
একজন জুনিয়ার ডাক্তার এসে জানাল, “স্যার, পেশেন্টের জ্ঞান ফিরে এসেছে। দুর্বল আছেন যদিও। তবে কথা বলা যাবে। হেলথ সেন্টারের ডাক্তার সিডেটিভ দিয়েছিলেন। ঘুমিয়েছিলেন তাই এতক্ষণ। স্যালাইন চালু করে দিয়েছি। আপাতত কথা বলতে পারবেন!”
শাক্য মোবাইলে মেসেজ করে কথা বলছিল উল্লাসের সঙ্গে। অনেকবার ফোন করেছে সে। তখন ব্যস্ত থাকায় আর ফোন তোলার সময় হয়নি তার। সুদীপ্তর কাছে যদিও সে শুনেছে বিষয়টি, তবুও উল্লাসের কাছ থেকেও শুনতে চাইছিল সে। উল্লাসকে সে জানিয়ে দিয়েছিল, এখন তার চারপাশে যেহেতু অনেকে আছেন, ফলে ফোনে কথা বলা যাবে না। তবে মেসেজে বলা যাবে। সেই কারণে উল্লাস মেসেজ করছিল। আর শাক্য যথাসম্ভব প্রশ্ন করে জেনে নিচ্ছিল যা জানার।
উল্লাস যা বলছে, তাতে রহস্য কমার বদলে আরও জটিল হল। উল্লাসের কথা যদি সত্য হয় তাহলে, মঙ্গল ওঝার কীর্তিকলাপ দেখে মনে হচ্ছে, সে কোন-না-কোনভাবে এই বিশাল র্যা কেটের একটা পার্ট হলেও হতে পারে। এই গ্যাং কতদিন ধরে জাল বিছালে এতটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে, সেটাই ভাবছিল ও। এক-আধ মাসে এ-সব হওয়ার কথা নয়। দীর্ঘদিন ধরে ধীরে-ধীরে এই জাল বিস্তার করা হয়েছে। অথচ তার অবাক লাগছে, স্থানীয় থানা এ-ব্যাপারে নিশ্চুপ হয়ে বসেছিল। তাদের কাছে কি কোন খবর যায়নি? যদি গেলেও তারা নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে, তাহলে বলতে হবে, এদের লাভের অংশ থানাতেও যায় নিয়মিত। আর তা হলে, সেটা বিপজ্জনক। থানার সেই অংশীদার তাদের তদন্তের সমস্ত খুঁটিনাটি হয়তো পৌঁছে দিচ্ছে দুষ্কৃতিদের কাছে। বিষয়টা হেলাফেলা করার মতো নয়। তবে যদি এমন হয়, থানা গোটা ব্যাপারটাই জানত না, তাহলে তাদের এককথায় অপদার্থ বলা উচিত। এ সমস্ত ক্ষেত্রে ইনফর্মাররা সঠিক এবং সক্রিয় হলে এ সব খবর পুলিশের কানে পৌঁছতে বাধ্য। সুদীপ্ত তো বছরখানেক হল এখানে এসেছে, তার কানেও কি কিছু পৌঁছয়নি? সম্ভবত না। পৌঁছলে তাকে বলত নিশ্চয়ই! কিন্তু এতটা নিশ্চেষ্টতা তার মতো দক্ষ এবং করিতকর্মা পুলিশের পক্ষে অগৌরবজনক। তাকে সতর্ক করতে হবে।
উল্লাস মেসেজে লিখল, “স্যার, এখন আমাকে কী করতে হবে? আমার তো একবার না ফিরলেই নয়। ক্লায়েন্টরা বারবার ফোন করছে। দেরি হয়ে গেলে তারা যদি অন্য ফিজিও নিয়ে নেয়, তাহলে আমার ধান্দা এক্কেবারে যাবে স্যার!”
