শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

শাক্য চাবি নিয়ে এগিয়ে গেল ফাটকের দিকে। এমনসময় বাইরে থেকে সুধীভূষণ বাবুর গলা শোনা গেল। তিনি ওপাশ থেকে বললেন, “আরে ভিতরে কী দেখলেন, কেউ তো জানালেন না। এদিকে আমি যে আটকে গেলাম এদিকে। তাহলে আমাকে নিয়ে আসারই বা কী মানে হল? এইসব গুহার গোপন কক্ষে অনেককিছু প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী থাকে, না বুঝে নষ্ট করে ফেললে বিপদ!”

শাক্য জবাব দিল না। ডিএম কিংবা এসপিও চুপ করে রইলেন, জবাব দিলেন কর্নেল। বললেন, “আরে মিঃ ভট্টাচার্যি, এখানে আপনার দেখার মতো কিছু নেই। একেবারে চাঁচাছোলা ঘর একটা। আর যা-সব আছে, তা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের আগ্রহের বিষয়, আপনার নয়। আমি তো দেওয়ালে অনেক খুঁজলাম, আদিম মানবের আঁকা কোনও একটা লাইনও চোখে পড়ল না!”

সুধীভূষণ রেগে উঠলেন, “কর্নেল বলছেন মনে হচ্ছে! আপনি কি আমার সঙ্গে ইয়ার্কি করছেন নাকি? জানেন, আমি আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে এখানে এসেছি। প্রাচীন সম্পদের সামান্য হানি ঘটলে আমি কিন্তু ব্যবস্থা নিতে পারি জানেন?”

শাক্য ডিএমের দিকে তাকাল। ডিএম তার অব্যক্ত কথা বুঝতে পারলেন। তিনি নিজে এগিয়ে গিয়ে বললেন, “মি. ভট্টাচারিয়া, আপনাকে ভিতরে আসতে আমরা কিন্তু বাধা দিই নি, মানাও করিনি। আপনি ভিতরে আসতে পারেননি কেন, তা আপনি নিজেই জানেন। আর তাছাড়া এখানে এখন পর্যন্ত এমন কোন আর্কিওলজিক্যাল স্পেসিমেন দেখতে পাই নি আমরা, যা আমাদের ন্যাশানাল ট্রেজার হিসেবে গণ্য হতে পারে। এটা একটা চাঁচাছোলা ঘর। এখানে মানুষ বসবাস করে, আজকের দিনের মানুষ। খালি মদের বোতল কিংবা ফাঁকা দু’ লিটারি জলের বোতল নিশ্চয়ই আপনার আর্কিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের কাজে আসবে না? ভেবে জানাবেন, কাজে লাগবে কিনা, তাহলে এগুলি আমার লোক নিয়ে গিয়ে আপনাকে দেবে। এখন আমাদের কাজ করতে দিন। প্রতিটা সময় এখন স্পিসিয়াস।”
সুধীভূষণ কোন উত্তর দিলেন না। সম্ভবত ডিএমের পিঞ্চ করা কথাগুলি বুঝতে পেরেছেন তিনি।
শাক্য আর দেরি করল না। সত্যিই বেশিক্ষণ এ-গুহায় থাকা ঠিক হবে না। এ-গুহার বাসিন্দারা যে-কোন সময় ফিরে এসে অ্যাটাক করতে পারে। শাক্যর মন বলছে, যারা এখানে আসা-যাওয়া করে, থাকে, তারা সামনের পথ ব্যবহার করে না। অতএব পিছনের পথই তাদের আসা যাওয়ার পথ। এর শেষ দেখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
চাবির গোছা বার করে আন্দাজে সে একটা চাবি ঢুকিয়ে ঘোরাল। খুলল না। পরের চাবিটাও ব্যর্থ হল। তার পরেরটাও।

