শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
ডিএম সাহেব যে তার মেসেজ পেয়ে এত তাড়াতাড়ি রিপ্লাই দেবেন, তা শাক্য আশা করেনি। সে ভেবেছিল, এত রাতে তিনি হয়তো তার মেসেজ সিন করে রেখে দেবেন। কিন্তু না, তিনি সরাসরি ফোন করেছেন। ভদ্রলোক সত্যিই খুব অ্যাকটিভ প্রশাসনিক প্রধান। এই ধরণের লোকদের শাক্য খুব পছন্দ করে। এঁরা কাজের হন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে সিদ্ধহস্ত। আর প্রম্পট্‌ অ্যাকশানের ব্যাপারে এঁদের জুড়ি মেলা ভার। সে ফোন ধরল।
“হ্যালো, অফিসার। প্লিজ ব্রিফিং মি!”

শাক্য যা ঘটেছে তা অনুপুঙ্খ বলল। তিনি ধৈর্য ধরে শুনলেন আগে। ব্রিফিং করার সময় কোন ইন্টার্যা প্ট করলেন না। এটা অবশ্য আজকের মিটিং চলাকালীনও সে দেখেছে। তখনই বুঝেছিল, বেশ করিৎকর্মা অফিসার। বরং এসডিপিওকে কেমন নড়বড়ে লেগেছে। লালবাজার থেকে সে এখানে তদন্তের ব্যাপারে এসেছে জানার পরেও ভদ্রলোক দু’বার মাত্র ফোন করেছেন। আর একবার পাভেলের ঘটনাটি ঘটার পর এসেছিলেন। এই জাতীয় আরামপ্রিয় এসডিপিওকে কেন যে এ-ধরণের বর্ডার এলাকায় পোস্টিং দেওয়া হয় কে জানে! নেহাত একেজি স্যার মাথা ঠান্ডা করে কাজ করতে পরামর্শ দিয়েছেন, বাকি সমস্ত ব্যাপার তিনি কলকাতা থেকে বসে সামলাচ্ছেন, তা-না-হলে রাগের মাথায় শাক্য কী বলে বসতো তার ঠিক নেই।
শাক্যর ব্রিফিং শেষ হলে ডিএম চিন্তিত মুখে জিজ্ঞাসা করলেন, “এখন ডক্টরের অবস্থা কেমন?”
“স্টেবল্‌। হেলথসেন্টারের ডক্টর তো তেমনটাই বললেন!” শাক্য জবাব দিল।
“আমাদের কি উচিত নয়, ওখান থেকে সদরে নিয়ে এসে বেটার ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করা?”
“এখানকার ডক্টর কিন্তু যথেষ্ট করিৎকর্মা। সব শুনে এক মুহূর্তও দেরি করে নি।”
“তাও…”
“আগে ডক্টরের সেন্স ফিরুক। ওঁর সঙ্গে কথা বলি। উনি নিজেই যেহেতু ডাক্তার, ফলে কোনটা বেটার হবে, তা নিজেই ভালো বুঝবেন আশা করি।”
“বেশ। আপনি যখন চাইছেন। ফারদার কোন হেল্প লাগলে বলবেন। আমি এসডিপিওকে এখনই কাউকে পাঠাতে বলছি। লোকাল থানার অফিসার যাক্‌। ব্যাপারটা টেক-অফ করুক!”
“আমি কিন্তু অন্য কিছু চাইছি !”
“কী রকম?”
“আপনি এখানে পুলিশ প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করলে কাল সকালে হেলথসেন্টারে যে-সব পেশেন্ট আসবে, তারা কিন্তু বুঝবে, নিশ্চয়ই ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। সেই কথাটা ছড়িয়ে পড়তে দেরি হবে না। আর তাহলে যার বা যাদের ভয়ে ডক্টর ওইভাবে ছুটে এসে গাড়ির সামনে পড়েছিলেন, তারা জেনে যাবে। ফলে এখানে তাঁর লাইফ-রিস্ক হয়ে যাবে!”
“আমি তো সেজন্যই আমার এখানে নিয়ে আসতে চাইছি। এখানে সদরের সরকারি হাসপাতাল যেমন বড়, তেমনই আলাদা ভিআইপি কেবিন আছে, সেখানে পুলিশ-প্রোটেকশনের মধ্যে ডক্টরের জান খঁতরার মধ্যে পড়বে না অন্তত!”
“কিন্তু কথাটা তো গোপন থাকবে না। আমি চাইছি, ওঁকে ক’দিন অজ্ঞাতবাসে রাখতে, যাতে ওঁর লোকেশন কেউ ট্র্যাক না করতে পারে ! সেইজন্যই বললাম, আগে ওঁর সেন্স ফিরুক, ওঁর সঙ্গে কথা বলি, তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৭: জীবনখাতার প্রতি পাতায়

