
জ্যেষ্ঠ পুত্রের সঙ্গে কথায় কথায় পার হয়ে গেল কত সময়। উদ্বেল আবেগে ভাসছিলেন আদিনাথ। কথা ফুরিয়ে এসেছিল দু’জনের। আদিনাথের বুক থেকে নিঃসরিত হচ্ছিল পূর্ণতার সুখশ্বাস। দেবব্রতর কাজ অনেক। এখনই হয়তো উঠে যাবে। আদিনাথ কথা খুঁজছেন। আর কিছুক্ষণ যদি নিজের পাশে আটকে রাখা যেত ছেলেকে।
দেবব্রত বুদ্ধিমান। নতুন প্রসঙ্গ শুরু করেছিল।
—বাবা আরও দু-একখানা প্রসঙ্গ আপনার কাছে বলবার ছিল।
—কও বাবা?
—বাবা আমি কখনও আপনাকে বলিনি। আসলে আমরা কেউই আপনাকে জানাতে চাইনি একটা বিষয়। আপনি অনর্থক ব্যস্ত হবেন এ ভেবে। তাছাড়া ভেবেছিলাম সমস্যাটা আমি একাই মিটিয়ে ফেলতে পারব।
—বাবা আরও দু-একখানা প্রসঙ্গ আপনার কাছে বলবার ছিল।
—কও বাবা?
—বাবা আমি কখনও আপনাকে বলিনি। আসলে আমরা কেউই আপনাকে জানাতে চাইনি একটা বিষয়। আপনি অনর্থক ব্যস্ত হবেন এ ভেবে। তাছাড়া ভেবেছিলাম সমস্যাটা আমি একাই মিটিয়ে ফেলতে পারব।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৫: পরবাস প্রস্তুতি (এক)

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৩: জরাসন্ধের ঔদ্ধত্য ও কৃষ্ণের ভূমিকা যুধিষ্ঠিরকৃত রাজসূয় যজ্ঞের প্রাসঙ্গিক সূচনা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৮: অপারেশন হেলথ সেন্টার

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৩: খাটাস
কপাল কুঁচকে গিয়েছিল আদিনাথের।
—বিষয়ডা কী, কও।
—শঙ্কুকে নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে।
—ক্যান?
—ও পলিটিক্যালি ডি-মরালাইজড, আন-অর্গানাইজড বলে মনে হয়।
বুকের মধ্যে আবার সেই কেউটের ছোবল। জানেন আদিনাথ। গোড়া থেকেই শঙ্কর ওর জীবনের অভিশাপ। জন্ম কুণ্ডলীর মোড়ানো অবয়ব তার চোখের পর্দার নিচে মুখব্যাদান করে যায় অহরহ। গর্বোন্নত পিতার এবার অন্তর্গুহায় লুকিয়ে পড়বার পালা। না কোনও প্রশ্ন নেই শঙ্করের ব্যাপারে তাঁর। যে কোনও বিপথগামী ঔদ্ধত্যপূর্ণ অন্যায় কাজ, এ পরিবারের পক্ষে যা ভয়াবহ অসম্মানকর, তা ও করতে পারে। জন্মশত্রু শঙ্কর আদিনাথের জন্ম শত্রু।
—বিষয়ডা কী, কও।
—শঙ্কুকে নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে।
—ক্যান?
