রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

আবার সেই বৃদ্ধ বণিক আর তার তন্বী ভার্যার অন্দরমহলে ফিরে আসা যাক। এই প্রসঙ্গেই পঞ্চতন্ত্রকার মানুষের বার্ধক্যকে জীবনের এক চরম অভিশাপ বলে বর্ণনা করেছেন। আহা! বৃদ্ধাবস্থার মতো এমন করুণ দশা আর দ্বিতীয়টি নেই। বার্ধক্যে মানুষের শরীর জরাজীর্ণ হয়ে সঙ্কুচিত হয়ে যায়, চপল গতি মন্থর হয়ে আসে, দাঁত নড়বড়ে হয়ে পড়ে যায়, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসে এবং রূপ-লাবণ্য সব নষ্ট হয়ে যায়, মুখ দিয়ে নাল-ঝোল পড়ে; আত্মীয়স্বজন বা ভাই-বন্ধুরা তার কথার কোনও দাম দেয় না, নিজের স্ত্রীও আর সেবা করতে চায় না, এমনকি পুত্র-কন্যাদের কাছেও পদে পদে লাঞ্ছনা ও বকুনি সহ্য করতে হয়। তাই ধিক্কার এই দুঃখদায়ক বার্ধক্যকে!
গাত্রং সঙ্কুচিতং গতির্বিগলিতা দন্তাশ্চ নাশ গতাঃ
দৃষ্টির্ভ্রাম্যতি রূপমপ্যুপহত বক্রঞ্চ লালায়তে।
বাক্যং নৈব করোতি বান্ধবজনঃ পত্নী ন শুশ্রূযতে
ধিক্‌! জরযাভিভূতপুরুষং পুত্রোঽপ্যবজ্ঞাযতে।।
(কাকোলূকীযম্‌ ১৮৯)

সেদিন গভীর রাতে সেই বৃদ্ধ বণিক তাঁর শয়নকক্ষে নবযৌবনা স্ত্রীকে নিয়ে শুয়েছিলেন। কিন্তু হায়! শরীর এক বিছানায় থাকলেও মন ছিল যোজন দূরে। সেই স্ত্রী স্বামীর পাশেই শুয়ে ছিল ঠিকই, কিন্তু ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে সে উলটো দিকে পাশ ফিরে ছিল। বৃদ্ধ পতির মুখদর্শন করাও তার কাছে ছিল যন্ত্রণাদায়ক।
ঠিক সেই সময়ে, নিঝুম অন্ধকারে পা টিপে টিপে সেই ঘরে প্রবেশ করল এক তস্কর (চোর)। চোরের সামান্য শব্দে বা নড়াচড়ায় স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলতেই সে দেখল, ঘরের এক কোণে এক ভয়ালদর্শন চোর দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখামাত্র ভয়ে তরুণী স্ত্রীর অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল। আর সেই ভয়ের চোটে সে আর কিছু না ভেবে তৎক্ষণাৎ পিছন ফিরে তার সেই জরাজীর্ণ পতিকে দু’হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

এদিকে সেই বৃদ্ধ বণিক তো অবাক! যে স্ত্রী কোনওদিন ফিরেও তাকায় না, সে আজ হঠাৎ এমন নিবিড় আলিঙ্গন করছে কেন? বিস্ময়ে ও পুলকে বৃদ্ধের সারা শরীরের রোম খাঁড়া হয়ে উঠল। সে মনে মনে চিন্তা করতে লাগল— “কিমেষা মামদ্য অবগূহতে? আজ হঠাৎ এ আমাকে এমনভাবে আলিঙ্গন করছে কেন?”

তার মনে হাজারও প্রশ্ন জাগল। কিন্তু পরক্ষণেই বিছানা থেকে একটু মাথা তুলে চারদিকে তাকাতেই সে ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকা সেই চোরটিকে দেখতে পেল। মুহূর্তেই তার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেল। সে ভাবল, “ওহ! বুঝেছি। নিশ্চয়ই এই চোরের ভয়ে ভীত হয়েই আজ এ আমাকে এমন শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে।”