ডিএম ভিতরে-ভিতরে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন বোঝা যাচ্ছে। বললেন, “কী হল মিঃ সিংহ, এই চাবি দিয়ে না খুললে, তালা ভেঙে ফেলার ব্যবস্থা করছি!”
“একটু অপেক্ষা করুন স্যার। এতগুলি চাবি, এর মধ্যে কোন একটাতে খুলবেই…দেখবেন…” বলতে-না-বলতে পরের চাবি ঢুকিয়ে ঘোরাতেই খুট করে ভারি তালাটা খুলে গেল।
এসপি ভিতরের উত্তেজনা দমন করে চাপা গলায় বললেন, “এই তো খুলেছে!”
কর্নেল বললেন, “ওদিকে পা রাখার আগে মশালটা জ্বেলে নিলে ভালো হত না?”
“আমার মনে হয় তার দরকার হবে না। সার্চলাইট তো আছেই। আর ওদিকে কোথাও হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা আছে। কারণ, দিব্যি সকালবেলার শীতল হাওয়া আসছে। আমি প্রথমে যাচ্ছিস, কোনরকম অসুবিধা হলে বলব!”
ডিএম বললেন, “অত রিস্ক না নিয়ে মাস্কটা পরে নিন। কিছু থাক বা না থাক, প্রিভেনসন ইজ বেটার দ্যান টু কিওর!”

সকলকেই আলাদা-আলাদা করে গ্যাস-মাস্ক দেওয়া হয়েছিল। কেউ-কেউ পরে ছিলেন। ডিএম নিজেও পরে নিয়েছিলেন। কর্নেল, এসপি এবং শাক্য অবশ্য পরেনি। হয়তো হঠকারিতা হয়েছে। কিন্তু গুহামুখে ঢকবার সময় যদি সে দেখত, বহুকাল বর্জিত কোন গুহাপথের চিহ্ন বর্তমান, তাহলে অবশ্যই সে নিজে মাস্ক পরত, অন্যদেরকেও পরতে বাধ্য করত। কিন্তু যেখানে মানূষের যাতায়াতের চিহ্ন আছে, সেখানে এই সতর্কতার কোন প্রয়োজন আছে বলে সে মনে করেনি। এখন কিন্তু সে আর কথা বাড়াল না, সাথে থাকা কিটব্যাগ থেকে মাস্ক বার করে পরে নিল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৭: বীতেচ্ছ-জাতক — তুই যাহারে দিলি ফাঁকি

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৬৯: আকাশ এখনও মেঘলা

ফাটক খুলে ওদিকে পা রাখার আগে সে বলল, “সক্কলে, যাঁদের যাঁদের কাছে ওয়েপন আছে, তাঁরা বার করে হাতে রাখুন। যে-কোন মুহূর্তে অ্যাটাক্‌ করতে পারে কেউ, তার মোকাবিলা করার জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকুন সকলে। যাঁদের ওয়েপন আছে, তাঁদের একজন সবার পিছনে থাকুন, বাকিরা আগে থাকুন, মাঝখানে ডিএম সাহেব এবং পিনাকীবাবু থাকুন, কারণ, একমাত্র আপনাদের দুজনের কাছেই কোন অস্ত্র নেই!”

শাক্যর কথামতো সকলে পজিশন নিল। কিন্তু ওদিকে ট্যানেলে পা রাখার আগে কী মনে করে শাক্য একবার পিছনে ফিরল। তারপর কক্ষের প্রবেশপথের দিকে গিয়ে বলল, “সুধীভূষণবাবু, আপনারা দুজন যে-পথে এসেছিলেন, সে-পথেই ফিরে যান। গিয়ে মন্দিরের মধ্যে অপেক্ষা করবেন। এখনই বাইরে বেরুবেন না। বাইরের জনতা যেন জানতে না পারে, আপনারা দুজন ওখানে আছেন, বাকিরা নেই। আপনারা অপেক্ষা করুন, এদিকটা দেখে নিয়েই আমরা ফিরব। আর একটু আগেই দেখলাম, মোবাইলে টাওয়ারের অবস্থা খুব সঙ্গিন। অতএব ফোন করে তো পাবেন না, যদি দেখেন খুব দেরি হচ্ছে, ফিরছি না, তাহলে বাইরে বেরিয়ে ফোর্সকে বলবেন এবং দরকার হলে পথ দেখিয়ে আবার আসবেন।”

