
পুরুষ কপোতটিকে এ ভাবে অবলীলায় আগুনের লেলিহান শিখায় নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতে দেখে সেই পাষাণহৃদয় ব্যাধের অন্তরে এক আশ্চর্য পরিবর্তন ঘটে গেল। চোখের সামনে ত্যাগের এই মহিমায় তার বহুদিনের জমে থাকা পাপবোধ যেন মুহূর্তেই ধুয়ে গেল। এক অদ্ভুত বৈরাগ্য তাকে গ্রাস করল। সে তার হাতের সেই যমদণ্ডসদৃশ লাঠিটি ভেঙে টুকরো করে ফেলল, শিকারের জালটি ছিঁড়ে দিল এবং কপোতীর খাঁচাটিও ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিল।
ব্যাধের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে কপোতী তার দগ্ধ স্বামীর মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল। তার সেই করুণ বিলাপে ফুটে উঠল ভারতীয় শাশ্বত গার্হস্থ্য ধর্মের এক চিরন্তন ছবি। মৃত পতিকে উদ্দেশ্য করে সেই সতী কপোতী কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল, “হে স্বামী! আজ আপনাকে ছাড়া এই বিশাল জগতে আমার বেঁচে থাকার আর কোনো অর্থই নেই। পতিহীনা এই দীন নারীর প্রাণধারণ করে লাভ কী?
নারীর জীবনে বৈধব্য এক অভিশাপের মতো। পতিহীন হলে স্ত্রীর সমস্ত তেজ, ধনসম্পত্তির জোর, উচ্চকুলের মর্যাদা, আত্মীয়স্বজনদের আন্তরিকতা—এমনকি নিজের গৃহের ওপর যে অধিকার বা প্রভুত্ব, তার সবই নিমেষে লুপ্ত হয়ে যায়। পতিই নারীর ভূষণ, পতিই নারীর বল।”
ব্যাধের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে কপোতী তার দগ্ধ স্বামীর মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল। তার সেই করুণ বিলাপে ফুটে উঠল ভারতীয় শাশ্বত গার্হস্থ্য ধর্মের এক চিরন্তন ছবি। মৃত পতিকে উদ্দেশ্য করে সেই সতী কপোতী কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল, “হে স্বামী! আজ আপনাকে ছাড়া এই বিশাল জগতে আমার বেঁচে থাকার আর কোনো অর্থই নেই। পতিহীনা এই দীন নারীর প্রাণধারণ করে লাভ কী?
নারীর জীবনে বৈধব্য এক অভিশাপের মতো। পতিহীন হলে স্ত্রীর সমস্ত তেজ, ধনসম্পত্তির জোর, উচ্চকুলের মর্যাদা, আত্মীয়স্বজনদের আন্তরিকতা—এমনকি নিজের গৃহের ওপর যে অধিকার বা প্রভুত্ব, তার সবই নিমেষে লুপ্ত হয়ে যায়। পতিই নারীর ভূষণ, পতিই নারীর বল।”
পতির শোকে এইভাবে বিলাপ করতে করতে সেই পতিব্রতা স্ত্রী-কপোতটিও এক চরম সিদ্ধান্ত নিল। সে ভাবল, স্বামীর বিয়োগে এই দেহে প্রাণ রেখে আর লাভ কী? অবশেষে সেও জ্বলন্ত সেই অগ্নিতেই ঝাঁপ দিল এবং পতির সহমরণকে বরণ করে নিল।
পরক্ষণেই ঘটল এক অলৌকিক ঘটনা। দেহত্যাগের পর সেই কপোতী দেখল, তার স্বামী এক দিব্য শরীরে, মনোহর অলঙ্কার ও রাজকীয় বস্ত্র পরিধান করে এক জ্যোতির্ময় বিমানে বসে আছেন। দিব্যরথ থেকে তার স্বামী স্নিগ্ধ হেসে তাকে স্বাগত জানিয়ে বললেন, “হে শুভে! আমার পথ অনুসরণ করে তুমি খুব ভালোই করেছ— অহো! মামনুগচ্ছন্ত্যা কৃতং সাধু শুভে! ত্বয়া। কারণ পণ্ডিতেরা বলেন, মানুষের শরীরে সাড়ে তিন কোটি রোমকূপ থাকে। যে স্ত্রী ভক্তিভরে তার পতির অনুগমন করে (সহমরণে যায়), সে সেই সাড়ে তিন কোটি বছর কাল স্বর্গে পতির সঙ্গে সুখবাস করার অধিকার পায়।”
