
শাক্য সম্পুর্ণ হতভম্ব হয়ে গেল ভিতরের দিকে তাকিয়ে। সে একবার কর্নেলের দিকে তাকাল। পিছনে খোদ এসপি কৌতূহলী মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছেন। অন্যরাও আসছে একে-একে, তাদের গলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। এই পথে আসতে গিয়ে একবারও তাদের শ্বাসকষ্ট হয়নি, গুহার হাওয়া যুগযুগান্তের বলেও মনে হচ্ছে না। কোন দমবন্ধকর পরিস্থিতির মুখোমুখি এখন পর্যন্ত হয়নি তারা। শাক্যর মনে সন্দেহ জাগছিল, এই গুহার মধ্যে নিশ্চয়ই মানুষের যাতায়াত আছে এবং পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচলেরও কোন বন্দোবস্ত আছে, সে হতে পারে প্রাকৃতিক, কিংবা মানুষের দ্বারা ব্যবস্থা করা। গুহার সংকীর্ণ ফাঁক দিয়ে ভিতরের দিকে তাকিয়ে তার মনে হল, এই কারণেই ট্যানেলের মধ্যে এত সহজে তারা আসতে পেরেছে। সে কর্নেলকে বলল, “আমি কি মশালটা এবার নিভিয়ে ফেলতে পারি?”
কর্নেল একটু অবাক হলেন। বললেন, “কেন? পথ কি শেষ হয়ে গিয়েছে?”
“ভিতরে গেলেই বুঝবেন। আমি আপাতত মশালটা নিভিয়ে দিচ্ছি। একে-একে আস্তে-আস্তে ভিতরে আসুন।” শাক্য বলল।
এসপি বললেন, “একটু বেশি রিস্ক নেওয়া হয়ে যাচ্ছে না মিঃ সিংহ? আপনি আগে ভিতরে না গিয়ে আমাদের সঙ্গে যে কনষ্টেবল বা নিচের র্যাং।কের অফিসার আছেন, তাঁদের একজনকে ভিতরে যেতে বললেই হয়। তারপর আমরা ঢুকলাম!”
শাক্য মনে-মনে আহত হল। উপরতলার অফিসারেরা এমন আচরণ করেন, যেন তাঁরা মধ্যযুগীয় লর্ড এবং বাকিরা তাঁদের শাসনাধীন প্রজা। লর্ডের প্রাণই একমাত্র মূল্যবান, প্রজারা মরল, কি বাঁচল, তাতে কিছু যায় আসে না! কিন্তু মুখে সে-কথা বললে এসপি রাগে চটিতং হয়ে যেতে পারেন, সেই কারণে শাক্য বলল, “ভিতরে ঢোকার ক্ষেত্রে কোন অমানুষিক ভয় নেই। মানুষিক ভয় থাকলেও থাকতে পারে। সেজন্য আমি মশালটি নিভিয়ে দিয়ে পিস্তল হাতে নেব। আপনারাও প্রস্তুত থাকুন। হতেই পারে কোন এনকাউন্টারের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের!”
শুনে কর্নেল, এসপি সকলেই তাঁদের ওয়েপন হাতে তুলে নিলেন। রিটায়ার্ড হলেও কর্নেলের লাইসেন্সড নিজস্ব রিভলভার আছে। শাক্য এসপিকে বলল, “সকলে ভিতরে হয়ত ঢুকতে পারবেন না। যাদের চেহারা একটু ভারি তাঁরা হয়ত কাত হয়ে গেলেও ভিতরে সেঁধুতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে তাঁরা যেন বাইরেই অপেক্ষা করেন। আপনি প্লিজ অন্যদের আশা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বিশেষ করে ডিএম সাহেব এলে তারপরে ভিতরে আসুন। ততক্ষণে আমি এবং কর্নেল ভিতরে যাচ্ছিস।”
কর্নেল একটু অবাক হলেন। বললেন, “কেন? পথ কি শেষ হয়ে গিয়েছে?”
“ভিতরে গেলেই বুঝবেন। আমি আপাতত মশালটা নিভিয়ে দিচ্ছি। একে-একে আস্তে-আস্তে ভিতরে আসুন।” শাক্য বলল।
এসপি বললেন, “একটু বেশি রিস্ক নেওয়া হয়ে যাচ্ছে না মিঃ সিংহ? আপনি আগে ভিতরে না গিয়ে আমাদের সঙ্গে যে কনষ্টেবল বা নিচের র্যাং।কের অফিসার আছেন, তাঁদের একজনকে ভিতরে যেতে বললেই হয়। তারপর আমরা ঢুকলাম!”