সুধীভূষণ একটু আগে ডিএমের বলা কথায় সম্ভবত আহত হয়েছিলেন। তবে তিনি বুদ্ধিমান। অতএব এখন আর কথা বাড়ালেন না। বললেন, “বেশ। যেমন আপনারা বলবেন। কত্তার ইচ্ছেয় কর্ম!” বলে চুপ করে গেলেন।
শাক্য ফিরে এসে আর দেরি করল না। পা রাখল ওদিকের ট্যানেলে। এই ট্যানেলটিও যেমন সে ভেবেছিল, মোটামুটি পরিষ্কার। তবে ওদিকের ট্যানেলে এত গাছের পাতা ইত্যাদি ছিল না। এখানে আছে। খড়কুটোও পড়ে থাকতে দেখল সে। পাখিরা এনে ফেলে থাকতে পারে, আবার গুহাকক্ষে ওয়েপনস ঢাকা দেওয়ার জন্য যে খড় ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলি থেকে পড়ে থাকতে পারে। পাতাগুলি শুকনো। সেগুলির ওপর দিয়ে হাঁটবার সময় মস্‌মস্‌ করে শব্দ হচ্ছিল, গুঁড়িয়ে যাচ্ছিল পায়ের চাপে। শাক্য সতর্ক হয়ে পা ফেলছিল। অন্য কেভ এক্সপিডিশনে পায়ে জাঙ্গল বুট পরাই নিয়ম, কিন্তু মন্দিরে জুতো পরে ঢুকলে উপস্থিত পাবলিক ক্ষেপে উঠতে পারে ভেবেই সকলে জুতো খুলে ঢুকেছেন। এতে যথেষ্ট রিস্ক আছে এমনিতেই। সাপখোপ তো আছেই, কোন লোহালক্করজাতীয় কিছুর টুকরো-টাকরাও পড়ে থাকতে পারে। পায়ে বিঁধলে আর-এক সমস্যা। সেই কারণেই সকলেই সতর্ক হয়ে পা ফেলছিলেন।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন

এখানকার ট্যানেলটিও আগের মতোই প্রায়। পাশাপাশি দুজন চলতে পারে, এমন চওড়া। তবে যত এগোন যাচ্ছিল, ততই হাওয়ার জোরদার উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছিল। ওদিকে কোন ফাঁকফোকর আছে সম্ভবত, এবং সেটি বেশ বড়সড়, তা-না-হলে এত হাওয়া আসতে পারত না। মন্দির থেকে গুহাকক্ষে আসার পথেও এত হাওয়া ছিল না। শাক্যর মন বলছিল, হয়ত খুব শিগগিরই হাওয়া ঢোকার সেই পথ চোখে পড়বে। কারণ, হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারও অনেক তরল হয়ে আসছিল। এর অর্থ, কেবল হাওয়াই নয়, দিনের আলোও ঢোকবার পথ আছে। কিছুদূর যাওয়ার পথ খালি সিগারেটের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখল সে। বেশ দামি ব্র্যান্ড। এখানে যারা যাতায়াত করে তারা অবৈধ অস্ত্রের কারবারে এতটাই মালামাল হয়ে উঠেছে যে, বিদেশী ব্র্যাণ্ড ছাড়া খায় না ! আর-একজনকেও যেন সে এখানে দেখেছে এই ব্র্যান্ড খেতে। কে তা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। কিন্তু সে এসপিকে বলল, “কাউকে বলুন, এটা কালেক্ট করতে। অবশ্যই গ্লাভস পরে এবং জিপারব্যাগের মধ্যে রাখতে। দরকার হলে ফরেনসিকে পাঠাতে হবে।”

শাক্যর কথা শুনে এসপি পিছনে ফিরে তাকালেন। সঙ্গে সঙ্গে একজন পুলিশের যে অফিসার ছিলেন, তিনি এগিয়ে এসে জিপারব্যাগ বার করে সিগারেটের খালি প্যাকেট তুলে নিলেন। কিছুদূরেই বেশ কয়েকটি ফিলটার টিপের অবশেষ পড়েছিল, সেটাও সংগ্রহ করা হল শাক্যর নির্দেশে। এখানে দাঁড়িয়ে সম্ভবত অস্ত্রগ্যাং-এর সদস্যরা কিছু আলোচনা করেছিল। এখানে দাঁড়িয়ে আড্ডা মারবে না। আড্ডা মারতে হলে গুহাকক্ষেই যাবে। সেখানে স্তুপীকৃত মদের বোতল সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে। বোতলগুলিকেও ফরেনসিকে পাঠাতে হবে। আপাতত সেই চিন্তা মাথা থেকে সরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল সে।