শাক্য মোবাইলে মেসেজ করে কথা বলছিল উল্লাসের সঙ্গে। অনেকবার ফোন করেছে সে। তখন ব্যস্ত থাকায় আর ফোন তোলার সময় হয়নি তার। সুদীপ্তর কাছে যদিও সে শুনেছে বিষয়টি, তবুও উল্লাসের কাছ থেকেও শুনতে চাইছিল সে। উল্লাসকে সে জানিয়ে দিয়েছিল, এখন তার চারপাশে যেহেতু অনেকে আছেন, ফলে ফোনে কথা বলা যাবে না। তবে মেসেজে বলা যাবে। সেই কারণে উল্লাস মেসেজ করছিল। আর শাক্য যথাসম্ভব প্রশ্ন করে জেনে নিচ্ছিল যা জানার।
উল্লাস যা বলছে, তাতে রহস্য কমার বদলে আরও জটিল হল। উল্লাসের কথা যদি সত্য হয় তাহলে, মঙ্গল ওঝার কীর্তিকলাপ দেখে মনে হচ্ছে, সে কোন-না-কোনভাবে এই বিশাল র্যা কেটের একটা পার্ট হলেও হতে পারে। এই গ্যাং কতদিন ধরে জাল বিছালে এতটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে, সেটাই ভাবছিল ও। এক-আধ মাসে এ-সব হওয়ার কথা নয়। দীর্ঘদিন ধরে ধীরে-ধীরে এই জাল বিস্তার করা হয়েছে। অথচ তার অবাক লাগছে, স্থানীয় থানা এ-ব্যাপারে নিশ্চুপ হয়ে বসেছিল। তাদের কাছে কি কোন খবর যায়নি? যদি গেলেও তারা নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে, তাহলে বলতে হবে, এদের লাভের অংশ থানাতেও যায় নিয়মিত। আর তা হলে, সেটা বিপজ্জনক। থানার সেই অংশীদার তাদের তদন্তের সমস্ত খুঁটিনাটি হয়তো পৌঁছে দিচ্ছে দুষ্কৃতিদের কাছে। বিষয়টা হেলাফেলা করার মতো নয়। তবে যদি এমন হয়, থানা গোটা ব্যাপারটাই জানত না, তাহলে তাদের এককথায় অপদার্থ বলা উচিত। এ সমস্ত ক্ষেত্রে ইনফর্মাররা সঠিক এবং সক্রিয় হলে এ সব খবর পুলিশের কানে পৌঁছতে বাধ্য। সুদীপ্ত তো বছরখানেক হল এখানে এসেছে, তার কানেও কি কিছু পৌঁছয়নি? সম্ভবত না। পৌঁছলে তাকে বলত নিশ্চয়ই! কিন্তু এতটা নিশ্চেষ্টতা তার মতো দক্ষ এবং করিতকর্মা পুলিশের পক্ষে অগৌরবজনক। তাকে সতর্ক করতে হবে।
উল্লাস মেসেজে লিখল, “স্যার, এখন আমাকে কী করতে হবে? আমার তো একবার না ফিরলেই নয়। ক্লায়েন্টরা বারবার ফোন করছে। দেরি হয়ে গেলে তারা যদি অন্য ফিজিও নিয়ে নেয়, তাহলে আমার ধান্দা এক্কেবারে যাবে স্যার!”
কথাটা সত্যি। শাক্য একমুহূর্ত চিন্তা করে লিখল, “ঠিক আছে, তুমি চলে এসো ক’দিনের জন্য। এখানে তোমার ক্লায়েন্টদের সামলে নাও। তবে ওখানে এমন কেউ নেই, যে তোমার অনুপস্থিতিতে মঙ্গলের উপর নজর রাখতে পারবে?”
“কাকে বলব স্যার। আমার দলের সক্কলে গ্রামের বাইরে থাকে। যে ক’জন পরিচিত আছে, তাদের ভরসা হয় না স্যার!”
“কেন?”
“গদ্দার বলে! সাপের চেয়ে ভয়ানক স্যার! মঙ্গলের কানে সব চলে যাবে, তখন আমার বিপদ বাড়বে।”
“বেশ। আমি দেখছি কী করা যায়। তবে মঙ্গল পালাবে না তো?”
