সোমবার ৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী।

জেরার মুখে ঐশী জানিয়েছে বাড়ি গিয়ে সে আনন্দকে দেখতে পায়নি। এমনিতেই খুব ক্লান্ত ছিল। আনন্দ অনুষ্ঠান দেখতে আসেনি। ইদানিং চাকরি ক্ষেত্রে নানান অশান্তির জন্য আনন্দ গুম হয়ে থাকতো। বেশি সময় অফিসে কাটাতো। ছুটির দিনেও কাজের জন্য বেরিয়ে যেতো। দুর্গাপুজো বা আবাসনের কোনও অনুষ্ঠানের সে খুব একটা অংশ নিত না। কিন্তু ঐশী আবাসনে খুব পরিচিত ছিল। বিজয়াসম্মেলনী নববর্ষের অনুষ্ঠান বা চড়ুইভাতি সবেতেই ঐশী একপায়ে খাড়া। একথা অবশ্য অন্যান্যরাও জেরার মুখে স্বীকার করেছেন। শুভ্রাংশুও যথেষ্ঠ শোকাহত। তাঁর সঙ্গেও কথা বলেছে শ্রেয়া। শান্ত ও স্বাভাবিকভাবে শ্রেয়ার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন শুভ্রাংশু।
শুভ্রাংশু জানিয়েছেন, আনন্দ ও ঐশী দু’জনের সঙ্গেই তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। শুভ্রাংশ আরও জানিয়েছেন যে, আনন্দ চাকরির অনিশ্চয়তার ব্যাপারে খুব দুশ্চিন্তায় থাকত। তাই আবাসনে খুব একটা মেশামেশি করত না, কিন্তু শুভ্রাংশু ফ্ল্যাটে মাঝেমধ্যে আসতো। একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করতো ওরা।
বিভূতি চক্রবর্তী নিজে ফোন করেছিলেন ধৃতিমানকে।
—কী বুঝছো চ্যাম্প?
— বোধহয় সুইসাইড নয় স্যার, কিন্তু ফরেন্সিকের আগে এটা কনফার্ম করা যাবে না।
—এনি স্পেসিফিক মোটিভ।
— না সেটা এখনও ক্লিয়ার নয়। শ্রেয়া ইন্টারোগেট করছেন। কোন লিড পেলে আপনাকে জানাবো।
—মফিজুলকে বলো যেন কোনও কিছু মিস না করে। লোকাল থানাকে বাইপাস করে ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টকে ইনভল্ভ করা হয়েছে। একটা আন্ডারকারেন্ট তো আছে । We need to justify our requirement by providing evidence or reasons at the earliest
—Yes Sir.
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১০৫ ডেসডিমোনার রুমাল/৫

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৫: কিশোরীর মেঘবেলা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯১: যারা সময়ের স্রোতে নত হতে জানে, তারাই টিকে যায়; যারা আগুনে ঝাঁপায়, তারাই পুড়ে মরে

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৭: বিলেতে হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের অস্ত্রোপচার

একটাই পুলিশ ডিপার্টমেন্ট কিন্তু তার মধ্যেও অস্তিত্বরক্ষার জন্য লড়াইটা সর্বক্ষণের। আগে এমন সর্বব্যাপী মিডিয়া ছিল না। সাধারণ মানুষ এত ভোকাল ছিলেন না। মিডিয়াতে ইস্যুভিত্তিক তুলকালাম আলোচনা হতো না। পুলিশের চাকরিতে চোর গুন্ডা বদমাইশদের শায়েস্তা করা এটাই ছিল এজেন্ডা। এখন সর্বক্ষণ পারফরম্যান্স রিপোর্ট সাবমিট করতে হয়। উপরওয়ালার কাছে, সরকারের কাছে। কারণ সব ক্ষেত্রে যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আর সরকারি চাহিদা একই রকম হবে তা তো নাও হতে পারে।
এরপর রয়েছে মিডিয়া রয়েছে অজস্র ক্যামেরা আর অজস্র মানুষের প্রশ্ন। এই কারণে ধৃতিমানের চাকরি করা হল না।
শ্রেয়া এসেই ধৃতিমানের কাছে জানতে চাইলেন—
—কিছু পেলেন?
—হ্যাঁ, তাঁর আগে একটা প্রশ্ন আছে?
—কী?
—পাল ফ্যামিলির কী কোন গাড়ি আছে?
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৩: সুন্দরবনের পাখি: বাটান