রাস্তা যেন আর ফুরাচ্ছিল না। সকলেই ভিতরে-ভিতরে অধৈর্য্য হয়ে উঠেছে বোঝাই যাচ্ছিল। কর্নেল একবার বললেন, “আমরা কি আদৌ কোথাও পৌঁছাবো? এ-পথ তো মনে হচ্ছে পাতালে গিয়ে শেষ হবে!”
পিনাকীবাবু কম কথার মানুষ। কিন্তু তিনিও সায় দিয়ে বললেন, “কালাদেও কিন্তু পাতাল থেকেই উঠে আসেন!”
এসপি বলল, “আপনারা একটু চুপ করুন। সাবধানে চলুন। অযথা কথা বলবেন না। এতে সামনে কোথাও যদি শত্রুপক্ষ ঘাপটি মেরে থাকে, তাহলে তারা কিন্তু শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে দেরি করবে না!”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৮: রাক্ষস খর ও রামের সংঘাতে, যুদ্ধের বিবিধবার্তা

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

এসপির কথায় কাজ হল। কর্নেল এবং পিনাকীবাবু মুখে কুলুপ আঁটলেন। শাক্য খুব মৃদু গলায় বলল, “আমরা নীচের দিকে যাচ্ছি না পিনাকীবাবু। এই পথ ক্রমশ উপরের দিকে উঠছে। আর যেভাবে আলো বাড়ছে তাতে পাতালের পরিবর্তে স্বর্গের কথা মনে হচ্ছে আমার। পাতাল নিচে থাকলে স্বর্গ উপরে থাকে। আমরা তাহলে স্বর্গের দিকেই যাচ্ছি। আর একটুখানি। ধৈর্য্য ধরুন।”

সকলে আবার মুখে বুজে এগোতে লাগলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ একজায়গায় ধাক্কা খেল সকলে। কী হল? রাস্তা কি তবে শেষ হয়ে গেল এখানেই? তাহলে শাক্যর এতক্ষণের আশ্বাস মিলল না? তাহলে এত আলো, হাওয়া, সেগুলিই বা আসছিল কোথা থেকে? মুহূর্তের মধ্যেই অবশ্য ধোঁয়াশা কেটে গেল। এখানে গুহাপথ মোড় নিয়ে যেদিক দিয়ে তারা আসছে, সেদিকেই যেন বেঁকে গেছে আবার। মোড় ঘুরে সেই পথে এগোতেই সকলে দেখল, সামনে কিছু দূরে খানিকটা উপরের দিকে একখানি গুহামুখ। সেখান থেকেই আলো-হাওয়া আসছে ভিতরে। শাক্য এবং এসপির নিষেধ সত্ত্বেও তাঁরা দু’জন ছাড়া বাকিরা সকলে আনন্দে হর্ষধ্বনি করে উঠলেন। এমনকি ডিএমও বাদ গেলেন না।

সেদিকে সকলে তাড়াতাড়ি করে এগিয়ে গিয়ে দেখলেন, একখানি লোহার সিঁড়ি সেই গুহামুখ থেকে নিচে নেমে এসেছে, কিন্তু তার আগেই গুহার এদিকেও লোহার গরাদ দেওয়া দরজা। সেখানে একটি নয়, দুটি তালা ঝুলছে। কিন্তু দুটি তালাই ঝুলছে উল্টোদিক থেকে। শাক্য গিয়ে চেষ্টা করল, কিন্তু সহজে এদিক থেকে তালা খোলা যাবে না বলেই মনে হল তার।
ডিএম জিজ্ঞাসা করলেন, “কী হল? এদিক থেকে খোলা যাবে না মনে হচ্ছে?”
“চেষ্টা করতে হবে। এত সহজে হাল ছাড়লে তো চলবে না। বোঝাই যাচ্ছে, ওরা এই পথে আসা-যাওয়া করে বলে ওদিকে তালা লাগিয়ে গিয়েছে। দাঁরান, আবার ট্রাই করে দেখি। এই পথটা কোনদিকে উঠেছে, তা আমাদের জানতেই হবে!” বলে সে আবারও এদিক থেকে হাত গলিয়ে তালা খোলার চেষ্টা করতে লাগল। পরপর দুটি চাবি ঘুরিয়ে ব্যর্থ হল সে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!

