
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
রাজসূয়যজ্ঞের প্রারম্ভে অভিষেকের আয়োজনে সম্মানীয় মহর্ষিগণ, ব্রাহ্মণরা, রাজাদের সঙ্গে যজ্ঞবেদীসমন্বিত ভবনে প্রবেশ করলেন। রাজর্ষিদের সঙ্গে নারদ প্রভৃতি ব্যক্তিত্বগণের উপস্থিতি, মহান যুধিষ্ঠিরের যজ্ঞালয়ের শোভা বৃদ্ধি করল। ব্রহ্মার ভবনে ব্রহ্মর্ষিদের সঙ্গে দেবতারা যেমন জল্পনা করেন, তেমন অমিত প্রভাবশালী ঋষিরা কাজের অবকাশে জল্পনা করতে লাগলেন। বাগবিতণ্ডারত ব্রাহ্মণরা, ‘এটি এমন নয়’, ‘এটি এমন হবে’, ‘যেমন বলা হচ্ছে তেমন নয়’ ইত্যাদি বলতে লাগলেন। কেউ শাস্ত্রসম্মত যুক্তি অনুযায়ী, সংক্ষিপ্তার্থ বিষয়টি (যুক্তির দুর্বলতাহেতু) বিস্তারিত করে (যুক্তির প্রাবল্যহেতু), কেউ একই উপায়ে বিপরীতভাবে বিস্তারিতবিষয়টি সংক্ষিপ্তার্থ প্রতিপন্ন করতে লাগলেন। শকুন যেমন আকাশে উপলব্ধ মাংসকে ইতস্তত ছড়িয়ে ফেলে বুদ্ধিমান মেধাবী ব্রাহ্মণরা তেমনভাবে অন্যের উপস্থাপিত বিষয়ের বিপরীতে নানা অর্থের অবতারণা করলেন। মহাব্রতচারী ও বেদবিদদের মধ্যে কোন কোন শ্রেষ্ঠজন, ধর্ম ও অর্থবিষয়ক বহুরকম কথা বলাবলি করে আমোদ অনুভব করলেন। বেদবিদ, দেবতুল্য ব্রাহ্মণ ও মহর্ষিসমাগমে, যজ্ঞবেদীর শোভা হল নক্ষত্রসমাচ্ছন্ন আকাশের মতো।
যুধিষ্ঠিরের ভবনে সেই বেদীর কাছে কোনও শূদ্র বা নিয়ম নিষ্ঠাভরে পালন করেন না এমন অব্রতচারী ব্রাহ্মণের জায়গা হল না। মহর্ষি নারদ,লক্ষ্মীমন্ত ও বুদ্ধিমান যুধিষ্ঠিরের সমৃদ্ধি ও যজ্ঞের আয়োজন দেখে সন্তুষ্ট হলেন। সেখানে তেমন বিপুল ক্ষত্রিয়সমাগম দেখে নারদের চিন্তা হল। তিনি, অতীতে ব্রহ্মার ভবনে দেবতাদের অংশাবতরণের সময়ের কথা স্মরণ করলেন। সেই সমাগমটি দেবতাদের সম্মেলন বিবেচনা করে, নারদ, কৃষ্ণকে মনে মনে পুণ্ডরীকাক্ষ নারায়ণ বলে মনে করলেন। তাঁর উপলব্ধি হল—দেবশত্রু অসুরদের হত্যাকারী, শত্রুনগরবিজয়ী ও সর্বব্যাপী ঈশ্বর, নারায়ণ, প্রতিশ্রুতিরক্ষার জন্যে ক্ষত্রিয়বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন। অতীতে জগতের সৃষ্টিকর্তা যিনি ওই নারায়ণ, তিনি নিজে দেবতাদের আদেশ করেছিলেন, অন্যোন্যমভিনিঘ্নন্তঃ পুনর্লোকানবাপ্স্যথ।
যুধিষ্ঠিরের ভবনে সেই বেদীর কাছে কোনও শূদ্র বা নিয়ম নিষ্ঠাভরে পালন করেন না এমন অব্রতচারী ব্রাহ্মণের জায়গা হল না। মহর্ষি নারদ,লক্ষ্মীমন্ত ও বুদ্ধিমান যুধিষ্ঠিরের সমৃদ্ধি ও যজ্ঞের আয়োজন দেখে সন্তুষ্ট হলেন। সেখানে তেমন বিপুল ক্ষত্রিয়সমাগম দেখে নারদের চিন্তা হল। তিনি, অতীতে ব্রহ্মার ভবনে দেবতাদের অংশাবতরণের সময়ের কথা স্মরণ করলেন। সেই সমাগমটি দেবতাদের সম্মেলন বিবেচনা করে, নারদ, কৃষ্ণকে মনে মনে পুণ্ডরীকাক্ষ নারায়ণ বলে মনে করলেন। তাঁর উপলব্ধি হল—দেবশত্রু অসুরদের হত্যাকারী, শত্রুনগরবিজয়ী ও সর্বব্যাপী ঈশ্বর, নারায়ণ, প্রতিশ্রুতিরক্ষার জন্যে ক্ষত্রিয়বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন। অতীতে জগতের সৃষ্টিকর্তা যিনি ওই নারায়ণ, তিনি নিজে দেবতাদের আদেশ করেছিলেন, অন্যোন্যমভিনিঘ্নন্তঃ পুনর্লোকানবাপ্স্যথ।