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১২ : স্বপ্নের নায়ক, নায়কের স্বপ্ন

দু-তিনজন মহিলা সঙ্গে এসে ঐশী পালকে ঘরে বসিয়ে দিলেন। ততক্ষণে আনন্দের দেহ মর্গে চলে গিয়েছে। তবে শুধু ঘর নয় গোটা বাড়িটাকেই সিল করতে হবে। কারণ মৃতদেহ ও অন্যান্য নমুনায় ফরেন্সিক হবার পর আবার নতুন কিছু সূত্রের খোঁজে বাড়িতে তদন্ত করার দরকার হতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থে এখন এ বাড়িতে ব্যবহারের উপযোগী করে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ঐশী পাল একাই বসেছিলেন। শ্রেয়া প্রশ্ন শুরু করে—
—আপনাদের কী গাড়ি ছিল?
—গাড়ি? নানা ওসব ছিল না!
এটা একেবারেই ব্যক্তিগত প্রশ্ন! আর সেটা জিজ্ঞেস করার সময়ও এটা নয়। তবু জানতে চাইব যে আপনি কি ঠিক করেছেন এখানেই থাকবেন নাকি আপনার বাড়িতে মানে ঘাটশিলা।
— না, ঘাটশিলায় আমি ফিরব না মা-বাবা দুজনের বয়স হয়েছে ওরা আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হবেন কষ্ট পাবেন।
—তাহলে কলকাতাতেই থাকবেন।
—হ্যাঁ, যেখানে আছি! তবে আমাকে একটা চাকরিবাকরি কিছু জোগাড় করতে হবে এবার।
—একটা কথা, সপ্তাহ দুয়েক বা ম্যাক্সিমাম এক মাস এই বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও থাকার কোন উপায় আছে কলকাতায় আপনি বুঝতেই পারছেন এটা একটা অ্যাবনরমাল ডেথ তদন্ত চালানোর জন্য বাড়িটা আমাদের সিল করে দিতে হবে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৮: আপৎকালীন পরিস্থিতি

ঐশী পাল এবার দুশ্চিন্তায় পড়লেন।
— সেরকম কি কেউই নেই?
—নেই বললে ভুল হবে কিন্তু আসলে এরপর তো এসব কাগজেপত্রে বেরোবে টেলিভিশনের খবর হবে তারপরে কারও বাড়িতে গিয়ে ওঠাটা আমার পক্ষেও এম্বারাসিং তাদের জন্যও খুব একটা কম্ফোর্টেবল নয়।
— দেখুন আপনার আপত্তি না থাকলে আমি একটা লেডিস হস্টেলে আপনাকে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে পারি আমাদের জানাশোনা। আপনার কোন অসুবিধা হবে না। নমিনাল চার্জেস! আর আমি ডিপার্টমেন্টে বলব যাতে ১৫ দিনের মধ্যেই আমরা বাড়িটা রিলিজ করে দিতে পারি। আপনি এটা সুটকেসে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিন। আমরা অপেক্ষা করছি – আমাদের গাড়িতেই আপনাকে হস্টেলে পৌঁছে দেব।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৬: জীবন নিয়ে কৌতুক আর ‘যৌতুক’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

কথা মতো ঐশীপাল পাশের ঘরে জিনিসপত্র গোছাতে গেলেন। শ্রেয়া বসু তার ভুরু সামান্য তুলে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ধৃতিমানের দিকে তাকালেন।
—সন্দেহটা বেড়ে গেল।
—গাড়ি নেই বলে?
— হুঁ! বাড়িতে নাইলনের দড়ি বলতে, তা কাপড় শুকোতে দেওয়ার জন্য থাকে। কিন্তু যে মোটা নাইলনের দড়িতে আনন্দ পাল ঝুলেছিলেন বা তাকে ঝোলানো হয়েছিল সেটা একমাত্র গাড়ি বেঁধে টানার জন্য কাজে লাগে।—চলবে।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content