
জন্মাষ্টমীর পরের দিনেই শিক্ষক দিবস। তাই তাঁকে ঘিরে আবর্তিত চিন্তা-চেতনার বিশ্ব। দু’দিনেই তাঁকে পাবেন, তবে মাঝে বিপুল ব্যবধান। পেরিয়ে আসতে হবে অনেক পথ। যশোদানন্দন ননীচোরা বালগোপাল রাখাল রাজা তিনি ব্রজবালক, গোবর্দ্ধনধারী, মোহন বংশী, গোপীকান্ত, পতিতপাবন থেকে ক্রমে ক্রমে চক্রপাণি, মধুসূদন, দুর্বাদলশ্যাম রাধাবিনোদ, কিংবা অনন্ত, দর্পহারী হবেন। তিনি সত্যের সারথি।
তিনি যে ঠিক কে তা বুঝে ওঠা সহজ নয়। কখনও মনে হবে মানুষের ঠিক যেমন হওয়া উচিত, যেমনটা হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত তিনি ঠিক তাই। তিনিই আবার পুরুষোত্তম, প্রেমিকার প্রাণনাথ, অভিসাররজনীর বংশী, অবতার, স্বয়ং ভগবান কিংবা অন্তরের অন্তরতর অন্তর্যামী।
তিনি যে ঠিক কে তা বুঝে ওঠা সহজ নয়। কখনও মনে হবে মানুষের ঠিক যেমন হওয়া উচিত, যেমনটা হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত তিনি ঠিক তাই। তিনিই আবার পুরুষোত্তম, প্রেমিকার প্রাণনাথ, অভিসাররজনীর বংশী, অবতার, স্বয়ং ভগবান কিংবা অন্তরের অন্তরতর অন্তর্যামী।
কৃষ্ণ নামের কৃতবিদ্য যশস্বী পুরুষ পুরাণেতিহাসে একাধিক। আবার, যিনি ব্রজের গোপাল তাঁরই অন্য সত্তার পদপাত মথুরা বৃন্দাবনে, তিনি দ্বারকাধিপতি হন, কিংবা হস্তিনাপুরে পা রাখেন যদুকুলপতি হয়ে। তাঁর এই নানা সত্তার মহাসাগরে এসে মিশেছে কতো ধারা! তিনি প্রেমিক রাধাকান্ত, দ্রৌপদীর সখা, অর্জুনের সারথি। তিনি পরম, বিরাট, অন্তর্যামী। তিনি জাম্ববতীর-ও স্বামী, সাম্বের-ও পিতা। তিনিই কখনও কখনও যেন অসহায়, সাম্বের কাহিনিতে মিথ্যা অভিশাপের পাকেচক্রে তাঁকে যেন চক্রী মনে হয়। দশচক্রে ভগবান ভূত হন কখনো কখনো। অন্তর্যামী যিনি, তিনি ব্যাধের ভ্রষ্ট শরে দষ্ট হন। যদুকুলের প্রাণঘাতী মৌষলপর্ব দেখেন। তিনিই নন্দের নন্দন, বাল্যলীলার বালগোপাল?
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : হৃদয়হরণ