কর্নেল এইসময় বললেন, “আমার তো মনে হয়, এই দুটি তালার চাবি আপনার কাছে যে চাবির গোছা আছে, সেখানে নেই। থাকবার কথা নয়। ও-চাবি ওদের কাছে আছে। এদিকের চাবি তো ওই পুওর পুরোহিতের। তার বাড়ির চাবি হতে পারে!”

শাক্য বলল, ‘আমি তো যতদূর জানি, পুলিশ ঝোপের মধ্য থেকে মঙ্গল ওঝার মেরুন কালারের একখানি ঝোলা পেয়েছে, সেখানে একটি চাবির গোছাও ছিল। সম্ভবত সেখানেই তার বাড়ির চাবি থাকবে। এই চাবির গোছাতে এখানে ঝোলান তালার ডুপ্লিকেট থাকবেই। কারণ, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, কেব, গ্যাং-এর বাকি সদস্যেরাই নয়, দরকার হলে মঙ্গল ওঝাও এই পথে যাতায়াত করত!”
“কেন করবে এই পথে যাতায়াত? ওর জন্য সেফেস্ট পথ তো মন্দিরের সামনের দিক?” এবারের প্রশ্নটি করলেন ডিএম।

শাক্য বলল, “কিন্তু সে পথে ওয়েপন নিয়ে বেরুনোর উপায় নেই। তাছাড়া দিনেরাতে ভক্তরা কমবেশি হলেও উপস্থিত থাকে। তাদের কেউ-কেউ তারই গ্রামের লোক। একসঙ্গে ফেরবার জন্য অপেক্ষা করাটাই স্বাভাবিক। অতএব মঙ্গল চাইলেও সামনের দিক দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র পাচার করার কথা ভাববে না। এই পথ সে-ও প্রয়োজন হলে ব্যবহার করত। অতএব এই দুটি তালার চাবি তার এই গোছাতে থাকবে না, এ আমি মনে করি না। দেখাই যাক না। একটু ধৈর্য্য ধরুন!” বলে সে আবার চেষ্টা করতে যাবে, এমনসময় পিনাকীবাবু এগিয়ে এসে বললেন, “আমি একবার ট্রাই করতে পারি কি?”
শাক্য তাঁর দিকে তাকাল। তারপর বলল, “করুন!”
“আসলে আমি নিজে বাড়ি থেকে বেরুনোর সময় এইভাবে তালা দিয়ে বেরুই, ফলে ফিরে গিয়ে উল্টোদিক থেকে খুলতে-খুলতে আমি এই-ব্যাপারে এক্সপার্ট হয়ে গিয়েছি বলতে পারেন!”
“সে-কি? আপনি বেরোনোর সময় আপনার স্ত্রীকে বন্দি করে আসেন বাড়িতে? এ ভারি অন্যায় কিন্তু! ক্রিমিনাল অফেন্স!” ডিএম বললেন।

পিনাকীবাবু জিভ কাটলেন, “না না স্যার। কী বলছেন? আমাকে দেখে কি তেমন মনে হয়? যতদিন আমার স্ত্রী জীবিত ছিলেন, ততদিন তালা লাগিয়ে আসার প্রয়োজন পড়ত না। তাঁর লাং-ক্যান্সার হয়েছিল। পাঁচ বছর হল তিনি গত হয়েছেন। আমাদের একটিই সন্তান। মুম্বই আইআইটিতে পড়ে!” বলে তিনি আর কথা না বাড়িয়ে শাক্যর হাত থেকে চাবির গোছা নিয়ে চেষ্টা করতে লাগলেন। —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content