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৫: কিশোরীর মেঘবেলা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৫: সুস্থ থাকলে কেউ কি কবিতা লেখে?

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

“আচ্ছা। তাহলে আগে কথা বলুন। আর অজ্ঞাতবাসে রাখার ব্যবস্থা এসডিপিওকে বলে আমি করবো। কিন্তু তার আগে দরকার পিশাচপাহাড় হেলথসেন্টারে কিছুদিনের জন্য আর কাউকে পাঠানো। সিএমওএইচকে এ-ব্যাপারে আমি বলছি! পিশাচপাহাড় হেলথসেন্টারে যত কম পেশেন্টই আসুক না কেন, তাদের ট্রিটমেন্টের ব্যাপারটা যেন বন্ধ না হয়। ওখানে সিচ্যুয়েশনটা নর্মাল রাখতে হবে।” ডিএম বললেন।
“আমি আপনার সঙ্গে এই-ব্যাপারে একমত হতে পারছি না স্যার। প্রতিপক্ষ খুব বুদ্ধিমান। তারা কিন্তু সতর্ক দৃষ্টি রাখবে কিংবা রাখছেও গোটা ঘটনার উপরে। তারা যদি দেখে, সত্যব্রত হঠাৎ করে নেই, তাঁর জায়গায় আর-একজন ডক্টরকে পাঠানো হয়েছে, বাদবাকি সব শান্ত-নিশ্চুপ, তাহলে তাদের বুঝতে অসুবিধা হবে না যে, আমরা হয় সত্যব্রতকে পেয়ে গেছি কিংবা জানি, তিনি কোথায় আছেন। সেজন্যই সত্যব্রতর অন্তর্ধান নিয়ে কোন হৈচৈ না-করে তাঁর রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে একজনকে পাঠিয়েছি, তাহলে কিন্তু তারা সতর্ক হয়ে যাবে। এখন আমরা তদন্তের এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়ে যে, আমাদের সামান্য ভুল পদক্ষেপ, বড় ব্লান্ডার ঘটাতে পারে!”
“কিন্তু হেলথসেন্টারে এই মুহূর্তে কোন ডক্টর নেই জেনেও সেখানে রিপ্লেসমেন্ট না-পাঠানো তো অন্যায় তাই না? এতে পাবলিক-অ্যাজিটেশন হতে পারে… আর আখবারওয়ালারা তো আছেই, জানেন তো আপনি! ছোট কোনও ঘটনাকেও তারা বড় করে দেখায়, আর এক্ষেত্রে হেলথসেন্টারে ডক্টর নেই জেনেও চুপ করে বসে থাকাকে তাঁরা ছেড়ে দেবে বলে ভেবেছেন?”
“না ছাড়ুক সেটাই তো চাইছি!”
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৩: সুন্দরবনের পাখি: বাটান

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১২ : স্বপ্নের নায়ক, নায়কের স্বপ্ন

