শনিবার ২০ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

অরণ্য সেক্সচ্যাট করছিল। সবেমাত্র সকাল হয়েছে। এই সময় সেক্সচ্যাট করে সচরাচর মধ্যবয়সী নিঃসঙ্গ এবং যৌনক্রীড়ায় অতৃপ্ত কিন্তু অন্য উপায় না-থাকা বিবাহিত মহিলারা আর গে কিংবা বাইসেক্সুয়ালরা। এদের অনেকরকম ডিমান্ড থাকে, তার মধ্যে একটা কমন হল, ছেলেদের মর্নিং-উড দেখার বাসনা। এইসময় হাই-টেস্টোস্টেরনের কারণে ছেলেদের পেনিস ইরেক্ট হয়ে থাকে, সেটা দেখার বাসনায় অনেকেই এইসময় নানা সেক্সচ্যাট সাইটগুলিতে অ্যাক্টিভ থাকে। আজকাল পরিচয় গোপন রেখে এ-জাতীয় ভিডিও চ্যাট খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এগুলিতে এমনভাবে রেকডিং অপশন লক্‌ করা থাকে যে, কেউ চাইলেই ভিডিওচ্যাট রেকর্ডিং করতে পারবে না। তবে এগুলি দেখার জন্য কিংবা সেক্স চ্যাট করার জন্য কাঞ্চনমূল্য দিতে হয় আগাম। অর্থাৎ ফ্যালো কড়ি, মাখো তেল গোছের ব্যাপার। অ্যাডভান্স দিলে তবে একটা লিঙ্ক প্রোভাইড করা হয়, সেটিতে সময়ও নির্দিষ্ট করে জানান থাকে। সেই সময় পার হলেই ভিডিয়ো চ্যাটের অপশন নিজের থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। যদিও তার দশ মিনিট আগে থেকে জানান হয় স্ক্রিনে, চ্যাট আরও দীর্ঘায়িয় করতে হলে নির্দিষ্ট অর্থ আবার অনলাইনে পে করতে হবে। করলে চ্যাট রি-স্টার্ট হবে। যাদের নেশা ধরে যায়, তারা এইভাবে কত টাকা যে উড়িয়ে দেয়।