শাক্য মনে-মনে আহত হল। উপরতলার অফিসারেরা এমন আচরণ করেন, যেন তাঁরা মধ্যযুগীয় লর্ড এবং বাকিরা তাঁদের শাসনাধীন প্রজা। লর্ডের প্রাণই একমাত্র মূল্যবান, প্রজারা মরল, কি বাঁচল, তাতে কিছু যায় আসে না! কিন্তু মুখে সে-কথা বললে এসপি রাগে চটিতং হয়ে যেতে পারেন, সেই কারণে শাক্য বলল, “ভিতরে ঢোকার ক্ষেত্রে কোন অমানুষিক ভয় নেই। মানুষিক ভয় থাকলেও থাকতে পারে। সেজন্য আমি মশালটি নিভিয়ে দিয়ে পিস্তল হাতে নেব। আপনারাও প্রস্তুত থাকুন। হতেই পারে কোন এনকাউন্টারের মুখোমুখি হতে হবে আমাদের!”
শুনে কর্নেল, এসপি সকলেই তাঁদের ওয়েপন হাতে তুলে নিলেন। রিটায়ার্ড হলেও কর্নেলের লাইসেন্সড নিজস্ব রিভলভার আছে। শাক্য এসপিকে বলল, “সকলে ভিতরে হয়ত ঢুকতে পারবেন না। যাদের চেহারা একটু ভারি তাঁরা হয়ত কাত হয়ে গেলেও ভিতরে সেঁধুতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে তাঁরা যেন বাইরেই অপেক্ষা করেন। আপনি প্লিজ অন্যদের আশা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বিশেষ করে ডিএম সাহেব এলে তারপরে ভিতরে আসুন। ততক্ষণে আমি এবং কর্নেল ভিতরে যাচ্ছিস।”
এসপির মুখ দেখে মনে হল, কথাটি তিনি বিশেষ খুশি মনে গ্রহণ করেননি। কিন্তু ডিএম না এলে তিনি যেতেও পারবেন না। এসপি বিরক্ত মুখে পিছনের দিকে তাকালেন। এরা এত দেরি করছে কেন? ফিরে গিয়ে অধঃস্তন অফিসারটিকে তার আনফিট জেসচারের জন্য গালিগালাজ করতে হবে তো! মনে-মনে ভাবলেন তিনি। শাক্য শরীরটাকে গুহার দেওয়ালের দিকে ফিরিয়ে কাত হয়ে ভিতরে ঢুকে গেল। পিছনে-পিছনে কর্নেল। ভিতরে গিয়ে কর্নেলও অবাক হয়ে গেলেন।
গুহাটি সংকীর্ণ পথের এপারে এসে অনেকটাই যেন চওড়া হয়ে গিয়েছে। আকারে প্রায় প্রশস্ত একখানা ঘর। ঘরটির সামনের দিক ক্রমশ সরু হতে হতে আবার ফেলে আসা ট্যানেলের আকার ধারণ করেছে। টর্চের আলোয় দেখা গেল, সেখানে বেশ শক্তপোক্ত লোহার একখানা ফাটক বসানো, তাতে বেশ বড়সড় তালা ঝুলছে। শাক্য পকেটের চাবির গোছায় হাত দিল একবার। এতক্ষণে এতগুলি চাবির রহস্য বুঝতে পারছে সে।
শাক্য এবার ঘরের দিকে তাকাল। ঘরটির যে দিক দিয়ে তারা ঢুকল, সেই দেওয়ালের গায়ে চাটাই, সতরঞ্চি থেকে শুরু করে শোওয়ার উপকরণ রাখা। বোঝা যাচ্ছে, এখানে প্রায়শই কেউ বা কারা রাত্রিবাস করে। দুখানি দু-লিটারি জলের খালি বোতল এবং একটি কালো রঙের পোড়া মাটির কুঁজোও আছে পাশে। শহরাঞ্চলের দিকে কুঁজো আর দেখা না গেলেও, এইসব দিকে গরমের দিনে কুঁজোয় জল রেখে খাওয়ার দস্তুর আছে বোঝা যাচ্ছে। খালি মদের বোতলও একদিকে স্তুপাকার হয়ে পড়ে আছে। যে বা যারা এখানে থাকে, তারা বেশ রসিক মানুষ অনুমিত হয়। কিন্তু আসল জিনিস রয়েছে বাম ও ডান দিকের দেওয়ালে। সার-সার প্যাকিং-বাক্স সেখানে রাখা। বাক্সগুলির মুখ কিছু সিল করা, কিছুর মুখে আলগাভাবে কাঠের পাটা ফেলে তার উপর খড় চাপানো। কর্নেলকে সেদিকে আলো ধরতে বলে শাক্য এগিয়ে গেল এবং উপরের খড় সরিয়ে একটা প্যাকিং-বক্সের আলগা কাঠের পাটা একহাতে তুলে ভিতরে উঁকি দিয়ে যা দেখল তাতে তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল।