পূর্বজন্মে কৃত পুণ্য এবং এ জন্মের ত্যাগের ফলে সেই দিব্যশরীরধারী কপোত-দম্পতি স্বর্গের নন্দনকাননে পরম সুখে দিন অতিবাহিত করতে লাগল। মৃত্যুর পরেও তাঁদের প্রেম ও সুখের কোনও অন্ত রইল না।
অন্যদিকে, সেই ব্যাধ? কপোত-দম্পতির এই মহান আত্মত্যাগ দেখে শোকে ও অনুতাপে তার হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে গেল। সংসারের প্রতি তার আর কোনও মায়া রইল না। সে হিংসা, শিকার এবং সমস্ত জাগতিক মোহ ত্যাগ করে কঠোর তপস্যার সংকল্প নিয়ে গভীর অরণ্যে প্রবেশ করল। সেখানে সে নির্জনে সাধন-ভজনে দিন কাটাতে লাগল।
বহুকাল পর, একদিন সেই অরণ্যে ভয়াবহ দাবানল দেখা দিল। আগুনের লেলিহান শিখায় আকাশ-বাতাস তপ্ত হয়ে উঠল। বনের পশুপাখিরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটতে লাগল। কিন্তু সেই সংসার-বিরাগী ব্যাধ পালালেন না। তিনি সেই আগুনকে বিধাতার আহ্বান মনে করে স্থির হয়ে বসে রইলেন। অবশেষে সেই দাবানলের পবিত্র শিখায় নিজের পাপদগ্ধ শরীর আহুতি দিয়ে তিনি দেহত্যাগ করলেন এবং যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বর্গের পথে যাত্রা করলেন।
পরক্ষণেই ঘটল এক অলৌকিক ঘটনা। দেহত্যাগের পর সেই কপোতী দেখল, তার স্বামী এক দিব্য শরীরে, মনোহর অলঙ্কার ও রাজকীয় বস্ত্র পরিধান করে এক জ্যোতির্ময় বিমানে বসে আছেন। দিব্যরথ থেকে তার স্বামী স্নিগ্ধ হেসে তাকে স্বাগত জানিয়ে বললেন, “হে শুভে! আমার পথ অনুসরণ করে তুমি খুব ভালোই করেছ— অহো! মামনুগচ্ছন্ত্যা কৃতং সাধু শুভে! ত্বয়া। কারণ পণ্ডিতেরা বলেন, মানুষের শরীরে সাড়ে তিন কোটি রোমকূপ থাকে। যে স্ত্রী ভক্তিভরে তার পতির অনুগমন করে (সহমরণে যায়), সে সেই সাড়ে তিন কোটি বছর কাল স্বর্গে পতির সঙ্গে সুখবাস করার অধিকার পায়।”
পূর্বজন্মে কৃত পুণ্য এবং এ জন্মের ত্যাগের ফলে সেই দিব্যশরীরধারী কপোত-দম্পতি স্বর্গের নন্দনকাননে পরম সুখে দিন অতিবাহিত করতে লাগল। মৃত্যুর পরেও তাঁদের প্রেম ও সুখের কোনও অন্ত রইল না।
অন্যদিকে, সেই ব্যাধ? কপোত-দম্পতির এই মহান আত্মত্যাগ দেখে শোকে ও অনুতাপে তার হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে গেল। সংসারের প্রতি তার আর কোনও মায়া রইল না। সে হিংসা, শিকার এবং সমস্ত জাগতিক মোহ ত্যাগ করে কঠোর তপস্যার সংকল্প নিয়ে গভীর অরণ্যে প্রবেশ করল। সেখানে সে নির্জনে সাধন-ভজনে দিন কাটাতে লাগল।
বহুকাল পর, একদিন সেই অরণ্যে ভয়াবহ দাবানল দেখা দিল। আগুনের লেলিহান শিখায় আকাশ-বাতাস তপ্ত হয়ে উঠল। বনের পশুপাখিরা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটতে লাগল। কিন্তু সেই সংসার-বিরাগী ব্যাধ পালালেন না। তিনি সেই আগুনকে বিধাতার আহ্বান মনে করে স্থির হয়ে বসে রইলেন। অবশেষে সেই দাবানলের পবিত্র শিখায় নিজের পাপদগ্ধ শরীর আহুতি দিয়ে তিনি দেহত্যাগ করলেন এবং যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত হয়ে স্বর্গের পথে যাত্রা করলেন।