“মনে হয় না স্যার। সে পালালে মন্দিরের পুজোপাঠ কে করবে? পুজো বন্ধ হয়ে গেলে এলাকার লোক খুব ক্ষেপে যাবে স্যার!”
“তাও বটে। ঠিক আছে, তুমি কালকের দিনটা ওর গতিবিধি ওয়াচ করো। রাতে আমাকে জানাও। আমি এর মধ্যে কী ব্যবস্থা করা যায় দেখছি। তুমি পরশু দিন কয়েকের জন্য ফিরে এসো।”
“আচ্ছা স্যার!”
“রাখ এখন। সাবধানে থেকো!”
“এবার গেলে ম্যাসাজ নেবেন তো স্যার?”
“সময় পেলে নিশ্চয়ই নেবো। বেশ এখন রাখছি।”
“আচ্ছা স্যার।”
“কাকে বলব স্যার। আমার দলের সক্কলে গ্রামের বাইরে থাকে। যে ক’জন পরিচিত আছে, তাদের ভরসা হয় না স্যার!”
“কেন?”
“গদ্দার বলে! সাপের চেয়ে ভয়ানক স্যার! মঙ্গলের কানে সব চলে যাবে, তখন আমার বিপদ বাড়বে।”
“বেশ। আমি দেখছি কী করা যায়। তবে মঙ্গল পালাবে না তো?”
“মনে হয় না স্যার। সে পালালে মন্দিরের পুজোপাঠ কে করবে? পুজো বন্ধ হয়ে গেলে এলাকার লোক খুব ক্ষেপে যাবে স্যার!”
“তাও বটে। ঠিক আছে, তুমি কালকের দিনটা ওর গতিবিধি ওয়াচ করো। রাতে আমাকে জানাও। আমি এর মধ্যে কী ব্যবস্থা করা যায় দেখছি। তুমি পরশু দিন কয়েকের জন্য ফিরে এসো।”
“আচ্ছা স্যার!”
“রাখ এখন। সাবধানে থেকো!”
“এবার গেলে ম্যাসাজ নেবেন তো স্যার?”
“সময় পেলে নিশ্চয়ই নেবো। বেশ এখন রাখছি।”
“আচ্ছা স্যার।”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৮: অপারেশন হেলথ সেন্টার

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৩: জরাসন্ধের ঔদ্ধত্য ও কৃষ্ণের ভূমিকা যুধিষ্ঠিরকৃত রাজসূয় যজ্ঞের প্রাসঙ্গিক সূচনা

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৯ : চারুলতা: নাচে মুক্তি? নাচে বন্ধ?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৪: ছোট নখরযুক্ত ভোঁদড়
উল্লাসের মেসেজ ঢুকতে না ঢুকতেই জুনিয়ার ডাক্তারটি এসে শাক্যকে ডাকল।
ডিএম পাশেই বসেছিলেন। ভদ্রলোককে যত দেখছে অবাক হচ্ছে সে। তিনি দিব্যি বাংলোয় ফিরে যেতে পারতেন। যেখানে এসডিপিও স্বয়ং উপস্থিত। কিন্তু তা করেননি। জুনিয়ার ডাক্তারের কথা শুনে ডিএম বললেন, “বিপি চেক করেছেন নিশ্চয়ই?”
“হ্যাঁ স্যার। নর্মাল!”
“না, মানে আমি আসলে এই কারণে জানতে চাইছি, এখন আমরা গিয়ে যদি জিজ্ঞাসাবাদ করি, তাহলে উনি উত্তেজিত হয়ে পড়লে সেটা শোভন হবে না। যার জন্য…”
“না স্যার। সিনিয়র ডক্টর আছেন ওঁর কাছে। উনিই আপনাদের খবর দিতে বললেন!”
“হ্যাঁ এখন আছেন। তবে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় আমরা ছাড়া আর কেউ থাকবেন না! সেই কারনেই উনি বললেন,” এসডিপিও বললেন।
“না স্যার। মনে হয় না, কোনও সমস্যা হবে বলে!”