“তাতে লাভ?”
“দেখুন অ্যাজ এ ডক্টর হিসেবে সত্যব্রত কিন্তু এর মধ্যেই বেশ নাম করে ফেলেছেন। এলাকার মানুষজনের ভালোবাসাও আশা করি তিনি পেয়েছেন। আমি পার্সোনালি ওঁর ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, উনি এখানে আসার পর কলকাতায় নিজের বাড়ি পর্যন্ত বার-দুয়েক গিয়েছেন। ওঁর ফ্যামিলি এখানে অ্যাডজাস্ট করতে না পেরে কলকাতায় ফিরে গেছেন, কিন্তু ইনি কোন রিপ্রেজেন্টেশন দেন নি, এখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য। আগে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা না-কি কেউ দু’মাস, কেউ ছ’ মাস, কেউ বড়জোর এক বছর পিশাচপাহাড় হেলথসেন্টারে কাটিয়েই পালিয়েছেন, সেখানে সত্যব্রত নেই-নেই করে আজ তিন বছর আছেন। তাও তিনি ট্রান্সফারের জন্য অ্যাপ্লাই করেননি। এর থেকে বোঝা যায়, তিনি অন্যধারার একজন মানুষ। এই ডেডিকেশনের একটা অপোজিট এফেক্ট তো থাকবেই। ডক্টরকে হঠাৎ অনুপস্থিত দেখে লোকজন খোঁজখবর করবে। হইচই হবে। খোঁজখবর করবে। এমনটি হলে কিন্তু অপরপক্ষ বিপদে পড়বে। কারণ, তারা বিষয়টিকে আর গোপন রাখতে পারবে না ! এমনিতেও ডক্টরের যে লাইফ-থ্রেট আছে, তা আমি অনুমান করেছিলাম, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি যে তারা অ্যাকশন নেবে, সেটা বুঝতে পারিনি!”
ডিএম বুঝতে পারলেন না যে শাক্য কেন সত্যব্রতর রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে কাউকে পিশাচপাহাড় হেলথসেন্টারে পাঠাতে বারণ করছে। তিনি বললেন, “দেখুন, সত্যব্রত ছুটিতে যেতে পারেন। কালপ্রিটরা ভাববে তিনি ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছেন। সিএমওএইচকে বলে দিলেই তিনি এ-জাতীয় একটা কথা বাজারে ছেড়ে দেবেন। তাছারা যাঁকে পাঠান হবে, তাঁর লেটারেও কথাটি লেখা থাকবে যে, ডক্টর সত্যব্রত এক মাসের ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছেন। আপনি তো বললেন, ওঁর বাড়ি কলকাতায়। অতএব সেখানে উনি যেতেই পারেন। এখানকার কালপ্রিটদের অত এনার্জি নেই যে কলকাতায় গিয়ে খোঁজ নেয়!”
“দেখুন স্যার, পুলিশ-ট্রেনিং-এর সময় আমাদের শেখানো হয়েছিল, শত্রু যতই ক্ষুদ্র বা তুচ্ছ হোক না কেন, তাকে উপেক্ষা করতে নেই। করলে আমাদেরই বিপদ। এরা খুব তাড়াতাড়ি অ্যাকশন নেওয়ার জন্য ফিল্ডে নেমে পড়ছে। অতএব বুঝতে হবে, এরা একজন নয়। একটা গ্যাং। তাদের লোকবল কতটা আমি জানি না। কিন্তু তারা যে কলকাতার খবরটুকু জোগাড় করার মতো লোকবলসম্পন্ন তাতে সন্দেহ নেই। আপনাকে আজ দুপুরেই বলেছি, পিশাচপাহাড় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই একদল দুষ্কৃতি সক্রিয়। ঠিক কোন-কোন ফিল্ডে এরা কাজ করছে, তা এখনও জানতে পারি নি, তবে কিছু আঁচ করতে পারছি। কিন্তু আগে প্রমাণ জোগাড় করে তারপর আপনাকে বলব!”
“ততদিনে যদি দেরি হয়ে যায়? আমি যথাস্থানে কথা বলে যদি আরও কিছু ফোর্স পাঠাই, তাতে যদি লাভ হয়, তাহলে আমি এক্ষুনি ব্যবস্থা করছি!”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৫: মহর্ষি নারদের প্রশ্নচ্ছলে উপদেশগুলি যেন রাজনীতির পাঠ