৮ম কাহিনি সমাপ্ত
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৪ : যেখানে স্বর্ণমুদ্রার ঝনঝনানি, সেখানে সন্তানের চিতার আগুনও ম্লান

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — পাতিশিয়াল

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা/ দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৫৫: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২১ : পরশপাথর— ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে…
পঞ্চতন্ত্রের এই কপোত-লুব্ধকের কাহিনিটি শেষ করে পাঠককে ক্ষণিকের জন্য একটু থামতে অনুরোধ করি। এই গল্পের শেষে মনে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে—যে পঞ্চতন্ত্র গ্রন্থটির ছত্রে ছত্রে রাজনীতি, কূটনীতি আর ‘শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ’-এর জয়গান, সেখানে এমন নিঃশর্ত আত্মত্যাগের গল্প কেন? রাজা অমরশক্তির মূর্খ পুত্রদের যেখানে শেখানো হচ্ছে ‘সাম-দান-ভেদ-দণ্ড’ প্রয়োগ করে রাজ্যরক্ষা ও শত্রুদমনের কৌশল, সেখানে শৃগাল ও কাকের ধূর্ততার ভিড়ে এই কাহিনিটি যেন এক আকস্মিক ও অদ্ভুত ব্যতিক্রম। রাজনীতির এই রুক্ষ দাবার বোর্ডের মাঝখানে কপোত-কপোতীর এই উপাখ্যান যেন এক স্নিগ্ধ অথচ করুণ দমকা হাওয়া। এখানে বলা হচ্ছে—শত্রুকে মেরো না, বরং নিজের মাংস দিয়ে তার ক্ষুধা মেটাও! তবে কি এই অংশটি মূল বিষ্ণুশর্মার রচনা নয়? নাকি পরবর্তীকালে ভক্তিবাদের প্রভাবে বা জৈন লেখকদের দ্বারা এটি মূল গ্রন্থে সংযোজিত হয়েছে রাজনীতির রুক্ষতায় ধর্মের কোমল প্রলেপ দেওয়ার জন্য? মহাভারতের শান্তিপর্বে ভীষ্ম-যুধিষ্ঠির সংবাদে (অধ্যায় ১৪৩-১৪৬) হুবহু এই কাহিনিটির উপস্থিতি সেই ‘প্রক্ষিপ্ত’ বা সংযোজনের তত্ত্বকেই জোরালো করে।
তবে কেবল উৎস সন্ধান নয়, এই কাহিনির গভীরে রয়েছে এক ঐতিহাসিক ও মনস্তাত্ত্বিক সত্য, যা আজকের দিনে একবিংশ শতাব্দীর মানসিকতা দিয়ে বিচার করা অসম্ভব। আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই যুগে, যেখানে ‘যুদ্ধ’ মানে কেবল হার-জিত ছিল না, ছিল ‘সম্মান’ অথবা ‘চরম লাঞ্ছনা’র প্রশ্ন। প্রাচীন ভারতে, বিশেষ করে ক্ষত্রিয় সমাজব্যবস্থায় নারীরা ছিলেন পরিবারের সম্মানের প্রতীক। যুদ্ধক্ষেত্রে রাজা বা সেনাপতির পরাজয় মানেই ছিল বিজয়ী পক্ষের হাতে নারীদের ভয়াবহ লাঞ্ছনা—হয় দাসীবৃত্তি, নয়তো লুণ্ঠনের বস্তু হওয়া। গ্রিক, হুন থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় তুর্কি আক্রমণ—ইতিহাস বারবার এই লাঞ্ছনার সাক্ষী হয়েছে।