ভিডিয়ো চ্যাটের সঙ্গী ঠিক করার জন্য হাজার-হাজার প্রোফাইল বিভিন্ন পছন্দের, বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন জাতি-ধর্মের ক্যাটাগরি ভাগ করা থাকে। কী জাতীয় চাই, তা টাইপ করলে কিংবা বিশেষ অপশনে গিয়ে ক্লিক করলে অ্যাপস নিজের থেকেই একটা নির্বাচিত তালিকা পাঠায়। সেখানে অবশ্য কোন ফেসের ছবি থাকে না, শরীরের কোণ আকর্ষণীয় অংশের আভাস থাকে, সেটা দেখে কোন একটা নির্বাচন করলে তারপর টাকা পেমেন্ট করতে হয়। কত টাকা সেটা বলাই থাকে ছবির সঙ্গেই আলাদা বক্সের মধ্যে। প্রাপ্ত টাকার একটা নির্দিষ্ট অংশ কেটে নিয়ে বাকিটা যারা সার্ভিস দিচ্ছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে চলে আসে। যাঁরা যত র সার্ভিস দিতে পারবেন, তাঁদের অ্যাকাউন্ট তত পুষ্ট হয়। অরণ্য অনেকদিন আগে থেকেই এইরকম কয়েকটি সাইটের সঙ্গে যুক্ত। এর থেকে তার ইনকামও মন্দ নয়। পরিচিত সার্কেলের মধ্যে অনেকেই এটা জানে। এ-ব্যাপারে সে রাখঢাক গুড়গুড় করে না। ক’দিন আগে অনেকদিন পরে কাউকে সে এভাবে ধর্ষণ করল। আসলে সম্মতি ছাড়া সঙ্গম, পেনিট্রেশন তো ধর্ষণই। সেদিক থেকে অর্ককে সে ধর্ষণই করেছে। আসলে ও এত হিপোক্রিট যে, সহ্য করতে না পেরে…। পরে অবশ্য একটু খারাপ লাগছিল। যতই হোক বন্ধু, হোক না তার ওরিয়েন্টেশন অন্যরকম, কিন্তু তা বলে…! তার নিজের ওরিয়েন্টেশনও তো অন্যরকম, তাহলে? পরের দিন একবার ভাবছিল ক্ষমা চেয়ে নেবে, তারপর আর ইচ্ছে করেনি।
আজ হঠাৎ করে যে সে এই ধরনের একটি সাইটে সেক্সচ্যাট করছে এমন নয়। এখানে আসবার পর চানঘরে স্নান করার সময় সে ভিডিওচ্যাট করেছে। এইজাতীয় সাইটে এটারও হাই-ডিমাণ্ড। এমনি ন্যুড হয়ে চ্যাট করেছে। অল্পবয়সী মেয়েরা এটা পছন্দ করে। সেইসঙ্গে তারা বিশেষ অরগ্যান খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে চায়, নানারকম কমেন্ট করে। এতেই তাদের অরগ্যাজম বেশি হয়। মধ্যবয়স্ক বিবাহিতারা অবশ্য নানারকম পারভার্টেড টক্‌, ডার্টি জোক, খিস্তিখেউড়, বডি মুভমেন্ট ইত্যাদি পছন্দ করে। গে এবং বাই-সেক্সুয়ালরা বিশেষ করে চেস্ট আর পুরুষাঙ্গ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। হেয়ারি, নন-হেয়ারি এসবেই তাদের আগ্রহ বেশি। তবে অনেকে ইজাক্যুলেট করতে বলে। সেটার চার্জ খুব হাই। এবং একটা সিটিং-এ সামান্য গ্যাপ দিয়ে বড়জোর দু’বার করা সম্ভব। অনেকসময় চিটিং-ও করতে হয়। শ্যাম্পু বা সাদা জেলকে বডি-ফ্ল্যুইড বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। উত্তেজনার ঘোরে গ্রাহকেরা তা লক্ষ্যও করে না। অনেকেই সেইসময় হস্তমৈথুনেই ব্যস্ত থাকে বলে আসল না নকল তা খেয়াল করে দেখে না। দেখলে মুশকিল হয়ে যেত।

আজ অরণ্যের দিল খুশ আছে। কলকাতা থেকে তার ল-ইয়ার কাল ভোরেই এখানে পা রাখছে। থানার সঙ্গে কথা বলে তারপর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদরের কোর্টে অ্যাপিল করবেন তিনি। এখানে সদরকোর্টে তাঁর পরিচিত ল-ইয়ার আছেন। আর নিছক সন্দেহের বশে কাউকে এতদিন ধরে আটকে রাখা আইনের দৃষ্টিতেই অন্যায়। থানা এবং লালবাজার থেকে আসা অফিসার যে বেকায়দায় পড়তে চলেছেন, সে-কথা ভেবেই তার মেজাজ আজ ফুরফুরে। তার উপর তৃধার বর কলকাতায় পদিধূলি দিয়েছেন। তিনদিনের মধ্যে তৃধা না ফিরলে তিনি নিজে এখানে আসবেন। আর এসে যদি দেখেন, বান্ধবী নয়, বরং বিশেষ বন্ধুর সঙ্গে সে এখানে এসেছে, তাহলে কুরুক্ষেত্র যে বেঁধে যাবে, তাতে সন্দেহ নেই। তার উপর এ-জাতীয় খুনটুনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে জানলে ডিভোর্স অবধি দিয়ে দিতে পারে। তৃধার স্বামী ভারি সন্দেহবাতিকগ্রস্ত এবং রগচটা। অরণ্য তার ল-ইয়ারকে কিছুই লুকায়নি। ল-ইয়্যার তাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তারই জিমে কার্ডিও করতে আসেন, তাও ফ্রিতে। অতএব তাঁর দিক থেকে কোন সমস্যা নেই। তিনি অরণ্যকে আশ্বস্ত করেছেন, মহিলাদের অসুবিধার কথা কোর্ট অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে বিবেচনা করেন, অতএব তৃধা খুব সহজেই এখান থেকে মুভ করার পারমিশন পেয়ে যাবে। অরণ্যও পাবে, দুদিন আগে বা পরে, তবে পাবেই। উনি অরণ্যকে সঙ্গে নিয়েই এখান থেকে যাবেন। সেই ভাবেই তৈরি হয়ে আসছেন এখানে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৩: রাজসূয় মহাযজ্ঞের প্রস্তুতিপর্বে পাণ্ডবদের দিগ্বিজয় যেন রাজনীতির আনুগত্য-আদায়ের পাঠ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯২ : শিউলি বাড়ি

