
“The eternal quest of the human being is to shatter his loneliness.”—মানুষের অস্তিত্বের গভীরে লুকিয়ে আছে অন্য একজন মানুষের সঙ্গে সত্যিকারের সংযোগের আকাঙ্ক্ষা… এই উক্তি আমাদের সেই কথাই গভীরভাবে জানান দেয়। আমরা জানি, মানুষ সামাজিক জীব—এই পরিচয়টি চিরন্তন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, একবিংশ শতাব্দীতে এসে যখন আমরা দাঁড়াই যেখানে যোগাযোগের মাধ্যম অত্যন্ত বিস্তৃত, তখনই মানুষ যেন ক্রমশ আরও একা হয়ে পড়ছে।
আজকের শহরকে দেখলে চোখে পড়ে একাকীত্বের সঙ্গে ভিড়ের এই অদ্ভুত সহাবস্থান। রাস্তায় অসংখ্য মানুষ, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর ভিড়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শত শত পরিচিতি, তবু মনের কথা বলার মতো একজন প্রকৃত মানুষ খুঁজে পাওয়া অনেকের কাছেই বেশ কঠিন। একই ঘরে বসে থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই মুখোমুখি বসে একে অপরের সঙ্গে কথা বলার বদলে নিজ নিজ মোবাইলের পর্দায় ব্যস্ত। যেন বলা যায়, আমরা সবাই সংযুক্ত, অথচ সত্যিকার অর্থে কেউ কারও কাছে পৌঁছতে পারছি না।
আজকের শহরকে দেখলে চোখে পড়ে একাকীত্বের সঙ্গে ভিড়ের এই অদ্ভুত সহাবস্থান। রাস্তায় অসংখ্য মানুষ, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর ভিড়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শত শত পরিচিতি, তবু মনের কথা বলার মতো একজন প্রকৃত মানুষ খুঁজে পাওয়া অনেকের কাছেই বেশ কঠিন। একই ঘরে বসে থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই মুখোমুখি বসে একে অপরের সঙ্গে কথা বলার বদলে নিজ নিজ মোবাইলের পর্দায় ব্যস্ত। যেন বলা যায়, আমরা সবাই সংযুক্ত, অথচ সত্যিকার অর্থে কেউ কারও কাছে পৌঁছতে পারছি না।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।” এই কথার গভীর তাৎপর্য আজ নতুন করে উপলব্ধি করা দরকার। কারণ সম্পর্কের সংকটের মূলে শুধু প্রযুক্তি নয়; রয়েছে পারস্পরিক বিশ্বাস, ধৈর্য ও সহমর্মিতার ক্রমশ অবক্ষয়।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে অভূতপূর্বভাবে বদলে দিয়েছে। কয়েক সেকেন্ডে চোখের পলকে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে বর্তমানে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের জীবন আমাদের চোখের সামনে আসে। কিন্তু এই কথা কি আমরা খুব জোর দিয়ে বলতে পারি যে যোগাযোগের পরিমাণ বাড়লেই সম্পর্কের গভীরতা ততধিক বেড়েছে?
একটি ‘লাইক’, একটি ‘কমেন্ট’ বা একটি ইমোজি কখনও কখনও আনন্দের প্রকাশ হতে পারে, কিন্তু তা সবসময় মানুষের অন্তর্গত অনুভূতির বিকল্প নয়। মানুষ শুধু কথা বলতে চায় না; সে চায় তার বিপরীতে যে মানুষ বসে আছেন, তিনি যেন মন দিয়ে তার কথা শোনেন এবং গুরুত্ব দেন।
দার্শনিক মার্টিন বারবার-এর ‘I-Thou’ ধারণায় মানুষের সম্পর্কের মধ্যে প্রকৃত সংলাপ ও পারস্পরিক উপস্থিতির গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে। তার মতে, অন্য মানুষকে কেবল তথ্যের উৎস বা সামাজিক মাধ্যমের একটি প্রোফাইল হিসেবে নয়, একজন সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখার মধ্যেই সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয়।
একসময় পরিবার ছিল মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে বসা, গল্প করা, পাড়ার মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়া—এসব ছিল দৈনন্দিন জীবনে ছন্দে ফেরার এক স্বাভাবিক গতি। আধুনিক জীবনে প্রযুক্তির উন্নতি সেই অভ্যাসের অনেকটাই বদল এনেছে।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে অভূতপূর্বভাবে বদলে দিয়েছে। কয়েক সেকেন্ডে চোখের পলকে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে বর্তমানে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের জীবন আমাদের চোখের সামনে আসে। কিন্তু এই কথা কি আমরা খুব জোর দিয়ে বলতে পারি যে যোগাযোগের পরিমাণ বাড়লেই সম্পর্কের গভীরতা ততধিক বেড়েছে?