একে অপরকে নিহত করে আবার তোমরা সুরলোকে ফিরে আসবে। সকল দেবতাদের এই আদেশ করে, মঙ্গলময় অদ্বিতীয় মাহাত্ম্যশালী জগদীশ্বর নারায়ণ যদুবংশের ঘরে জন্ম গ্রহণ করলেন। নক্ষত্রগুলির মধ্যে চাঁদের মতো বৃষ্ণিবংশের মধ্যে সর্বোত্তম তিনি, শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য হয়ে শোভা ধারণ করলেন। ইন্দ্র-সহ সমস্ত দেবগণ যাঁর বাহুবল (অসুরবিনাশের জন্য) আশ্রয় করে থাকেন, সেই শত্রুবিনাশক হরি মানুষের মতো অবস্থান করছেন। আহা, এই বিস্তৃত ও বলশালী ক্ষত্রিয়দের আবার স্বয়ম্ভূ স্বয়ং গ্রহণ করবেন। ধর্মজ্ঞ নারদ, হরিকে যজ্ঞে প্রাপ্ত সেই প্রভু নারায়ণরূপে জেনে, এমন সব চিন্তা করলেন। ধার্মিকশ্রেষ্ঠ, মহাবুদ্ধিমান মহর্ষি নারদ, ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির-আয়োজিত সেই মহাযজ্ঞে বহুসম্মানিত হয়ে বিরাজমান হলেন। তখন ভীষ্ম, ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে বললেন, যথাযোগ্য অর্ঘ্যদান করে সম্মানিত কর। গুরু, পুরোহিত, সম্পর্কে শ্বশুর বা জামাতা হন এমন কেউ, স্নাতক অর্থাৎ বেদাধ্যয়ন সমাপ্ত করে গৃহস্থ হয়েছেন এমন কেউ, প্রিয় সুহৃদ এবং রাজা, এই ছয় জনকে, অর্ঘ্যদানের যোগ্য, বলা হয়ে থাকে। প্রচলিত মত হল, এই ছয় জন, সংবৎসর অনেকদিন যাবৎ একত্রে বাস করেছেন তাঁরাই অর্ঘ্যদানের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়ে থাকেন। এই ছয় জনই সুদীর্ঘকাল পরে, আমাদের কাছে এসেছেন। এঁদের প্রত্যেকের জন্য অর্ঘ্য আন, অথবা এনাদের মধ্যে যিনি মুখ্য এবং এই সম্মানের যোগ্য, তাঁর জন্য অর্ঘ্য প্রস্তুত কর। ত ইমে কালপূগস্য মহতোঽস্মানুপাগতাঃ। এষামেকৈকশো রাজন্! অর্ঘ আনীয়তামিতি। অথ চৈষাং বরিষ্ঠায় সমর্থায়োপনীয়তাম্।।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৬ : উত্তরায়ণ

মহাকাব্যের কথকতা পর্ব-১৬৮: রামায়ণে পরস্ত্রীহরণের সিদ্ধান্তে বীরত্বের প্রকাশ নেই, আছে অনেক মৃত্যুর আবাহনবার্তা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৬ : আলোচনার টেবিলে