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৯: বিড়ালীকৌশিক-জাতক —অতি ইচ্ছার সঙ্কট

সব শুনে তৃধারও মেজাজ খুশ। সাতসকালে উঠে সে গেছে লনে, নাকি অনেকদিন যোগা- ওয়ার্কআউট করা হয়নি বলে শরীর মুটিয়ে গেছে। স্বামীকে ইমপ্রেসড করে নিজেকে সতীসাবিত্রী প্রমাণ করতে চায় আর-কি! অরণ্য অন্য প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে উভয়পক্ষের ওয়ার্কআউট হয়ে যাবে, কিন্তু শুনে তৃধা বলেছে, “তুমি ওইসব ভালগার আর ট্র্যাশ চ্যাট করো, তাতেই ওয়ার্কআউট হয়ে যাবে। ওয়ার্ক করলেই আউট হবে আর-কি!” বলে চলে গেছে নিচের লনে। তারপরেই অরণ্য একটা সাইটে সাইন ইন করেছে। এই সাইটে কেউ গ্রাহক হতে পারে আবার সার্ভিস দিতেও পারে। সার্ভিস দেওয়ার জন্য অবশ্য রেজিষ্টার করতে হয়। যাদের রেজিষ্ট্রেশন আছে, তারা অ্যাকটিভ হলে অপশন আসে, সে এই মুহূর্তে কোন সার্ভিস দিতে চায় না-কি চায় না, কী ধরণের সার্ভিস দিতে সে পছন্দ করবে ইত্যাদি। সেগুলি ক্লিক করে করে একটা ডিমাণ্ডগ্রাফ বানিয়ে সাবমিট করলে, তারপর পাঁচ-দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। ইতিমধ্যে যারা এই ধরণের সার্ভিস নিতে চায়, তাদের একটা লিস্ট পাঠানো হয়। সেখানে সকলেই অপেক্ষা করে আছে তার কাছ থেকে সেই মুহূর্তে বিশেষ সার্ভিস নেবে বলে। তাদের মধ্যে যে-কোনও একজনকে নির্বাচন করে সে জানায়। তখন অপরপক্ষ কানেক্ট হতে পারে। তার আগে অবশ্য গ্রাহককে নির্দিষ্ট সময়ের পুরো টাকা অনলাইন পে করে দিতে হয়। তারপর চলে বিশেষ চ্যাট ইত্যাদি। আজকেও একজন মধ্যবয়সী মহিলা ন্যাকা-ন্যাকা গলায় নানা আবদার করছিলেন। সেইসঙ্গেই ডার্টি চ্যাট চলছিল। অরণ্যর জিম করা ফিফার যে অসাধারণ সুন্দর, তাতে সন্দেহ নেই। সেই শরীর তিনি পেলে ঠিক কী-কী করবেন তারই ফিরিস্তি দিচ্ছিলেন। নোংরা কথা বলে তিনি জানাচ্ছিলেন, তাঁর স্বামী এ-সব একেবারেই পারেন না। তার উপর নেয়াপাতি ভুঁড়ি আছে একটা, বেডে দশ মিনিট পারপফর্ম করেই ঘুমিয়ে পড়েন ইত্যাদি ইত্যাদি। এই জাতীয় কথা এত কমন যে শুনে-শুনে কান-মাথা পচে গেছে অরণ্যের। আসলে এ-সব ভূমিকা, এরপর এটা দেখাও, ওটা করো—এই জাতীয় সব আবদার আসবে। আসছিলও তাই। মুখে হাসি টেনে অরণ্য তাতে মশগুল ছিল। তার শরীরের পোশাক একে-একে সে খুলে ফেলেছে মহিলার ডিমান্ড অনুযায়ী। মহিলা ও-প্রান্ত থেকে উত্তেজিত হয়ে নিজের বস্ত্র মচন করছেন। পৃথুলা শরীর। তবে ফেস অ্যাট্রাকটিভ। আজকাল এ-জাতীয় শরীর দেখলে তার কামভাব জাগে না। সে যা করছে তা অ্যাক্ট, অভিনয়। এইভাবেই হাসিখেলায়, অভিনয় করেই জীবনটা ফুরিয়ে দিতে চায় সে।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৩৯: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২০

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৫: চামচিকা

দরজায় কেউ নক্‌ করল। উফফ, এই সময় কেউ ডিস্টার্ব করে? তাও আবার এত ভোরে ? সে দরজা খুলবেই না। এখনও পনেরো মিনিট বাকি। সময়ের আগেই কেউ যদি সার্ভিস দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে পুরো টাকা তো ফেরৎ দিতেই হয়, উপরন্তু পানিশমেন্ট হিসেবে একটা ভালো পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হয় অ্যাকাউন্ট থেকে। সে পাগল নাকি? এভাবে হাতের লক্ষ্মী কেউ পেয়ে হারায়? সে দরজা খুলল না। তৃধা বেরিয়ে যাওয়ার পর সে ভিতর থেকে লক্‌ করে দিয়েছে। চাইলেই যে কেউ হুট করে যাতে ঢুকে পড়তে না পারে।

দরজায় আবার নক্‌ করল কেউ। আগের চেয়ে জোরে। পাত্তা দিল না অরণ্য। তৃধা এখন নক্‌ করবে না। কারণ অরণ্য খোলাখুলিভাবেই তাকে বলে দিয়েছে এখন ঘন্তা দুই তাকে একা থাকতে হবে। এর আগেও সে এটা বলে নিয়েছে। তৃধার সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধুই শারীরিক। তৃধাকে কেন, কাউকেই পাকাপাকিভাবে বিয়ে করার কোন ইচ্ছেই তার নেই। অতএব তৃধার কাছে খোলাখুলি এ-সব বলতে তার সমস্যা হয় না। কিন্তু তৃধা যদি না হয়, তাহলে কে?
“বেবি, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে অন্য কিছু ভাবছো ? আমাকে তোমার মনে ধরেনি তাই না? আমি কি খুব মোটা হয়ে গিয়েছি?”
মনে-মনে মহিলাকে নোংরা একতা খিস্তি দিয়ে মুখে বলল, “ইস্‌, বেবি, এই বয়সেও তুমি এত সুন্দর ফিগার ধরে রেখেছ যে এক্ষুনি মনে হচ্ছে স্ক্রিনের মধ্যে দিয়ে তোমার কাছে চলে যাই আর তোমার পুষিকে খুব আদর করি…!”
“উফফফ বেবি, তুমি এত কিউট, আর এত সেক্সি কথা বল না যে আমার শরীরে আগুন জ্বলে যায়। আমারও তোমাকে চিবিয়ে খেয়ে নিতে ইচ্ছে করছে জান। এত সুন্দর ফিগার। উফফ পেলে আমি তোমাকে ছাড়ব না!”
“আমিও না। তোমার মধ্যে ডুবে যাব সোনা !” আদুরে গলার ভঙ্গীতে অরণ্য বলল।
দরজায় আবার শব্দ হল। কেউ ঘনঘন নক্‌ করছে। তাকে ডাকল কি কেউ? খেয়াল করেনি তো? কে হতে পারে? উঠতেও পারছে না। এমন মহিলা, এক্ষুনি সে যদি ছোট বাইরে পাওয়ার নাম করে ওয়াশরুমে যেতে চায়, তাহলে হয়তো বলবে, “বেবি, আমি তোমার ছোট বাইরে করা দেখব, প্লিইইইইজ!” সেটা আরও অসহ্য। মেনে নিতে পারবে না। সময় দেখাচ্ছে। আরও এগারো মিনিট।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৩: স্মৃতিশাস্ত্রের রক্তচক্ষু বনাম এক স্নেহশীল পিতা: মূষিক-কন্যার বিবাহ-উপাখ্যান

