রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
মিস্টার কাপাডিয়া জানালার ধারে তাঁর অতি প্রিয় গদিআঁটা বড় চেয়ারটায় বসে সামনের ডেস্কে কিছু খাতাপত্র নিয়ে হিসেব কষছিলেন। গভীর রাত আস্তে-আস্তে তরল হয়ে আসছে। আজ সারারাতও তাঁর ঘুম হল না। এমন অনেক রাতই তাঁর ঘুম হয় না। বহুকাল ধরেই। অথচ আর সবার মতো তিনিও নিদ্রাদেবীর আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে আসেন। কোনও-কোনওদিন ঘুমিয়েও পড়েন। কিন্তু সেই রকম দিন বছরে দু-দশদিনই আসে। বাদবাকিদিন বিছানায় শুয়ে ছটফট করা, মাথার চুল ছেঁড়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। চারদিকে সবাই যখন ঘুমের অতলে তলিয়ে গিয়েছে, তিনি তখন ঘুমরাজ্যের সিংহদুয়ারের এ-পাশে পায়চারি করেন, কিন্তু দরজা আর খোলে না। এমনি কত বিনিদ্র রজনী কাটাতে-কাটাতে তাঁর চোখের তলায় কালি পড়েছে, চেহারা ভেঙে গেছে, কিন্তু ঘুম না-এলে তিনি আর কী-ই বা করতে পারেন। ঘুমের ওষুধ খেতেন প্রথম-প্রথম, কিন্তু আজকাল তা-ও আর কাজে লাগে না। অবশ্য এখন আর তিনি চেষ্টাও করেন না। ঘুম এলে ভালো, না-এলে জরুরি কাজ থাকলে করেন, হিসেবনিকেশ বাকি থাকলে সেরে রাখেন, কোনও মেইল বা মেসেজ করার থাকলে তা-ও করে রাখেন কিংবা খাতাপত্র নিয়ে টুকটাক পরিকল্পনায় বসে যান। কখন-কখন ভোরের দিকে যখন সবাই ঘুম থেকে ওঠবার তোড়জোর শুরু করে, তখন তাঁর চোখে ঘুম নেমে আসে। আর এমনটা হলেই কাপাডিয়া ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমের ব্যাপারে তাঁর ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।
আজও তেমন একটা দিন। আজ ঘুমাবার রাত নয় জেনেই কাপাডিয়া একরাশ কাজ নিয়ে বসেছিলেন। যত বেশি কাজ করে মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করতে পারবেন, তত তাড়াতাড়ি হয়তো ঘুম আসবে। যদিও নিজেই জানেন, ধন্য আশা কুহকিনী! যদি তেমনটাই হত, তাহলে ভিতরে-ভিতরে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত কাপাডিয়া কবেই যে চিরঘুমের দেশে চলে যেতেন, তার নেই ঠিক! আর এখন? পিশাচপাহাড়…পিশাচপাহাড় রিসর্ট কি তাঁকে আর ঘুমাতে দেবে? এ-সমস্তই ছেড়েছুড়ে দিয়ে যদি চলে যেতে পারতেন তিনি, তাহলে নিজেই কি খুশি হতেন না? হাতের কলমটা নামিয়ে রাখেন তিনি। একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলেন সশব্দে। এই একলা ঘরে কেই বা আছে এখন যে তাঁর এই দীর্ঘনিঃশ্বাস শুনতে পাবে? জানালার পর্দা সামান্য সরানো। ওপাশে ঘুমন্ত পিশাচপাহাড় রিসর্টের বাইরের লন, দূরের জঙ্গল, টিলা, এ-পাশে বিনিদ্র তিনি। ভোর হওয়ার বেশি দেরি নেই আর। আস্তে-আস্তে অন্ধকার তরল হয়ে গিয়ে প্রকৃতির ঘুম ভাঙিয়ে দিয়ে যাবে। তখন হয়ত তাঁর চোখে ঘুম নামবে। হয়তো তখন নামবে না।

