শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

 

|| ফোটোগ্রাফ-১৫ ||

শ্রেয়া এমন ঝুঁকি নেন। শ্রেয়া তার সোর্সদের বিশ্বাস করেন। শ্রেয়া জানেন তারা তাকে সঠিক খবর দেবে। বিপদে ফেলবে না। শ্রেয়া ধৃতিমানকেও ভরসা করে। জোকার আনন্দ পাল হত্যা রহস্যের সমাধানে তখন গোয়েন্দা বিভাগের দিশেহারা অবস্থা। সেই খুনের মাস্টারমাইণ্ড শুভ্রাংশু মুখার্জিকে কোণঠাসা করা বা তার ফোনট্যাপ করা। তাকে দিল্লির পাহাড়গঞ্জ থানা থেকে ফোন করিয়ে সত্যি স্বীকারোক্তি পেতে ভয় দেখানো। সবেতেই শ্রেয়া ধৃতিমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
ধৃতিমানের সঙ্গে গোয়েন্দাকর্তা ভৈরব চক্রবর্তীর সুসম্পর্ককে ব্যবহার করে অনুমতি আদায় করেছে, যা হয়তো অফিসিয়্যালি পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হতো। ডেসডিমোনার রুমাল গল্পে সেই রোমহর্ষক বর্ণনা রয়েছে। এমনকি গ্রিন-টি হত্যারহস্যের সিরিয়াল কিলিং-এর মারাত্মক জট ছাড়তে বাংলা ছাড়িয়ে মুম্বই পুলিশের সাহায্য নেওয়া থেকে শুধু সন্দেহের বশে ভিনরাজ্যের পুলিশকে দিয়ে সম্ভাব্য হত্যাকারীর নভি মুম্বই-এর পাম বীচ রোডে নেরুলের এনআরআই কমপ্লেক্সের ফ্ল্যাট রেড করানো। এমনকি বিদেশদপ্তরের সাহায্য নেওয়া। শ্রেয়া সরকারি নিয়মের সোজা রাস্তা মেনে এসব করতে পারতেন না।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৩৩: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৪

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৬ : ভাগ্য যখন ফেরে

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

শ্রেয়া কি এই পারস্পরিক বিশ্বাসের থেকেই সেদিন রিজেন্ট পার্কে অমিতাভের ফ্ল্যাট থেকে ফেরার পথে ধৃতিমানের ওপর আচমকা ক্ষেপে গিয়েছিল?
আবার নীলাঞ্জনার ভয়েস মেসেজে মন দিল বাবু মানে আমাদের ধৃতিমান—
—আমি আপনাকে ভয়েস মেসেজ পাঠাবো বলেছিলাম দুটো কারণে। এক অভিনয় করা কিন্তু খুব কঠিন। না আমি মানছি পৃথিবীর সবকাজ কঠিন। অফিসে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করা বা এই নিদারুণ সময়ে বাড়িতে ছেলেমেয়েকে সুস্থ রেখে সঠিকভাবে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করা কিংবা প্রতিদিন একই স্বাদের পরোটা-আলুরদম বানিয়ে এই কম্পিটিটিভ মার্কেটে বিক্রি করা বোধহয় সমান শক্ত। কিন্তু গ্ল্যামারের চাকচিক্য সমাজের পরিচিতি দেখে আমাদের কাজটা যতটা আয়াসসাধ্য মনে হয়, বিনোদন জগত কিন্তু তাঁর চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ঠাঁই।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫০: তারখেল

ক্যাবলাদের ছোটবেলা, পর্ব-৩৭: লোকে যারে বড় বলে

ইংরিজি ভাষায় একটা কথা আছে না! থ্রোট-কাট কম্পিটিশন। হ্যাঁ, সেই রকমই জীবন বাজিরাখা লড়াই। মুখের হাসি বজায় রেখে এই ভয়ানক নির্দয় যুযুধান প্রতিযোগিতায় শুধু টিকে থাকা নয়। ডমিনেট করা বা দাপট দেখানোর কায়দাকানুন, ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলা কাউকে নিঃশব্দে দূরে ফেলে দেবার ফন্দিও চালাতে হয়। আর সব কিছু চাপা থাকে মুখের মিষ্টি হাসির আড়ালে। তাই মাথাটা খালি থাকে না। মনে শান্তি থাকে না। সেই পরিবেশে সবকিছু বলতে পারতাম না, কিছু কিছু কথা কেউ তাকিয়ে থাকলে বলা যায় না। হ্যাঁ, আমার মনে আছে। আপনি বলে দিয়েছেন যে জবানবন্দি হিসেবে সই করে আদালতে জমা দেওয়া যাবে শুধু এমন কথা বলতে। আমি এখনও পর্যন্ত তেমন একটাও কথা বলিনি । কিন্তু বিশ্বাস করুন এই কথাগুলো বলাটাও খুব জরুরি ছিল। এগুলো অপ্রাসঙ্গিক নয়। এরপর যেগুলো বলবো সেগুলো আপনার কথামতো জবানবন্দী হিসেবে লেখা যাবে। সই করা যাবে। আদালতে জমা দেওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৮: রাক্ষস খর ও রামের সংঘাতে, যুদ্ধের বিবিধবার্তা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

—আমরা অভিনয় জগতে বা বলা ভালো বিনোদন জগতে কাজ করি। এখানে সৃষ্টিমূলক কাজ আর বলছি না। শব্দটা ভারী। আর সব বিনোদন তো সৃষ্টি নয়। আবার সব সৃষ্টিও বিনোদনের জন্যে নয়। তো আমরা খুব স্বার্থপর। আর নিজের জগত নিজের গণ্ডীতে বেঁচে থাকি। হ্যাঁ, আমাদের আর পাঁচটা মানুষের মতো সংসার আছে কিন্তু আমাদের কাজের দাবিটা অনেক সময় সংসারের দাবিকে ছাপিয়ে যায়।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!

আমার আর অমিতাভের মধ্যে একই সমস্যা হয়েছিল। চোখে দেখে, খানিক কথা বলে বা আলতো হাত চেপে ধরাতে যাকে ভালো লেগেছিল আর বিয়ে নামক ছাড়পত্রের পর বন্ধদরজার ভিতরে আলোয় বা অন্ধকারে আমি যাকে খুঁজে পেলাম, তিনি আমার অচেনা। একজন অস্বাভাবিক অমানুষ।

আমাদের দুজনেরই টিনেজারের পাগলামি করার বয়েস নেই। বিয়ে শারীরিক দাম্পত্য এসব জেনেই আমরা, বলা ভালো অন্তত আমি , দু’জন স্বাভাবিক সুস্থমানুষের যৌথজীবন চেয়েছিলাম। এরকম একটা পাশবিক পৈশাচিক জীবনসঙ্গী আমি অতি বড় দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। —চলবে।

অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content