
ছোট নখরযুক্ত ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকার। ছবি : সংগৃহীত।
ছোটবেলায় ‘আয়রে আয় টিয়ে নায়ে ভরা দিয়ে…’ ছড়াটা পড়েনি এমন বাঙালি বোধহয় খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সেই ছড়া পড়ে ছোটবেলায় ভোঁদড়ের নাচ দেখতে খুব ইচ্ছে হত। মা যখন বলত, ‘ওরে ভোঁদড় ফিরে যা খোকার নাচন দেখে যা’ তখন মনে হয় এদিক ওদিক তাকিয়ে ভোঁদড় আছে কিনা খুঁজে দেখতাম। কারণ ছোট ভাই বোনকেও যখন এই ছড়া শুনিয়েছি তখন তারা এদিক-ওদিক তাকিয়ে ভোঁদড় খুঁজত। ভোঁদড়ের নাচ অবশ্য কোনওদিন দেখতে পাইনি, তবে গোধূলি কিংবা ভোরের আলো-আঁধারে দু’চারটে ভোঁদড় মাঝে মাঝেই দেখতে পেতাম। পুকুরপাড়ে দেখেছি, খালের পাড়েও দেখেছি। রাতের নৈঃশব্দ চিরে প্রায় প্রতি রাতে পুকুরে ঝপাৎ করে ভোঁদড়ের ঝাঁপ দেওয়ার শব্দ শুনেছি। আমাদের পুকুরে তখন কিছু আদরের পোষা পোনা মাছ থাকত, যেগুলোকে ধরে খাওয়া হত না। মাঝে মাঝে সেগুলো গায়েব হয়ে যাওয়ার কারণ ছিল ওই ভোঁদড়রাই। সেদিন আর নেই। এখন ভোঁদড়ের শিকার হয় না গেরস্থের পুকুরের মাছ, কারণ সুন্দরবন অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকা থেকে ভোঁদড়রা প্রায় বিলুপ্ত।
পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ভোঁদড়ের দেখা মেলে, শুধু অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড আর দক্ষিণ মেরু বাদে। এশিয়াতে ভোঁদড়দের চারটি প্রজাতি পাওয়া যায়। এদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে তিনটি। এগুলি হল, Lutogate perspicillata (Aonyx cinereus), Smooth coated otter (Lutrogale perspicillata) এবং Common otter (Lutra lutra)। এই তিনটি জাতের ভোঁদড়ের মধ্যে সুন্দরবনের গ্রামীণ ও জঙ্গল এলাকায় ‘Asian small clawed otter’ সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে। দ্বিতীয় প্রকার ভোঁদড়ও (Smooth coated otter) সুন্দরবন অঞ্চলে পাওয়া যায় বলে শুনেছি যদিও আমি দেখিনি। এরা নাকি গভীর অরণ্য সংলগ্ন নদী ও খাঁড়ির তীরবর্তী অংশে থাকে। লোকালয়ে এদের দেখা যায় না। তাছাড়া এরা বর্তমানে খুব বিপন্ন। আর তৃতীয় প্রকারের ভোঁদড় (Common otter) সম্ভবত ভারতীয় সুন্দরবন অংশে পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ অংশে কিছু পাওয়া যায় বলে শুনেছি, যদিও তা সংখ্যায় খুবই কম। তাই আমার ভোঁদড় সংক্রান্ত আলোচনা প্রথম প্রকার ভোঁদড়দের নিয়েই সীমাবদ্ধ রাখবো।
