শনিবার ২০ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

রামের হাতে একযোগে দূষণ ও ত্রিশিরাকে নিহত দেখে,খর,রামের বিক্রম অনুভব করে ভয় পেল।
খর দেখল, একাকী মহাবলশালী রাম সসৈন্যে দুই রাক্ষসমুখ্যকে হত্যা করেছেন। সৈন্যবল নিঃশেষিতপ্রায়, দেখে খরের মন ভেঙ্গে গেল। ইন্দ্র যেমন নমুচির ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তেমনই সে রামের দিকে ধেয়ে চলল। খর, সবলে ধনুক আকর্ষণ করে, রামের প্রতি ক্রুদ্ধ সাপের মতো রক্তলোলুপ তীর নিক্ষেপ করল। ধনুকে টঙ্কার দিয়ে অস্ত্রবিদ্যায় নানা পারদর্শিতা দেখিয়ে, রথে অবস্থান করে রণক্ষেত্রে বিচরণ করতে লাগল। মহারথ খর, বাণে বাণে দিগ্বিদিক সমাচ্ছন্ন করে ফেলল। দেখে, রাম তাঁর মহাধনুক ধারণ করে, আগুনের স্ফুলিঙ্গতুল্য অসহনীয় বাণে বর্ষণরত মেঘের মতো আকাশ ঢেকে দিলেন। খর ও রাম উভয়ের বাণে শরসঙ্কুল আকাশ আর আকাশ রইল না। পরস্পরকে হত্যার উন্মাদনায় যুদ্ধরত খর ও রামের শরজালে আবৃত আকাশে সূর্য প্রকাশিত হল না। খর নালীক, নারাচ প্রভৃতি তীক্ষ্ণাগ্র বিকর্ণি অস্ত্র দিয়ে রামকে আঘাত করল, ঠিক যেন অঙ্কুশ দিয়ে বিশাল হাতিকে আঘাত করা হল। সব প্রাণী, রথস্থ ধনুর্দ্ধারী যুদ্ধোন্মুখ খরকে পাশধারী যমের মতো দেখতে লাগল। প্রাণশক্তির আধার রাম যিনি পৌরুষবলে সব সৈন্যদের হত্যা করছেন, তিনি পরিশ্রান্ত হয়েছেন বলে খর মনে করল। সিংহবিক্রমে বিচরণরত খরকে দেখে, ক্ষুদ্র হরিণ দেখে সিংহ যেমন উদ্বিগ্ন হয় না,রামও উদ্বেগ বোধ করলেন না।
খর সূর্যের মতো প্রোজ্জ্বল রথে চড়ে আগুনের দিকে ধাবমান পতঙ্গের মতো ছুটে গেল রামের দিকে। খর নিজের দ্রুত হাতের কারসাজি দেখিয়ে মহাপ্রাণ রামের ধনুর্বাণ-সহ হাতের মুঠির জায়গায় আঘাত করল। ক্রুদ্ধ খর আবারও ইন্দ্রের বজ্রতুল্য অন্য সাতটি বাণ তুলে নিয়ে রামের মর্মস্থানে আঘাত করল। তারপরে শত হাজার বাণে অতুলনীয় তেজস্বী রামকে বিদ্ধ করে ,যুদ্ধে কৃতিত্ব দেখিয়ে, ভয়ঙ্কর গর্জন করে উঠল।সূর্যের মতো প্রদীপ্ত, সুপর্বযুক্ত, মুক্ত, বাণে বিদ্ধ রামের বর্ম মাটিতে ছিঁড়ে পড়ল।সারা শরীর বাণবিদ্ধ,ক্রুদ্ধ রাম ধোঁয়াবিহীন আগুনের মতো জ্বলে উঠে দীপ্তিমান হলেন। শত্রুবিনাশী রাম, শত্রুহত্যার জন্যে, এক গম্ভীরশব্দসৃষ্টিকারী বিরাট ধনুতে গুণ পরালেন। তিনি মহর্ষি অগস্ত্য যে বৈষ্ণব ধনুকটি দিয়েছিলেন সেটি উদ্যত করে খরের দিকে ধেয়ে গেলেন। রাম সরোষে সোনার পুচ্ছ ও সুসমন্বিত পর্ববিশিষ্ট শরগুলি দিয়ে যুদ্ধে খরের পতাকাটি ছিঁড়ে ফেললেন। সেই দর্শনীয় সোনার পতাকা, বহু টুকরো হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল যেন দেবতাদের নির্দেশে সূর্য লুটিয়ে পড়ল ধরণীতে। একজন মর্মজ্ঞ মাহুত যেমন অঙ্কুশ দিয়ে হাতিকে আঘাত করে, তেমনই ক্রুদ্ধ খর,চারটি বাণে রামের হৃদয় এবং শরীরের অন্যান্য অংশ বিদ্ধ করল। খরের ধনুক হতে নিক্ষিপ্ত বহু বাণে বিদ্ধ রক্তাক্তদেহ রাম ভীষণ ক্রোধাবিষ্ট হলেন। ধনুর্দ্ধারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, মহাধনুর্দ্ধর রাম, মহাযুদ্ধে খরকে লক্ষ্য করে ছয়টি শর নিক্ষেপ করলেন। একবাণে মাথা, দুইটি বাণে খরের দুই হাত এবং অর্দ্ধচন্দ্রের আকৃতি এমন তিনটি বাণে খরের বুক লক্ষ্য করে আঘাত করলেন। এর পরে মহাতেজস্বী রুষ্ট রাম, পাথরে শান দেওয়া সূর্যসম প্রদীপ্ত তেরটি বাণে রাক্ষসকে আহত করলেন।