—ও পলিটিক্যালি ডি-মরালাইজড, আন-অর্গানাইজড বলে মনে হয়।
বুকের মধ্যে আবার সেই কেউটের ছোবল। জানেন আদিনাথ। গোড়া থেকেই শঙ্কর ওর জীবনের অভিশাপ। জন্ম কুণ্ডলীর মোড়ানো অবয়ব তার চোখের পর্দার নিচে মুখব্যাদান করে যায় অহরহ। গর্বোন্নত পিতার এবার অন্তর্গুহায় লুকিয়ে পড়বার পালা। না কোনও প্রশ্ন নেই শঙ্করের ব্যাপারে তাঁর। যে কোনও বিপথগামী ঔদ্ধত্যপূর্ণ অন্যায় কাজ, এ পরিবারের পক্ষে যা ভয়াবহ অসম্মানকর, তা ও করতে পারে। জন্মশত্রু শঙ্কর আদিনাথের জন্ম শত্রু।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৮: অসম-মিজোরাম সীমান্তে ঘাড়মুড়ার নব আবিষ্কৃত ভাস্কর্যও সুপ্রাচীন

হ্যালো বাবু! পর্ব-১১৫: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৪
স্তব্ধ নির্বাক পিতা। দেবব্রত সান্ত্বনা দেয়।
—বাবা শোনেন। ডি মরালাইজড মানে এই নয় যে, ও গুন্ডামি করছে। ও আসলে কমিউনিস্ট পার্টিতে নাম লিখিয়েছে। পুলিশ দিন সাতেক আগে এ বাড়িতে এসেছিল ওর খোঁজ খবর করতে। তো আমার ভাই যে কখনও পুলিশের খোঁজ করা ব্যক্তি হতে পারে না সেটা বুঝে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই চলে গিয়েছে। কাজেই আপনাদের ডায়মন্ড হারবারের বাড়িতে আপাতত কয়েকটা দিন কাটানোর ব্যাপারে ধরতে পারেন এও একটা কারণ। শঙ্কুকে এই পরিবেশ থেকে কিছুদিনের জন্য সরিয়ে দেওয়া দরকার।
—বাবা শোনেন। ডি মরালাইজড মানে এই নয় যে, ও গুন্ডামি করছে। ও আসলে কমিউনিস্ট পার্টিতে নাম লিখিয়েছে। পুলিশ দিন সাতেক আগে এ বাড়িতে এসেছিল ওর খোঁজ খবর করতে। তো আমার ভাই যে কখনও পুলিশের খোঁজ করা ব্যক্তি হতে পারে না সেটা বুঝে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই চলে গিয়েছে। কাজেই আপনাদের ডায়মন্ড হারবারের বাড়িতে আপাতত কয়েকটা দিন কাটানোর ব্যাপারে ধরতে পারেন এও একটা কারণ। শঙ্কুকে এই পরিবেশ থেকে কিছুদিনের জন্য সরিয়ে দেওয়া দরকার।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৬৩: বরাকের ভট্ট সঙ্গীত এবং বারমোসী গান

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৬: কুণ্টণি জাতক : ক্ষতির খতিয়ান
আদিনাথ নিরুত্তরে ভাবতে থাকেন দেবব্রতর সিদ্ধান্তের যথাযোগ্যতা। মাঝখানে শুধু জিজ্ঞাসা করেন—
—কি কইরা বুঝলা শঙ্কর কমিউনিস্ট? পুলিশ আইছিল বইল্যা?
দেবব্রত মাথা নাড়ে।
—না বাবা, তা নয়।
—তয়?
—কিছুদিন ধরেই সময় মত বাড়ি ফেরে না। খাওয়া-দাওয়ার ঠিক নেই। উসকো-খুশকো নোংরা পোশাকে বেরিয়ে যায়, তখন খোঁজ খবর করিয়েছি। জানলাম, উদ্বাস্তু শিবিরগুলোয় ঘুরছে।
—কিয়ের লিগা?
—ওদের বাস্তু জমি দেবার ব্যাপারে সরকার বিরোধী মিছিল-টিছিলে হাঁটছে। আন্দোলন করছে। লাল পতাকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
উদ্বিগ্ন আদিনাথ বলেন—
—আর ওর পেইন্টিং ড্রয়িং এইসব?
—বলেছিলাম, সেও বলেছিলাম। একতলার গ্যারেজের ওপরের ঘরটা ও স্টুডিয়ো বানাক। সেখানে যা প্রয়োজন যেমন খুশি আঁকুক, কিন্তু বাবা সেখানে আঁকা চলে ঠিকই, সে সবই কমিউনিস্ট পার্টির ব্যানার হোর্ডিং পোস্টার।
—কি কইরা বুঝলা শঙ্কর কমিউনিস্ট? পুলিশ আইছিল বইল্যা?
দেবব্রত মাথা নাড়ে।
—না বাবা, তা নয়।
—তয়?