অবশ্য ঘুমালেও কি রেহাই আছে? ঘুমের মধ্যে ছেঁড়া-ছেঁড়া ভাবে এসে দাঁড়ায় বিপর্যস্ত অতীত, বর্তমানের শঙ্কা, উদ্বেগ, এলোমেলো ভাবনারা। কোথায় এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবনের মধুর সময় কাটাবেন, তা নয়, তাঁকে এই পিশাচপাহাড়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে। অথচ এমন জীবন তো তাঁর প্রাপ্য ছিল না! অন্যরকম একটা জীবনের কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু মানুষ চাইলেই কি আর সব হয়? অকাল বার্ধক্য এসে যেন এলোমেলো করে দিয়েছে তাঁকে। যৌবনের আনন্দ-উল্লাস কিছুই ভোগ করা হল না। শান্ত-ধীর-স্থির, আদ্যোপান্ত ছাপোষা জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখা একজন মানুষ যেন দাঁড়িয়ে আছেন আগুনের মধ্যে। লড়াই করে বাঁচতে হচ্ছে যেন। সর্বদাই মনে হচ্ছে, এই লড়াইয়ে তিনি হেরে যাবেন, প্রতিপক্ষ সকলেই তাঁকে হারিয়ে দেবে! তাঁর জীবনের লক্ষ্য সম্পূর্ণ না করেই তাঁকে ‘দ্য এন্ড’ ঘোষণা করতে হবে। জীবনে আবার অসহায়ভাবে বরণ করে নিতে হবে ‘হেরো’র তকমা। যার জন্য এত চেষ্টা, এত সংগ্রাম, সেই বলবে, “আসলে কী জানো, তুমি বেসিক্যালি একজন হেরো মানুষ। নিজের স্ত্রীকে দেওয়া কথাও রাখতে পারো না। একটা শান্ত-সুখী জীবনও তাকে দিতে পারো না? কিসের এত বড়াই করো তাহলে?”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৬: মত্ত হস্তির দাপাদাপি

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৫: সুস্থ থাকলে কেউ কি কবিতা লেখে?

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৩: ডেসডিমোনার রুমাল/২

হ্যাঁ, পারেননি। স্ত্রীকে দেওয়া কথা এখনও সম্পূর্ণ রাখতে পারেননি তিনি। কিন্তু চেষ্টা তো করছেন? জীবনমরণ তুচ্ছ করে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে চাইছেন তিনি। অন্তত হেরো-মেনিমুখোর তক্‌মা তিনি ঝেড়ে ফেলতে চান। আর যদি সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন, তাহলে এই পিশাচপাহাড় রিসর্ট, কাজকারবার সমস্ত ছেড়ে দিয়ে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাবেন অনেক দূরে। বাকি জীবন নিজেদের মতো করে কাটিয়ে দেবেন। কিছুটা কাজ করতে পেরেছেন তিনি, কিন্তু অনেকটাই বাকি। জীবনে কোন কাজ তো আর মসৃণভাবে হওয়ার নয়। কথায় বলে না, জীবন কুসুমাস্তীর্ণ নয়, তার পদে-পদে কাঁটা! তুমি যতই আপনমনে চল, কেউ-না-কেউ প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে এসে তোমার চলার পথে, লড়াইয়ের ময়দানে। কথাটা তাঁর ক্ষেত্রে তো আরও বেশি সত্য। কোনদিন আর এতটুকু সুখ পেলেন তিনি? সেই অবকাশটুকুই বা কে দিল তাঁকে ? বিয়ের পরে কয়েক পক্ষকাল কেবল জীবনের মধুরতম প্রহরগুলি কেটেছে। বাকি সমস্তটাই অন্ধকার আর অন্ধকার, লড়াই আর লড়াই!

আজকাল বয়স বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে একটানা কাজ করতে পারেন না তিনি। কাজের ফাঁকে-ফাঁকেই মনে হয়, ফেলে আসা জীবনের কথা, বর্তমান জীবনের কথা, অজানা ভবিষ্যতের কথাও। এই জীবন কি তিনি চেয়েছিলেন ? সামনে যে জীবন আসছে, তাও কি তাঁর চাওয়ার মতো করে পাবেন তিনি? আশা রাখেন না। বড় কঠিন সময়। কখন যে কী হয় তা বলা মুশকিল। তবে এমনিতে যা বুঝছেন, পিশাচপাহাড় রিসর্টটা আর কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ করে [দিতে বাধ্য হবেন মালিক। এই-সব খুন-জখম যদি বন্ধও হয়ে যায়, তাহলেও এই রিসর্ট সম্পর্কে বাজারে ইতিমধ্যেই যে বদনাম ছড়িয়েছে, তাতে আগামীদিনে এখানে ট্যুরিস্টপার্টি কতটা আসবে, তা-নিয়ে সন্দেহ আছে তাঁর। খুব স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি ব্যাপারটা। কে আর এমন জায়গায় ছুটি কাটাতে আসতে চায়, যেখানে কয়েকটা খুন, কয়েকটা খুনের চেষ্টা, অতর্কিত হামলা ইত্যাদি ঘটেছে? অতএব তখন সব ছেড়েছুড়ে দিয়ে অন্য কোথাও পাড়ি জমাতে হবে। তবে আর কাজ নয়। যথেষ্ট কাজ হয়ে গিয়েছে এক জীবনে। এরপর বাকি জীবন কেবল অনুতাপ আর প্রার্থনায় কাটতে হবে দু’জনকে।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২২: সুন্দরবনের পাখি: ডোরা-লেজ জৌরালি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