তখন সেই বৃদ্ধ বণিক কৃতজ্ঞচিত্তে চোরটিকে উদ্দেশ্য করে বলল, “হে ভদ্র! তুমি আমার পরম উপকার করেছ। আমি বৃদ্ধ বলে যে স্ত্রী আমাকে সবসময় অবজ্ঞা করে, ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়, ভালো করে একটা কথাও বলে না, আজ কেবল তোমার ভয়েই সে আমাকে এমন গভীরভাবে আলিঙ্গন করে আছে। আজ আমি ধন্য!তুমি যে আমার কত বড় উপকার করলে, তা ভাষা দিয়ে বোঝানোর সামর্থ্য আমার নেই।তাই হে চোর! তোমার কল্যাণ হোক। আমার বাড়িতে যা কিছু মূল্যবান আছে, তুমি নির্দ্বিধায় সব নিয়ে যাও, আমি তোমাকে বাধা দেব না।”
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৬ : ‘চণ্ডাল-কূপ’ ও অস্পৃশ্যতা: পঞ্চতন্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন ভারতের এক দগদগে ইতিহাস

শিবরাত্রির বিশেষ পর্ব : শিব

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৪ : গরুর পালে বাঘ

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২১: বিবাহ সংবাদ, আদিনাথ-গোরা

বণিকের এই অদ্ভুত কথা শুনে চোরটি তখন হাসল। সে ঘরটা একবার ভালো করে দেখে নিয়ে বলল, “মশাই! এই মুহূর্তে আপনার হাতের কাছে চুরি করার মতো বা নেওয়ার মতো বিশেষ কিছুই আমি দেখছি না। তবে হ্যাঁ, আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি —পুনরাগমিষ্যামি যদীয়ং নাবগূহতে। অর্থাৎ, যখন আপনার ঘরে চুরি করার মতো কোনও বস্তু থাকবে, তখন আমি আবার আসব। আর বিশেষ করে, যদি কোনোদিন দেখি আপনার এই স্ত্রী আপনাকে আর আলিঙ্গন করছে না, তখনই আমি ফিরে আসব।”

এই বলে সেই চতুর চোরটি সেখান থেকে প্রস্থান করল। আর তারপর? সেই থেকে চোর আবার ফিরে আসতে পারে—এই ভয়ে ভীত হয়ে সেই স্ত্রী অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার বৃদ্ধ পতিকে সব সময় সেবা-যত্ন ও আদর করতে শুরু করল।
 

৯ম কাহিনি সমাপ্ত

আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৫৬: আকাশ এখনও মেঘলা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৭: জরাসন্ধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মত ও তাঁর নামের মাহাত্ম্য

‘চোর ও বৃদ্ধ বণিকের সেই কৌতুককর অথচ গভীর অর্থবহ কাহিনিটি শেষ করে উলূক-মন্ত্রী দীপ্তাক্ষ এখানে যে ক্ষুরধার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিলেন, তা রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও কূটনীতির শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনবদ্য ‘কেস স্টাডি’ (Case Study)।পঞ্চতন্ত্রের এই পর্যায়ে এসে আমরা দেখি, দীপ্তাক্ষ কেবল গল্পটি শোনানোর জন্যই শোনাননি, বরং তিনি ‘Realpolitik’ বা বাস্তববাদী রাজনীতির এক অত্যন্ত জটিল তত্ত্বকে সহজ উদাহরণের মাধ্যমে রাজার সামনে তুলে ধরেছেন।

দীপ্তাক্ষের যুক্তির মূল ভিত্তি হলো—শত্রু সব সময় ক্ষতির কারণ হয় না, পরিস্থিতিভেদে সে-ও ‘সম্পদ’ (বা Asset) হয়ে উঠতে পারে। দীপ্তাক্ষ বোঝাতে চাইলেন, একজন চোর—যার উদ্দেশ্যই হলো ‘ধ্বংস’ বা ‘হরণ’—সেও যদি পরিস্থিতির ফেরে গৃহস্থের (বৃদ্ধ বণিকের) দাম্পত্য সুখের অনুঘটক (Catalyst) হতে পারে, তবে একজন শরণাগত ব্যক্তি কেন উপকারে আসবে না? চোরটি এসেছিল হরণ করতে, কিন্তু দিয়ে গেল সুখ। ঠিক তেমনই, এই বৃদ্ধ কাকমন্ত্রী স্থিরজীবী আমাদের ‘শত্রু’ হতে পারেন, কিন্তু বর্তমান জিও-পলিটিক্যাল (Geo-political) সমীকরণে তিনি আমাদের জন্য সেই ‘উপকারী চোর’-এর মতোই লাভজনক। রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু বলে কিছু নেই, আছে কেবল স্থায়ী স্বার্থ।