“বেশ। মিঃ সিংহ, আসুন তবে, আমরা যাই। ডক্টরকে দেখে আসি। আর তিনি যদি পারেন তাহলে তাঁর কথাও শুনে আসি!”
“স্যার কথাগুলি লিকঝে নিয়ে ওঁকে দিয়ে সই করিয়ে নেবো। ওটাকেই এফআইআর হিসেবে গণ্য করা হবে!”
“অ্যাজ ইউ উইশ!”
ডিএম পাশেই বসেছিলেন। ভদ্রলোককে যত দেখছে অবাক হচ্ছে সে। তিনি দিব্যি বাংলোয় ফিরে যেতে পারতেন। যেখানে এসডিপিও স্বয়ং উপস্থিত। কিন্তু তা করেননি। জুনিয়ার ডাক্তারের কথা শুনে ডিএম বললেন, “বিপি চেক করেছেন নিশ্চয়ই?”
“হ্যাঁ স্যার। নর্মাল!”
“না, মানে আমি আসলে এই কারণে জানতে চাইছি, এখন আমরা গিয়ে যদি জিজ্ঞাসাবাদ করি, তাহলে উনি উত্তেজিত হয়ে পড়লে সেটা শোভন হবে না। যার জন্য…”
“না স্যার। সিনিয়র ডক্টর আছেন ওঁর কাছে। উনিই আপনাদের খবর দিতে বললেন!”
“হ্যাঁ এখন আছেন। তবে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় আমরা ছাড়া আর কেউ থাকবেন না! সেই কারনেই উনি বললেন,” এসডিপিও বললেন।
“না স্যার। মনে হয় না, কোনও সমস্যা হবে বলে!”
“বেশ। মিঃ সিংহ, আসুন তবে, আমরা যাই। ডক্টরকে দেখে আসি। আর তিনি যদি পারেন তাহলে তাঁর কথাও শুনে আসি!”
“স্যার কথাগুলি লিকঝে নিয়ে ওঁকে দিয়ে সই করিয়ে নেবো। ওটাকেই এফআইআর হিসেবে গণ্য করা হবে!”
“অ্যাজ ইউ উইশ!”
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৮: অসম-মিজোরাম সীমান্তে ঘাড়মুড়ার নব আবিষ্কৃত ভাস্কর্যও সুপ্রাচীন

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৬: পরবাস প্রস্তুতি (দুই)
সকলে উঠে পড়লেন।
সত্যব্রত কেবিনে তাঁর বেডে শুয়ে আছেন। চোখ বন্ধ যদিও। সিনিয়ার একজন ডাক্তার তাঁর পাশেই বসেছিলেন। একজন নার্স কাছেই দাঁড়িয়ে। স্যালাইন চলছে।
শাক্যরা কেবিনে ঢুকতেই সিনিয়ার ডাক্তারটি উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, “আসুন। আপনারা কথা বলতে পারেন এখন!”
শাক্য বলল, “কিন্তু উনি তো ঘুমাচ্ছেন!”
“না না, ঘুম হয়ে গিয়েছে। কড়া সিডেটিভের জন্য একটানা চোখ খুলে রাখতে অসুবিধা হচ্ছে আর কি! আপনারা কথা বলতে পারেন। রাদার দ্যান, উনি কিন্তু নিজেই সামওয়ান শাক্য সিংহ বা ওইরকম কেউ হবে, তাঁর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন।”
এ কথা শুনে ডিএম এবং এসডিপিও দু’জনেই শাক্যর দিকে তাকালেন।
শাক্য বলল, “ধন্যবাদ। আমিই শাক্য সিংহ। তবে একটা কথা, আমরা যখন কথা বলব, তখন আমাদের তিনজন ছাড়া আর কেউ কেবিনে থাকবে না। আপনারাও না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন…”
“হ্যাঁ, হ্যাঁ, উনি আউট অফ ডেঞ্জার। আশা করছি, কোনও সমস্যা হবে না। তবে একটানা অনেকক্ষণ কথা না বলালেই ভালো। তাছাড়া আর কোন সমস্যা নেই। এই যে আপনাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, সবই উনি কিন্তু শুনতে পাচ্ছেন। কী পাচ্ছেন তো ডক্টর?” সত্যব্রতকে জিজ্ঞাসা করলেন সিনিয়ার ডাক্তার।
সত্যব্রত কেবিনে তাঁর বেডে শুয়ে আছেন। চোখ বন্ধ যদিও। সিনিয়ার একজন ডাক্তার তাঁর পাশেই বসেছিলেন। একজন নার্স কাছেই দাঁড়িয়ে। স্যালাইন চলছে।
শাক্যরা কেবিনে ঢুকতেই সিনিয়ার ডাক্তারটি উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, “আসুন। আপনারা কথা বলতে পারেন এখন!”
