
|| ফোটোগ্রাফ-১৬ ||
মানুষের মনে কতো লুকোনো মানসিক যন্ত্রণা থাকে। আমরা বেশিরভাগ মানুষই সেই যন্ত্রণাকে মনের ভিতরে লুকিয়ে রেখে বাঁচার চেষ্টা করি। যেমন শ্রেয়ার মধ্যে একটা অস্বাভাবিকতা রয়েছে। যেকোন অপরাধী দেখলেই শ্রেয়ার রাগ বাড়তে থাকে। এর একটা অতীত কারণ আছে। তার বাবা পুলিশে ছিলেন। তাপস বসু। ভোটের দিন। প্রকাশ্য দিবালোকে বড়রাস্তায় দুদলের রাজনৈতিক রেষারেষির মধ্যে দুষ্কৃতীর গুলিতে প্রাণ হারালেন এস আই তাপস বসু। হয়তো তিনি নন দুস্কৃতীদের মূললক্ষ্য ছিলো প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কোন বড়ো নেতা, সেই নেতার চরম সৌভাগ্য। গুলি এসে শ্রেয়ার বাবার বুকে লাগে। সেই থেকে শ্রেয়া নিজেকে কঠিন থেকে কঠিনতর কোরে তুলেছে।
ধৃতিমান নিজেও এই মনের গভীরে লুকিয়ে রাখা যন্ত্রণার একজন শরিক। তখন কলকাতায় শেয়ারিং থাকে। মাঝে মধ্যে রাণাঘাটে যায়। এসবে বড় একটা মাথা দিতো না। কিন্তু বাবা চলে যাবার পর জ্যাঠা-কাকা-খুড়তুতো-জ্যাঠতুতো-ভাইবোনের আসল আত্মীয়তার আসল চেহারাটা বুঝতে পারল। রক্তের মিল থাকলেই কি মানুষ মানুষের আত্মার সঙ্গে মিলবে? একান্ত কাছের জন, স্বজন হয়ে উঠবে? উহুঁ তা সত্যি নয়!! এটা বুঝতে পেরেই একদিন কাকভোরে একটা ব্যাগ আর খাঁচায় বুবুকে নিয়ে রানাঘাটের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৩৪: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৫

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৮: শ্যালক-জাতক—অচিনপাখি

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬০: ঋষিকবির বিনির্মাণ—অবতার নন, মানুষ রাম এক নিঃসঙ্গ যোদ্ধা
একটা চিঠিতে লিখেছিল: “আমি এ পরিবারের সদস্য কিন্তু আমার এই বাড়ি বা সম্পত্তির কোন ভাগ চাই না। আমার কোন দাবি নেই।“ তারপর থেকে ধৃতিমান ভুলেও কোনওদিন, রানাঘাটের বাড়িতে পা রাখেনি। কিন্তু সেই বাড়ি যে তাকে আজও টানে। মালিকানা নয়। সে বাড়ির স্মৃতি। দেওয়ালের ধুলোগন্ধ। ছাতের শ্যাওলার স্পর্শে ছোটবেলায় হারিয়ে ফেলা মা রয়েছেন। বড়বেলায় চলে যাওয়া বাবা রয়েছেন। এই উল্টোডাঙ্গার মুচিবাজারের কাছে আরিফ রোডের এক কামরার ভাড়াবাড়িতে বাবা বা মায়ের স্মৃতি রয়েছে শুধু বুবু আর বুবুর খাঁচাকে ঘিরে। এই মনুষ্যেতর কাকাতুয়াটি বাবু বা ধৃতিমানের শৈশব কৈশোর ও যৌবনের খানিকটা। বুবু, বাবুর বন্ধু, সঙ্গী, মনের মাধুরী বা তার মনের থেরাপিস্ট!
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯০ : দুই ভাই