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট

তার অন্য আর একটি মোবাইল পাশেই পড়েছিল। সেখানে আননোন নাম্বার থেকে কেউ রিং করল। কে হতে পারে? বাইরে যে নক্‌ করছে সে ? কিন্তু তার এই ব্যক্তিগত নাম্বার তো সকলের জানা সম্ভব নয়, তাহলে? একটু দ্বিধায় পড়ে গেল সে। স্ক্রিনের ওধারে ন্যাকা-ন্যাকা গলায় মহিলা বলছিলেন, ‘আমি আইসক্রিম ক্যাণ্ডি খেতে খুব ভালবাসি। বেশ ইয়াম্মি। বেবি, তুমি বুঝতে পারছ, আমি কীসের কথা মিন করতে চাইছি?”
“হুঁ হুঁ, নটি গার্ল! বুঝব না?” অন্য কেউ হলে অরণ্য নিজেই ন্যাকা সাজত, বলত, কীসের কথা বলছ বেবি?” কিন্তু এখন সেসব কিছুই বলল না। সে কেবল খেয়াল রাখছিল দশটা মিনিট শেষ কখন হবে। মহিলা যদি এক্সট্রা সার্ভিস চান, তাহলে আজ সে না করে দেবে। তার ভালো মেজাজ ক্রমশ তিক্ত হয়ে উঠছিল। এখনই তার প্রয়োজন পড়ল? এত ভোরে তো এমনি দিন সে ওঠে না। সে-কথা যারা জানে, তারা কেউ নক্‌ করে তাকে ডিস্টার্ব করবে না। তাহলে যে করছে, সে তার দৈনন্দিন রুটিন জানে না। তাহলে কে? হঠাৎ তার বুকের ভিতরটা কেমন একটা করে উঠল। কালাদেও নয় তো? এই পিশাচপাহাড় রিসর্টে যখন-তখন ঢুকে পরা কালাদেও যদি এখন দাঁড়িয়ে থাকে দরজার ও-দিকে, তাহলে? এ-কথা মনে আসতেই তার মুখ অজানা আতঙ্কে থরথর করে কেঁপে উঠল। মুখ থেকে সমস্ত রক্ত এক লহমায় নেমে গিয়ে মুখটা ফ্যাকাশে করে তুলল।
মহিলা বলছিলেন ওপাশ থেকে, “কি হল বেবি? তুমি কথা বলছ না কেন? অ্যাই…”
আর কথা বলা? ভয়ে তার পুরুষাঙ্গ তখন কুঁকড়ে আসছে। ওপাশ থেকে মহিলা বলে চলেছে, “দেখাও না একবার…অ্যাই…”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭০ : চার্চ হাসপাতালের সেই সকাল

মোবাইলে আবার রিং হচ্ছিল… হাত বাড়িয়েও সেই কল ধরতে পারল না অরণ্য। সে মনেপ্রাণে চাইছিল, এই চ্যাটের সময়তা শেষ হোক, তারপর সে বারান্দায় গিয়ে চিৎকার করে তৃধাকে ডাকবে কিংবা হোটেলের কাউকে। তার মন কু গাইছে। কিছু যেন বিপদ শিয়রে শমনের মতো উপস্থিত হয়েছে। আপাতত দরজার বাইরে থাকলেও, একবার যদি সুযোগ পায়, তাহলে… নাহ্‌, এতা সে কোনভাবেই হতে দেবে না। কিছুতেই না! জীবনে সে কিছুই এখন ভোগ করেনি, যা করেছে তাতে তৃষ্ণা আরও বেড়েছে, এই তৃষ্ণা না মিটিয়ে সে এই জীবন থেকে কিছুতেই যেতে পারবে না। আর কেনই বা যাবে? কী দোষ করেছে সে? এইরকম সেক্সচ্যাট কিংবা ইল্লিগাল রিলেশনশিপে আজকাল অনেকেই থাকে। উভয়পক্ষের সম্মতি থাকলে এতে পাপ কিছু নেই, অন্যায় তো নয়ই। তাহলে ? যেখানে তার কোন দোষ নেই, অপরাধ নেই, সেখানে খামোকা এই সুন্দর হাসিখেলাময় জীবন ছেড়ে কেউ যেতে চায় ? কালাদেও হোক কিংবা আর কেউ, সে এখন দরজা খুলবে না। আগে তৃধা বা আর কেউ আসুক, তারপর দেখা যাবে! —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content