বাংলায় আমরা ভোঁদড়কে উদবিড়াল বলি বা ছোট করে বলি উদ। হিন্দিতে এদের বলে পানি কুত্তা। মুস্টেলিডি (Mustelidae) গোত্রের এই প্রাণীগুলি স্তন্যপায়ী শ্রেণির হলেও উভচর চরিত্রের। মূলত ডাঙ্গার প্রাণী হলেও বেশিরভাগ সময় জলেই কাটায়। জলাশয়ের পাড়ে এরা গর্তের মধ্যে বসবাস করে। তবে গর্তের একটা মুখ জলের মধ্যে থাকে, যাতে বিপদ এলে জলের মধ্যে পালাতে পারে। আবার কখনও কখনও এরা অন্য প্রাণীর তৈরি গর্তেও বাসা বাঁধে। পর্যাপ্ত মাছ কাঁকড়া রয়েছে এমন নদী খাল হ্রদ বড় বড় পুকুর ইত্যাদির নরম কাদাযুক্ত পাড়কেই থাকার জায়গা হিসেবে পছন্দ করে।
বাংলায় আমরা ভোঁদড়কে উদবিড়াল বলি বা ছোট করে বলি উদ। হিন্দিতে এদের বলে পানি কুত্তা। মুস্টেলিডি (Mustelidae) গোত্রের এই প্রাণীগুলি স্তন্যপায়ী শ্রেণির হলেও উভচর চরিত্রের। মূলত ডাঙ্গার প্রাণী হলেও বেশিরভাগ সময় জলেই কাটায়। জলাশয়ের পাড়ে এরা গর্তের মধ্যে বসবাস করে। তবে গর্তের একটা মুখ জলের মধ্যে থাকে, যাতে বিপদ এলে জলের মধ্যে পালাতে পারে। আবার কখনও কখনও এরা অন্য প্রাণীর তৈরি গর্তেও বাসা বাঁধে। পর্যাপ্ত মাছ কাঁকড়া রয়েছে এমন নদী খাল হ্রদ বড় বড় পুকুর ইত্যাদির নরম কাদাযুক্ত পাড়কেই থাকার জায়গা হিসেবে পছন্দ করে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৩: খাটাস

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৩: জরাসন্ধের ঔদ্ধত্য ও কৃষ্ণের ভূমিকা যুধিষ্ঠিরকৃত রাজসূয় যজ্ঞের প্রাসঙ্গিক সূচনা

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৮ : অপরাজিত: অপুর প্রত্যাবর্তন

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৯: সত্যব্রতের মুখোমুখি
ছোট থাবাওয়ালা ভোঁদড় লেজ বাদে লম্বায় হয় প্রায় দেড় থেকে দু’ ফুট। আর লেজ হয় প্রায় এক ফুট। অর্থাৎ দেহের দৈর্ঘ্যের প্রায় অর্ধেক হল লেজের দৈর্ঘ্য। আর এদের ওজন হয় ২.৭-৫.৪ কেজি। লম্বাটে ও গোলাকার দেহটা চকচকে, যেন তেল মাখানো। পুরো চামড়ার উপর নরম ছোট ঘন কালচে বা লালচে কালো লোম ভর্তি। সাধারণত ঋতুভেদে লোমের এক এক রকম রঙ হয়। গ্রীষ্মকালে কালচে, শীতকালে লালচে কালো। অবশ্য এদের মুখমণ্ডল, চিবুক ও গলার লোমের রং দেহের রঙের তুলনায় অনেকটা হালকা হয়। লোম এতটাই মসৃণ হয় যে জল থেকে উঠে এলেও গা ভেজে না। এদের পাগুলো বেশ ছোট। তেমনি আঙুলগুলোও খুব ছোট। প্রতি পায়ে থাকে পাঁচটি করে আঙুল। আঙুলে ছোট এবং অপেক্ষাকৃত ভোঁতা নখর থাকে। এজন্যই ইংরেজিতে ‘Small clawed otter’ বলা হয়। তবে আঙুলগুলোর গঠন এমনই যাতে শিকারকে আঁকড়ে ধরতে খুব সুবিধা হয়। পায়ের আঙুলগুলো হাঁসের পায়ের মতো পাতলা চামড়া দিয়ে জোড়া থাকে ফলে জলে সাঁতার কাটতে সুবিধা হয়। এদের পেছনের পায়ের চেয়ে সামনের পা সামান্য ছোট কিন্তু শক্তিশালী। এদের দেহ এতটাই নমনীয় হয় যে দেখে মনে হতে পারে হাড়গোড় নেই। দেহের এমন গঠনের জন্য ভোঁদড়রা জলের মধ্যে দ্রুত দিক পরিবর্তন করতে করতে সাঁতার কাটতে পারে। আর ডুব সাঁতার কিংবা চিৎ সাঁতার – এরা দুয়েতেই ওস্তাদ।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৮: অসম-মিজোরাম সীমান্তে ঘাড়মুড়ার নব আবিষ্কৃত ভাস্কর্যও সুপ্রাচীন