আকাশ এখনও মেঘলা/৪০

“দেখুন, আপনি ফোর্স পাঠাতে পারেন, রিজার্ভে রাখতে পারেন, কিন্তু ডেনগুলি না জানলে তারা কী করবে? সে তো খড়ের গাদায় ছুঁচ খোঁজার মতো ব্যাপার হবে, তাই না?”
“হুম!”
“সেই জন্যই বললাম, আগে সত্যব্রতর সঙ্গে কথা বলি, তারপর পরবর্তী প্ল্যান ঠিক করা যাবে। আপনি আপাতত পিশাচপাহাড়ের কালাদেওর গুহায় ছানবিনের ব্যাপারটা দেখুন!”
“সামান্য সময় লাগবে। আর্মি অবশ্য রেসপন্স করতে দেরি করে না, কিন্তু জিওলজিক্যাল সার্ভের কোন অফিসারকে পাওয়া চাপের। সেন্ট্রাল আর স্টেটের মধ্যে আকচাআকচির কথা তো জানেন ! তাও আমি যত তাড়াতাড়ি ওই ব্যাপারটা দেখব কথা দিচ্ছি। আগামী সপ্তাহে সেই মতো একটা দু’দিনের মিটিং কল করবো। আমি সিএমের দপ্তরেও এই মর্মে জানিয়ে রাখছি। নাহলে পরে অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে!”
“বেশ। আমি এদিকে দেখছি…” শাক্য আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, এমনসময় সুদীপ্ত ছুটে এল। সে খুব উত্তেজিত। ডিএমকে অল্পক্ষণ সময় হোল্ড করে থাকতে অনুরধ করে শাক্য তাকে জিজ্ঞাসা করল, “কী হয়েছে? আপনি এত উত্তেজিত? এনিথিং রং?”
সুদীপ্ত বলল, “মালাকার স্যারকে ফোন করেছিলাম। আজব ব্যাপার!”
“কী আজব ব্যাপার?”
“আমরা খোঁজখবর করতে বলার আগেই উনি সেখানে খোঁজখবর করতেই গিয়েছেন। এই কিছুক্ষণ আগে সেখান থেকেই থানায় ফিরেছেন। জানালেন, ডক্টর গত পরশু থেকে নিখোঁজ, এই মর্মে আজ দুপুরে গোবিন্দ সোরেন নামে একজন থানায় রিপোর্ট করতে যায়। সঙ্গে একজন নার্সিং স্টাফও ছিলেন। ডক্টরকে নাকি পরিশু শেষ রাতে এমার্জেন্সি কেসের নাম করে দুজন লোক গাড়ি করে নিয়ে কোথাও যায়। তারপর থেকে ডক্টর আর ফিরে আসেননি।…”
শাক্য উত্তেজনায় প্রায় চেঁচিয়ে উঠল, “সত্যি না-কি ?”
“হ্যাঁ, মালাকার স্যার তো সেটাই বললেন। ওঁর নাকি ওই গোবিন্দ আর যে নার্সিং স্টাফ সঙ্গে গিয়েছিলেন, তাঁদেরকেই সন্দেহ!”
“রাবিশ। এক মিনিট দাঁড়াও। কথাটা ডিএম সাহেবকে জানাই,” বলে সে আবার ডিএমকে ধরে সব কথা জানালো।
ডিএম বললেন, “তাহলে তো ডক্টরকে ওরা কোন কারণে মুক্তি দিয়েছে, অথবা…”
শাক্য বলল, “অথবাটাই ঠিক স্যার। কোন কারনে মুক্তি দিলে ওভাবে ডক্টর ছুটে এসে গাড়ির অপর প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়তেন না। সুতরাং দ্বিতীয় কারণটিই ঠিক যে, নিশ্চিতভাবে সত্যব্রত কোন কৌশলে ওদের খপ্পর থেকে পালিয়ে এসেছেন। সেই কারণেই তিনি এভাবে প্রাণভয়ে ছুটে আসছিলেন। আর গত পরশু থেকে আজ সত্যব্রত মিসিং ছিলেন, তার মানে এই ক’দিন তাঁকে কোথাও আটকে রাখা হয়েছিল, ওদের কোন ডেরা নিশ্চয়ই। এটা দারুণ ব্যাপার হল!”
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৪: অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ডকে জুড়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ে