তবে কেবল উৎস সন্ধান নয়, এই কাহিনির গভীরে রয়েছে এক ঐতিহাসিক ও মনস্তাত্ত্বিক সত্য, যা আজকের দিনে একবিংশ শতাব্দীর মানসিকতা দিয়ে বিচার করা অসম্ভব। আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই যুগে, যেখানে ‘যুদ্ধ’ মানে কেবল হার-জিত ছিল না, ছিল ‘সম্মান’ অথবা ‘চরম লাঞ্ছনা’র প্রশ্ন। প্রাচীন ভারতে, বিশেষ করে ক্ষত্রিয় সমাজব্যবস্থায় নারীরা ছিলেন পরিবারের সম্মানের প্রতীক। যুদ্ধক্ষেত্রে রাজা বা সেনাপতির পরাজয় মানেই ছিল বিজয়ী পক্ষের হাতে নারীদের ভয়াবহ লাঞ্ছনা—হয় দাসীবৃত্তি, নয়তো লুণ্ঠনের বস্তু হওয়া। গ্রিক, হুন থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় তুর্কি আক্রমণ—ইতিহাস বারবার এই লাঞ্ছনার সাক্ষী হয়েছে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৯: পরবাস প্রস্তুতি (শেষ)

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র
এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই একমাত্র বোঝা সম্ভব—কেন ‘আগুন’ ছিল সেই নারীদের একমাত্র বিশ্বস্ত ‘রক্ষক’। একজন ক্ষত্রিয় রমণীর কাছে জীবন্ত দগ্ধ হওয়ার যন্ত্রণা ছিল শত্রুর স্পর্শে কলুষিত হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি শ্রেয়। তাই কপোতীর এই আত্মহনন কেবল ‘স্বামীর প্রতি অন্ধভক্তি’ নয়, এটি ছিল তৎকালীন সমাজবাস্তবে নারীর সম্ভ্রম রক্ষার এক চূড়ান্ত ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ বা ‘Counter-Resistance’।
গল্পে কপোতীর এই আত্মাহুতিকে লেখক এক মহোৎসবের রূপ দিয়েছেন। এর নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর মনস্তত্ত্ব—‘Spiritual Equality’ বা আধ্যাত্মিক সমকক্ষতা। ক্ষত্রিয় পুরুষ যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্রের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে ‘বীরগতি’ লাভ করতেন। কিন্তু ঘরে থাকা তাঁর স্ত্রী? তিনিও প্রমাণ করতে চাইতেন, সাহসে ও ত্যাগে তিনি তাঁর বীর স্বামীর চেয়ে কোনো অংশে কম নন। চিতার আগুনে ঝাঁপ দিয়ে তিনিও স্বামীর মতোই ‘বীরগতি’র শরিক হতে চাইতেন।
গল্পের সবচেয়ে নাটকীয় মোড়টি আসে শেষে। পুরুষ কপোতটির আত্মদান দেখে ব্যাধের মনে বৈরাগ্য এল, সে দয়া করে কপোতীকে মুক্ত করে দিল। সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, প্রাণ যখন বাঁচল, কপোতীর উড়ে পালানোই উচিত ছিল। কিন্তু সে তা করল না। কারণ, সেই যুগের অভিমানী ক্ষত্রিয় মানসিকতা বলত—‘শত্রুর করুণায় বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়’। কপোতী উড়ে গেলে ব্যাধের মনে একটা সান্ত্বনা থাকত যে, “যাক, অন্তত একজনকে তো বাঁচাতে পেরেছি।” কিন্তু কপোতী আগুনে ঝাঁপ দিয়ে ব্যাধের সেই সান্ত্বনাটুকুও কেড়ে নিল। সে যেন বুঝিয়ে দিল— “তোমার অনুশোচনা আমার স্বামীকে ফেরাতে পারবে না, আর স্বামীহন্তারকের দেওয়া জীবন-ভিক্ষা আমার প্রয়োজন নেই।”
কপোতীর এই মৃত্যু ব্যাধকে মানসিকভাবে পুরোপুরি নিঃস্ব করে দিল। সে কপোতীকে (ভোজ্য বস্তু হিসেবে) ভোগ করতে চাইল—পেল না; বিক্রি করতে চাইল—পারল না; শেষে বাঁচাতে চাইল—তাও পারল না। তার হাতে রইল কেবল একমুঠো ছাই আর এক বুক হাহাকার। এখানেই কপোতীর চূড়ান্ত নৈতিক বিজয়। রাজপুতানায় প্রচলিত ‘জহর ব্রত’-এর মূল দর্শনও ছিল এটাই। আলাউদ্দিন খিলজি যখন পদ্মাবতীর লোভে চিতোর দখল করলেন, তিনি দুর্গে ঢুকে দেখলেন কেবল ছাইয়ের