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৬: পরবাস প্রস্তুতি (দুই)
ভোঁদড়ের মুখটা সামনের দিকে সামান্য সূচালো। উপরের চোয়ালের দুপাশে অর্থাৎ নাসারন্ধ্রের দুদিকে একটু নিচে শক্ত খোঁচা খোঁচা কিছু লোম থাকে। জলে ভিজলেও লোমগুলো নেতিয়ে পড়ে না। লোম গুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে জলের গভীরে যখন ভোঁদড় দের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় তখন ওই লোমগুলোর স্পর্শেই বুঝতে পারে কোথায় কোন গর্তে বা পাথরের আড়ালে মাছ, কাঁকড়া ইত্যাদি লুকিয়ে আছে। তারপর নখ বা দাঁতের সাহায্যে তুলে আনে তার শিকার। ভোঁদড়ের দাঁতগুলোর প্রান্ত খুব ধারালো ও তীক্ষ্ণ খাঁজযুক্ত। ফলে শিকার দাঁত ফসকে পিছলে বেরিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
ভোঁদড়ের লেজটা যেমন বেশ লম্বা তেমনি পেশিবহুল ও শক্তিশালী। লেজের আগার দিকটা ক্রমশ সরু হয়ে গিয়েছে। জোরে সাঁতার কাটার সময় এরা লেজকে ব্যবহার করে। তাছাড়া দু’পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবার সময় লেজের সাহায্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। এদের মাথার দু’পাশে রয়েছে ডিম্বাকার ছোট্ট দুটো কান আর একজোড়া নাসারন্ধ্র রয়েছে তুন্ডের সামনের দিকে। যখন এরা জলে ডুব দেয় তখন কান ও নাকের ছিদ্রকে এক প্রকার পাতলা চামড়ার পর্দা দিয়ে বন্ধ করে দেয় যাতে জল ঢুকে না যায়। সে ব্যবস্থা ওদের জন্মগত। আলোর প্রতিসরণের জন্য আমরা জলের মধ্যে থাকা কোন বস্তুকে তার সঠিক স্থানে দেখতে পাই না। কিন্তু ভোঁদড়দের ক্ষেত্রে এমনটা খাটে না। মাছরাঙার মতো এরাও জলের মধ্যে থাকা শিকারের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে পারে।
ভোঁদড়ের লেজটা যেমন বেশ লম্বা তেমনি পেশিবহুল ও শক্তিশালী। লেজের আগার দিকটা ক্রমশ সরু হয়ে গিয়েছে। জোরে সাঁতার কাটার সময় এরা লেজকে ব্যবহার করে। তাছাড়া দু’পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবার সময় লেজের সাহায্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। এদের মাথার দু’পাশে রয়েছে ডিম্বাকার ছোট্ট দুটো কান আর একজোড়া নাসারন্ধ্র রয়েছে তুন্ডের সামনের দিকে। যখন এরা জলে ডুব দেয় তখন কান ও নাকের ছিদ্রকে এক প্রকার পাতলা চামড়ার পর্দা দিয়ে বন্ধ করে দেয় যাতে জল ঢুকে না যায়। সে ব্যবস্থা ওদের জন্মগত। আলোর প্রতিসরণের জন্য আমরা জলের মধ্যে থাকা কোন বস্তুকে তার সঠিক স্থানে দেখতে পাই না। কিন্তু ভোঁদড়দের ক্ষেত্রে এমনটা খাটে না। মাছরাঙার মতো এরাও জলের মধ্যে থাকা শিকারের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে পারে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৬৩: বরাকের ভট্ট সঙ্গীত এবং বারমোসী গান

