শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবননির্ভর তথ্যচিত্রে কিছু বিনির্মিত দৃশ্য দেখা যায়। আজ, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে সত্যজিৎ রায়ের সেই তথ্যচিত্রের কয়েকটি দৃশ্য তুলে ধরা যাক।

ভারত সরকারের ফিল্ম ডিভিশনের প্রযোজনায় ১৯৬১ সালে কবির জন্মশতবর্ষে নির্মিত এই ছবি কেবল তথ্যমূলক একটি চিত্র নয়, একটি মূল্যায়ন। শিল্পী, সাধক, মানুষ রবীন্দ্রনাথের মূল্যায়ন। রবীন্দ্রনাথ আটটি দশক এই পৃথিবীতে নশ্বর শরীরে বর্তমান ছিলেন। জীবনের প্রতি দশটি বছরে তাঁর সারস্বত সাধনা বিবর্তিত হয়েছে বলেই দেখা যায়। তাঁর জন্মের পরে পৃথিবীতে ষোলোটি দশক পার হয়ে আরও অর্ধদশক কাল অতিক্রম করেছে। তাঁর মৃত্যুর পরেও আটটি দশক চলে গেছে। আরও একটি দশকের অর্ধকাল অতিক্রান্ত। তাঁর জন্মশতবর্ষের পরেও ছয়টি পূর্ণদশক, একটি অর্ধদশক কেটে গেছে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ কালের রথচক্রের ঘর্ঘর ধ্বনিতে, রাজপথে ছুটে চলা সেই মহাশকটের চক্রাঘাতে উত্থিত ধূলিজ্বালে আবৃত হয়ে যান নি। তাঁর বিচিত্রগামী মনীষা, তাঁর শিল্পীসত্তা, তাঁর দর্শনভাবনা আজ-ও প্রাসঙ্গিক। তাঁর মহাপ্রয়াণের পরে কেটে যাওয়া দীর্ঘকালের পরেও তিনি বহু যুগের ওপারের কেউ নন, বাক্ ও অর্থের, শব্দ ও ছন্দের আবরণে মননশীল মানুষের জনপ্রবাহে তিনি সার্থক হয়েছেন।

সার্থকতা যে মহামানব কিংবা ‘ঠাকুর’ হয়ে ওঠায় নয়, মরণোত্তর অবিনশ্বর স্থিতিতে, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হতে পারেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর নোবেল জয়, সমকালীন ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষ ও রাজনীতি, বিশ্বকবির উপনিষদ-ভাবনা থেকে রাজনৈতিক দর্শন, শিক্ষার ঘরে-বাইরের অচলায়তন থেকে যোগাযোগ কিংবা রহস্যমেদুর মন, হৃদয় ও মানসসুন্দরীর অনন্ত সন্ধান, তাঁর গান, তাঁর রূপকভাবনা, তাঁর ছোটগল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, নৃত্যনাট্য কিংবা চিঠি অথবা তাঁর রং-তুলির জগৎ, হোমিওপ্যাথি কিংবা খাতার পাতায় কাটাকুটিতে জেগে ওঠা যাপনচিত্র, তাঁর তপোবন, আশ্রম কিংবা রসবোধের নানা চর্চিত অচর্চিত দিক-দিগন্তের শেষে জেগে থাকেন মানুষ রবীন্দ্রনাথ।
সত্যজিতের এই চলচ্চিত্রে তথা তথ্যচিত্রের সূত্রপাতে ১৯৪১ সালে কলকাতার বুকে কল্লোলিনী মহাসাগরের আলোড়ন তুলে তাঁর নশ্বর দেহের চলে যাওয়ার দৃশ্য, তাঁর ভাষায় যা হতে পারে “যাওয়া তো নয় যাওয়া।” রবীন্দ্রনাথ নামক মহীরূহের বিপুল ছায়ার বাইরের আকাশকে এরপর চিনে নিতে চেয়েছে সাহিত্যিকের কলম, শিল্পীর তুলি। তারপর আবার হয়তো দিনের ‘কল্লোল’ পার হয়ে সন্ধ্যায় ফিরতে চেয়েছে সেই মহীরূহের আশ্রয়ে। ঘরেও নহে, পারেও নহে যে মানুষ, সন্ধ্যাবেলা রবীন্দ্রনাথ তাঁকেও টেনে নেন। ভাঙা দিনের ঢেলা কুড়িয়ে, চিরকালের কাঁদা-হাসা, ভালবাসা, কাজ ভাঙানো গানের শেষে তাঁর সোনার তরী, গানের ভেলা কিংবা বেলাশেষের শেষ খেয়া যেন এক হয়ে আসে। তখন নিজের দীর্ঘতর ছায়াকে অতিক্রম করে রবীন্দ্রনাথ প্রাণের মানুষ, অন্তর্যামী হয়ে ধরা দেন। তথ্যচিত্রে প্রারম্ভে তাঁর চলে যাওয়া, শেষে “ওই মহামানব আসে” গানের ব্যঞ্জনা আসা-যাওয়া কিংবা যাওয়া-আসার যাবতীয় হিসেব নিকেশের শেষে জানিয়ে যায় রবীন্দ্রনাথ একটি যাপনের নামান্তর। দেহের বিনাশ হয়, যাপনের বিনষ্টি নেই।