যুধিষ্ঠির বললেন, ভীষ্ম কাকে অর্ঘ্যদান সঙ্গত বলে মনে করেন? তন্মে ব্রূহি পিতামহ। হে পিতামহ, তাঁর কথা বলুন। তখন শান্তনুপুত্র, শৌর্যবান ভীষ্ম তাঁর বুদ্ধি দিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন, এই ধরাতলে কৃষ্ণই সম্মানীয়দের মধ্যে যোগ্যতম। অমন্যত তদা কৃষ্ণমহর্ণীয়তমং ভুবি। ভীষ্ম ব্যাখ্যা করলেন, এঁদের (সমাগত জনমণ্ডলীর) মধ্যে তেজ, বল ও পরাক্রমের কারণে প্রকাশমান এই কৃষ্ণ, জ্যোতিষ্ক অর্থাৎ গ্রহণক্ষত্রপুঞ্জর মধ্যস্থিত উত্তপ্ত, উদ্ভাসিত, সূর্যের মতো। সূর্যহীন স্থানে সূর্যের মতো, বায়ুহীন স্থানের বায়ুর মতো (তেজ ও কান্তির বাহুল্যহেতু), কৃষ্ণ, আমাদের এই সভাকে উদ্ভাসিত ও আনন্দিত করেছেন। অসূর্য্যমিব সূর্য্যেণ নির্ব্বাতমিব বায়ুনা। ভাসিতং হ্লাদিতঞ্চৈব কৃষ্ণেনেদং সদো হি নঃ।। ভীষ্মের অনুমতি লাভ করে, প্রতাপবান সহদেব,যথবিধি বৃষ্ণিবংশীয় কৃষ্ণকেই শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য উপহাররূপে প্রদান করলেন। কৃষ্ণ শাস্ত্রনির্দিষ্ট কর্মানুসারে অর্ঘ্য গ্রহণ করলেন। শিশুপাল কৃষ্ণের সেই সম্মান সহ্য করতে পারলেন না। চেদিরাজ মহাবলশালী শিশুপাল, ভীষ্ম ও ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে ভর্ৎসনা করে বসুদেবপুত্র কৃষ্ণকে তিরস্কার করতে লাগলেন।
চেদিরাজ শিশুপালের বক্তব্য — সভায় মহান রাজাদের উপস্থিতিতে বৃষ্ণিবংশের কৃষ্ণ রাজার মতো রাজকীয় সম্মানলাভের যোগ্য নয়। শিশুপাল পাণ্ডবদের সমালোচনা করলেন, কৃষ্ণকে এই যে যথেচ্ছ সম্মান প্রদান করা হল, মহাত্মা পাণ্ডবদের এই ব্যবহার মোটেই সমীচীন নয়। পাণ্ডবরা মূর্খবালকমাত্র, তারা জানে না, ধর্ম যে অতি সূক্ষ্ম। এই অল্পজ্ঞানী নদীপুত্র (গঙ্গাপুত্র) ভীষ্মের স্মৃতি লোপ পেয়েছে। আপনার মতো অধার্মিক মানুষ নিজের যা প্রিয় সেটা করে, লোকসমাজে সজ্জনদের অত্যন্ত অপছন্দের পাত্র হন। সম্মানীয় সব রাজাদের মধ্যে যে রাজা নয়, দাশপদের যোগ্যমাত্র, সে যোগ্যতা অর্জন করেছে, যেহেতু পাণ্ডবরা তাকে অর্চনা করছেন। শিশুপাল যেন বিরক্ত, তাঁর বক্তব্যে অসন্তোষ স্পষ্ট। তিনি ব্যঙ্গ করে ভীষ্মকে বললেন— হে কুরুপুঙ্গব (কুরুকুলের পুরুষ গাভী), কৃষ্ণকে বৃদ্ধ মনে করেন? বৃদ্ধ বসুদেব (কৃষ্ণের পিতা) থাকতে, তাঁর পুত্র কি করে সম্মানের যোগ্য হতে পারে? অথবা মন্যসে কৃষ্ণং স্থবিরং কুরুপুঙ্গব!। বসুদেবে স্থিতে বৃদ্ধে কথমর্হতি তৎসুতঃ।। অথবা বসুদেবপুত্র যদি শুভাকাঙ্খী ও অনুগত হয়ে থাকে, তাহলে রাজা দ্রুপদ আছেন, তিনি থাকতে মাধব কেমন করে পূজার যোগ্য হয়ে ওঠে? চেদিরাজ, ভীষ্মকে তিরস্কারসহ বললেন, কুরুপুঙ্গব ভীষ্ম কী কৃষ্ণকে আচার্য মনে করেন? দ্রোণাচার্য আছেন তো,তবে বৃষ্ণিবংশের কৃষ্ণকে কেন অর্চনা করলেন? আচার্য্যং মন্যসে কৃষ্ণমথবা কুরুপুঙ্গব!। দ্রোণে তিষ্ঠতি বার্ষ্ণেয়ং কথমর্চ্চিতবানসি।।