রাম যুদ্ধে একটি বাণে রথের জোয়াল, চারটি শরে রথের ঘোড়াগুলি,ছয়সংখ্যক বাণে খরের সারথির মাথাটি ছিন্ন করলেন। মহাবল, মহাবীর রাম, তিনটি বাণে বাঁশের তিনটি নির্মাণ, দুটি বাণে দুটি অক্ষ (রথের চাকা), বারসংখ্যক বাণ নিক্ষেপ করে, খরের বাণসহ ধনুকটি ছিন্ন করলেন। তারপরে ইন্দ্রের মতো রাঘব হাসতে হাসতে, যুদ্ধে বজ্রের মতো তেরসংখ্যক বাণে খরকে বিদ্ধ করলেন। ধনুক ভেঙ্গে গিয়েছে, রথটি বিকল, ঘোড়াগুলি মৃত,সারথি নিহত, এই অবস্থায় খর গদা হাতে মাটিতে লাফিয়ে নেমে পড়লেন। মহারথ রামের সেই কাজ দেখে, আনন্দিত সমবেত দেবতা ও মহর্ষিরা বিমানের সামনের দিকে এগিয়ে এসে অঞ্জলিবদ্ধ হয়ে রামের অর্চনা করলেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৩: রাজসূয় মহাযজ্ঞের প্রস্তুতিপর্বে পাণ্ডবদের দিগ্বিজয় যেন রাজনীতির আনুগত্য-আদায়ের পাঠ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯২ : শিউলি বাড়ি

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৯: বিড়ালীকৌশিক-জাতক —অতি ইচ্ছার সঙ্কট