শাক্য বলল, “কিন্তু উনি তো ঘুমাচ্ছেন!”
“না না, ঘুম হয়ে গিয়েছে। কড়া সিডেটিভের জন্য একটানা চোখ খুলে রাখতে অসুবিধা হচ্ছে আর কি! আপনারা কথা বলতে পারেন। রাদার দ্যান, উনি কিন্তু নিজেই সামওয়ান শাক্য সিংহ বা ওইরকম কেউ হবে, তাঁর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন।”
এ কথা শুনে ডিএম এবং এসডিপিও দু’জনেই শাক্যর দিকে তাকালেন।
শাক্য বলল, “ধন্যবাদ। আমিই শাক্য সিংহ। তবে একটা কথা, আমরা যখন কথা বলব, তখন আমাদের তিনজন ছাড়া আর কেউ কেবিনে থাকবে না। আপনারাও না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন…”
“হ্যাঁ, হ্যাঁ, উনি আউট অফ ডেঞ্জার। আশা করছি, কোনও সমস্যা হবে না। তবে একটানা অনেকক্ষণ কথা না বলালেই ভালো। তাছাড়া আর কোন সমস্যা নেই। এই যে আপনাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, সবই উনি কিন্তু শুনতে পাচ্ছেন। কী পাচ্ছেন তো ডক্টর?” সত্যব্রতকে জিজ্ঞাসা করলেন সিনিয়ার ডাক্তার।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৬৩: বরাকের ভট্ট সঙ্গীত এবং বারমোসী গান

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৬: কুণ্টণি জাতক : ক্ষতির খতিয়ান
সত্যব্রত কিঞ্চিৎ দুর্বল কিন্তু স্থিতধী গলায় জবাব দিলেন, “হ্যাঁ, ডক্টর। অজস্র ধন্যবাদ আপনাকে। আমি ঠিক আছি। তবে সিডেটিভের জন্য চোখ খুলে কথা বলতে খানিকটা সমস্যা হচ্ছে। সেই জন্যই চোখ বন্ধ রেখেছি। আশা করি কাল সকালে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি ঠিক আছি, আপনারা নির্ভয়ে যান। আর মিঃ সিংহ, আপনি নির্ভয়ে যা জিজ্ঞাসা করার আছে করুন!”
সিনিয়ার ডাক্তার বললেন, “আমরা কেবিনের বাইরেই অপেক্ষা করব। কিছু দরকার পড়লে ডাকবেন!”
সিনিয়ার ও জুনিয়ার ডাক্তার, নার্স-সহ বেরিয়ে গেলে ডিএম, এসডিপিও পাশে রাখা দুটি চেয়ারে বসলেন। সত্যব্রতর কাছ ঘেঁষে রাখা চেয়ারে বসল শাক্য। তারপর বলল, “ডক্টর। এবার বলুন কী হয়েছে?”
“আপনি কি কিছু জানেন?”
“এইটুকুই জানি, আপনার হেলথ সেন্টার থেকে থানায় কমপ্লেইন করা হয়েছে যে, আপনি পরশুর আগের রাত থেকে নিখোঁজ। তারপরেও কাল আপনার হেলথ সেন্টারে আননোন ট্রেসপাসারেরা গতকাল হামলা চালিয়েছে। কিন্তু যা-যা ঘটেছে তা আপনি আগে বলুন। আমরা শুনতে চাই। আপনার এই অবস্থায় আপনি যতটা সম্ভব সংক্ষেপে বলুন!”