গাদা। তাঁর বিশাল সামরিক বিজয় মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে গেল। তিনি দুর্গ পেলেন, কিন্তু যা চেয়েছিলেন তা পেলেন না। এই গল্পের দার্শনিক ভিত্তি খুঁজতে গেলে আমাদের তাকাতে হবে বৌদ্ধ সাহিত্যের দিকে। বৌদ্ধদের ‘শশ-জাতক’ (৩১৬)-এর কাহিনিটি এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেখানে দেখা যায়, এক খরগোশ (যে ছিল বোধিসত্ত্ব) ক্ষুধার্ত এক ব্রাহ্মণকে (ছদ্মবেশী দেবরাজ ইন্দ্র) নিজের মাংস খাওয়ানোর জন্য আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিল। যদি জাতকের কাহিনি অনুযায়ী অগ্নি বোধিসত্ত্বের একটিও রোমকূপ পর্যন্ত দগ্ধ করতে পারেনি।
গল্পে কপোতীর এই আত্মাহুতিকে লেখক এক মহোৎসবের রূপ দিয়েছেন। এর নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর মনস্তত্ত্ব—‘Spiritual Equality’ বা আধ্যাত্মিক সমকক্ষতা। ক্ষত্রিয় পুরুষ যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্রের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে ‘বীরগতি’ লাভ করতেন। কিন্তু ঘরে থাকা তাঁর স্ত্রী? তিনিও প্রমাণ করতে চাইতেন, সাহসে ও ত্যাগে তিনি তাঁর বীর স্বামীর চেয়ে কোনো অংশে কম নন। চিতার আগুনে ঝাঁপ দিয়ে তিনিও স্বামীর মতোই ‘বীরগতি’র শরিক হতে চাইতেন।
গল্পের সবচেয়ে নাটকীয় মোড়টি আসে শেষে। পুরুষ কপোতটির আত্মদান দেখে ব্যাধের মনে বৈরাগ্য এল, সে দয়া করে কপোতীকে মুক্ত করে দিল। সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, প্রাণ যখন বাঁচল, কপোতীর উড়ে পালানোই উচিত ছিল। কিন্তু সে তা করল না। কারণ, সেই যুগের অভিমানী ক্ষত্রিয় মানসিকতা বলত—‘শত্রুর করুণায় বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়’। কপোতী উড়ে গেলে ব্যাধের মনে একটা সান্ত্বনা থাকত যে, “যাক, অন্তত একজনকে তো বাঁচাতে পেরেছি।” কিন্তু কপোতী আগুনে ঝাঁপ দিয়ে ব্যাধের সেই সান্ত্বনাটুকুও কেড়ে নিল। সে যেন বুঝিয়ে দিল— “তোমার অনুশোচনা আমার স্বামীকে ফেরাতে পারবে না, আর স্বামীহন্তারকের দেওয়া জীবন-ভিক্ষা আমার প্রয়োজন নেই।”
কপোতীর এই মৃত্যু ব্যাধকে মানসিকভাবে পুরোপুরি নিঃস্ব করে দিল। সে কপোতীকে (ভোজ্য বস্তু হিসেবে) ভোগ করতে চাইল—পেল না; বিক্রি করতে চাইল—পারল না; শেষে বাঁচাতে চাইল—তাও পারল না। তার হাতে রইল কেবল একমুঠো ছাই আর এক বুক হাহাকার। এখানেই কপোতীর চূড়ান্ত নৈতিক বিজয়। রাজপুতানায় প্রচলিত ‘জহর ব্রত’-এর মূল দর্শনও ছিল এটাই। আলাউদ্দিন খিলজি যখন পদ্মাবতীর লোভে চিতোর দখল করলেন, তিনি দুর্গে ঢুকে দেখলেন কেবল ছাইয়ের গাদা। তাঁর বিশাল সামরিক বিজয় মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে গেল। তিনি দুর্গ পেলেন, কিন্তু যা চেয়েছিলেন তা পেলেন না। এই গল্পের দার্শনিক ভিত্তি খুঁজতে গেলে আমাদের তাকাতে হবে বৌদ্ধ সাহিত্যের দিকে। বৌদ্ধদের ‘শশ-জাতক’ (৩১৬)-এর কাহিনিটি এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেখানে দেখা যায়, এক খরগোশ (যে ছিল বোধিসত্ত্ব) ক্ষুধার্ত এক ব্রাহ্মণকে (ছদ্মবেশী দেবরাজ ইন্দ্র) নিজের মাংস খাওয়ানোর জন্য আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিল। যদি জাতকের কাহিনি অনুযায়ী অগ্নি বোধিসত্ত্বের একটিও রোমকূপ পর্যন্ত দগ্ধ করতে পারেনি।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫২: শিকার এবং শিকারী