চেদিরাজ শিশুপালের বক্তব্য — সভায় মহান রাজাদের উপস্থিতিতে বৃষ্ণিবংশের কৃষ্ণ রাজার মতো রাজকীয় সম্মানলাভের যোগ্য নয়। শিশুপাল পাণ্ডবদের সমালোচনা করলেন, কৃষ্ণকে এই যে যথেচ্ছ সম্মান প্রদান করা হল, মহাত্মা পাণ্ডবদের এই ব্যবহার মোটেই সমীচীন নয়। পাণ্ডবরা মূর্খবালকমাত্র, তারা জানে না, ধর্ম যে অতি সূক্ষ্ম। এই অল্পজ্ঞানী নদীপুত্র (গঙ্গাপুত্র) ভীষ্মের স্মৃতি লোপ পেয়েছে। আপনার মতো অধার্মিক মানুষ নিজের যা প্রিয় সেটা করে, লোকসমাজে সজ্জনদের অত্যন্ত অপছন্দের পাত্র হন। সম্মানীয় সব রাজাদের মধ্যে যে রাজা নয়, দাশপদের যোগ্যমাত্র, সে যোগ্যতা অর্জন করেছে, যেহেতু পাণ্ডবরা তাকে অর্চনা করছেন। শিশুপাল যেন বিরক্ত, তাঁর বক্তব্যে অসন্তোষ স্পষ্ট। তিনি ব্যঙ্গ করে ভীষ্মকে বললেন— হে কুরুপুঙ্গব (কুরুকুলের পুরুষ গাভী), কৃষ্ণকে বৃদ্ধ মনে করেন? বৃদ্ধ বসুদেব (কৃষ্ণের পিতা) থাকতে, তাঁর পুত্র কি করে সম্মানের যোগ্য হতে পারে? অথবা মন্যসে কৃষ্ণং স্থবিরং কুরুপুঙ্গব!। বসুদেবে স্থিতে বৃদ্ধে কথমর্হতি তৎসুতঃ।। অথবা বসুদেবপুত্র যদি শুভাকাঙ্খী ও অনুগত হয়ে থাকে, তাহলে রাজা দ্রুপদ আছেন, তিনি থাকতে মাধব কেমন করে পূজার যোগ্য হয়ে ওঠে? চেদিরাজ, ভীষ্মকে তিরস্কারসহ বললেন, কুরুপুঙ্গব ভীষ্ম কী কৃষ্ণকে আচার্য মনে করেন? দ্রোণাচার্য আছেন তো,তবে বৃষ্ণিবংশের কৃষ্ণকে কেন অর্চনা করলেন? আচার্য্যং মন্যসে কৃষ্ণমথবা কুরুপুঙ্গব!। দ্রোণে তিষ্ঠতি বার্ষ্ণেয়ং কথমর্চ্চিতবানসি।।
আরও পড়ুন:

রথযাত্রা

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৩: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৩
কৃষ্ণকে ঋত্বিক বা পুরোহিত মনে করেন কী? বৃদ্ধ কৃষ্ণদ্বৈপায়নবেদব্যাস থাকতে কেন কৃষ্ণকে পূজা করলেন? শিশুপালের আক্রমণের লক্ষ্য এবারে যুধিষ্ঠির, হে রাজন্, ইচ্ছামৃত্যু যার সেই পুরুষশ্রেষ্ঠ ভীষ্ম আছেন, তবে কৃষ্ণের অর্চনা কেন? ভীষ্মে শান্তনবে রাজন্! স্থিতে পুরুষসত্তমে। স্বচ্ছন্দমৃত্যুকে রাজন্! কথং কৃষ্ণোঽর্চ্চিতস্ত্বয়া।। এ ছাড়াও আছেন সর্বশাস্ত্রবিশারদ বীর অশ্বত্থামা। তবে কেন কৃষ্ণের অর্চনা? চেদিরাজ উপস্থিত অনেক মহান ব্যক্তিত্বের উদাহরণ উপস্থাপিত করলেন। তাঁর মতে, এঁরা সকলেই শ্রেষ্ঠত্বের নিরিখে কৃষ্ণের অপেক্ষায় এগিয়ে আছেন। যেমন, উপস্থিত আছেন রাজশ্রেষ্ঠ দুর্যোধন তিনি আবার একজন মুখ্য পুরুষ,আরও আছেন ভরতবংশীয়দের গুরু কৃপ, এঁরা থাকতে কেন কৃষ্ণকে সম্মানসূচক পূজা করা হল? বীরদের শস্ত্রগুরু দ্রুমরাজাকে এবং পাণ্ডবপিতা পাণ্ডুর মতো লক্ষণান্বিত (দিগ্বিজয়াদিপ্রধানরাজলক্ষণ) দুর্দ্ধর্ষ ভীষ্মক রাজাকে গণ্য না করে কৃষ্ণপূজা, কেন? শ্রেষ্ঠ রাজা রুক্মী, একলব্যরাজা, মদ্ররাজ শল্য উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন কৃষ্ণকে অর্চনা করা হল? যিনি সকল রাজার মধ্যে নিজেকে বলগর্বিত, মহাবীর বলে মনে করেন, জমদগ্নিপুত্র ধীমান ব্রাহ্মণ পরশুরামের প্রিয়শিষ্য যিনি, যিনি যুদ্ধে আত্মশক্তিতে আস্থা রেখে একাকী নির্বিশেষে সকল রাজাদের পরাজিত করেছিলেন, সেই কর্ণকে পর্যন্ত গণ্য না করে, যুধিষ্ঠির কেন কৃষ্ণের পূজা করলেন? কৃষ্ণ ঋত্বিক নয়, নয় সে কোনও আচার্য, রাজাও নয়, তবু তাঁকে কুরুশ্রেষ্ঠ যুধিষ্ঠির অর্চনা করলেন, তাঁর প্রিয় ইচ্ছাপূরণের জন্য। কিন্তু কেন? যদি মধুসূদনকে সম্মান করা উচিত কাজ হয়ে থাকে তবে, অবমাননার জন্যে রাজাদের এখানে আমন্ত্রণ করা, কেন? শিশুপাল জানালেন, আমরা এই মহান কুন্তীপুত্রের ভয়ে, কিছু লাভের আশায় বা তাঁর অনুনয়বিনয়ে সান্ত্বনারূপ করদান করিনি। বয়ন্তু ন ভয়াদস্য কৌন্তয়েস্য মহাত্মনঃ। প্রযচ্ছামঃ করান্ সর্ব্বে ন লোভান্ন ন সান্ত্বনাৎ।।
আরও পড়ুন:

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…
সাম্রাজ্যলাভের আশায়, ধর্মকাজে উদ্বুদ্ধ এই যুধিষ্ঠিরকে কর দান করেছি,আর তিনি কি না আমাদের মান্য করছেন না? রাজাদের এমন অসম্মান ছাড়া প্রকাশ্য রাজসভায় অর্ঘ্যদানের জন্যে অযোগ্য কৃষ্ণের অর্চনার আর কিই বা কারণ আছে? ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের হঠাৎ ধর্মাত্মা নামটির জন্য যে খ্যাতি সেটি লুপ্ত হয়েছে। (কারণ) ধর্মচ্যুত মানুষের পূজায় কে নিজেকে যুক্ত করেন? বৃষ্ণিকুলে জাত সেই দুরাত্মা (কৃষ্ণ), মহাত্মা জরাসন্ধকে একদা হত্যা করেছিল। কৃষ্ণকে অর্ঘ্য দান করে, যে ক্ষুদ্রতা দেখিয়েছেন, সেই কারণে আজ যুধিষ্ঠির ধর্মের সঙ্গে একাত্মতা হতে বিচ্যুত হয়েছেন। শিশুপাল কৃষ্ণকে তিরস্কার করে ডেকে বললেন, পাণ্ডবরা না হয় ভীত (অন্যকে অর্ঘ্য দিয়ে কৃষ্ণের ভয়ে ভীত), ক্ষুদ্র ও নিকৃষ্ট।মাধব তুমি তো জানতে, যে পূজা গ্রহণ করতে পার। ক্ষুদ্র পাণ্ডবদের কৃত এই পূজার অযোগ্য হয়েও তুমি কেন এই পূজা গ্রহণ করলে? যদি ভীতাশ্চ কৌন্তেয়াঃ কৃপণাশ্চ তপস্বিনঃ। ননু ত্বয়াপি বোদ্ধব্যং যাং পূজাং মাধবার্হসি।। অথবা কৃপণৈরেতামুপনীতাং জনার্দ্দন !।।পূজামনর্হঃ কস্মাত্ত্বমভ্যনুজ্ঞাতবানসি।।
শিশুপাল, উদাহরণ-সহ ব্যাখ্যা করলেন, নির্জনে ঘিয়ের (হবনযোগ্য) ধারা লাভ করে, ভোক্তা কুকুর যেমন গর্ব অনুভব করে তেমন কৃষ্ণ অযোগ্য হয়েও নিজে পূজিত হয়ে আত্মগর্বে গর্বিত হয়েছে। শিশুপাল বিদ্রুপ করে বললেন, ওহে জনার্দন, কৌরবরা রাজাদের প্রতি অবমাননা প্রদর্শন করেননি। তাঁরা তোমাকে স্পষ্টতই ব্যঙ্গ করেছেন। ন ত্বয়ং পার্থিবেন্দ্রাণামপমানঃ প্রযুজ্যতে। ত্বামেব করবো ব্যক্তি প্রলম্ভন্তে জনার্দ্দন।। ক্লীবের স্ত্রীলাভ, অন্ধের রূপদর্শনের মতোই রাজা না হয়েও কৃষ্ণের এই রাজোচিত পূজাগ্রহণ। যুধিষ্ঠির,ভীষ্ম এবং বাসুদেব কৃষ্ণের যেমন রূপ তেমন যথাযথ স্বরূপ দেখা হল। এই বলে শিশুপাল অনুগামী রাজাদের শ্রেষ্ঠ আসন হতে উঠিয়ে নিয়ে সদলবলে সেই সভা হতে প্রস্থান করলেন।