এসডিপিও বললেন, “জাস্ট আ মিনিট, ডক্টর, আপনাকে বলে রাখা হচ্ছে, আপনার এই বক্তব্য আমরা এফআইআর হিসেবে ট্রিট করবো। আমি রেকর্ড করে নিচ্ছি। পরে রিটন ডকুমেন্টস আপনাকে দিয়ে সাইন করিয়ে নেবো!”
একটু থেমে সত্যব্রত বললেন, “বেশ…।”
শাক্য বলল, “বলুন। যা-যা ঘটেছে তা ব্রিফিং করলেই হবে এখন।…”
সত্যব্রত অবশ্য সংক্ষেপে বললেন না। আস্তে-আস্তে সব কথাই বললেন। তবে নুনিয়ার কথাটা ছাড়া। তিনি শুরু করেছিলেন পেশেন্ট পার্টি সেজে সাইকেল মাহাতোর লোকজনদের আসা থেকে।
অনেকক্ষণ লাগলেও সকলে ধৈর্য ধরে শুনলেন।
সত্যব্রত থামলে শাক্য বলল, “একটা কথা আমি বুঝতে পারছি না ডক্টর যে, হঠাৎ এতদিন পরে আপনাকে কেন অ্যাটাক্ করল তারা?”
সিনিয়ার ডাক্তার বললেন, “আমরা কেবিনের বাইরেই অপেক্ষা করব। কিছু দরকার পড়লে ডাকবেন!”
সিনিয়ার ও জুনিয়ার ডাক্তার, নার্স-সহ বেরিয়ে গেলে ডিএম, এসডিপিও পাশে রাখা দুটি চেয়ারে বসলেন। সত্যব্রতর কাছ ঘেঁষে রাখা চেয়ারে বসল শাক্য। তারপর বলল, “ডক্টর। এবার বলুন কী হয়েছে?”
“আপনি কি কিছু জানেন?”
“এইটুকুই জানি, আপনার হেলথ সেন্টার থেকে থানায় কমপ্লেইন করা হয়েছে যে, আপনি পরশুর আগের রাত থেকে নিখোঁজ। তারপরেও কাল আপনার হেলথ সেন্টারে আননোন ট্রেসপাসারেরা গতকাল হামলা চালিয়েছে। কিন্তু যা-যা ঘটেছে তা আপনি আগে বলুন। আমরা শুনতে চাই। আপনার এই অবস্থায় আপনি যতটা সম্ভব সংক্ষেপে বলুন!”
এসডিপিও বললেন, “জাস্ট আ মিনিট, ডক্টর, আপনাকে বলে রাখা হচ্ছে, আপনার এই বক্তব্য আমরা এফআইআর হিসেবে ট্রিট করবো। আমি রেকর্ড করে নিচ্ছি। পরে রিটন ডকুমেন্টস আপনাকে দিয়ে সাইন করিয়ে নেবো!”
একটু থেমে সত্যব্রত বললেন, “বেশ…।”
শাক্য বলল, “বলুন। যা-যা ঘটেছে তা ব্রিফিং করলেই হবে এখন।…”
সত্যব্রত অবশ্য সংক্ষেপে বললেন না। আস্তে-আস্তে সব কথাই বললেন। তবে নুনিয়ার কথাটা ছাড়া। তিনি শুরু করেছিলেন পেশেন্ট পার্টি সেজে সাইকেল মাহাতোর লোকজনদের আসা থেকে।
অনেকক্ষণ লাগলেও সকলে ধৈর্য ধরে শুনলেন।
সত্যব্রত থামলে শাক্য বলল, “একটা কথা আমি বুঝতে পারছি না ডক্টর যে, হঠাৎ এতদিন পরে আপনাকে কেন অ্যাটাক্ করল তারা?”