গুহাটি সংকীর্ণ পথের এপারে এসে অনেকটাই যেন চওড়া হয়ে গিয়েছে। আকারে প্রায় প্রশস্ত একখানা ঘর। ঘরটির সামনের দিক ক্রমশ সরু হতে হতে আবার ফেলে আসা ট্যানেলের আকার ধারণ করেছে। টর্চের আলোয় দেখা গেল, সেখানে বেশ শক্তপোক্ত লোহার একখানা ফাটক বসানো, তাতে বেশ বড়সড় তালা ঝুলছে। শাক্য পকেটের চাবির গোছায় হাত দিল একবার। এতক্ষণে এতগুলি চাবির রহস্য বুঝতে পারছে সে।
শাক্য এবার ঘরের দিকে তাকাল। ঘরটির যে দিক দিয়ে তারা ঢুকল, সেই দেওয়ালের গায়ে চাটাই, সতরঞ্চি থেকে শুরু করে শোওয়ার উপকরণ রাখা। বোঝা যাচ্ছে, এখানে প্রায়শই কেউ বা কারা রাত্রিবাস করে। দুখানি দু-লিটারি জলের খালি বোতল এবং একটি কালো রঙের পোড়া মাটির কুঁজোও আছে পাশে। শহরাঞ্চলের দিকে কুঁজো আর দেখা না গেলেও, এইসব দিকে গরমের দিনে কুঁজোয় জল রেখে খাওয়ার দস্তুর আছে বোঝা যাচ্ছে। খালি মদের বোতলও একদিকে স্তুপাকার হয়ে পড়ে আছে। যে বা যারা এখানে থাকে, তারা বেশ রসিক মানুষ অনুমিত হয়। কিন্তু আসল জিনিস রয়েছে বাম ও ডান দিকের দেওয়ালে। সার-সার প্যাকিং-বাক্স সেখানে রাখা। বাক্সগুলির মুখ কিছু সিল করা, কিছুর মুখে আলগাভাবে কাঠের পাটা ফেলে তার উপর খড় চাপানো। কর্নেলকে সেদিকে আলো ধরতে বলে শাক্য এগিয়ে গেল এবং উপরের খড় সরিয়ে একটা প্যাকিং-বক্সের আলগা কাঠের পাটা একহাতে তুলে ভিতরে উঁকি দিয়ে যা দেখল তাতে তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৬ : ভাগ্য যখন ফেরে

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৩৪: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৫

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
কর্নেল টর্চটা হাতে নিয়েই এগিয়ে এলেন। তাঁরও স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল হচ্ছে। তিনি বললেন, “মশালটা জ্বালুন। তাতে বক্সগুলি সম্পূর্ণ দেখা যাবে। টর্চের আর ক্ষমতা কতটা? এখন তো ভিতরে ঢুকে পড়েছেন। মশাল নিয়ে ঢুকতে গেলে তখন খুব অসুবিধা হত, বুঝতে পারছি। এখন তো আর সে সমস্যা নেই। ভিতরে কী দেখছেন? নিশ্চয়ই প্রাচীন মূর্তি-টুর্তি কিছু?”
শাক্য বলল, “তাহলে তো হয়েই যেত্য। নিজেই দেখুন, কেন মশাল জ্বালাতে পারব না!”
কর্নেল কৌতূহলভরে এগিয়ে এসে টর্চের আলো ফেলে ভিতরে উঁকি মারলেন, তারপরেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল, “ও মাই গড্! এ তো একেবারে লেটেস্ট মডেলের সব ওয়েপেন্স্! এগুলি এখন পার্টস খুলে আলাদা করা আছে। কিন্তু জুড়ে নিলেই দিব্যি হাতে উঠে আসবে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র! আর দেখে তো মনে হচ্ছে, বিদেশ থেকে আমদানি। দেশি গানের পার্টস এমন হয় না!”