একটি ‘লাইক’, একটি ‘কমেন্ট’ বা একটি ইমোজি কখনও কখনও আনন্দের প্রকাশ হতে পারে, কিন্তু তা সবসময় মানুষের অন্তর্গত অনুভূতির বিকল্প নয়। মানুষ শুধু কথা বলতে চায় না; সে চায় তার বিপরীতে যে মানুষ বসে আছেন, তিনি যেন মন দিয়ে তার কথা শোনেন এবং গুরুত্ব দেন।
দার্শনিক মার্টিন বারবার-এর ‘I-Thou’ ধারণায় মানুষের সম্পর্কের মধ্যে প্রকৃত সংলাপ ও পারস্পরিক উপস্থিতির গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে। তার মতে, অন্য মানুষকে কেবল তথ্যের উৎস বা সামাজিক মাধ্যমের একটি প্রোফাইল হিসেবে নয়, একজন সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখার মধ্যেই সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয়।
একসময় পরিবার ছিল মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে বসা, গল্প করা, পাড়ার মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়া—এসব ছিল দৈনন্দিন জীবনে ছন্দে ফেরার এক স্বাভাবিক গতি। আধুনিক জীবনে প্রযুক্তির উন্নতি সেই অভ্যাসের অনেকটাই বদল এনেছে।
আরও পড়ুন:

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

উপন্যাস, পর্ব-৮৭ : আকাশ এখনও মেঘলা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৫: শিয়রচাঁদা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৫: কৃষ্ণবিরোধিতার প্রসঙ্গে ভীষ্মের বিরূপ সমালোচনা সত্ত্বেও কে স্মরণীয়? শিশুপাল? না ভীষ্ম?
আজকালকার দিনে যৌথ পরিবারের পরিবর্তে বেশি আকাঙ্ক্ষিত নিউক্লিয়ার পরিবার, যেখানে তিনজন বা চারজনের ছোট্ট সংসার, কর্মব্যস্ততা, দীর্ঘ অনিয়মিত কর্মঘণ্টা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা মানুষের স্বাধীনতাকে হয়ত অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে, দিয়েছে আর্থিক স্বচ্ছলতা ঠিকই, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কমিয়ে এনেছে পারস্পরিক নির্ভরতা।
বিশেষ করে বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনের যুগ প্রবীণ মানুষদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। তাদের বলতে গেলে প্রায় অধিকাংশ সন্তানই কর্মসূত্রে দূরে, নাতি-নাতনিরা নিজেদের পড়াশোনা ও প্রযুক্তির জগতে ব্যস্ত—ফলে একই পরিবারের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে এক অদৃশ্য দেওয়াল।
অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মও কিন্তু এই সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চিন্তা তার জন্য প্রতিযোগিতা, সাফল্যের চাপ এবং অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করার প্রবণতা তাদের মনে এক ধরনের অস্বাভাবিক অস্থিরতা তৈরি করে চলেছে।
সামাজিক মাধ্যমের ‘সুখ’ কতটা সত্য?
সামাজিক মাধ্যমে আমরা সাধারণত জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলিই তুলে ধরি। হাসিমুখ, ভ্রমণ, সাফল্য, উদ্যাপন—সবকিছুই যেন নিখুঁত। কিন্তু জীবনের ব্যর্থতা, হতাশা, অনিশ্চয়তা কিংবা একাকীত্বের ছবি সেখানে কি আদৌ দেখাতে পারি ?