সামনের কয়েকটি দিন কতগুলি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে, তার হিসেব আজ ছকে ফেলতে হবে। সব সময় আগে থেকে প্ল্যান করে রাখলেই কাজ হয় না। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্ল্যান বদলাতে হয়, হিসেবনিকেশ পাল্টে ফেলতে হয়। এই যে, আজ তিনি এই পিশাচপাহাড়-রিসর্টে ম্যানেজারের কাজ করছেন, এ-কি তাঁর প্ল্যানে ছিল? ছিল না। কিন্তু পরিস্থিতি বাধ্য করেছে। তাঁর তো স্বপ্ন ছিল, বিদেশে থাকার। একটা অন্যরকম জব, একটা ডিগনিফায়েড জীবন কাটানোর। সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু তারপর সেই প্ল্যান ভেস্তে গেল। খড়কুটোর মতো ভাসতে-ভাসতে আজ এসে পড়েছেন এখানে। আসতে বাধ্য হয়েছেন। জীবন বড় বিচিত্র। সে আদতে নিরপেক্ষ। কিছুতেই তার কিছু যায় আসে না। এক মুহূর্তে যাকে ঝুলি ভরে দিচ্ছে, পরমুহূর্তেই তাকে পথের ভিখারি করে দিতে একবারও ভাবে না সে। আজকাল সেজন্য প্ল্যান করেন, কাটাকুটি করেন, বদলান, আবার রিভ্যাইজ করেন। আদতে একটা অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে জীবন প্রবাহিত হচ্ছে এখন। অবশ্য এমনটা যে হবে, তা আগে থেকেই জানতেন। কোনওদিন আর জীবন তার জন্য সুখশয্যা পেতে রেখেছিল? কিন্তু না! তিনি তা বলে ভেঙে পড়েননি কিংবা হতোদ্যম হয়ে পড়েননি। ভাবতে-ভাবতেই চোয়াল কঠিন হয় তাঁর। হৃদয়কে শক্ত করে, ধৈর্য্য ধরে লেগে থেকেছেন তিনি। আগামীদিনেও থাকবেন। যাঁরা তাঁর পথে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার, তাদেরকে মনোমত জবাব না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই তাঁর। হিসেবের খাতায় ঝুঁকে পড়েন তিনি। না-কি প্ল্যানিং-এর খাতায়। ব্যবসাপাতি চালাতে হলে কত যে পরিকল্পনা করতে হয়। সাধারণ লোক কেবল টাকাটাই দেখে, তার পিছনে কষ্টটা দেখে না। এই যে জগৎ যখন নিদ্রামগন, তখন তিনি এই শেষরাত্রে হিসেবনিকেশ, প্ল্যান-ট্যান নিয়ে বসেছেন, এই কষ্টটার কথা কি কখন জগৎ জানতে পারবে?
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৪: কথা বলা অতীত

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৪: রামের অমল মহিমা, অরণ্যবাসের সাধুসঙ্গ

খাতায় ঝুঁকে পড়েন তিনি। আগামী এক সপ্তাহের প্ল্যান আগে থেকে ছকে না রাখলে খুব মুশকিল। এই ডায়েরিটা সবসময় তাঁর সঙ্গে-সঙ্গে ঘোরে। যাবতীয় ভাবনাচিন্তা তিনি এখানে নোট করে রাখেন। পরে তার পর্যালোচনা করে হয়তো বদলান কখন-কখন, না-হলে পুর্বপরিকল্পনামতই চলেন। ঝুঁকে পড়ে সবে কয়েকটা লাইন লিখেছেন মাত্র, এমনসময় ফোন ভাইব্রেট করে উঠল। রাতের বেলায় ফোন ভাইব্রেট মোডে করে দেন তিনি। কে জানে, তাঁর ফোনের আওয়াজে আশেপাশের বোর্ডারদের যদি অসুবিধা হয়! সকালবেলা যখন নিজের জায়গায় গিয়ে বসেন, তখন আবার ফোন স্বাভাবিক মোডে ফিরে যায়। এমনিতে তাঁকে বেশি জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন হয় না, কারণ, আগের দিনই সন্ধ্যের সময় ওই ডায়েরি দেখে পরের দিনের যাবতীয় প্ল্যান তিনি স্টাফদের বলে দেন। ব্রেকফাস্ট টু ডিনার—সমস্তরকম মেন্যু পর্যন্ত তিনি ঠিক করে দেন। সেই মতো কে বাজার যাবে, কে কিচেন সামলাবে, কে কোন-কোন রুমে সার্ভিস দেবে, সব তৈরি করে বোর্ডে লটকে দেন তিনি। নিজেই টাইপ করে রাতেই লটকে দেওয়া হয়। সেইমতো সকলে কাজ করে। ভাঁড়ারঘর সামলানোর জন্য স্থায়ী স্টাফ আছে। সে প্রয়োজনমতো কী-লাগবে না-লাগবে তার ফিরিস্তি দেয়। বাজারের দায়িত্বে যে থাকবে তাকে সেই অনুযায়ী মালপত্র আনানোর ব্যবস্থা করতে হয়। এমনিতে সব্জি, মাছ, মাংস ইত্যাদি সাপ্লাই দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট লোক আছে। বাদবাকি যা-যা লাগে সেগুলি নির্দিষ্ট লোক দেখে। কেবল লিকার ইত্যাদি বড় খরচের হিসেবটা তিনি নিজের হাতে রেখেছেন। নাহলে নয়ছয় হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এর আগে যেখানে ছিলেন, সেখানে তিনি এই ব্যাপারটি ঘটতে দেখেছেন বলেই, এখন সতর্ক থাকেন।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৪: অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ডকে জুড়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ে

ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠতেই সামান্য ভ্রূ কুঁচকে তাকালেন তিনি। তারপর নামটা দেখেই মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল তাঁর। স্ত্রী ফোন করেছেন।
“হ্যালো!”
“হ্যালো। আজকেও ঘুমাওনি?”
“নাহ্‌। ঘুম আসার কথা কি আজ?”
“এইভাবে আর কতদিন? শরীরটা যে ক্রমেই ভাঙছে সে খেয়াল আছে?”
“তুমি তো সব জানো। এখন কি বিশ্রাম নেওয়ার সময়? কত কিছু করা বাকি আছে!”
“সব হবে। এত তাড়াহুড়ো করলে সেটাও হবে না। অনেক তো করলে আমার জন্য…!”
“ভুল বললে গো, নিজের জন্যও করেছি। তুমি খুশি হলে আমার যে কী মানসিক প্রশান্তি আসে, তা যদি জানতে!”
“জানি না বলছ?”
“আরে ইয়ার, ম্যায়নে অ্যায়সা কব্‌ কাহা? ডোন্ট বি সিলি! তুমি আছ বলেই আমি আছি, এটা মাথায় রেখো!”
“আমি জানি সে-কথা। তুমি আমার জীবনে যে কতখানি, তা তো আমিই জানি। আর কেউ তোমার জায়গা নিতে পারত না! কোনদিনও না! তুমি তো কেবল আমাকে সহ্য করে গেছ, ক্ষমা করে গেছ, আমার জন্য নিজের জীবনটা পর্যন্ত লড়াইয়ের ময়দানে উৎসর্গ করেছ বলতে গেলে। অথচ, আমি তার বিনিময়ে তোমায় কী-ই বা দিতে পেরেছি বলো?”
“এই ভালোবাসা, এই উৎকণ্ঠাই কি যথেষ্ট নয়? বাদ দাও না ও-সব কথা। জানো, একটু আগে কী ভাবছিলাম?”
“কী?”
“এখানের কাজ শেষ করে আমরা দুজনে দূরে কোথাও চলে যাবো। বাকি জীবনটা সেখানেই কাটাবো। বাড়ির নাম দেবো, টেগোরের আশ্রমের নামে, দ্যাটস্‌ ‘শান্তিনিকেতন’। শান্তি কা নিবাস! তুমি আর আমি—সেখানে কাটিয়ে দেবো বাকি জীবন। সে জীবনে উত্তেজনা, ভয়, শঙ্কা—কিচ্ছু থাকবে না। কেবল তোমার আমার ভালোবাসাই হবে সে- জীবনের ভিত্তি!”
“খুব রোম্যান্টিক হয়ে উঠেছ মনে হচ্ছে। চলে যাব না-কি তোমার কাছে এক্ষুনি?”
“কীভাবে?”
“যেমন করে রাধা যেত যমুনার তীরে কৃষনজীর কাছে!”
“অভিসারিকা! বাব্বা, বড়িয়া কিসমৎ মেরা!” হাসলেন কাপাডিয়া।
“হাসছ কেন?”
“এমনি। আসতে তো পারবে না। কিন্তু এমন করে বলছ, যেন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছো!”
“আরে চোখ বন্ধ কর। দেখবে, আমি ঠিক চলে এসেছি!”
“বেশ করলুম!” সত্যি-সত্যিই চোখ বন্ধ করলেন কাপাডিয়া। আর প্রতীক্ষা করতে লাগলেন। যব গোধূলি সময় বেলি। ধনি মন্দির-বাহির ভেলি…” —চলবে।

* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content