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন
নীলাঞ্জনার ভয়েস নোটের অনেকটা বেজে গেছে – শোনা হয়নি। পিছনে ফিরে আবার শুনতে শুরু করে।
— এক সপ্তাহের মধ্যে আমি একজন মনোবিদের সঙ্গে কথা বললাম। বলতে হল। আমাদের পেশায় এতও বেশি মানসিক উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। আমাদের ডেন্টিস্টের মতো নিয়মিত মনোবিদের কন্সাল্টেশন লাগে। বাইরে থেকে ক্লোজআপে দাঁত সুন্দর দেখাতে হয়। মনের ভিতরে ঝড় বয়ে গেলে মুখের হাসিকে সুন্দর করে রাখতে পরিশ্রম হয় বৈকি। খরচাও হয়। মনোবিদের প্রেসক্রিপশন আছে। কিন্তু একটাই অনুরোধ একান্ত জরুরী না হলে তাঁকে এঁর মধ্যে জড়াবেন না। আমি যতটা ব্যক্তিগত কথা বলা সম্ভব ততটাই বলব।
— এক সপ্তাহের মধ্যে আমি একজন মনোবিদের সঙ্গে কথা বললাম। বলতে হল। আমাদের পেশায় এতও বেশি মানসিক উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। আমাদের ডেন্টিস্টের মতো নিয়মিত মনোবিদের কন্সাল্টেশন লাগে। বাইরে থেকে ক্লোজআপে দাঁত সুন্দর দেখাতে হয়। মনের ভিতরে ঝড় বয়ে গেলে মুখের হাসিকে সুন্দর করে রাখতে পরিশ্রম হয় বৈকি। খরচাও হয়। মনোবিদের প্রেসক্রিপশন আছে। কিন্তু একটাই অনুরোধ একান্ত জরুরী না হলে তাঁকে এঁর মধ্যে জড়াবেন না। আমি যতটা ব্যক্তিগত কথা বলা সম্ভব ততটাই বলব।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৭ : হাঙরের পেটে মুক্তো

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
আপনারা বলেছেন যে, যতক্ষণ না পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসছে। ততক্ষণ সন্দেহের তালিকায় কাছাকাছি বৃত্তের সকলে। অভিনয়ের সূত্রে আমাদের বড় একটা সুবিধে আছে। একজীবনে অনেকরকমের পেশার মানুষ সাজতে হয়। আর এটা মেকবিলিভের খেলা। তাই অবিশ্বাস্যকে বিশ্বাস্য করার জন্যে নানাভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। হয়তো ভাবছেন সেসব বড় পর্দায় সিনেমা হয়। খানিকটা ঠিক ভেবেছেন বড়পর্দায় বাজেট বেশি সময় খানিকটা বেশি। বলছি ছোট পর্দার জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হয়।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
ছোট পর্দা তৈরি করতে সময় কম দেওয়া হয়। কিন্তু তার স্থায়িত্ব মানে আমি চরিত্রের কথা বলছি দর্শকের কাছে একটি চরিত্রের স্থায়িত্ব বড় পর্দার তুলনায় অনেক অনেক গুণ বেশি। তাই সেই চরিত্রের ছোট ছোট দিকগুলো আমরা অনেকদিন ধরে লোকের মনে একটু একটু করে বসিয়ে দিতে সক্ষম হই। মানে খানিকটা জিক্সো পাজলের খেলার মতো। তাই আমাদের সেই পেশার খুঁটিনাটি জানতে হয়। সেই সূত্রেই গোয়েন্দারা কেমন করে অনেকের মধ্যে থেকে একজন খুনিকে বা একাধিক খুনিকে বেছে নেন সেই পদ্ধতিটাও জেনেছি।
এরপর খানিকটা নৈঃশব্দ। আশপাশ কোথাও থেকে রাতে যাওয়া একটা অ্যাম্বুলেন্সের টানা হুটারের শব্দ। —চলবে।
এরপর খানিকটা নৈঃশব্দ। আশপাশ কোথাও থেকে রাতে যাওয়া একটা অ্যাম্বুলেন্সের টানা হুটারের শব্দ। —চলবে।
অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