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৬: কুণ্টণি জাতক : ক্ষতির খতিয়ান
ভোঁদড়রা প্রধানত নিশাচর প্রাণী। তবে সূর্য ডোবার সময় থেকে শিকার শুরু করে দেয়। আবার ভোরবেলাতেও শিকার করে। মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি হল প্রিয় খাদ্য। কাঁকড়া ধরলে মাটিতে বা শক্ত কিছুতে আছাড় মেরে খোলস ছাড়িয়ে খায়। সুন্দরবন অঞ্চলে ভোঁদড়দের সাধারণত দল বেঁধে শিকার করতে দেখা যায়। বাচ্চাদের নিয়ে মায়ের শিকার প্রশিক্ষণও চলে। শিকার করার সময় ওরা বৃত্তাকারে মাছের ঝাঁককে ঘিরে ধরে। তারপর বৃত্তটা ক্রমশ ছোট করে নিতে থাকে। এভাবে মাছের ঝাঁক আটক করে শুরু করে মাছ শিকার। একা শিকার করার সময় এঁকেবেঁকে পিছু ধাওয়া করে এরা মাছ ধরে। কখনও কৌশলের আশ্রয়ও নেয়। যেমন মাছ শিকারির আগে এরা জলের ভেতর ঘুরপাক খেতে খেতে জলাশয় তোলপাড় করে তোলে। ফলে মাছ জলের তলায় নিরাপদ আশ্রয়ে ঠাঁই নেয়। তখন ভোঁদড়ের মাছ শিকার করা সহজ হয়। ভোঁদড়ের স্বভাবই হল এরা যত না খায় তার চেয়ে বেশি শিকার করে। ফলে মাছের একটু আধটু খেয়ে বাকিটা ফেলে দেয়। আবার টাটকা মাছ ছাড়া ওদের মুখে রোচে না। এজন্যই গেরস্থের কুনজরে পড়ে ভোঁদড়রা। মাছ কাকড়া চিংড়ি না পেলে শামুক, ছোট পাখি বা প্রাণী শিকারেও ওদের আপত্তি নেই। মাছ শিকারে এরা এতটাই পটু যে সুন্দরবনের মালো গোষ্ঠীর মৎস্যজীবী মানুষরা প্রাচীনকাল থেকে ভোঁদড়কে পোষ মানিয়ে মাছ ধরার কাজে লাগিয়ে এসেছে। এখনও গোসাবা, বাসন্তী, সন্দেশখালি ইত্যাদি অঞ্চলের মালো গোষ্ঠীর মৎস্যজীবী লোকজন অনেকেই পোষ মানানো ভোঁদড় ব্যবহার করে মাছ ধরে। নৌকো করে এই মৎস্যজীবীরা যখন নদীতে যান তখন সঙ্গে নিয়ে যান কয়েকটি পোষ মানা ভোঁদড়। তাদের গলায় বা বুকে দড়ির এক প্রান্ত বাঁধা থাকে আর এক প্রান্ত থাকে নৌকোয় মৎস্যজীবীর হাতে। ভোঁদড় জলে লাফ দিয়ে পড়ে মাছ ধরে ধরে এনে জলে ডোবানো জালের মধ্যে রেখে দেয়। আবার কখনও দেখা যায় মাছ ধরে বুকের ওপরে রেখে চিৎ সাঁতার দিতে দিতে পাড়ের দিকে বা নৌকার দিকে ফিরে আসে। ভোঁদড় জলের মধ্যে শিকার করার সময় একটানা ৬-৮ মিনিট ডুবে থাকতে পারে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৯ : উত্তরমেঘ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত
দিনের বেলা এরা গর্ত থেকে খুব একটা বেরোয় না। গর্তের মধ্যে ঘুমোয় কিংবা জলাশয়ের ধারে ঘন ঝোপের ভেতর শুয়ে ঝিমোয়। অবশ্য বাচ্চা ভোঁদড়দের মাঝে মাঝে জলাশয়ের ধারে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। বিপদ বুঝলে অন্যদের সতর্ক করার জন্য এরা যে তীক্ষ্ণ শব্দ করে তা অনেকটা আমাদের শিস দেওয়ার মতো শব্দ। পুরুষ ভোঁদড় স্ত্রী ভোঁদড়ের তুলনায় সামান্য বড় চেহারার হয়। আবার স্ত্রী ও পুরুষ ভোঁদড়ের জোড় সাধারণত স্থায়ী হয়। ওদের যৌনমিলন সাধারণত জলের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। বাচ্চার জন্মের আগে ভোঁদড় দম্পতি ঘাস খড় ইত্যাদি দিয়ে গর্তের মধ্যে বাচ্চা লালনের উপযোগী বাসা তৈরি করে নেয়। স্ত্রী ভোঁদড় গর্ভসঞ্চারের প্রায় দু’মাস পর একসঙ্গে দুটি বা তিনটি বাচ্চার জন্ম দেয়। স্ত্রী ভোঁদড় সারা বছর ধরেই প্রজনন করতে পারে । সাধারণত ৮-৯ মাসের ব্যবধানে এরা সন্তানের জন্ম দিতে থাকে।
বাচ্চাদের প্রথমে চোখ ফোটে না এবং দাঁত থাকে না। চোখ ফুটতে প্রায় ৩৫ দিন লাগে। জন্মের দু’মাস পর বাচ্চাদেরকে মা সাঁতার ও শিকার ধরা শেখাতে শুরু করে। মা ভোঁদড় কখনও কখনও বাচ্চাকে মুখে করে জল পর্যন্ত নিয়ে আসে। কখনও দেখা যায় মা ভোঁদড় বাচ্চাকে বুকের উপর রেখে সামনের দু’পা দিয়ে আঁকড়ে ধরে চিৎসাঁতার কাটছে। কখনওবা বাচ্চা চাপে মায়ের পিঠে। বাচ্চাকে শূন্যে ছুঁড়ে লোফালুফি খেলতেও দেখা যায়। যতদিন বাচ্চারা স্বাবলম্বী না হয় ততদিন মা তাদের লালন-পালন করে। শুধু বাচ্চার সাথে নয় পরিণত ভোঁদড়রা নিজেরা নিজেদের মধ্যেও খুব মজা করে। কেউ জলে ঝাঁপ দেয়, কেউবা অন্যের গায়ের ওপর গিয়ে পড়ে, কেউবা মিছিমিছি তাড়া করে।
বাচ্চাদের প্রথমে চোখ ফোটে না এবং দাঁত থাকে না। চোখ ফুটতে প্রায় ৩৫ দিন লাগে। জন্মের দু’মাস পর বাচ্চাদেরকে মা সাঁতার ও শিকার ধরা শেখাতে শুরু করে। মা ভোঁদড় কখনও কখনও বাচ্চাকে মুখে করে জল পর্যন্ত নিয়ে আসে। কখনও দেখা যায় মা ভোঁদড় বাচ্চাকে বুকের উপর রেখে সামনের দু’পা দিয়ে আঁকড়ে ধরে চিৎসাঁতার কাটছে। কখনওবা বাচ্চা চাপে মায়ের পিঠে। বাচ্চাকে শূন্যে ছুঁড়ে লোফালুফি খেলতেও দেখা যায়। যতদিন বাচ্চারা স্বাবলম্বী না হয় ততদিন মা তাদের লালন-পালন করে। শুধু বাচ্চার সাথে নয় পরিণত ভোঁদড়রা নিজেরা নিজেদের মধ্যেও খুব মজা করে। কেউ জলে ঝাঁপ দেয়, কেউবা অন্যের গায়ের ওপর গিয়ে পড়ে, কেউবা মিছিমিছি তাড়া করে।

ছোট নখরযুক্ত ভোঁদড় পরিবার। ছবি : সংগৃহীত।