শাক্য বলল, “তাহলেই বুঝুন, এগুলি যখন আছে, তখন এ-ঘরে কার্তুজের না-থাকাটা কত অস্বাভাবিক। আমার অনুমান, বাকি প্যাকিংবাক্সগুলি খুললেই তা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। কেবলমাত্র এই প্যাকিংবক্সের মধ্যেই যতগুলি ওয়েপেন আছে, আমার তো মনে হয় কোটিতে দাঁড়াবে তার ভাল্যু! যাই হোক, কোনভাবেই মশাল জ্বালানো যাবে না, বরং পুলিশ অফিসার আসছেন, ওঁদের কাছে হাই ভোল্টেজের সার্চলাইট আছে, সেটা জ্বালাতে বলছি। এখন মশাল জ্বালালে রিস্ক হয়ে যাবে। এই বিপুল পরিমাণে কার্তুজের ওপর বাই চান্স মশালের আগুনের ফুলকি গিয়ে পড়লে কী ভয়াবহ ব্যাপার হবে বুঝতে পারছেন?”
কর্নেল মাথা নাড়লেন। তিনি এতক্ষণে বুঝতে পারছেন। বললেন, “এবার?”
“বাকিরা আসুক। বাইরে আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, দেখা যাক্, ক’জন ভিতরে আসেন!”
এইসময় একে-একে প্রায় সকলেই ঢুকলেন। কেবল সুধীভূষণ বাবু আড়ে-বহরে ভারি, তিনি পারলেন না। বাইরে তিনি এবং আরেকজন কনষ্টেবলকে রেখে আসলেন বাকিরা। সার্চলাইট জ্বালতেই ঘরের অনেকখানি অংশ আলোয় ভরে গেল।
শাক্য বলল, “তাহলে তো হয়েই যেত্য। নিজেই দেখুন, কেন মশাল জ্বালাতে পারব না!”
কর্নেল কৌতূহলভরে এগিয়ে এসে টর্চের আলো ফেলে ভিতরে উঁকি মারলেন, তারপরেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল, “ও মাই গড্! এ তো একেবারে লেটেস্ট মডেলের সব ওয়েপেন্স্! এগুলি এখন পার্টস খুলে আলাদা করা আছে। কিন্তু জুড়ে নিলেই দিব্যি হাতে উঠে আসবে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র! আর দেখে তো মনে হচ্ছে, বিদেশ থেকে আমদানি। দেশি গানের পার্টস এমন হয় না!”
শাক্য বলল, “তাহলেই বুঝুন, এগুলি যখন আছে, তখন এ-ঘরে কার্তুজের না-থাকাটা কত অস্বাভাবিক। আমার অনুমান, বাকি প্যাকিংবাক্সগুলি খুললেই তা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। কেবলমাত্র এই প্যাকিংবক্সের মধ্যেই যতগুলি ওয়েপেন আছে, আমার তো মনে হয় কোটিতে দাঁড়াবে তার ভাল্যু! যাই হোক, কোনভাবেই মশাল জ্বালানো যাবে না, বরং পুলিশ অফিসার আসছেন, ওঁদের কাছে হাই ভোল্টেজের সার্চলাইট আছে, সেটা জ্বালাতে বলছি। এখন মশাল জ্বালালে রিস্ক হয়ে যাবে। এই বিপুল পরিমাণে কার্তুজের ওপর বাই চান্স মশালের আগুনের ফুলকি গিয়ে পড়লে কী ভয়াবহ ব্যাপার হবে বুঝতে পারছেন?”
কর্নেল মাথা নাড়লেন। তিনি এতক্ষণে বুঝতে পারছেন। বললেন, “এবার?”
“বাকিরা আসুক। বাইরে আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, দেখা যাক্, ক’জন ভিতরে আসেন!”