চোরের আচরণের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক তীক্ষ্ণ কৌতুকবোধ ও বক্রোক্তি। চোরটি একজন চতুর পর্যবেক্ষকের মতো দেখল যে তার ‘মিশন’ (চুরি করা) ব্যর্থ হয়েছে, কারণ টার্গেট (গৃহস্থ) জেগে গেছে। কিন্তু তার উপস্থিতির ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ (Side effect) হিসেবে এমন এক অভাবনীয় ঘটনা (স্বামী-স্ত্রীর মিলন) ঘটল, যা তাকে আমোদিত করল। সে দেখল, সে অর্থকড়ি পেল না ঠিকই, কিন্তু এক অসম দাম্পত্যের ফাটল জোড়া লাগিয়ে দিল। এই অদ্ভুত পরিস্থিতির হাস্যরসটুকু সে উপভোগ করতে চাইল। তাই যাওয়ার আগে সে চুরির বদলে এক ধরণের ‘অদ্ভুত আশীর্বাদ’ দিয়ে গেল। তার কথাটি ছিল একাধারে অভিশাপ এবং আশীর্বাদ—যা শুনলে হাসি পায়, কিন্তু এর গভীরে রয়েছে এক নির্মম সত্য।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৯: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — চিতল হরিণ

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৪ : শুন বরনারী

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল—চোরের পরোক্ষ দম্ভ বা ক্ষমতার আস্ফালন। চোরটি নিজের গুরুত্ব বা ‘Power Projection’করতে চাইল। সে বুঝিয়ে দিল, “আমি আছি বলেই আজ তোমার সংসার টিকে আছে। তোমাদের দাম্পত্য সুখের চাবিকাঠি এখন আমার হাতে।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে যেমন বলা হয়—“An external threat unites a divided nation”–বহিরাগত শত্রুর ভয় একটি বিভক্ত জাতিকে একজোট করে, ঠিক তেমনই চোরটি এখানে সেই ‘common enemy’ বা সাধারণ শত্রু হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝখানের দেওয়াল ভেঙে দিল। মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করতে পারার মধ্যে যে এক ধরণের আদিম আধিপত্য কাজ করে, চোর সেই ক্ষমতাটিই জাহির করে গেল। সে নিজেকে এই নাটকের মূল সূত্রধর বা ‘Kingmaker’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে তৃপ্ত হল।
অর্থাৎ, চোরের এই উক্তিটি প্রমাণ করে যে সে কেবল ধনের কাঙাল ছিল না, সে ছিল মানুষের মনস্তত্ত্বের এক চতুর বিশ্লেষক—যে ভয়, ভালোবাসা এবং ক্ষমতার সমীকরণটি মুহূর্তের মধ্যে ধরে ফেলেছিল। দীপ্তাক্ষ রাজাকে এটাই বোঝাতে চাইলেন—রাজনীতির দাবার বোর্ডে চোরকেও যদি সঠিক সময়ে ব্যবহার করা যায়, তবে সে-ও কিস্তিমাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দীপ্তাক্ষের দ্বিতীয় যুক্তিটি আরও বেশি বাস্তববাদী এবং কৌটিল্যের কূটনীতি-ঘেঁষা। তিনি উলূকরাজ অরিমর্দনকে বোঝালেন যে, রাজনীতিতে ‘শত্রুর বিভাজন’ বা ‘অন্তর্দ্বন্দ্ব’ সব সময় বিপক্ষ দলের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। বায়সরাজ মেঘবর্ণ তাঁর নিজস্ব মন্ত্রীকে অপমান করে বিতাড়িত করেছেন—এই ঘটনাটি উলূকদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ। দীপ্তাক্ষ বললেন, “বায়সরাজের এই ভুল আমাদেরই লাভ।” কারণ, ঘরের শত্রু যখন ঘর ছাড়ে, তখন সে সঙ্গে করে নিয়ে আসে সেই ঘরের গোপন নকশা।