তাই প্রথমেই দেখা যায় দিগন্তবিস্তৃত তৎকালীন “অক্টারলোনি মনুমেন্ট”… যার পাশে জেগে থাকা কলিকাতায় সামাজিক নবজাগরণ আসবে। সেই জাগরণের পথ ধরে ধরে জেগে উঠবেন জোড়াসাঁকোর প্রবাদপ্রতিম এক মানুষ, হয়ে উঠবেন বঙ্গজন, বঙ্গজীবনের অভিজ্ঞান, ওই মিনারের মতো। দেখা যাবে ঠাকুরবাড়ির অলিন্দ, তাতে ধীর পদবিক্ষেপে এগিয়ে চলবে এক কিশোর, তাঁর সৃষ্ট পঞ্চকের মতোই দূরে দূরে ঘুরে বেড়ায় যার মন। ‘জীবনস্মৃতি’র পাতা থেকে জেগে উঠবেন বালক রবি, তাঁর অনেকদিনের আকাশ চাওয়ার পাশেই ছুটে চলবে দখিন হাওয়া। ক্রমে ক্রমে তাঁর সকল কাঁটা ধন্য করে ফুল ফোটে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৫ : কালাদেওর গুহায়

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৩২: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৩

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৮: জরাসন্ধবধ ও জনার্দনের কৃতিত্ব

সকল ব্যথার রঙিন গোলাপ হয়ে ফুটে ওঠার পথ মসৃণ ছিল না। তিনি ভবিষ্যতে বলবেন, ‘আমি’ নামক অহংবোধের গহনলোকে আলো-আঁধারের সঙ্গমে জেগে ওঠা রূপ, রস, রেখা, রং, সুখ, দুঃখ, মৃত্যু, মর্ত্য, মহাকালের পাশে জেগে থাকে সুন্দর, সৌন্দর্যবোধ, চেতনার কথা। কবি একেই সত্য ও কাব্যের মূলীভূত বলতে চান। ‘সত্য’ ও ‘তত্ত্ব’ এখানেই পৃথক হয়। রবীন্দ্রনাথের জীবনব্যাপী এই বীক্ষার সূত্রপাতে “জীবনস্মৃতি” পাতা থেকে যে বালক রবি তখন জেগে উঠছেন পর্দায়, সেই বালক যে খাঁচার পাখি হবেন না তা বোঝা যায়। ক্লাসরুমের অচলায়তনে যান্ত্রিক তৎপরতায় শিক্ষক অনুবাদ শেখান, “তুমি কি একটি বাক্স দেখিতে পাইতেছ? ইয়েস আই ক্যান সি এ বক্স, হ্যাঁ আমি একটি বাক্স দেখিতে পাইতেছি।” আকার ও প্রকারে ধারণক্ষম বাক্সের উদাহরণ যখন শিক্ষণীয় বিষয়, তখন এই বাক্স যে সার্বিক বিকাশের পরিপন্থী একটি অচলায়তন, তা উপলব্ধি করেন দর্শক। বালক রবি তখন ক্লাসরুমের এই তত্ত্বকে পার হয়ে বুঝি সত্যকে খোঁজে, তার আয়ত চোখদুটি আয়তাকার লোহার খাঁচার মতো জানালার বাইরের আকাশ ও প্রকৃতিকে দেখে। তথ্যচিত্রটি এখানে ‘চলচ্চিত্র’ হয়ে ওঠে। নেপথ্যে শোনা যায় নীলপাহাড়ের পাশ বেয়ে দুর্বাদলঘন মাঠ পার হয়ে ধেয়ে আসা রাখালিয়া বাঁশির সুর—”আজি তোমায় আবার চাই শুনাবারে।”