এইসময় একে-একে প্রায় সকলেই ঢুকলেন। কেবল সুধীভূষণ বাবু আড়ে-বহরে ভারি, তিনি পারলেন না। বাইরে তিনি এবং আরেকজন কনষ্টেবলকে রেখে আসলেন বাকিরা। সার্চলাইট জ্বালতেই ঘরের অনেকখানি অংশ আলোয় ভরে গেল।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন

ক্যাবলাদের ছোটবেলা, পর্ব-৩৭: লোকে যারে বড় বলে
এসপি তো অবাক। এ-সব জিনিস একদিনে হয় না। আর দেখেই মনে হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এই কাজ। তিনি নিজে এই জেলায় বছরখানেক হল এসেছেন। কখন কেউ ঘূনাক্ষরেও রিপোর্ট করেনি, এ-জাতীয় কোন সন্দেহের কথা জানিয়ে। লোকাল থানার তরফেও কিছু জানান হয়নি। পিশাচপাহাড় থানার ওসি দীর্ঘদিন এখানে আছেন, এই অঞ্চলের ভূমিপুত্র, যদিও অন্যত্র মানুষ হয়েছেন। কিন্তু তিনি তো কখন এ-ধরণের কোন আভাস-ইঙ্গিত পর্যন্ত দেননি। প্রশাসনের নাকের ডগায় এভাবে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রের ভাণ্ডার তৈরি করে দিব্যি কারবার চালানো হচ্ছে, এ-খবর লোকাল থানার রাখা উচিত ছিল! অথচ তাঁরা রাখলেন না, এখন লালবাজার থেকে গোয়েন্দা এসে এক মাসে এ-সব সন্দেহ করে ধরে ফেলল, এতা মেনে নেওয়া যায়? চূড়ান্ত অপদস্ত হওয়া যাকে বলে। এরপর নিশ্চয়ই লালবাজার থেকে ফোন করে জবাবদিহি চাওয়া হবে। এমনিতেই পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সীমান্ত এরিয়া, তার উপর প্রতিবেশী একটি দেশের বর্ডার সেই রাজ্যের যে প্রান্তে, তা এই পিশাচপাহাড় থেকে খুব দূরবর্তী নয়। এমন একটি অবস্থানের জন্যই আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল তাঁর ডিপার্টমেন্টের, তাহলে এভাবে মুখে চুনকালি পড়ত না। এসপি রাগে দাঁত কিড়মিড় করে উঠলেন।
ডিএম যথারীতি প্রশ্ন করলেন, “কী মিস্টার ভার্গব, আপনি জানতেন না যে এখানে একটা ওয়েপেনের ডেন আছে? দেখে তো মনে হচ্ছে ফলাও কারবার। খুব নতুন বলে তো মনে হচ্ছে না!”
শুনে গায়ে জ্বালা ধরে গেল এসপি ভার্গবের। কোনওরকমে বললেন, “আমাদের কাছে ইনফরমেশন ছিল না স্যার!”
শাক্য বলল, “এসপি সাহেবের পক্ষে জানা সম্ভব নাও হতে পারে। কালাদেওর মিথ ছড়িয়ে কতকাল ধরে যে মানুষকে বোকা বানান হচ্ছে, তার ইয়ত্তা নেই। এ-তো আজকের কথা নয়। আমি লোকাল পেপারে বেরুনো ইতিহাসে পড়েছি, এ-গুহা সুপ্রাচীন এবং কালাদেওর মিথও। একটা সময় পুরোহিত এবং ধর্ম নিয়ে যারা ব্যবসা করে তারা এমন অনেক মিথ্যে মিথ রটিয়ে তাকে সত্য করে দেখাত। বিশুদ্ধ ম্যাজিক আর কি। সেকালে এমন অনেক দেখা যায়। আমি বলছি না যে, বিশুদ্ধ ধর্মীয় চেতনাযুক্ত সৎ মানুষ নেই, আমি বলছি তাঁদের ভিড়ে এইসব কালপ্রিটও আছেন। তাঁরাই নিজেদের স্বার্থে এই মিথ চালু করেছিলেন। তবে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় জনগণকে বোকা বানাতে পারলেও, কিছু মানুষ কিন্তু কালাদেও যে আসলে মিথ্যে ফক্কিকারি, তা জানেন। হয়তো আগেও জানতেন। তাঁদ্র মধ্যে কেউ-কেউ সেই মিথের সুযোগ নিয়ে এখানে এই ব্যবসা ফেঁদেছেন!”
ডিএম বললেন, “মি. সিংহ, আপনি কি মনে করছেন, মঙ্গল ওঝা এই দলের পাণ্ডা?”
“একেবারেই না। মঙ্গল সাধারণ কর্মচারী মাত্র ছিল। এই দলের মাথা কিংবা মাথারা ক’জন তা তো জানি না, তবে অনুমান করতে দ্বিধা নেই, হাতির দাঁতের মতো দেখাবার জন্য দাঁত আর খাওয়াত্র জন্য আলাদা দাঁটের মতো এখানেও টিমলিডার আড়ালে থেকেই কাজ সারছেন। মঙ্গল চুনোপুঁটি। সে লিডার হলে এত সহজে মারা পড়ত না!”