খর রথবিহীন, তার শুধু গদাসম্বল। মহাতেজস্বী রাম তাকে প্রথমে মৃদু ক্রমশ কঠোর বচনে বললেন, হাতি, ঘোড়া, রথসমন্বিত, বিপুল সৈন্যবলের মধ্যমণি হয়ে খর সব লোকের ঘৃণ্য ভয়ঙ্কর কাজ করেছে। সব প্রাণীদের উদ্বেগজনক, নিষ্ঠুর, পাপাচারী যে কেউ ত্রিলোকের অধিপতি হলেও টিকে থাকতে পারে না। রাম তীব্র আক্রমণাত্মকভাষায় বললেন, ওরে নিশাচর রাক্ষস, সাধারণের বিরুদ্ধ কাজ যে করে, উদ্যত উগ্র দুষ্ট সাপের মতো তাকে সব মানুষ হত্যা করে। কর্ম্ম লোকবিরুদ্ধন্তু কুর্ব্বাণং ক্ষণদাচর। তীক্ষ্ণং সর্ব্বোজনো হন্তি সর্পং দুষ্টমিবাগতম্।। লোভ ও কামের বশবর্তী হয়ে না বুঝে যে পাপ কাজ করে,মেঘচ্যুত শিলাখণ্ড খেয়ে রক্তপুচ্ছধারিণী টিকটিকির দশায় উপনীত তাকে দেখে লোকে আনন্দিত হয়। রাম ধিক্কার দিয়ে বলে চললেন, ওরে রাক্ষস, দণ্ডকারণ্যবাসী ধর্মচারী মহান তপস্বীদের হত্যা করে, তুমি কী ফল পাবে? বসতো দণ্ডকারণ্যে তাপসান্ ধর্ম্মচারিণঃ। কিন্নু হত্বা মহাভাগান্ ফলং প্রাপ্স্যসি রাক্ষস।। পাপাচারী নির্মম ব্যক্তিরা লোকেদের ঘৃণার পাত্র হয়ে শীর্ণশিকড় গাছের মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। গাছ যেমন পর্যায়ক্রমে ফুল লাভ করে তেমনই যারা পাপকাজ করে তারা অবশ্যই পাপের ভয়ঙ্কর ফলও পেয়ে থাকে।বিষমেশানো অন্নভোজনের ফলের মতো পাপকাজের ফল লাভ করতে বেশি দেরি হয় না। রাম দণ্ডকারণ্যবাসের কারণ জানালেন, পাপমাচরতাং ঘোরং লোকস্যাপ্রিয়মিচ্ছতাম্। অহমাসাদিতো রাজা প্রাণান্ হন্তুং নিশাচর।। আমি ভয়ানক পাপাচারী এবং লোকেদের ক্ষতি করতে ইচ্ছুক যারা তাদের জীবন নির্মূল করতে এসেছি। রাম ঘোষণা করলেন, সাপগুলি যেমন বল্মীকস্তূপ অর্থাৎ উইয়ের ঢিবি ভেদ করে বেরিয়ে আসে, তেমনই সোনার মোড়া তাঁর বাণগুলি খরকে বিদীর্ণ করে বেরিয়ে আসবে। দণ্ডকারণ্যে যে ধর্মচারী ঋষিদের রাক্ষস গ্রাস করেছিল,আজ যুদ্ধে নিহত হয়ে সসৈন্যে সে তাঁদের অনুগমন করবে। অতীতে যে মহর্ষিদের খর হত্যা করেছিল, বিমানে অবস্থান করে তাঁরা দেখুন, সেই রাক্ষস আজ বাণবিদ্ধ মৃত ও নরকস্থ হয়েছে। রামের গলায় তাচ্ছিল্যের সুর, ওহে রাক্ষসকুলের অধম, যথাসাধ্য চেষ্টা কর, প্রহার করে যাও। আজ আমি তালফলের মতো তোমার মাথাটি ফেলব। প্রহরস্ব যথাকামং কুরু যত্নং কুলাধম। অদ্য তে পাতয়িষ্যামি শিরস্তালফলং যথা।। রামের কথায় ক্রুদ্ধ খর রাগে মূর্ছিত হয়ে রক্তচক্ষু হল। সে হাসতে হাসতে প্রত্যুত্তর দিল, ওহে দশরথপুত্র, তুই যুদ্ধে সাধারণ রাক্ষসদের হত্যা করে, কী করে নিজে প্রশংসার অযোগ্য হয়েও আত্মপ্রশংসা করছিস? প্রাকৃতান্ রাক্ষসান্ হত্বা যুদ্ধে দশরাত্মজ। আত্মনা কথমাত্মানমপ্রশস্যং প্রশংসসি।। খরের যুক্তি —বিশেষ পরাক্রমশালী বলশালীরা স্বল্প তেজে অতি গর্বিত হয়ে কথা বলেন না। সাধারণ, জীবনে প্রতিষ্ঠিত নয়, অধম ক্ষত্রিয়রা যেমন অর্থহীন কথা বলেন, রাম তেমন কথাই বলছে। মরণকাল ঘনিয়ে এলে কোন্ বীর নিজের বংশগৌরব কীর্ত্তন করে অপ্রাসঙ্গিক আত্মপ্রশংসা করেন? রামের কথায় নীচতার প্রকাশ, যেন কুশের আগুনে উত্তপ্ত সোনার মতো ধাতুর (পিতল) হীনস্বরূপের প্রকাশমাত্র।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৩৯: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২০