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা
হয়তো, পঞ্চতন্ত্রের রচয়িতা (বিষ্ণুশর্মা হোন বা পরবর্তী সংকলক) সচেতনভাবেই এই শ্রমণ (বৌদ্ধ/জৈন) আদর্শটিকে গ্রহণ করেছিলেন। শ্রমণ ধর্মে ‘অহিংসা’ পরম ধর্ম হলেও, পরোপকার বা অতিথি সেবার জন্য ‘দেহত্যাগ’কে মহিমান্বিত করা হয়েছে। এই গল্পে কপোত যখন বলে, “আমার এই অসার দেহটা অতিথি সেবায় লাগুক”, তখন সে আসলে বৈদিক ‘পশুবলি’র ধারণাকে উলটে দেয়। যজ্ঞে ‘অন্য’ প্রাণীকে হত্যা করে পুণ্য অর্জন করা হতো, আর এখানে ‘নিজ’ প্রাণ বিসর্জন দিয়ে পুণ্য অর্জন করা হচ্ছে। এটি ছিল সেই সময়ের ধর্মীয় চিন্তায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন বা ‘Paradigm Shift’।
পূর্বেই বলছি যে এই কাহিনিটি যে কেবল পঞ্চতন্ত্রে আছে তা নয়, মহাভারতের শান্তিপর্বেও (অধ্যায় ১৪৩-১৪৯) আমরা একই কাহিনি পাই। মহাভারতের সংস্করণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে দেখতে পাবে যে পঞ্চতন্ত্রের এই কাহিনির সঙ্গে মহাভারতের কাহিনির শব্দগত সাধর্মও রয়েছে। বলা যেতে পারে মহাভারতের কাহিনিটি অপরিবর্তিত অবস্থাতে এখানে সরাসরি অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে। সেখানে ভীষ্ম শরশয্যায় শুয়ে যুধিষ্ঠিরকে এই একই গল্প শুনিয়েছিলেন। প্রসঙ্গটি ছিল অতিথিসেবা। অর্থাৎ, অতিথি শরণাগত হলে ধর্মাচরণ কেমন হবে। মহাভারতের মতো স্মার্ত ঐতিহ্যের গ্রন্থে এই গল্পের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, তৎকালীন ব্রাহ্মণ সমাজও বুঝতে পারছিল—কেবল মন্ত্রতন্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে ধরে রাখা যাবে না। তাই তারা লৌকিক ত্যাগের আদর্শকে ‘ব্রাহ্মণ্যধর্মের’ মোড়কে স্বীকার করে নিচ্ছিল। কপোতীর মুখ দিয়ে ‘কর্মফলবাদ’ বা ‘পাতিব্রত্য’ ধর্মের কথা বলানো সেই আত্তীকরণেরই চেষ্টা। এখানে দেখানও হচ্ছে, একজন নিরক্ষর বা অবলা জীবও কেবল ‘সেবা’ এবং ‘ভক্তি’ দিয়ে এমন স্বর্গে যেতে পারে, যা বড় বড় ঋষিদের কাছেও দুর্লভ।
পূর্বেই বলছি যে এই কাহিনিটি যে কেবল পঞ্চতন্ত্রে আছে তা নয়, মহাভারতের শান্তিপর্বেও (অধ্যায় ১৪৩-১৪৯) আমরা একই কাহিনি পাই। মহাভারতের সংস্করণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে দেখতে পাবে যে পঞ্চতন্ত্রের এই কাহিনির সঙ্গে মহাভারতের কাহিনির শব্দগত সাধর্মও রয়েছে। বলা যেতে পারে মহাভারতের কাহিনিটি অপরিবর্তিত অবস্থাতে এখানে সরাসরি অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে। সেখানে ভীষ্ম শরশয্যায় শুয়ে যুধিষ্ঠিরকে এই একই গল্প