ডিএম যথারীতি প্রশ্ন করলেন, “কী মিস্টার ভার্গব, আপনি জানতেন না যে এখানে একটা ওয়েপেনের ডেন আছে? দেখে তো মনে হচ্ছে ফলাও কারবার। খুব নতুন বলে তো মনে হচ্ছে না!”
শুনে গায়ে জ্বালা ধরে গেল এসপি ভার্গবের। কোনওরকমে বললেন, “আমাদের কাছে ইনফরমেশন ছিল না স্যার!”
শাক্য বলল, “এসপি সাহেবের পক্ষে জানা সম্ভব নাও হতে পারে। কালাদেওর মিথ ছড়িয়ে কতকাল ধরে যে মানুষকে বোকা বানান হচ্ছে, তার ইয়ত্তা নেই। এ-তো আজকের কথা নয়। আমি লোকাল পেপারে বেরুনো ইতিহাসে পড়েছি, এ-গুহা সুপ্রাচীন এবং কালাদেওর মিথও। একটা সময় পুরোহিত এবং ধর্ম নিয়ে যারা ব্যবসা করে তারা এমন অনেক মিথ্যে মিথ রটিয়ে তাকে সত্য করে দেখাত। বিশুদ্ধ ম্যাজিক আর কি। সেকালে এমন অনেক দেখা যায়। আমি বলছি না যে, বিশুদ্ধ ধর্মীয় চেতনাযুক্ত সৎ মানুষ নেই, আমি বলছি তাঁদের ভিড়ে এইসব কালপ্রিটও আছেন। তাঁরাই নিজেদের স্বার্থে এই মিথ চালু করেছিলেন। তবে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় জনগণকে বোকা বানাতে পারলেও, কিছু মানুষ কিন্তু কালাদেও যে আসলে মিথ্যে ফক্কিকারি, তা জানেন। হয়তো আগেও জানতেন। তাঁদ্র মধ্যে কেউ-কেউ সেই মিথের সুযোগ নিয়ে এখানে এই ব্যবসা ফেঁদেছেন!”
ডিএম বললেন, “মি. সিংহ, আপনি কি মনে করছেন, মঙ্গল ওঝা এই দলের পাণ্ডা?”
“একেবারেই না। মঙ্গল সাধারণ কর্মচারী মাত্র ছিল। এই দলের মাথা কিংবা মাথারা ক’জন তা তো জানি না, তবে অনুমান করতে দ্বিধা নেই, হাতির দাঁতের মতো দেখাবার জন্য দাঁত আর খাওয়াত্র জন্য আলাদা দাঁটের মতো এখানেও টিমলিডার আড়ালে থেকেই কাজ সারছেন। মঙ্গল চুনোপুঁটি। সে লিডার হলে এত সহজে মারা পড়ত না!”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৮: রাক্ষস খর ও রামের সংঘাতে, যুদ্ধের বিবিধবার্তা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা
“টিমেরই কোন রাইভ্যাল। এইজাতীয় গ্যাং-এ অনেকে লিডারের হাত ধরে ঢোকে, তারপর নিজেই লিডার হয়ে বসতে চায়। তখনই ঘটে বিপদ। সেইরকম কিছু এখানেও…”
“না, আমার কাছে যতটুকু খবর আছে, তাতে মঙ্গল সাধারণ মিডলম্যান। তার কাজ ছিল সম্ভবত প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রশস্ত্র সাপ্লাই দেওয়া। এবারেও দিয়েছিল। কিন্তু একজন নেপো মাঝখান থেকে দই মেরে দেওয়ায় কোপটা মঙ্গলের ওপর এসে পড়েছে। অথচ নেপো জেনেবুঝে কাজটা করেছিল, এমন নয়!”
ডিএম শাক্যর কথা শুনে কিছুটা বেকুবের মতো মুখ করে বললেন, “আপনার শেষের কথাগুলি তো ঠিক বুঝলাম না মিঃ সিংহ!”