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা

খর গদা ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে অথচ বিবিধ ধাতুর সংমিশ্রণে গঠিত অটল অকম্পিত কুলাচল পর্বতের মতো তাকে রাম দেখতে পাচ্ছে না? খর আস্ফালন করে বলল, এই যে গদাহাতে আমি,পাশধারী যমের মতো, যুদ্ধে তোর এমন কি ত্রিলোকের সকলের প্রাণহরণের পক্ষে যথেষ্ট। *পর্য্যাপ্তোঽহং গদাপাণির্হন্তুং প্রাণান্ রণে তব। ত্রয়াণামপি লোকানাং পাশহস্ত ইবান্তকঃ।। যদিও রামকে তার অনেক কিছুই বলার আছে তবু বেশি কিছু সে বলবে না। কারণ সূর্য অস্তাচলে যাচ্ছে। এরপরে যুদ্ধে বিঘ্ন ঘটবে। খর যেন হুঙ্কার দিলেন, চতুর্দ্দশ সহস্রাণি রাক্ষসানাং হতানি তে। ত্বদ্বিনাশাৎ করোম্যদ্য তেষামশ্রুপ্রমার্জ্জনম্।। তুই চোদ্দ হাজার রাক্ষসকে হত্যা করেছিস আজ তোকে বধ করে,তাদের স্বজনদের অশ্রুজল মুছিয়ে দেব। এই বলে, খর সক্রোধে বিদ্যুতের মতো প্রদীপ্ত তার হাতের বিরাট গদা রামের দিকে নিক্ষেপ করল। খরের নিক্ষিপ্ত উজ্জ্বল বিশাল গদা, গাছ ও লতাগুল্মগুলি ভস্ম করে রামের দিকে ছুটল। মৃত্যুপাশতুল্য গদাটি অন্তরীক্ষে শূন্যে আসতে দেখে,রাম বহু বাণে সেটিকে ছিন্নভিন্ন করলেন। মন্ত্র ও ওষধির প্রভাবে শক্তিহীনা সর্পিনীর মতো শরে শরে ছিন্ন ও জীর্ণ গদা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৩: স্মৃতিশাস্ত্রের রক্তচক্ষু বনাম এক স্নেহশীল পিতা: মূষিক-কন্যার বিবাহ-উপাখ্যান