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৯ : উত্তরমেঘ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত
সত্যব্রত সে প্রশ্নের জবাব দিলেন না। উল্টে প্রশ্ন করলেন, “তার আগে আমার প্রশ্নের জবাব দিন। বেদের দলের যে ছেলেটির কথা আপনাকে বলেছিলাম, তার সন্ধান করেছেন?”
“কী ব্যাপার?” ডিএম বুঝতে না পেরে প্রশ্ন করলেন।
“আমি আপনাকে পরে বলব স্যার!” শাক্য তাঁকে বলল। তারপর সত্যব্রতর দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি হেডকোয়াটার্সে জানিয়ে দিয়েছি। তাঁরা বিষয়টি দেখছেন। আশা করি রিপোর্ট পজিটিভ হবে। আপনি সেরে উঠুন ডক্টর। আপনাকে আমাদের দরকার।”
“হ্যঁ। আচ্ছা, আমাদের হেলসেন্টারে অ্যাটাক্ হয়েছিল, সেটা কী ব্যাপার?”
“কিছুজন আপনাকে কিডন্যাপ করার পরের পরদিন আবার এসেছিল। তাদের গণ্ডগোল করাই মতলব ছিল। পরে বেগতিক দেখে তারা সরে পড়ে আর কী!”
সত্যব্রত হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। বললেন, “মিঃ সিংহ, আপনি ভুল করছেন, ওরা এমনি-এমনি হেলথ্সেন্টারে আসেনি। আমি জানি ওরা কেন এসেছিল! মানে আমি অনুমান করছি। আর আমার অনুমান একশো শতাংশ ঠিক, সে-ব্যাপারে আমি নিঃসন্দেহ!”
“মানে? কেন এসেছিল?”
সত্যব্রত চোখ বন্ধ করলেন। তাঁর মুখে অপরাধবোধের ছায়া। তিনি আস্তে-আস্তে বললেন, “স্যরি মিঃ সিংহ, আমি সব কথা আপনাদের বলিনি। মানে বিশ্বাস করে বলতে পারিনি…! আমায় মাফ করবেন!”
এসডিপিও অবাক গলায় খানিকটা আহত ভঙ্গীতে বললেন, “মানে? আপনি তাহলে এতক্ষণ যা বলছিলেন, তা সত্য নয় ?”
“না না সত্য, কিন্তু যা বলেছি, তা সম্পূর্ণ ঘটনা হয়। আমার কাছে সেই ছদ্মবেশী ফেক পেশেন্টপার্টি আসার আগেও একটা ঘটনা আছে!”
“কী ঘটনা?” শাক্য জিজ্ঞাসা করল, “আর তা আপনি আমাদের বলেননি কেন?”
“শুনলেই বুঝতে পারবেন,” সত্যব্রত বললেন। তারপর আস্তে আস্তে নুনিয়ার আসা থেকে শুরু করে বাকিটুকুও বললেন। তারপর হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বললেন, “এখন বুঝতে পারছেন তো মিঃ সিংহ, তারা কেন এসেছিল? এসেছিল নুনিয়াকে খুঁজতে। ওরা যেভাবেই হোক অনুমান করতে পেরে গেছে, নুনিয়া ওখানেই কোথাও আছে। আর যদি জানে, সে সত্যিই ওখানে লুকিয়ে আছে তাহলে…! আপনি তাকে বাঁচান মিঃ সিংহ। বড় দুর্ভাগা মেয়েটি। সেই বাল্যকাল থেকে কতভাবে অত্যাচারিত যে হয়েছে, তার শেষ নেই। আমি জানি না, ওরা হয়ত এতক্ষণে তাকে ধরতে পেরে গেছে। আপনি আমাকে ছেড়ে তাকে রক্ষা করুন। আমি তো এখানে সেফ আছি। আপনি নিশ্চিন্তে যান!”