“কনফিডেনশিয়াল ব্যাপার স্যার। পরে আপনার চেম্বারে আপনাকে আর এসপি সাহেবকে জানাব। আপনাদের কেস। কৃতিত্ব আপনাদেরই থাকবে। আমি কেবল এসেছি আপনাদের সাহায্য করতে, এটা মাথায় রাখবেন। ভরসা করুন, যা-যা বলব, সেইভাবে স্টেপ নিন, তাহলে দেখবেন আপাত জটিল কেস কেমন সরল হয়ে যায়। এখানেও কিন্তু কালাদেও মিথের এবার শেষ হবার সময় এসে গিয়েছে।”
পিনাকীবাবু বললেন, “আমি তো ভাবতেই পারছি না, মঙ্গল কীভাবে এটা পারলো! এত মানুষের আবেগ, ভক্তি—কোন-কিছুর তোয়াক্কা না করে, এই প্রাচীন থানকে সে অন্য কাজে ব্যবহার করার সাহস পেল কীভাবে? দেখুন কালাদেও আছে কী নেই—সে বিচারে আমি যাচ্ছি না, কিন্তু মানুষের এতকালের বিশ্বাসের ঐতিহ্য তো এই থানকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল। সে-সত্য তো অস্বীকার করার উপায় নেই। সে-দিক থেকে এই থান তো হেরিটেজ! মঙ্গল তার পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা নষ্ট করে একটা বড় পাপ করে গেল। এখন মনে হচ্ছে, তার এই পরিণতি অলক্ষ্যের সেই কালাদেওর অভিশাপ!”
শাক্য হাসল। বলল, “আপনার কথাকে ফেক্লে দিচ্ছি না পিনাকীবাবু। মানুষের বিশ্বাসের দিক থেকে দেখলে এটা হেরিটেজ। কিন্তু সুধীভূষণবাবু বাইরে আছেন, যদি ঢুকতে পারতেন, তিনি হয়ত বলতেন, আর্কিওলজিকাল সার্ভের দৃষ্টিকোণ থেকে এই গুহার কোন তাৎপর্য নেই!”
এসপি বললেন, “তাহলে এবার আমাদের করণীয় কী?”
শাক্য বলল, “ওদিকটা দেখবেন না?”
“কোন্ দিক?”
“না, আমার কাছে যতটুকু খবর আছে, তাতে মঙ্গল সাধারণ মিডলম্যান। তার কাজ ছিল সম্ভবত প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রশস্ত্র সাপ্লাই দেওয়া। এবারেও দিয়েছিল। কিন্তু একজন নেপো মাঝখান থেকে দই মেরে দেওয়ায় কোপটা মঙ্গলের ওপর এসে পড়েছে। অথচ নেপো জেনেবুঝে কাজটা করেছিল, এমন নয়!”
ডিএম শাক্যর কথা শুনে কিছুটা বেকুবের মতো মুখ করে বললেন, “আপনার শেষের কথাগুলি তো ঠিক বুঝলাম না মিঃ সিংহ!”
“কনফিডেনশিয়াল ব্যাপার স্যার। পরে আপনার চেম্বারে আপনাকে আর এসপি সাহেবকে জানাব। আপনাদের কেস। কৃতিত্ব আপনাদেরই থাকবে। আমি কেবল এসেছি আপনাদের সাহায্য করতে, এটা মাথায় রাখবেন। ভরসা করুন, যা-যা বলব, সেইভাবে স্টেপ নিন, তাহলে দেখবেন আপাত জটিল কেস কেমন সরল হয়ে যায়। এখানেও কিন্তু কালাদেও মিথের এবার শেষ হবার সময় এসে গিয়েছে।”
পিনাকীবাবু বললেন, “আমি তো ভাবতেই পারছি না, মঙ্গল কীভাবে এটা পারলো! এত মানুষের আবেগ, ভক্তি—কোন-কিছুর তোয়াক্কা না করে, এই প্রাচীন থানকে সে অন্য কাজে ব্যবহার করার সাহস পেল কীভাবে? দেখুন কালাদেও আছে কী নেই—সে বিচারে আমি যাচ্ছি না, কিন্তু মানুষের এতকালের বিশ্বাসের ঐতিহ্য তো এই থানকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল। সে-সত্য তো অস্বীকার করার উপায় নেই। সে-দিক থেকে এই থান তো হেরিটেজ! মঙ্গল তার পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা নষ্ট করে একটা বড় পাপ করে গেল। এখন মনে হচ্ছে, তার এই পরিণতি অলক্ষ্যের সেই কালাদেওর অভিশাপ!”