শুনিয়েছিলেন। প্রসঙ্গটি ছিল অতিথিসেবা। অর্থাৎ, অতিথি শরণাগত হলে ধর্মাচরণ কেমন হবে। মহাভারতের মতো স্মার্ত ঐতিহ্যের গ্রন্থে এই গল্পের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, তৎকালীন ব্রাহ্মণ সমাজও বুঝতে পারছিল—কেবল মন্ত্রতন্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে ধরে রাখা যাবে না। তাই তারা লৌকিক ত্যাগের আদর্শকে ‘ব্রাহ্মণ্যধর্মের’ মোড়কে স্বীকার করে নিচ্ছিল। কপোতীর মুখ দিয়ে ‘কর্মফলবাদ’ বা ‘পাতিব্রত্য’ ধর্মের কথা বলানো সেই আত্তীকরণেরই চেষ্টা। এখানে দেখানও হচ্ছে, একজন নিরক্ষর বা অবলা জীবও কেবল ‘সেবা’ এবং ‘ভক্তি’ দিয়ে এমন স্বর্গে যেতে পারে, যা বড় বড় ঋষিদের কাছেও দুর্লভ।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮১ : খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
পরিশেষে, এই গল্প এক বিরাট দার্শনিক পালাবদলের ঐতিহাসিক দলিল। বৈদিক যুগে (বিশেষ করে উত্তর-বৈদিক পর্বে) ধর্ম ছিল অত্যন্ত ব্যয়সাধ্য। ‘অশ্বমেধ’, ‘রাজসূয়’ বা ‘অগ্নিষ্টোম’-এর মতো যজ্ঞগুলি করার অধিকার ও সামর্থ্য ছিল কেবল রাজা বা বিত্তবান গৃহস্থদের। সেখানে পুরোহিততন্ত্রের কঠোর অনুশাসন এবং পশুবলির বিধান ছিল আবশ্যিক। কিন্তু সাধারণ মানুষ, যাদের সেই অর্থবল নেই, তাদের মুক্তির উপায় কী? গবেষক উইন্টারনিৎজ (Winternitz) এবং কিথ (A.B. Keith)-এর মতো ভারততত্ত্ববিদরা দেখিয়েছেন, মহাকাব্য ও পুরাণগুলির যুগে (এপিক পিরিয়ড) ভারতীয় সমাজ ক্রমশ ‘কর্মকাণ্ড’ থেকে সরে এসে ‘ভক্তি’ ও ‘ত্যাগ’-এর দিকে ঝুঁকছিল। পঞ্চতন্ত্রের এই গল্পে আমরা দেখি, কপোত কোনও পুরোহিত ডাকল না, কোনও মন্ত্রোচ্চারণ করল না, কোনও ঘৃতাহুতি দিল না। সে নিজেকেই ‘হব্য’ হিসেবে আগুনের মুখে সঁপে দিল। এটি উপনিষদে বর্ণিত ‘প্রাণ-অগ্নিহোত্র’ ধারণারই এক লৌকিক রূপায়ণ। ছান্দোগ্য উপনিষদে বলা হয়েছে, বাইরের আগুনের চেয়ে শরীরের ভেতরের আগুন বা আত্মাকে আহুতি দেওয়াই শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ। গল্পকার অত্যন্ত কৌশলে সেই উচ্চমার্গের দর্শনকে একটি পাখির গল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে তুললেন—বোঝালেন যে, ঈশ্বর বা স্বর্গলাভের জন্য ধনসম্পদ নয়, প্রয়োজন কেবল ‘আত্মত্যাগ’। কপোতীর এই সহমরণকে এখানে ‘যজ্ঞ’-এর বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। শাস্ত্রীয় মতে, যজ্ঞ করলে স্বর্গলাভ হয়। কিন্তু গল্পকার বলছেন, নারীর জন্য পতির অনুগমন করাই হল শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ। তৎকালীন সমাজবাস্তবে, যেখানে বিধবার জীবন ছিল চরম লাঞ্ছনার, সেখানে এই দর্শনটি নারীদের সামনে এক ‘বিকল্প মুক্তির পথ’ খুলে দিয়েছিল। তাত্ত্বিকভাবে একে বলা যেতে পারে ‘Deification of Suicide’ বা আত্মহননকে দেবত্বে উন্নীত করা। এটি নিঃসন্দেহে একটি পিতৃতান্ত্রিক নির্মাণ, কিন্তু তৎকালীন নারীদের কাছে এটি ছিল লাঞ্ছনা এড়ানোর এবং সামাজিকভাবে ‘দেবী’র মর্যাদা পাওয়ার একমাত্র পথ। গল্পে কপোতী যখন বলে— “সাড়ে তিন কোটি বছর স্বর্গে বাস করার অধিকার”, তখন সে আসলে জাগতিক যন্ত্রণার বিনিময়ে এক পারলৌকিক ক্ষমতার আশ্বাস পাচ্ছে।
