি কথা বলবেন। বাই-দ্য-ওয়ে আপনি কে এবং কোথা থেকে বলছেন?”
“আমাকে আপনি চিনবেন না। আপাতত দেওঘর থানা থেকে বলছি। আমি থানার ওসি। আপনাদের ডিএম আমাদের এসপি সাহেবের বন্ধু। তিনি একটি জিপসিদের দলের খোঁজ করছিলেন, যেখানে একটি ছেলে আছে যে, লেড়কা হয়েও প্রেগন্যান্ট। তা আমার কাছে পাকা খবর এসেছে, দলটি এখন মধুপুরের কাছে ঘাঁটি গেড়েছে। ওখানে দিন পনেরো থেকে তারপর অন্যত্র চলে যাবে। আপনারা যা বলবেন, সেটাই করবো। আপনাদের টিম এলে মধুপুর থানা যাতে আপনাদের সাহায্য করে, সেটার ব্যবস্থা আমি করে দেব। ওখানকার থানায় আমার ভাতিজা আছে। ইয়াং ম্যান, কিন্তু ক্রিমিন্যালদের কাছে সিংঘম থ্রি!” বলে শব্দ করে হাসলেন দেওঘর থানার ওসি।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম
সুদীপ্ত উত্তেজিত হয়ে উঠল খবরটা শুনে। শাক্যদা থাকলে খুব খুশি হতেন। সত্যব্রতর কাছে শোনার পরে একটা দল পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তার আগেই তারা সেখান থেকে কোন মন্ত্রবলে ভাগলবা হয়ে গিয়েছিল, তাদের টিকিটিরও খোঁজ মেলেনি। আজ এই দিন পনেরো পরে তাদের যে খোঁজ পাওয়া গেল, এটাই আশার কথা! ভাগ্য যখন সুপ্রসন্ন হয়, তখন বুঝি এভাবেই একের-পর-এক সমাধানসূত্র এসে হাজির হয়।
আজ বিছানায় শুয়ে সে কথাই ভাবছিল সে। শাক্য দাকে মেসেজ করে খবরটা জানিয়ে দিয়েছে সে। সিনও করেছেন। রিপ্লাই দিয়েছেন, “পরে এই নিয়ে কথা বলছি!”
শাক্য দারা কি এখনও গুহার মধ্যে ছানবিন্ করছেন? কী পাওয়া গেল? কালাদেও সত্যিই আছে? আচ্ছা ওঁরা সকলে ঠিক আছেন তো? ইস্, সে নিজেও যদি ওই মিশনে যেতে পারত! কতদিন পরে নিজের বিছানায় ঘুমাতে এসেও উত্তেজনায় আজ রাতের ঘুম উড়ে গেল তার। —চলবে।
আজ বিছানায় শুয়ে সে কথাই ভাবছিল সে। শাক্য দাকে মেসেজ করে খবরটা জানিয়ে দিয়েছে সে। সিনও করেছেন। রিপ্লাই দিয়েছেন, “পরে এই নিয়ে কথা বলছি!”
শাক্য দারা কি এখনও গুহার মধ্যে ছানবিন্ করছেন? কী পাওয়া গেল? কালাদেও সত্যিই আছে? আচ্ছা ওঁরা সকলে ঠিক আছেন তো? ইস্, সে নিজেও যদি ওই মিশনে যেতে পারত! কতদিন পরে নিজের বিছানায় ঘুমাতে এসেও উত্তেজনায় আজ রাতের ঘুম উড়ে গেল তার। —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