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

রামের সঙ্গে যুদ্ধে রাক্ষস খরের দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী,ভাই দূষণ এবং সেনাপতি ত্রিশিরা নিহত হয়েছে। খরের অনুগত চোদ্দ হাজার রাক্ষসসেনা আজ মৃত। দুই প্রতিপক্ষ। একদিকে একাকী রাম, অপরদিকে রামের পরাক্রম দেখে শঙ্কিত খর। তিনি রণোন্মাদনায় রামের শক্তিকে খাটো বলে মনে করেছেন। তিনি যখন শত্রুকে পরিশ্রান্ত মনে করে যুদ্ধক্ষেত্রে সিংহবিক্রমে বিচরণ করে বেড়াচ্ছেন পুরুষসিংহ রাম তাঁকে মনে করছেন ছোট্ট হরিণশিশুটি, তাঁর দৃষ্টি উদ্বেগহীন। তং সিংহমিব বিক্রান্তং সিংহবিক্রান্তগামিনম্। দৃষ্ট্বা নোদ্বিজতে রামঃ সিংহঃ ক্ষুদ্রমৃগং যথা।। রাক্ষস খরের পরাক্রম সিংহের মতো। সে নিজে সিংহ নয়। তার পরাক্রম আরোপিত।রাম নিজে পুরুষসিংহ।তাঁর চালচলনে সিংহের মতো বিক্রম প্রদর্শনের চেষ্টিত প্রয়াস নেই। তিনি নিজে তাঁর অমিত পৌরুষবলে শত্রুকে ক্ষুদ্র হরিণের মতো সহজলভ্য বলে মনে করেন। শত্রুর আচরণে পশুরাজের অনুকরণীয় বিক্রমের প্রকাশ তুলনায় অধিকতর পরাক্রমশালী রামচন্দ্র নিজে স্বয়ং সিংহ, তাঁর তুলনায় খরের সিংহবিক্রম কেমন? খরের শক্তি ক্ষুদ্র হরিণের মতো ক্ষীণ, নশ্বর, অকিঞ্চিৎকর বলে মনে হয়। যুদ্ধের অঘোষিত ফলাফল নির্দ্ধারিত হয়ে যায় তখনই। রামের আক্রমণে বিপর্যস্ত খরকে বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছেন রাম। রামের কণ্ঠ মৃদু কিন্তু বাক্যবন্ধ কঠোরতায় ভরা।বাহুবলের প্রতীক হাতি, ঘোড়া, রথ-সহ সমস্ত যুদ্ধোপকরণ এবং অপরিমিত সৈন্যবলে বলী হয়ে খর যে সব নৃশংস কাজ করেছেন তার জন্য তাকে প্রাণ দিতে হবে।প্রাণীদের উদ্বেগজনক, নির্মম প্রভু, পাপী, অপরিমিত ক্ষমতার অধিকারী এবং ত্রিলোকের অধীশ্বর হলেও তাঁর স্থায়িত্ব থাকে না। ইতিহাসের প্রমাণিত সত্যের বাস্তবতা ঘোষণা করেছেন রাম। উদ্বেজনীয়ো ভূতানাং নৃশংসঃ পাপকর্ম্মকৃৎ। ত্রয়াণামপি লোকানামীশ্বরো২ঽপি ন তিষ্ঠতি।। এ যেন লৌকিক প্রবাদের অনুরণন “পাপ বাপকেও ছাড়ে না।” রাম কঠোরভাবে বলেছেন, হিংস্র সাপের মতোই সাধারণের বিরুদ্ধাচরণকারী উগ্র শাসককে জীবনের মূল্য দিতে হয়। প্রকৃতই আধুনিক যুগে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়,সাধারণ জনতা জনস্বার্থবিরোধী শাসকের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তাঁকে উৎখাত করে থাকে। মানুষের অমূল্য জীবনের অস্তিত্ব যখন বিপন্ন হয় তখন বোধ হয় এ ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। যুগে যুগে সমগ্র পৃথিবীর শাসকদের প্রতি যেন ভাবি দক্ষ প্রশাসকের অমোঘ সতর্কবার্তা, অবশ্যং লভতে কর্ত্তা ফলং পাপস্য কর্ম্মণঃ। ঘোরং পর্য্যাগতে কালে দ্রুমঃপুষ্পমিবার্ত্তবম্।। ঋতুচক্রের আবর্তনের ফলে বৃক্ষের ফুললাভ যেমন অবশ্যম্ভাবী তেমনই পাপী যথাসময়ে পাপকাজের ভয়ঙ্কর ফল লাভ করে থাকে। এই উপলব্ধি বোধ হয় শুধু রামের নয়,এর সত্যতা জীবনের উপলব্ধ সত্য, যা অনেকেই হয়তো অনুধাবন করেছেন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭০ : চার্চ হাসপাতালের সেই সকাল

অযোধ্যার ভাবি প্রশাসক রাম মনে করেন, পাপ হল সকলের ঘৃণ্য, উদ্বেগজনক, ত্রাসসৃষ্টিকর, ভয়ঙ্কর নৃশংস কাজ। এই কাজ অবশ্যই লোকবিরুদ্ধ কাজ বা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধ কাজ। এই বিরুদ্ধাচরণের মূলে রয়েছে লোভ, কাম ও অজ্ঞতা।দণ্ডকারণ্যের তপস্বীদের হত্যার মূলে রয়েছে রাক্ষসদের লোভ ও এই হিংস্রকাজের পরিণামবিষয়ে অজ্ঞতা।তাই বনবাসী হয়েও প্রশাসক রাম, এই সাধারণের অনিষ্টকারী পাপাচারী রাক্ষসদের বিনাশ করতে এসেছেন। বনবাস যেন এক প্রশাসকের মহৎ উদ্দেশ্যসাধনের নির্দ্ধারিত সময়ে পরিণত হয়েছে। রামের জীবনে এমন অনেক ঘটনা হয়তো কোনও মহৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনাগুলো তাঁকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে পরিণত ও অভিজ্ঞ করে গড়ে তুলেছে। দ্বন্দ্ববিক্ষুব্ধজীবনে শুধু ঝঞ্ঝার অভিঘাত সত্য নয়,তাদের মুখোমুখি হয়ে, জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে নিজেকে বিনির্মাণ সমান গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ প্রশাসকের এমন এক প্রশিক্ষণের সময়—এক একটি বাধা পার হয়ে সাফল্যের লক্ষ্যে পৌঁছানোর কাল। প্রশাসক রামের জীবনে রাক্ষসদের সঙ্গে সংঘাতের সূচনা ও তাঁর একক লড়াইয়ে সেই শিক্ষাই সূচিত হয়েছে।—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content