শাক্য হাসল। বলল, “আপনার কথাকে ফেক্লে দিচ্ছি না পিনাকীবাবু। মানুষের বিশ্বাসের দিক থেকে দেখলে এটা হেরিটেজ। কিন্তু সুধীভূষণবাবু বাইরে আছেন, যদি ঢুকতে পারতেন, তিনি হয়ত বলতেন, আর্কিওলজিকাল সার্ভের দৃষ্টিকোণ থেকে এই গুহার কোন তাৎপর্য নেই!”
এসপি বললেন, “তাহলে এবার আমাদের করণীয় কী?”
শাক্য বলল, “ওদিকটা দেখবেন না?”
“কোন্ দিক?”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
কক্ষ থেকে যে পথটা সামনে এগিয়ে গেছে এবং লোহার ফাটকে তালা ঝুলিয়ে বন্ধ করা আছে, সেই দিকে দেখাল শাক্য। সকলে তাকে অনুসরণ করে সেদিকে তাকিয়ে বিস্ময়ে নানারকম শব্দ করে উঠলেন মুখে। কর্নেল কেবল চুপ করে থাকলেন, কারণ, আগেই তিনি জানেন ব্যাপারটা।
ডিএম বললেন, “তার মানে দীর্ঘদিন ধরে বেশ পরিকল্পনা করেই এটা বানান হয়েছে, অথচ পুলিশ ফোর্স কিছু জানতেই পারল না?”
শাক্য বলল, “আমার তা মনে হয় না। ফাটকের গঠন দেখে তো হাল-আমলের বলে মনে হচ্ছে না। আমার অনুমান, এটা একটা প্রাচীন পথ, যা দিয়ে গোপনে গুহায় আসা যাওয়া করা হত, এবং কালাদেও মিথ চালু রাখতে গেলে এ-জাতীয় একটা পথ থাকা খুব স্বাভাবিক ছিল। এখানে সেটাই হয়েছে।”
ডিইএম বললেন, “এখন তাহলে তালা ভাঙতে হবে!”
শাক্য পকেট থেকে চাবির গোছা বার করে বলল, “এটা আনলাম কীসের জন্য? আমার মনে হয়, এই চানি দিয়েই খুল যা সিমসিম যা হবার হয়ে যাবে!”
পিনাকী বাবু বললেন, ‘আমি সেজন্যই ভাবছিলাম, এ-জাতীয় গুহার মধ্যে সাপখোপের উপদ্রব থাকা স্বাভাবিক। প্রতি মুহূর্তে আমার সেই আশঙ্কাই হচ্ছিল। কিন্তু এখন দেখছি, এখানে মানুষ বাস করে বলেই সাপেরা এই স্থান ত্যাগ করেছে !”
“হ্যাঁ, এখন তালা খোলা যাক। দেখা যাক, পথের শেষ কোথায়?” বলে শাক্য এগিয়ে গেল ফাটকের তালা খুলতে। —চলবে।
ডিএম বললেন, “তার মানে দীর্ঘদিন ধরে বেশ পরিকল্পনা করেই এটা বানান হয়েছে, অথচ পুলিশ ফোর্স কিছু জানতেই পারল না?”
শাক্য বলল, “আমার তা মনে হয় না। ফাটকের গঠন দেখে তো হাল-আমলের বলে মনে হচ্ছে না। আমার অনুমান, এটা একটা প্রাচীন পথ, যা দিয়ে গোপনে গুহায় আসা যাওয়া করা হত, এবং কালাদেও মিথ চালু রাখতে গেলে এ-জাতীয় একটা পথ থাকা খুব স্বাভাবিক ছিল। এখানে সেটাই হয়েছে।”
ডিইএম বললেন, “এখন তাহলে তালা ভাঙতে হবে!”
শাক্য পকেট থেকে চাবির গোছা বার করে বলল, “এটা আনলাম কীসের জন্য? আমার মনে হয়, এই চানি দিয়েই খুল যা সিমসিম যা হবার হয়ে যাবে!”
পিনাকী বাবু বললেন, ‘আমি সেজন্যই ভাবছিলাম, এ-জাতীয় গুহার মধ্যে সাপখোপের উপদ্রব থাকা স্বাভাবিক। প্রতি মুহূর্তে আমার সেই আশঙ্কাই হচ্ছিল। কিন্তু এখন দেখছি, এখানে মানুষ বাস করে বলেই সাপেরা এই স্থান ত্যাগ করেছে !”
“হ্যাঁ, এখন তালা খোলা যাক। দেখা যাক, পথের শেষ কোথায়?” বলে শাক্য এগিয়ে গেল ফাটকের তালা খুলতে। —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