ডিএম বললেন, “কেন?”
শাক্য বলল, “সত্যব্রতর জ্ঞান ফিরলে তিনি নিশ্চয়ই বলতে পারবেন, কোথায় তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল, ফলে শত্রুপক্ষের একটা ডেনের খোঁজ মিলবে এবার। সেখানে যদিও সত্যব্রত পালিয়ে আসার পর কী অবস্থা তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে তারা যে এখন খ্যাপা কুকুরের মতো মরিয়া হয়ে ডক্টরকে খুঁজবে তাতে সন্দেহ নেই। আর সেই সঙ্গেই সেই ডেরা হয়তো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়ে পালিয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু পালালেও আমরা এবার সহজেই তাদের নাগাল পাবো। কারণ, তারা যেখানেই ডেরা বাঁধুক না কেন, সেখানে খোঁজখবর করলেই তাদের সম্পর্কে কোন-না-কোন ক্ল্যু পাওয়া যাবে। তারপর তাদের চিহ্নিত করার বিষয়টিতে আমরা কিছু অ্যাডভান্টেজ পাবো !”
“কিন্তু ডক্টর যদি ডেনের লোকেশন সঠিক বলতে না পারেন?”
“সমস্যা হবে না। একজন সাধারণ মানুষ, মানে যে রানার নয়, সে কতদূর একটানা দৌড়াতে পারবে ? ডক্টরকে যেদিক দিয়ে গাড়ির সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়তে দেখা গেছে, সেই দিক ধরে যদি কিছুটা এলাকায় খোঁজ করা যায়, তাহলে হয়তো সেই ডেনকে চিহ্নিত করা অসুবিধা হবে না। আমার তো মনে হয়, এই হেলথসেন্টারের চেয়ে সেই জায়গা খুব দূরেও নয়।”
“তাহলে তো দেখা যাচ্ছে, ডক্টরের লাইফ-রিস্ক এখন। হাই চান্স যে কালপ্রিটরা ওঁকে খুঁজে পাবে এবং আবার অ্যাটাক্‌ করবে। কারণ, ডাক্তার বেঁচে থাকলে তাদের ডেনের খোঁজ আমরা পেয়ে যাব। এটা তারা কোনদিন হতে দিতে পারে না। আপনি যাই বলুন, আমি পুলিশ-প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করছি। দরকার হলে এসডিপিও নিজে যাবেন সব ব্যবস্থা করতে।” ডিএমের গলার স্বরে কঠোরতা। যদিও তিনি যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সেটাও বোঝা যাচ্ছিল।
“আমি এক কাজ করি। এখানকার যে ডক্টর আছেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলি। যদি তিনি পারমিট করেন, আপনি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করুন, তবে ড্রাইভার যেন বিশ্বস্ত হয়। মানে বুঝতেই পারছেন, সে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ডক্টরকে, সে-কথা যেন সে গোপন রাখে। এরপর আপনি ঠিক করবেন, কোথায় রাখবেন। তবে আবারও বলছি কোন হসপিটালে রাখবেন না। যা-সব জায়গায় যে-খুশি যেতে পারে, সে-সব জায়গায় ডক্টরকে রাখা মানে, তাঁকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া! কিডন্যাপিং-এর ব্যাপারটা জানার পর আমার আগের মতো বদলেছে। এখানে রাখাটা আর উচিত হবে না। আবার পাবলিক হসপিটালেও নয়!”
ডিএম বললেন, “ঠিক আছে, বিষয়টা আমার হাতে ছেড়ে দিন। আমি দেখছি। কাল সকাল হওয়ার আগেই ডক্টরকে কোন গোপন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। আপনি হেলথসেন্টারের ডক্টরের সঙ্গে কথা বলে আমাকে জানান। আমি সারারাত জেগে আছি। বিষয়টা অনেকদূর গড়িয়ে গিয়েছে। এবার হয় এসপার, নয় ওসপার করতেই হবে!” —চলবে।

* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content