—কিছুদিন ধরেই সময় মত বাড়ি ফেরে না। খাওয়া-দাওয়ার ঠিক নেই। উসকো-খুশকো নোংরা পোশাকে বেরিয়ে যায়, তখন খোঁজ খবর করিয়েছি। জানলাম, উদ্বাস্তু শিবিরগুলোয় ঘুরছে।
—কিয়ের লিগা?
—ওদের বাস্তু জমি দেবার ব্যাপারে সরকার বিরোধী মিছিল-টিছিলে হাঁটছে। আন্দোলন করছে। লাল পতাকা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
উদ্বিগ্ন আদিনাথ বলেন—
—আর ওর পেইন্টিং ড্রয়িং এইসব?
—বলেছিলাম, সেও বলেছিলাম। একতলার গ্যারেজের ওপরের ঘরটা ও স্টুডিয়ো বানাক। সেখানে যা প্রয়োজন যেমন খুশি আঁকুক, কিন্তু বাবা সেখানে আঁকা চলে ঠিকই, সে সবই কমিউনিস্ট পার্টির ব্যানার হোর্ডিং পোস্টার।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৯ : উত্তরমেঘ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত
সেদিন রাত্তিরেই খেতে বসে ছোট্ট সুধা বুঝেছিল একটা কোনও গণ্ডগোল। মা দিদি আর সোনাদা খাবার ঘরের বাইরের চাতালে অনেক কথা বলছে। ফুলদি আর সুধা হাত শুকিয়ে ঠায় বসেছিল। মা শেষের পাতে দুধ দেবে বলে চলে গিয়েছে কতক্ষণ। শেষে শোনা গেল, সোনাদার উত্তেজিত কণ্ঠ। তাতে ছেঁড়া ছেঁড়া দু’চারটে কথা শুনে ওরা দুই বোন আঁতকে উঠেছিল।
—সোনাদা কয় কিরে ফুলদি?
—বোঝস না, আমাদের ইহান থিকা অন্য কোথাও যাইতে হইবো।
—কুথায় যাব রে? এ তো আমাগো বাসা!!
বিজ্ঞের মতো ভঙ্গি করে গৌরী বলে—
—তরে আগে কই নাইম ত’র ভয় লাগত।
—কী কী, ভয় করুম না এহন ক।
—ক’দিন আগে রাঙা কাকা আইছিল।
—হ হ, জানি তো।
—সেই দিন আমি শুনছি নিজ কানে। বড়দারে কইছিল আমাগো ডায়মন্ড হারবার না কোথায় পৌঁছানোর কথা।
—সে আবার কুথা, আর নিজেদের বাসা ছাইরা যামুই বা ক্যান?
—ওই যে রাম দাদার অসুখ, ডাক্তার নাকি কইছেন চেঞ্জে যাবার লিগা!—চলবে।
—সোনাদা কয় কিরে ফুলদি?
—বোঝস না, আমাদের ইহান থিকা অন্য কোথাও যাইতে হইবো।
—কুথায় যাব রে? এ তো আমাগো বাসা!!
বিজ্ঞের মতো ভঙ্গি করে গৌরী বলে—
—তরে আগে কই নাইম ত’র ভয় লাগত।
—কী কী, ভয় করুম না এহন ক।
—ক’দিন আগে রাঙা কাকা আইছিল।
—হ হ, জানি তো।
—সেই দিন আমি শুনছি নিজ কানে। বড়দারে কইছিল আমাগো ডায়মন্ড হারবার না কোথায় পৌঁছানোর কথা।
—সে আবার কুথা, আর নিজেদের বাসা ছাইরা যামুই বা ক্যান?
—ওই যে রাম দাদার অসুখ, ডাক্তার নাকি কইছেন চেঞ্জে যাবার লিগা!—চলবে।
* ধারাবাহিক উপন্যাস (novel): দেওয়াল পারের দেশ (Dewal Parer Desh)। লিখছেন জয়িতা দত্ত (Dr. Jayita Dutta), বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, হুগলি মহসিন কলেজ।


