শিশুপাল, উদাহরণ-সহ ব্যাখ্যা করলেন, নির্জনে ঘিয়ের (হবনযোগ্য) ধারা লাভ করে, ভোক্তা কুকুর যেমন গর্ব অনুভব করে তেমন কৃষ্ণ অযোগ্য হয়েও নিজে পূজিত হয়ে আত্মগর্বে গর্বিত হয়েছে। শিশুপাল বিদ্রুপ করে বললেন, ওহে জনার্দন, কৌরবরা রাজাদের প্রতি অবমাননা প্রদর্শন করেননি। তাঁরা তোমাকে স্পষ্টতই ব্যঙ্গ করেছেন। ন ত্বয়ং পার্থিবেন্দ্রাণামপমানঃ প্রযুজ্যতে। ত্বামেব করবো ব্যক্তি প্রলম্ভন্তে জনার্দ্দন।। ক্লীবের স্ত্রীলাভ, অন্ধের রূপদর্শনের মতোই রাজা না হয়েও কৃষ্ণের এই রাজোচিত পূজাগ্রহণ। যুধিষ্ঠির,ভীষ্ম এবং বাসুদেব কৃষ্ণের যেমন রূপ তেমন যথাযথ স্বরূপ দেখা হল। এই বলে শিশুপাল অনুগামী রাজাদের শ্রেষ্ঠ আসন হতে উঠিয়ে নিয়ে সদলবলে সেই সভা হতে প্রস্থান করলেন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা
যুধিষ্ঠির-আয়োজিত রাজসূয় মহাযজ্ঞে যোগ দিয়েছেন মহর্ষিগণ, প্রথিতযশা ব্রাহ্মণরা, অমিতপ্রভাবশালী ঋষিগণ, প্রখ্যাত রাজর্ষিবৃন্দ। বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে পরম সমৃদ্ধ রাজসূয়মহাযজ্ঞ হয়ে উঠল যেন সাংস্কৃতিক তথা বৌদ্ধিক ভাববিনিময়ের কেন্দ্রবিন্দু। আধুনিক উন্নতিকামী রাষ্ট্র বা সফল কোনও রাষ্ট্র-আয়োজিত যে কোনও রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক সম্মেলনে হয়তো রাজসূয় মহাযজ্ঞের ছায়ার সন্ধান কিছুটা হয়তো কল্পনা করা যেতেই পারে। মোটকথা ধর্মাচরণের অঙ্গরূপে এই মহাযজ্ঞ যতটা সফল তার থেকেও মহাসম্মেলনরূপে প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক এবং সেই সঙ্গে মহান বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতি এই যজ্ঞভূমিকে মহিমান্বিত করে তুলেছে। তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ নানা বিষয়ে মহান ঋষিদের বাদানুবাদ, যুক্তিপূর্ণ বাগবিতণ্ডার অবকাশ এবং চেদিরাজ শিশুপালের একের পর এক সযৌক্তিক যজ্ঞবিষয়ে স্বমতপ্রকাশ প্রভৃতি। এই সব কিছু রাজসূয়মহাযজ্ঞে এক বর্ণময় মাত্রা যোগ করেছে।