বস্তুত, পঞ্চতন্ত্রের এই ‘কপোত-লুব্ধক’ উপাখ্যান কোনও বিচ্ছিন্ন রূপকথা নয়। এটি তৎকালীন যুদ্ধবিধ্বস্ত ভারতের এক ‘Tragic Necessity’ বা করুণ আবশ্যিকতার দলিল। গল্পকার অত্যন্ত নিপুণভাবে সেই ভয়ঙ্কর সামাজিক বাধ্যবাধকতাকে ‘প্রেম’ ও ‘ত্যাগের’ মোড়কে আবৃত করে এক মহাকাব্যিক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, যাতে পাঠক সেই ভয়াবহতা দেখে শিউরে না ওঠে, বরং শ্রদ্ধায় মাথা নত করে। এখানে বৈদিক যাগযজ্ঞের আভিজাত্যকে চ্যালেঞ্জ করে ‘অতিথি সেবা’ এবং ‘আত্মত্যাগ’-কে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলা হয়েছে। এই কাহিনি প্রমাণ করে যে, ধর্ম কোনও স্থবির বিষয় নয়। সমাজের নিচুতলার মানুষ (যাদের প্রতীক এই বনবাসী পাখি) এবং নারীরা কীভাবে প্রথাগত ধর্মের বাইরে গিয়ে নিজেদের মতো করে ঈশ্বরলাভ বা মোক্ষলাভের পথ খুঁজে নিয়েছিল, এই গল্প তারই এক উজ্জ্বল সাহিত্যিক সাক্ষ্য। আজকের যুক্তিবাদী মনে এটি ‘অমানবিক’ ঠেকতে পারে, কিন্তু সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি ছিল সাধারণ মানুষের কাছে এক ‘আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়ন’—যেখানে অর্থ নয়, হৃদয়ই হল ঈশ্বরলাভের একমাত্র মুদ্রা।—চলবে।
বস্তুত, পঞ্চতন্ত্রের এই ‘কপোত-লুব্ধক’ উপাখ্যান কোনও বিচ্ছিন্ন রূপকথা নয়। এটি তৎকালীন যুদ্ধবিধ্বস্ত ভারতের এক ‘Tragic Necessity’ বা করুণ আবশ্যিকতার দলিল। গল্পকার অত্যন্ত নিপুণভাবে সেই ভয়ঙ্কর সামাজিক বাধ্যবাধকতাকে ‘প্রেম’ ও ‘ত্যাগের’ মোড়কে আবৃত করে এক মহাকাব্যিক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন, যাতে পাঠক সেই ভয়াবহতা দেখে শিউরে না ওঠে, বরং শ্রদ্ধায় মাথা নত করে। এখানে বৈদিক যাগযজ্ঞের আভিজাত্যকে চ্যালেঞ্জ করে ‘অতিথি সেবা’ এবং ‘আত্মত্যাগ’-কে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলা হয়েছে। এই কাহিনি প্রমাণ করে যে, ধর্ম কোনও স্থবির বিষয় নয়। সমাজের নিচুতলার মানুষ (যাদের প্রতীক এই বনবাসী পাখি) এবং নারীরা কীভাবে প্রথাগত ধর্মের বাইরে গিয়ে নিজেদের মতো করে ঈশ্বরলাভ বা মোক্ষলাভের পথ খুঁজে নিয়েছিল, এই গল্প তারই এক উজ্জ্বল সাহিত্যিক সাক্ষ্য। আজকের যুক্তিবাদী মনে এটি ‘অমানবিক’ ঠেকতে পারে, কিন্তু সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি ছিল সাধারণ মানুষের কাছে এক ‘আধ্যাত্মিক ক্ষমতায়ন’—যেখানে অর্থ নয়, হৃদয়ই হল ঈশ্বরলাভের একমাত্র মুদ্রা।—চলবে।
* পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি (Panchatantra politics diplomacy): ড. অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Anindya Bandyopadhyay) সংস্কৃতের অধ্যাপক, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়।


