তবু, এই চলচ্চিত্র এক মগ্ন ক্ষণজন্মা কবির আত্মোদ্ঘাটন “আত্মানং বিদ্ধি”র তত্ত্ব বা সত্যের, অনুশীলন বা সিদ্ধির ভাষ্য নয়। কবির নেপথ্যে থাকা ক্রান্তদর্শী ঋষির আত্মদর্শনের উপন্যাস-ও নয় এই তথ্যচিত্র।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৯: নোনা জলের কুমির

ক্যাবলাদের ছোটবেলা, পর্ব-৩৭: লোকে যারে বড় বলে

ছবির শেষপর্বে অশক্ত অথচ কর্মমুখর রবীন্দ্রজীবন, তাঁর শান্তিনিকেতন, তাঁর কর্মোদ্দীপনার মাঝে জেগে থাকা শিশু ও শৈশব, বিশ্বপথিক তাঁর বিশ্ববীক্ষার পথ ও ক্রমে ক্রমে আশি বছরের জন্মদিনটিতে পৌঁছনোর তথ্য, চিত্র ও সত্য জেগে ওঠে ভাষ্যকার সত্যজিতের কণ্ঠে। নেপথ্যে জেগে থাকে গান “আমার মুক্তি আলোয় আলোয়।” বহুমাত্রিক রবীন্দ্রজীবনের এই “মুক্তি”টিই এই তথ্যচিত্রের লক্ষ্যবস্তু বলে মনে হয়। বিশ্বধাতার যজ্ঞশালায় আত্মহোমের অগ্নিজ্বালার অনন্ত শিখাটিই রবীন্দ্রনাথ। যিনি জানিয়েছেন, আমার মুক্তি সর্বজনের মনের মাঝে/ দুঃখবিপদ তুচ্ছ করা কঠিন কাজে। রবীন্দ্রনাথের সেই জীবনব্যাপী কর্মের স্বরূপটিই আজ এতদিন পরেও সকল ঔত্সুক্যের কেন্দ্রে জেগে আছে। তিনি অনন্তবন্ধনমাঝে মুক্তিকে খুঁজেছেন কখনও, কখনও সান্ত্বনা নয় দুঃখকে অতিক্রম করার শক্তি অর্জন করতে চেয়েছেন। এই রবীন্দ্রনাথ-ই জেগে আছেন, সম্ভবত জেগে থাকবেন মানুষের মনে।

চলচ্চিত্রে উল্লিখিত হয় তাঁর মরজীবনের শেষ পঁচিশে বৈশাখ, যেখানে ‘সভ্যতার সঙ্কট’কে তিনি দেখেছেন। ভাষ্যকার জানাবেন যে, এই জন্মদিনের তিনমাস পরে তিনি চিরকালের জন্য ছেড়ে যাবেন তাঁর শান্তিনিকেতন, আমাদের শান্তিনিকেতন। নেপথ্যে বেজে ওঠে রবীন্দ্রগান “তবু মনে রেখো।”
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৫: অকালরাবী জাতক—সময় গেলে সাধন হবে না

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

রবীন্দ্রনাথ এরপর ফিরে আসছেন তাঁর পৈত্রিক বাসভবনে, জোড়াসাঁকোর বাড়িতে। ভাষ্যকার জানাবেন যে, এই সময় রবীন্দ্রনাথ গুরুতর অসুস্থ। এবার পর্দায় আবার ফিরে আসবে সেই বারান্দা, সেই ছেলে আবার ধীর পদবিক্ষেপে হেঁটে চলবে তার জীবনপথে। সকল কাঁটা জয় করে জেগে ওঠা সেই ফুলের অনেকদিনের আকাশ চাওয়া এবার বুঝি সার্থক হল। নেপথ্যে আবার বেজে ওঠে, “যদি দূরে যাই চলে তবু মনে রেখো।”
রবীন্দ্রকণ্ঠে শুনতে থাকেন দর্শক, অনুভব করেন কবির হৃদ্গত আকুতি, তীব্র মর্ত্যমায়া। একদিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে, তবু মনে রেখো। একদিন যদি বাধা পড়ে কাজে, তবু মনে রেখো।… ছলছল জল নাহি দেখা দেয় নয়ন কোণে, তবু মনে রেখো।