রাজসূয় মহাযজ্ঞে সমবেত বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে কে যুধিষ্ঠিরপ্রদত্ত অর্ঘ্যদানের যোগ্য? এই প্রশ্নে কুরুকুলের প্রবীণ থেকে নবীন প্রজন্মের সকলেই একমত হয়েছেন। পঞ্চ পাণ্ডবের পরম আস্থাভাজন কৃষ্ণ, এই কৃষ্ণ নির্ভরতা রাজসূয়যজ্ঞের প্রারম্ভিক আয়োজনে প্রমাণিত হয়েছিল। যুধিষ্ঠির, কৃষ্ণের পরামর্শ অনুযায়ী রাজসূয় যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। কুরুকুলের বৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্মও প্রকারান্তরে তাঁর প্রচ্ছন্ন কৃষ্ণপ্রীতি প্রকাশ করেছেন।তিনি মনে করেন এই পৃথিবীতে কৃষ্ণই যজ্ঞে অর্ঘ্যদানের যোগ্যতম ব্যক্তি অমন্যত তদা কৃষ্ণমর্হণীয়তমং ভুবি। তেজস্বিতা, বল ও শৌর্যের নিরিখে কৃষ্ণ অনন্য। প্রভাবপ্রতিপত্তি যাঁর সর্বাধিক তিনিই কোন জনসমাগমে মধ্যমণি হন, এ তো দৈনন্দিন জীবনে সর্বদাই লক্ষ্য করা যায়। রাজসূয় মহাযজ্ঞে সমস্ত রাজনক্ষত্রমণ্ডলীর একত্রসমাবেশ, সেখানে কৃষ্ণের এই সম্মানপ্রাপ্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
রাজসূয় মহাযজ্ঞে সমবেত বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে কে যুধিষ্ঠিরপ্রদত্ত অর্ঘ্যদানের যোগ্য? এই প্রশ্নে কুরুকুলের প্রবীণ থেকে নবীন প্রজন্মের সকলেই একমত হয়েছেন। পঞ্চ পাণ্ডবের পরম আস্থাভাজন কৃষ্ণ, এই কৃষ্ণ নির্ভরতা রাজসূয়যজ্ঞের প্রারম্ভিক আয়োজনে প্রমাণিত হয়েছিল। যুধিষ্ঠির, কৃষ্ণের পরামর্শ অনুযায়ী রাজসূয় যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। কুরুকুলের বৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্মও প্রকারান্তরে তাঁর প্রচ্ছন্ন কৃষ্ণপ্রীতি প্রকাশ করেছেন।তিনি মনে করেন এই পৃথিবীতে কৃষ্ণই যজ্ঞে অর্ঘ্যদানের যোগ্যতম ব্যক্তি অমন্যত তদা কৃষ্ণমর্হণীয়তমং ভুবি। তেজস্বিতা, বল ও শৌর্যের নিরিখে কৃষ্ণ অনন্য। প্রভাবপ্রতিপত্তি যাঁর সর্বাধিক তিনিই কোন জনসমাগমে মধ্যমণি হন, এ তো দৈনন্দিন জীবনে সর্বদাই লক্ষ্য করা যায়। রাজসূয় মহাযজ্ঞে সমস্ত রাজনক্ষত্রমণ্ডলীর একত্রসমাবেশ, সেখানে কৃষ্ণের এই সম্মানপ্রাপ্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
চেদিরাজ শিশুপাল এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বিবেচনায়, পাণ্ডবদের এই সিদ্ধান্ত চরম হটকারিতার প্রকাশমাত্র। বয়োবৃদ্ধ ভীষ্মের বৃদ্ধত্বহেতু বুদ্ধি নাশ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, কৃষ্ণের পিতা বয়োবৃদ্ধ বসুদেব, পাণ্ডবহিতৈষী দ্রুপদরাজা, পূজনীয় অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য, বৃদ্ধ কৃষ্ণদ্বৈপায়নবেদব্যাস, মহাবীর অশ্বত্থামা, রাজশ্রেষ্ঠ পুরুষশ্রেষ্ঠ দুর্যোধন, গুরু কৃপাচার্য, বীরদের গুরু দ্রুমরাজা, পাণ্ডুতুল্য দুর্দ্ধর্ষ রাজা ভীষ্মক, কর্ণ, আরও অনেক বিখ্যাত রাজারা এই সম্মানের যোগ্য।