“আপনি সেফ নেই। যা বলছি মন দিয়ে শুনুন…!” শাক্য বলল, “কথাগুলি আমাদের চারজন এবং সিএমওএইচ জানেন। আর জানেন এই কেবিনের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র ডক্টর, নার্স এবং এই মেডিকেল কলেজের সুপার। বেশ বলছি শুনুন, আপনাকে কী করতে হবে…!”—চলবে।
“কী ব্যাপার?” ডিএম বুঝতে না পেরে প্রশ্ন করলেন।
“আমি আপনাকে পরে বলব স্যার!” শাক্য তাঁকে বলল। তারপর সত্যব্রতর দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি হেডকোয়াটার্সে জানিয়ে দিয়েছি। তাঁরা বিষয়টি দেখছেন। আশা করি রিপোর্ট পজিটিভ হবে। আপনি সেরে উঠুন ডক্টর। আপনাকে আমাদের দরকার।”
“হ্যঁ। আচ্ছা, আমাদের হেলসেন্টারে অ্যাটাক্ হয়েছিল, সেটা কী ব্যাপার?”
“কিছুজন আপনাকে কিডন্যাপ করার পরের পরদিন আবার এসেছিল। তাদের গণ্ডগোল করাই মতলব ছিল। পরে বেগতিক দেখে তারা সরে পড়ে আর কী!”
সত্যব্রত হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। বললেন, “মিঃ সিংহ, আপনি ভুল করছেন, ওরা এমনি-এমনি হেলথ্সেন্টারে আসেনি। আমি জানি ওরা কেন এসেছিল! মানে আমি অনুমান করছি। আর আমার অনুমান একশো শতাংশ ঠিক, সে-ব্যাপারে আমি নিঃসন্দেহ!”
“মানে? কেন এসেছিল?”
সত্যব্রত চোখ বন্ধ করলেন। তাঁর মুখে অপরাধবোধের ছায়া। তিনি আস্তে-আস্তে বললেন, “স্যরি মিঃ সিংহ, আমি সব কথা আপনাদের বলিনি। মানে বিশ্বাস করে বলতে পারিনি…! আমায় মাফ করবেন!”
এসডিপিও অবাক গলায় খানিকটা আহত ভঙ্গীতে বললেন, “মানে? আপনি তাহলে এতক্ষণ যা বলছিলেন, তা সত্য নয় ?”
“না না সত্য, কিন্তু যা বলেছি, তা সম্পূর্ণ ঘটনা হয়। আমার কাছে সেই ছদ্মবেশী ফেক পেশেন্টপার্টি আসার আগেও একটা ঘটনা আছে!”
“কী ঘটনা?” শাক্য জিজ্ঞাসা করল, “আর তা আপনি আমাদের বলেননি কেন?”
“শুনলেই বুঝতে পারবেন,” সত্যব্রত বললেন। তারপর আস্তে আস্তে নুনিয়ার আসা থেকে শুরু করে বাকিটুকুও বললেন। তারপর হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বললেন, “এখন বুঝতে পারছেন তো মিঃ সিংহ, তারা কেন এসেছিল? এসেছিল নুনিয়াকে খুঁজতে। ওরা যেভাবেই হোক অনুমান করতে পেরে গেছে, নুনিয়া ওখানেই কোথাও আছে। আর যদি জানে, সে সত্যিই ওখানে লুকিয়ে আছে তাহলে…! আপনি তাকে বাঁচান মিঃ সিংহ। বড় দুর্ভাগা মেয়েটি। সেই বাল্যকাল থেকে কতভাবে অত্যাচারিত যে হয়েছে, তার শেষ নেই। আমি জানি না, ওরা হয়ত এতক্ষণে তাকে ধরতে পেরে গেছে। আপনি আমাকে ছেড়ে তাকে রক্ষা করুন। আমি তো এখানে সেফ আছি। আপনি নিশ্চিন্তে যান!”
“আপনি সেফ নেই। যা বলছি মন দিয়ে শুনুন…!” শাক্য বলল, “কথাগুলি আমাদের চারজন এবং সিএমওএইচ জানেন। আর জানেন এই কেবিনের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র ডক্টর, নার্স এবং এই মেডিকেল কলেজের সুপার। বেশ বলছি শুনুন, আপনাকে কী করতে হবে…!”—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

