কিন্তু চোখ কি অশ্রুসজল হয় না কবির? গানের সঙ্গে দেখা যায় পরিণত বয়সের রবীন্দ্রনাথের হাস্যময় সৌম্য মুখ, দুটি উজ্জ্বল, আলোকিত চোখ-সহ। কিন্তু তারপর চলচ্চিত্র পৌঁছোয় তার অভীষ্ট লক্ষ্যে। যাঁর কলমে মরা গাঙে বান আসার বাণী, যিনি জানিয়েছেন সঙ্কোচের বিহ্বলতায় আত্মাবমাননা, যিনি ভাঙনের জয়গান গেয়ে বলে ওঠেন, জীর্ণ পুরাতনকে মুছে দিয়ে চিরনূতনের অভিবন্দনার মাঝেই ব্যক্ত হয় অসীমের চিরবিস্ময় তিনিও কিন্তু সেদিন ব্যথিত হয়েছিলেন। চলচ্চিত্রে এবার পরপর দেখা যায়, নিবিড় বিষণ্ণতায় আক্রান্ত রবীন্দ্রনাথের উদ্বিগ্ন চোখ দুটি, নানা চিত্রে। ফুটে ওঠে পৃথিবী জুড়ে চলতে থাকা বীভত্সতার বহু চিত্র, দগ্ধ শব, আর্তনাদ, ব্যাকুল শরণাগত, বিপুল সৈন্যভার, রণহুঙ্কার, যুদ্ধোন্মাদ মানুষের আস্ফালনের দলিলগুলি। চলচ্চিত্র এখানেই পৌঁছতে চাইছিল। যে পাশ্চাত্ত্যজগতের আলোকে এককালের নবজাগরণ, তা এখন সভ্যতার সঙ্কট। রবীন্দ্রনাথের শেষ বার্তা হয়ে থেকে যায় তা আগামী পৃথিবীর জন্য। যে সভ্যতার রথচক্রের অব্যাহত আবর্তন পৃথিবীকে নবরূপায়িত করেছে, সেই সভ্যতাকে তার ভিত্তিমূলে জেগে ওঠা এই ভাঙন থেকে উত্তীর্ণ করতে পারে মহামানব। তাঁর আগমনবার্তা শুনিয়েই শেষ হয় ছবি। তথ্যচিত্র। প্রশ্ন জাগিয়ে যায়, উত্তর-ও। “ভারততীর্থ” কবিতায় মহামানবের সাগরতীরে জেগে ওঠা এক থেকে বহু, বনস্পতি থেকে অরণ্যানী, ব্যক্তি থেকে সমষ্টির পথ ধরেই উত্তরণ। এই উত্তরণ আসে আত্মশক্তিতে, যা উদ্গত হয় অন্তর থেকেই। উপনিষদ ইন্দ্রিয়বাহী শরীররথের সার্থকতার কথা জানান। সংযতেন্দ্রিয় মানুষের দেহরথের যাত্রা সফল হয়। পৃথিবীজোড়া সঙ্কট, বিশ্বযুদ্ধোত্তীর্ণ ও আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা উপনিবেশ তার রাষ্ট্রসত্তা অর্জন করতে পারবে? খুঁজে পাবে মানুষ শান্তি, সত্য, শিব, সুন্দরকে? কবির ব্যথিত চোখদুটি তার সন্ধান করে হয়তো।

আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম

এই চলচ্চিত্রের প্রারম্ভিক সঙ্গীতে শোনা গিয়েছিল “এসো অপরাজিত বাণী, অসত্য হানি—অপহত শঙ্কা, অপগত সংশয়”… তা-ই এখন উত্তীর্ণ হল মহামানবের আগমনের আশাভরা মহাসঙ্গীতে। চলচ্চিত্র এই “মানুষ রবীন্দ্রনাথের” সন্ধানটিই করেছে বলে মনে হয়, যিনি তাঁর মহামানব যুগপুরুষ সত্তার বাইরে কেবল এক সঙ্কটবিদ্ধ প্রাণ, যে মহাপ্রাণ হিংসায় মত্ত পৃথিবীর রূপ দেখে বিস্ময়বিদ্ধ, শিহরিত, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে অবিমৃষ্যকারী মানুষের-ই বিবেচনা ও বিবেকের প্রতি কেবল আস্থা রাখতে জানেন। মানুষের চোখে মহাপুরুষ, ক্রান্তদর্শী ঋষির চিরভাস্বর দৃষ্টিতে কেবল মানুষ… মহামানব জেগে থাকে আত্মসঙ্কটের পরিত্রাতা হয়ে। এখানেই বুঝি তাঁর চিরসুন্দরের অভিবন্দনার আনন্দ সার্থক হয়। এখানেই তত্ত্বের সত্যদর্শন। এখানেই পৃথিবী মধুমতী হয়।

এই রবীন্দ্রনাথ-ই পঁচিশে বৈশাখ ডাক দিয়ে যান। রিক্ততা অতিক্রম করে জাড্যে আক্রান্ত প্রাণে প্রাণে জীবনের জয়গান শুনিয়ে যান সঙ্কটকালে, আজও।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content