প্রকৃতির এই আমুদে প্রাণীটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সুন্দরবনের বুক থেকে। কোনও কোনও এলাকায় তো পুরোপুরি বিলুপ্ত। এর পেছনে রয়েছে বহু কারণ। প্রথমত: এবং মুখ্যত, মাছ ধ্বংস করে বলে মানুষ এদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে দিনের পর দিন, আর তাই সুন্দরবনের বসতি এলাকা থেকে এরা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত: খাল বিল পুকুর বুজিয়ে তৈরি হচ্ছে ঘরবাড়ি। ফলে ভোঁদড়ের খাদ্য ও বাসস্থানের অভাব প্রকট হয়েছে। তৃতীয়ত: জলাশয়ের পাড় সিমেন্ট দিয়ে কিংবা বাঁশ, কাঠ, টালি ইত্যাদি দিয়ে বাঁধানোর ফলে ভোঁদড়রা জলাশয়ের পাড়ে বাসা বানাতে পারছে না। চতুর্থত: গ্রামে মাঠের পুকুর থেকে জল নিয়ে গ্রীষ্মকালে চাষবাস হয়, ফলে মাঠের অধিকাংশ পুকুর শুকিয়ে যায়। তাহলে সারা বছর ভোঁদড় খাবে কী? পঞ্চমত: জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ন সুন্দরবন থেকে কেড়ে নিয়েছে ভোঁদড়ের খাদ্য, বাসস্থান ও নির্জনতা। ষষ্ঠত: ভোঁদড়ের চকচকে মসৃণ লোমযুক্ত পুরু চামড়ার লোভে এদের বহুদিন থেকে শিকার করা হচ্ছে।
ভোঁদড়ের বিপন্নতা দেখে ‘IUCN’ এদের ‘Vulnerable’ গোষ্ঠীভুক্ত করেছে। ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনেও (১৯৭২) এরা শিডিউল-২ -এর অন্তর্গত। সুন্দরবনের ভোঁদড়দের রক্ষা করতে হলে আগে প্রয়োজন জলাভূমি সংরক্ষণ এবং হত্যা বন্ধ করা। সুন্দরবনের সংরক্ষিত অরণ্য এলাকায় এই ভোঁদড়দের এখনও মোটামুটি দেখা গেলেও বসতি এলাকা থেকে এরা প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। আমাদের সচেতনতা ও সহযোগিতা বিলুপ্তির পথ থেকে সুন্দরবনের বসতি এলাকায় ভোঁদড়দের ফিরিয়ে আনতে পারে।—চলবে।
ভোঁদড়ের বিপন্নতা দেখে ‘IUCN’ এদের ‘Vulnerable’ গোষ্ঠীভুক্ত করেছে। ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনেও (১৯৭২) এরা শিডিউল-২ -এর অন্তর্গত। সুন্দরবনের ভোঁদড়দের রক্ষা করতে হলে আগে প্রয়োজন জলাভূমি সংরক্ষণ এবং হত্যা বন্ধ করা। সুন্দরবনের সংরক্ষিত অরণ্য এলাকায় এই ভোঁদড়দের এখনও মোটামুটি দেখা গেলেও বসতি এলাকা থেকে এরা প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। আমাদের সচেতনতা ও সহযোগিতা বিলুপ্তির পথ থেকে সুন্দরবনের বসতি এলাকায় ভোঁদড়দের ফিরিয়ে আনতে পারে।—চলবে।
* সৌম্যকান্তি জানা। সুন্দরবনের ভূমিপুত্র। নিবাস কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পেশা শিক্ষকতা। নেশা লেখালেখি ও সংস্কৃতি চর্চা। জনবিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের জন্য ‘দ্য সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল ২০১৬ সালে ‘আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ এবং শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান লেখক হিসেবে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ ২০১৭ সালে ‘অমলেশচন্দ্র তালুকদার স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করে সম্মানিত করেছে।

