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৩: জোড়া আন্তোনিওর রহস্য

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৪: সোনার হরিণ কোথায় নেই? আছে সর্বত্র
মহাভারতের রঙ্গমঞ্চে যিনি প্রবল কূটনীতিজ্ঞ, ভারতযুদ্ধে তিনিই নিয়ন্তা, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পরমাত্মা। যে রূপটি যখন তিনি ধারণ করেছেন তাতেই সার্থক হয়েছেন, সার্থক করেছেন। তিনি এক না অনেক সেই তত্ত্বে প্রবেশ না করেও বলা যায়, মহাভারতের কুরুক্ষেত্রে তিনি সেই শিক্ষক, যিনি ফ্রেন্ড-ফিলোজফার-গাইড হয়ে পাশে থাকেন, এগিয়ে দেন।
জীবনের থেকে বড় শিক্ষক বুঝি আর নেই। জীবন যখন “শুকায়ে যায়”, তিনি করুণাধারা হয়ে আসেন। ঝকঝকে বীর, নিখুঁত পরিকল্পক, সর্বত্র সফল, শ্রেষ্ঠ চিরবন্দিত নায়ক-ও কোথাও, কোনওদিন, অকস্মাৎ ভেঙে পড়েন। অথবা, তাঁর নিভৃত ভাঙনটুকু চোখে পড়ে না তেমন এই মর্ত্যলোকের। সেই দ্রষ্টা কিন্তু ঠিকই লক্ষ্য রাখেন। পাখির চোখে স্থিরনিশ্চল হয়ে দেখে যান কর্মফলভোক্তাকে, তারপর অজ্ঞানমোহ দূর করার সুতীব্র প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেন।
জীবনের থেকে বড় শিক্ষক বুঝি আর নেই। জীবন যখন “শুকায়ে যায়”, তিনি করুণাধারা হয়ে আসেন। ঝকঝকে বীর, নিখুঁত পরিকল্পক, সর্বত্র সফল, শ্রেষ্ঠ চিরবন্দিত নায়ক-ও কোথাও, কোনওদিন, অকস্মাৎ ভেঙে পড়েন। অথবা, তাঁর নিভৃত ভাঙনটুকু চোখে পড়ে না তেমন এই মর্ত্যলোকের। সেই দ্রষ্টা কিন্তু ঠিকই লক্ষ্য রাখেন। পাখির চোখে স্থিরনিশ্চল হয়ে দেখে যান কর্মফলভোক্তাকে, তারপর অজ্ঞানমোহ দূর করার সুতীব্র প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৫০: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ৩০

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
কর্ম যখন প্রবল আকার ধারণ করে আচ্ছন্ন করে, তখন হৃদয়প্রান্তে নীরবে তিনি, কেবল তিনিই জেগে থাকেন। শিক্ষা দেন, পূর্ণ করেন, আধমরাদের ঘা দিয়ে বাঁচান। অথচ, পরমাত্মারূপে শ্রীভগবান জগত্তারণ, বিচিত্র বিশ্বরূপে সূক্ষ্মতম, মহৎ বৃহত্তম হলেও তিনি যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় মানুষের জীবনরথের সারথি, প্রাণতরীর কর্ণধার, সকল শিক্ষকের শিক্ষক, সকল কর্মের কর্তা স্বয়ং বহমান জীবন…. তখন তিনি আত্মজাগরণের পুরোধা পুরুষ, নির্বিকল্প-ক্ষুরধার-দুর্গম-দুরধিগম্য জীবনপথের প্রণেতা, পোষক।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৪: গোখরো
পুঁথিপড়া পূর্ব-নির্ধারিত চেনা সমস্যা জানা সমাধানের জগতের বাইরের অচেনা ছকের মুখোমুখি করেন তিনি জীবনকে। মহাজীবন স্বয়ং সেই বিপুল আত্মশক্তিকে জাগিয়ে তোলেন সকল সুষুপ্তি ও ব্যর্থতার গ্লানি থেকে নিজেকে জয় করার জন্য। হঠাৎ নেমে আসা আকস্মিক মনোভার, বিপর্যয় থেকে উত্তীর্ণ করে “জেগে ওঠার” পাঠ দেন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?
অথচ, জীবনের প্রতি বাঁকে বাঁকে জমে থাকা বিপদ থেকে ত্রাণ করার দায় তো তাঁর নয়। ম্রিয়মাণ দীপশিখাকে তিনি পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন হয়তো। তারপর স্বয়ং দীপ সেই প্রণোদনায় অনির্বাণ হয়। বিপদে নির্ভয় হওয়ার, বঞ্চনায় অক্ষয় হওয়ার, দৈন্যে আত্মদীপ হওয়ার, ধর্মে অর্থে কামে মোক্ষে নম্রশিরে জয়ী হওয়ার, মহাভারের বিপন্নতায় কিংবা মহাভারতের সঙ্কটে নিজেকে দীন নিঃসহায় না ভাবার অভয়বাণী নিয়ে, সেই শিক্ষক আলোকস্তম্ভ হয়ে থেকে যান; যুযুধান এই মর্ত্যের মাটিতে জীবনরথের রশিটি হাতে নিয়ে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।