তাঁদের গণ্য করা হল না কেন? শিশুপাল কৃষ্ণের সমালোচনায় মুখর হলেন, কৃষ্ণ ঋত্বিক নন, তিনি কোনও আচার্য নন, এমন কি তিনি রাজাও নন তবুও শুধু তাঁকে তুষ্ট করতে কি যুধিষ্ঠিরের এই প্রয়াস? নৈবর্ত্বিঙ্ নৈব চাচার্য্যো ন রাজা মধুসূদনঃ। অর্চ্চিতশ্চ কুরুশ্রেষ্ঠ! কিমন্যৎ প্রিয়কাম্যয়া।। শিশুপাল মনে করেছেন এই অপাত্রে অর্ঘ্যদান, অপরাপর রাজবৃন্দের অপমান। ধার্মিক যুধিষ্ঠিরের সাম্রাজ্যলাভের সহায়ক রাজারা তাঁকে করদানে সম্মত হয়েছেন তাঁদের অগ্রাহ্য করা হল কেন? এই অর্ঘ্যদান, যুধিষ্ঠিরের ধর্মবিচ্যুতির কারণ। কারণ ধর্মচ্যুত লোককে তিনি সম্মানিত করেছেন। কৃষ্ণ কেন ধার্মিক নন? কারণ তিনি অন্যায়ভাবে মহান জরাসন্ধকে হত্যা করেছেন।
শিশুপালের আক্রমণের অভিমুখ ক্রমশ পরিবর্তিত হয়েছে। যুধিষ্ঠির একচ্ছত্র সাম্রাজ্যের অধীশ্বর হয়েছেন। এই লক্ষ্যপূরণের জন্যে এবং জরাসন্ধের কারাগারে আবদ্ধ রাজাদের মুক্ত করতে কৃষ্ণের পরামর্শে যুধিষ্ঠিরের ভাই ভীম, জরাসন্ধকে হত্যা করেছিলেন। তবু যুধিষ্ঠির শত্রুতার বীজ নির্মূল করতে পারেননি। শিশুপালের কৃষ্ণের প্রতি বিষোদ্গার ক্রমশ পাণ্ডববিরোধিতায় পর্যবসিত হয়েছে। যুধিষ্ঠিরের সমালোচনায় আত্মীয় অনাত্মীয় নির্বিশেষে অসম্মানিত তালিকাভুক্তরা অদূরভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্রে শান দিচ্ছে না—এ কথা কি নিশ্চিতভাবে বলা যায়? বোধ হয় না। একটি ঘটনার বিরোধিতার সূত্র ধরে যে জটিলতা ও কুৎসার পাঁক উঠে আসে, কথার মারপ্যাঁচে জড়িয়ে যায় অনেক সদুদ্দেশ্যের মহান আদর্শ, বেরিয়ে আসে মানুষের প্রকৃত স্বরূপ,যুধিষ্ঠিরের রাজসূয়যজ্ঞে চেদিরাজ শিশুপালের বিরোধিতা তার প্রমাণ।—চলবে।
শিশুপালের আক্রমণের অভিমুখ ক্রমশ পরিবর্তিত হয়েছে। যুধিষ্ঠির একচ্ছত্র সাম্রাজ্যের অধীশ্বর হয়েছেন। এই লক্ষ্যপূরণের জন্যে এবং জরাসন্ধের কারাগারে আবদ্ধ রাজাদের মুক্ত করতে কৃষ্ণের পরামর্শে যুধিষ্ঠিরের ভাই ভীম, জরাসন্ধকে হত্যা করেছিলেন। তবু যুধিষ্ঠির শত্রুতার বীজ নির্মূল করতে পারেননি। শিশুপালের কৃষ্ণের প্রতি বিষোদ্গার ক্রমশ পাণ্ডববিরোধিতায় পর্যবসিত হয়েছে। যুধিষ্ঠিরের সমালোচনায় আত্মীয় অনাত্মীয় নির্বিশেষে অসম্মানিত তালিকাভুক্তরা অদূরভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্রে শান দিচ্ছে না—এ কথা কি নিশ্চিতভাবে বলা যায়? বোধ হয় না। একটি ঘটনার বিরোধিতার সূত্র ধরে যে জটিলতা ও কুৎসার পাঁক উঠে আসে, কথার মারপ্যাঁচে জড়িয়ে যায় অনেক সদুদ্দেশ্যের মহান আদর্শ, বেরিয়ে আসে মানুষের প্রকৃত স্বরূপ,যুধিষ্ঠিরের রাজসূয়যজ্ঞে চেদিরাজ শিশুপালের বিরোধিতা তার প্রমাণ।—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।


