ফলে সমাজমাধ্যমের ওইসব সাজানো সুন্দর ছবিগুলি দেখে মানুষ স্বভাবতই নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে তুলনা করে ফেলে। ফলে ছবিগুলো স্কোল করতে করতে আমাদের মনে হয়—“এই বিশ্বে সবাই খুব ভালো আছে, শুধু আমিই পিছিয়ে।” কিন্তু মনে রাখা দরকার, সামাজিক মাধ্যমের দৃশ্যমান জীবন আর বাস্তব জীবন এক নয়। মানুষের জীবনের একটি মুহূর্ত কখনও পুরো জীবনকে তুলে ধরতে পারেনা।
বিশেষ করে বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনের যুগ প্রবীণ মানুষদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। তাদের বলতে গেলে প্রায় অধিকাংশ সন্তানই কর্মসূত্রে দূরে, নাতি-নাতনিরা নিজেদের পড়াশোনা ও প্রযুক্তির জগতে ব্যস্ত—ফলে একই পরিবারের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে এক অদৃশ্য দেওয়াল।
অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মও কিন্তু এই সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চিন্তা তার জন্য প্রতিযোগিতা, সাফল্যের চাপ এবং অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করার প্রবণতা তাদের মনে এক ধরনের অস্বাভাবিক অস্থিরতা তৈরি করে চলেছে।
সামাজিক মাধ্যমের ‘সুখ’ কতটা সত্য?
সামাজিক মাধ্যমে আমরা সাধারণত জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলিই তুলে ধরি। হাসিমুখ, ভ্রমণ, সাফল্য, উদ্যাপন—সবকিছুই যেন নিখুঁত। কিন্তু জীবনের ব্যর্থতা, হতাশা, অনিশ্চয়তা কিংবা একাকীত্বের ছবি সেখানে কি আদৌ দেখাতে পারি ?
ফলে সমাজমাধ্যমের ওইসব সাজানো সুন্দর ছবিগুলি দেখে মানুষ স্বভাবতই নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে তুলনা করে ফেলে। ফলে ছবিগুলো স্কোল করতে করতে আমাদের মনে হয়—“এই বিশ্বে সবাই খুব ভালো আছে, শুধু আমিই পিছিয়ে।” কিন্তু মনে রাখা দরকার, সামাজিক মাধ্যমের দৃশ্যমান জীবন আর বাস্তব জীবন এক নয়। মানুষের জীবনের একটি মুহূর্ত কখনও পুরো জীবনকে তুলে ধরতে পারেনা।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৪: বুনো তেঁতুল, বাঘা ওল

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
একাকীত্বের অন্যতম বড় কারণ সম্ভবত কথার অভাব নয়, শ্রোতার অভাব। আমরা সবাই নিজের কথা বলতে চাই। কিন্তু অন্যের কথা মন দিয়ে শোনার সময় বা ধৈর্য কতটা আছে? কেউ নিজের সমস্যার কথা বলতে শুরু করলেই আমরা অনেক সময় তাকে থামিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করি। অথচ মানুষের মনের ভার কমানোর জন্য সবসময় উপদেশের প্রয়োজন হয় না; কখনও কখনও একজন মনোযোগী শ্রোতার ই খুব প্রয়োজন।
হেলেন কেলার-এর একটি বহুল উদ্ধৃত ভাবনা—“Alone we can do so little; together we can do so much.” মানুষের শক্তি শুধু তার ব্যক্তিগত সামর্থ্যে নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্কের মধ্যেও নিহিত।
এই ভয়াবহ সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে গেলে শুধু যে সমাধান প্রযুক্তিকে বর্জন করতে হবে তা কিন্তু আদৌ নয়। দিনে দিনে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তাই প্রয়োজন প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতার একটি সুস্থ ভারসাম্য তৈরি করা।
প্রতিদিন কিছুটা সময় পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, বন্ধুর খোঁজ নেওয়া, বই পড়া, প্রকৃতির কাছে যাওয়া, প্রতিবেশীর সঙ্গে পরিচিত হওয়া কিংবা কোনও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া—এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপই মানুষের সঙ্গে মানুষের বাস্তব সংযোগ ফিরিয়ে আনতে পারে।
হেলেন কেলার-এর একটি বহুল উদ্ধৃত ভাবনা—“Alone we can do so little; together we can do so much.” মানুষের শক্তি শুধু তার ব্যক্তিগত সামর্থ্যে নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্কের মধ্যেও নিহিত।
এই ভয়াবহ সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে গেলে শুধু যে সমাধান প্রযুক্তিকে বর্জন করতে হবে তা কিন্তু আদৌ নয়। দিনে দিনে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তাই প্রয়োজন প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতার একটি সুস্থ ভারসাম্য তৈরি করা।