গবেষকের দৃষ্টিতে দেখলে, দীপ্তাক্ষ এখানে ‘ইন্টেলিজেন্স’বা‘গুপ্তচরবৃত্তি’ রমনস্তত্ত্ব প্রয়োগ করছেন। তিনি জানেন, স্থিরজীবী দীর্ঘকাল বায়সরাজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাই তাঁর নখদর্পণে রয়েছে শত্রুপক্ষের যাবতীয় দুর্বলতা, তাদের দুর্গের গোপন পথ, সৈন্যসংখ্যার সঠিক হিসাব এবং রাজকোষের অবস্থা। দীপ্তাক্ষের মতে, এই মুহূর্তে স্থিরজীবীকে হত্যা করা মানে এক জীবন্ত ‘তথ্যভাণ্ডার’কে নষ্ট করে ফেলা। বরং তাঁকে আশ্রয় দিয়ে তাঁর কাছ থেকে মেঘবর্ণের সমস্ত দুর্বলতা জেনে নেওয়াই হবে প্রকৃত রাজনীতি। এতে ভবিষ্যতে কাকদের সঙ্গে বিবাদে বা যুদ্ধে উলূকরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯২: কৈলাসচন্দ্র সিংহ ছিলেন সত্যনিষ্ঠ আপসহীন এক ঐতিহাসিক

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

সুতরাং, দীপ্তাক্ষের সিদ্ধান্তে আবেগ বা দয়া নয়, কাজ করেছে বিশুদ্ধ রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির অঙ্ক। তাঁর মতে, অপমানিত শত্রু (স্থিরজীবী) এখন আর কাকদের মন্ত্রী নন, তিনি এখন উলূকদের হাতের তলোয়ার। তাই তাঁকে হত্যা না করে ব্যবহার করাই শ্রেয়।
উলূকরাজ অরিমর্দন মন্ত্রী দীপ্তাক্ষের যুক্তিপূর্ণ কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। রাজার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। তিনি এবার ধীরলয়ে তাঁর আরেক বিচক্ষণ সচিব বক্রনাসের দিকে ফিরলেন।
গম্ভীর স্বরে রাজা প্রশ্ন করলেন, “মন্ত্রী দীপ্তাক্ষের অভিমত তো শুনলাম। হে ভদ্র! উদ্ভূত এই বিশেষ পরিস্থিতিতে এখন আমাদের ঠিক কী করা উচিত বলে আপনার মনে হয়? ভদ্র! সাম্প্রতমেবংস্থিতে কিং কর্তব্যম্?”

রাজার প্রশ্নের উত্তরে সচিব বক্রনাস বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বললেন, “দেব! আমারও সুচিন্তিত অভিমত হলো— “দেব অবধ্যোঽয়ম্। অর্থাৎ, ইনি অবধ্য। এঁকে হত্যা করা কোনওভাবেই উচিত নয়। কারণ, নীতিশাস্ত্রের এক গূঢ় সত্য হলো—শত্রুরা যখন নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়, তখন আখেরে তা তৃতীয় পক্ষের (আমাদের) মঙ্গলের কারণ হয়েই দাঁড়ায়।”
বক্রনাস একটু থামলেন, তারপর বললেন —
শত্রবোঽপি হিতায়ৈব বিবদন্তঃ পরস্পরম্।
চৌরেণ জীবিতং দত্তং রাক্ষসেন তু গোযুগম্।।
(কাকোলূকীয়ম্ ১৯০)
অর্থাৎ “শত্রুরা যখন পরস্পরের সঙ্গে বিবাদ করে, তখন দিনের শেষে তা অন্যের হিতকারীই হয়। ঠিক যেমন সেই কাহিনিতে—একজন চোর এক ব্রাহ্মণকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে জীবনদান করেছিল, আর এক ভয়ানক রাক্ষস রক্ষা করেছিল তাঁর আদরের গোরু দুটিকে।”

এমন অদ্ভুত ও পরস্পরবিরোধী কথা শুনে উলূকরাজ অরিমর্দন বিস্ময়ে ভ্রু কুঞ্চিত করলেন। চোর জীবন বাঁচাবে আর রাক্ষস গোরু রক্ষা করবে—এও কি সম্ভব? তিনি অত্যন্ত কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “সে কী! চোর জীবন বাঁচাল, আর রাক্ষস বাঁচাল গোরু? ব্যাপারটা ঠিক কেমন? আমি সবিস্তারে শুনতে চাই। কথমেতৎ?—সে কী রকম ব্যাপার?”
মহারাজের কৌতূহল নিরসনে সচিব বক্রনাস তখন সেই অদ্ভুত ও রোমহর্ষক কাহিনিটি বলতে শুরু করলেন।—চলবে।
* পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি (Panchatantra politics diplomacy): ড. অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Anindya Bandyopadhyay) সংস্কৃতের অধ্যাপক, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content