শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

মুখে কিছু না বললেও ছন্দা নিজে জানেন দুলাল কখনও এমন কাজ করতে পারে না! নিজের মেয়েকে তিনি আর সকলের থেকে ভালো চেনেন। কিন্তু স্নিগ্ধা এমন তৈরি হল কেন? আজ জীবনের সায়াহ্নে এসে একা আয়নার মুখোমুখি দাঁড়ালে আয়নার প্রতিচ্ছবি নিঃশব্দ চাউনিতে যেন তাকে এই প্রশ্নগুলোই করে! ছন্দা তার নিজের বিবাহিত জীবনে কি সৎ ছিল? স্বামী যতীনের মনে শেষ জীবনে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল তার কারণ কী? ছন্দার কাছে সেই প্রশ্নের উত্তর নেই!
যতীনের অবিবাহিত খুড়তুতো ভাই নবকুমার কিসের টানে চুঁচড়ার চ্যাটার্জি বাগান থেকে ঘড়ির মোড়ে তার দাদার বাড়িতে নিয়মিত ছুটে আসতো? ছন্দা আর নবকুমারের সম্পর্কের মধ্যে কোনও নিষিদ্ধ আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। বাড়ির থেকে বারবার বিয়ে ঠিক হবার পরেও কেন নবকুমারই নিজের বিয়ে ভেঙ্গে দিত! শেষদিকে স্বামী যতীন কেন ওষুধপত্র খেতে চাইতেন না! কেন প্রায় ইচ্ছে করে নিজের মৃত্যুকে ডেকে এনেছিল? যতীনের মৃত্যু যদি না হতো আর ছন্দা বিধবা হবার কিছুদিনের মধ্যেই যদি ট্রেন থেকে পড়ে অপঘাতে নবকুমারের ওই ভয়ংকর পরিণতি না হতো, তাহলে হয়তো ছন্দা নিজেকে খাদের শেষ সীমা থেকে আর বাঁচাতে পারতো না!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৯: আকাশ এখনও মেঘলা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৫: সুস্থ থাকলে কেউ কি কবিতা লেখে?

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৭: জীবনখাতার প্রতি পাতায়

স্নিগ্ধা যখন ছোট তখন থেকেই যতীনের নানান শারীরিক সমস্যা। ব্যবসার ব্যাপারেও যতীন ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকতো। নবকুমার যতীনের থেকে অনেকটাই ছোট। ছন্দার থেকেও বছর পাঁচেক কমবয়েস। তখন তো এত জিম ছিল না। পাড়ায় পাড়ায় ব্যায়মাগার ছিল। আর ছিল ফুটবল ক্লাব। ফুটবল মাঠের ছুটে বেড়ানো, নিয়মিত ব্যায়াম করা ছিপছিপে পেটানো লোহার মতো শক্তশরীর। বাড়ির সব কাজেকর্মে নবকুমার। বাল্ব লাগানো বাড়ি রং করা, পাম্প সারানোর মিস্ত্রি ধরে আনা, এমনকি কখনো কখনও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্যও নবকুমারই ভরসা।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২২: সুন্দরবনের পাখি: ডোরা-লেজ জৌরালি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

তখন মর্নিং শোতে বাচ্চাদের ইংরিজি ছবি দেখানো হতো! হার্ডওয়ারের খদ্দেরভরা দোকান ছেড়ে যতীনের মেয়েকে সিনেমা দেখতে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। আবার ছন্দা একা যাবে না। অগত্যা দাদার আদেশে নবকুমার সঙ্গী হল! সামনে বসা লোকটা লম্বা মতো। তাই স্নিগ্ধা ভালো করে ছবি দেখতে পাচ্ছে না। পাল্টাপাল্টি করে নবকাকুর সিটে গিয়ে বসল ছোট্ট স্নিগ্ধা। আর নবকাকু এসে বসল তাঁর মায়ের পাশে স্নিগ্ধার সিটে। নিষিদ্ধ শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সেই শুরু! দীর্ঘদিন দাম্পত্যসুখ বঞ্চিত ছন্দা পারিবারিক সম্পর্কের আগল ক্রমশ ভেঙে যেন ভেসে গেল। ন্যায়-অন্যায়ের বিচার চুলোয় দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেল কমবয়েসী যুবক নবকুমারকে! আড়াল-আবডালের এই শরীরী অনাচার নিয়ম হয়ে গেল!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৪: কথা বলা অতীত

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৪: রামের অমল মহিমা, অরণ্যবাসের সাধুসঙ্গ

স্নিগ্ধা কি কিছু আন্দাজ করতো? বয়সের তুলনায় পরিপক্ব স্নিগ্ধার দৃষ্টিতে যেন সেই বোধ ছিল। কিন্তু কোনও অজানা কারণে সে প্রতিবাদ করেনি। স্নিগ্ধা বড় হয়ে যাবার পর মা ছন্দা কিশোরী মেয়েকে নবকুমারের থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতেন। বলা যায় না পুরুষমানুষের নজর! কিন্তু চল্লিশ ছুঁইছুঁই ছন্দা কি কখনও ভেবেছে আরও দশ-বারোবছর আগে সে নিজে কীভাবে নজর দিয়েছিল এই বয়সে অল্প খুড়তুতো দেওরটির কথা। কীভাবে তাকে আগুনের দিকে টেনে এনে নেশাগ্রস্ত করেছিল? তবে কিশোরী বয়স থেকেই স্নিগ্ধার নজর ছিল দুলালের প্রতি। সেটা ছন্দাকে খানিকটা নিশ্চিন্ত করেছিল। তারপর তো আরও সময় কেটে গেল। যতীন শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন। দোকানে বসে ব্যবসার সামলানোর ক্ষমতা ছিল না। নবকুমারের চাকরিবাকরি সেরকম কিছু হয়নি। তার ওপরই দোকানের ভার পড়ল। তবে সে কখনও শঠতা করেনি। ছন্দাবৌদি তাকে মোহগ্রস্ত করে রেখেছিল যে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৪: অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ডকে জুড়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ে

দোকানদারি করার জন্য সে একটা মাসকাবারি মোটা টাকা পেত। এরই মধ্যে কলকাতার বড়বাজারে এক চায়ের বড়সড় পাইকারি ব্যবসায় তার একটা চাকরি জুটে গেল। তারই কোনও এক মাসীর সূত্রে যোগাযোগ। তখন শুধু যতীন করের ‘মা লক্ষ্মী হার্ডওয়ার’ দিনে একবেলা খোলা হত। সন্ধে থেকে রাত। নিভতে নিভতে প্রদীপটা বন্ধ হয়ে গেল। বাঁধা খদ্দেররা চলে গেল। নতুন নতুন দোকান হল আশেপাশে। সেখানে হাল-ফ্যাশনের সাজানো আলমারিতে ঝকঝকে জিনিস রাখা। অন্ধকার ঘুপচি, দড়িদড়া ঝোলা হার্ডওয়ারের দোকানে লোকে আসতে চাইল না। নবকুমারের তৎপরতায় মোটামুটি ভালো দামে দোকানটা বিক্রি হয়ে গেল। —চলবে।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content