প্রতিদিন কিছুটা সময় পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, বন্ধুর খোঁজ নেওয়া, বই পড়া, প্রকৃতির কাছে যাওয়া, প্রতিবেশীর সঙ্গে পরিচিত হওয়া কিংবা কোনও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া—এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপই মানুষের সঙ্গে মানুষের বাস্তব সংযোগ ফিরিয়ে আনতে পারে।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪
শিশুদের ক্ষেত্রেও এই শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার শিক্ষা দিলে চলবে না; শেখাতে হবে কীভাবে অন্যের কথা শুনতে হয়, কীভাবে সহানুভূতিশীল হতে হয় এবং কীভাবে বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়।
সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। একটি উন্নত শহর শুধু উঁচু উঁচু বিল্ডিং, প্রশস্ত রাস্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি হয় না। এমন সামাজিক পরিবেশও দরকার, যেখানে মানুষ একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারে, নিঃসংকচে কথা বলতে পারে এবং নিজের অস্তিত্বকে অন্যের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে অনুভব করতে পারে।
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যখন পৃথিবী প্রযুক্তিগতভাবে আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত। অথচ মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তাই আজ প্রশ্ন হওয়া উচিত—আমাদের ফোনবুকে কতজন মানুষের নাম আছে, কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কতজন অনুসারী আছে, তা নয়।
সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। একটি উন্নত শহর শুধু উঁচু উঁচু বিল্ডিং, প্রশস্ত রাস্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি হয় না। এমন সামাজিক পরিবেশও দরকার, যেখানে মানুষ একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারে, নিঃসংকচে কথা বলতে পারে এবং নিজের অস্তিত্বকে অন্যের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে অনুভব করতে পারে।
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যখন পৃথিবী প্রযুক্তিগতভাবে আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি সংযুক্ত। অথচ মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তাই আজ প্রশ্ন হওয়া উচিত—আমাদের ফোনবুকে কতজন মানুষের নাম আছে, কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কতজন অনুসারী আছে, তা নয়।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৮ : ঘটজাতক/৩ : দশে মিলে?
প্রশ্ন হওয়া উচিত—আমাদের নীরবতা বুঝতে পারে এমন মানুষ কতজন?
সম্পর্কের গভীরতা সংখ্যায় মাপা যায় না। একটি আন্তরিক কথোপকথন, একজন মনোযোগী শ্রোতা, একটি সহানুভূতির হাত—অনেক সময় শত শত ভার্চুয়াল যোগাযোগের চেয়েও বেশি মূল্যবান।
রবীন্দ্রনাথের সেই বিশ্বাস—“মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ”—আজও আমাদের পথ দেখাতে পারে। কারণ প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানুষের হৃদয়ের শূন্যতা পূরণ করার ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত মানুষেরই।
তাই একাকীত্বের ভিড় থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম পদক্ষেপটি হয়তো খুব ছোট—একজন মানুষের দিকে তাকিয়ে সত্যি করে জিজ্ঞাসা করা, ‘তুমি কেমন আছ?’ এবং তার উত্তরের জন্য একটু সময় নিয়ে অপেক্ষা করা।
সেখান থেকেই হয়তো আবার শুরু হতে পারে মানুষের সঙ্গে মানুষের সত্যিকারের যোগাযোগ।
সম্পর্কের গভীরতা সংখ্যায় মাপা যায় না। একটি আন্তরিক কথোপকথন, একজন মনোযোগী শ্রোতা, একটি সহানুভূতির হাত—অনেক সময় শত শত ভার্চুয়াল যোগাযোগের চেয়েও বেশি মূল্যবান।
রবীন্দ্রনাথের সেই বিশ্বাস—“মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ”—আজও আমাদের পথ দেখাতে পারে। কারণ প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানুষের হৃদয়ের শূন্যতা পূরণ করার ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত মানুষেরই।
তাই একাকীত্বের ভিড় থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম পদক্ষেপটি হয়তো খুব ছোট—একজন মানুষের দিকে তাকিয়ে সত্যি করে জিজ্ঞাসা করা, ‘তুমি কেমন আছ?’ এবং তার উত্তরের জন্য একটু সময় নিয়ে অপেক্ষা করা।
সেখান থেকেই হয়তো আবার শুরু হতে পারে মানুষের সঙ্গে মানুষের সত্যিকারের যোগাযোগ।
* লেখক: ড. সঞ্চিতা কুণ্ডু (Sanchita Kundu) সংস্কৃতের অধ্যাপিকা, হুগলি মহসিন কলেজ।


















